Connect with us

top1

১৯ দিনে ৬৪ জনসভা: তারেক রহমানের ‘ফ্যামিলি ম্যান’ ও ইন্টারঅ্যাক্টিভ প্রচারকৌশল

Published

on

চিরাচরিত রাজনৈতিক জনসভার চিত্রটা আমরা জানি—নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে তর্জনী উঁচিয়ে ভাষণ দেবেন, আর নিচে সমর্থকেরা হাততালি দেবেন। তবে ২০২৬-এর নির্বাচনী প্রচারণায় এই প্রথা ভেঙে নতুনত্বের ছোঁয়া এনেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১৯ দিনে দেশজুড়ে ৬৪টি জনসভা করে তিনি কেবল ভাষণই দেননি, বরং মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনে লিপ্ত হয়েছেন।

. ‘একতরফা বক্তৃতা’ নয়, এবার ‘সরাসরি সংলাপ’

তারেক রহমানের এবারের প্রচারণার সবচেয়ে বড় চমক ছিল ইন্টারঅ্যাক্টিভ ক্যাম্পেইন। তিনি মঞ্চ থেকে দর্শকসারির সাধারণ মানুষকে ডেকে এনে তাদের অভাব-অভিযোগ ও মতামতের কথা শুনেছেন।

সিলেটের সেই চমক: ২২ জানুয়ারি সিলেটে প্রচারণার শুরুতে তিনি এক হজ পালনকারী ব্যক্তিকে মঞ্চে ডেকে ধর্ম নিয়ে একটি প্রশ্ন করেন। এটি মূলত ভোটের রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে এক কৌশলগত জবাব ছিল বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

টাউন হল স্টাইল: যুক্তরাষ্ট্রের বারাক ওবামা বা ফ্রান্সের এমানুয়েল মাখোঁর মতো ‘টাউন হল মিটিং’ ঘরানায় তিনি শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও তরুণদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন।

 রাজনীতির নতুন সমীকরণ: ‘ফ্যামিলি ম্যান’ ইমেজ

তারেক রহমান নিজেকে কেবল একজন কঠোর রাজনৈতিক নেতা হিসেবেই নয়, বরং একজন দায়িত্বশীল পারিবারিক মানুষ বা ‘ফ্যামিলি ম্যান’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

স্ত্রী ও কন্যার অংশগ্রহণ: তাঁর প্রচারসঙ্গী হিসেবে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। মেয়ে জাইমা রহমানকেও দেখা গেছে তরুণদের সঙ্গে ‘রিল-মেকিং’ প্রতিযোগিতার আড্ডায় কিংবা বস্তি পরিদর্শন ও রিকশা ভ্রমণে।

উদ্দেশ্য: বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও নারীদের কাছে একটি ইতিবাচক ও আধুনিক পারিবারিক মূল্যবোধের বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

কৌশলগত দিক: এক নজরে প্রচারণা

প্রচারণার অনুষঙ্গ

বিস্তারিত তথ্য

মোট জনসভা

১৯ দিনে ৬৪টি (বাস ও হেলিকপ্টার যোগে)

মূল বার্তা

শান্তি, সহনশীলতা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা

ডিজিটাল ফোকাস

তরুণ ভোটারদের টানতে সোশ্যাল মিডিয়া ও রিল-মেকিং এনগেজমেন্ট

আবেগীয় দিক

অতীতের ভুলত্রুটির জন্য জাতির কাছে মার্জনা প্রার্থনা

 ভুল থেকে শিক্ষা ও আগামীর প্রতিশ্রুতি

প্রচারণার শেষ দিকে বিটিভিতে দেওয়া ভাষণে তারেক রহমান অতীতের অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটির জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি বিরল ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে প্রচারণার পথে কিছু ছোটখাটো বিচ্যুতিও ছিল। যেমন—কুমিল্লায় ইতিমধ্যে ইপিজেড থাকা সত্ত্বেও সেখানে নতুন করে ইপিজেড করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া। একে অনেকে ‘তথ্যগত ভুল’ হিসেবে সমালোচনা করেছেন।

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস এম শামীম রেজার মতে, তারেক রহমান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ—এই দুইয়ের মধ্যে চমৎকার সমন্বয় করার চেষ্টা করেছেন।

১২ ফেব্রুয়ারির গণরায় বলে দেবে, এই নতুন ধাঁচের ‘অডিয়েন্স এনগেজমেন্ট’ ও ‘ফ্যামিলি ম্যান’ কৌশল ভোটারদের মনে ঠিক কতটা জায়গা করে নিতে পেরেছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

অত্যাধুনিক অস্ত্রগুলো এখনও ব্যবহার করেনি ইরান

Published

on

By

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরান দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত তারা তাদের সবচেয়ে উন্নত বা অত্যাধুনিক অস্ত্রগুলো ব্যবহার করেনি বলে দাবি করেছে।

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক এ বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের প্রতিরোধ করার এবং এই চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে শত্রুপক্ষ যা পরিকল্পনা করেছে, তার চেয়েও দীর্ঘ সময় ধরে আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা প্রথম কয়েক দিনেই আমাদের সব অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম মোতায়েন করার ইচ্ছা রাখি না।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে এই বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হয়। চলমান এই সংঘাতের চতুর্থ দিনে এসে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা এল।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের কৌশল হিসেবে ইরান এখনো তাদের সামরিক সক্ষমতার বড় একটি অংশ গোপন রেখেছে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ের মোকাবিলার জন্য তা সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

Continue Reading

top1

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হলেন খামেনির ছেলে মোজতবা

Published

on

By

ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রভাব ও চাপে ‘এসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ তাকে এই পদে নির্বাচিত করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে পর্দার আড়ালে থেকে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে সক্রিয় থাকা মোজতবা খামেনি এখন দেশটির সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় প্রধান।

এক ধর্মীয় পরিবারে জন্ম নেওয়া মোজতবা ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির ছেলে। ১৯৮৭ সালে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করার পরপরই তিনি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীতে (আইআরজিসি) যোগ দেন এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে তিনি কোম শহরের সেমিনারিতে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং সেখানে শিক্ষকতাও করেন।

মোজতবা খামেনি মূলত ‘অফিস অব দ্য সুপ্রিম লিডার’-এর একজন প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত। বাবার দপ্তরে কাজ করার সুবাদে তিনি সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে শক্তিশালী যোগাযোগ গড়ে তোলেন। তাকে ইরানের ক্ষমতার অন্যতম কারিগর (পাওয়ার ব্রোকার) হিসেবে গণ্য করা হতো। তবে তার এই ক্ষমতা আরোহণের বিষয়টি বিতর্কহীন ছিল না। ২০০৫ ও ২০০৯ সালের নির্বাচনে মাহমুদ আহমাদিনেজাদের বিজয়ে নেপথ্যে থেকে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া ২০০৯ সালের নির্বাচন-পরবর্তী আন্দোলন এবং ২০২২ সালে জিনা মাহসা আমিনীর মৃত্যুর পর দেশব্যাপী চলা বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোরভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। ২০২২ সালের আগস্ট মাসে কোম সেমিনারের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি মাধ্যম তাকে ‘আয়াতুল্লাহ’ উপাধিতে ভূষিত করে। একজন ধর্মীয় নেতা হিসেবে যে ধরনের উচ্চতর পাণ্ডিত্য ও গ্রহণযোগ্যতার প্রয়োজন হয়, তা না থাকা সত্ত্বেও এই উপাধি ব্যবহার তার উত্তরসূরি হওয়ার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবেই বিবেচিত হয়েছিল।

বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিলেন যখন ইরান গভীর ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন বাবার ছায়ায় থেকে পর্দার আড়ালে কাজ করলেও, এখন থেকে তাকে প্রকাশ্যে ইরানের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে হবে।

Continue Reading

top1

একীভূত ৫ ব্যাংকের কার্যক্রম চলবে: গভর্নর

Published

on

By

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, ইউনিয়ন ব্যাংকসহ একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের কার্যক্রম ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ হিসেবে আগের মতোই চলবে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলো থেকে যারা অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর প্রশাসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে গভর্নর এসব কথা বলেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি নতুন গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন।

একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো—ইউনিয়ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক।

বৈঠকে গভর্নর স্পষ্ট করেন যে, সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের আমলে শুরু হওয়া ব্যাংক খাতের সংস্কার কার্যক্রম চলমান থাকবে। তিনি আরও জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জন্য দ্রুততম সময়ে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ দেওয়া হবে।

ব্যাংকের গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে গভর্নর বলেন, বর্তমানে থাকা পরিচালনা পর্ষদ বহাল থাকবে। এছাড়া এই পাঁচ ব্যাংকের বিনিয়োগে থাকা সচল কলকারখানাগুলোর উৎপাদন যাতে বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এসব কারখানার কোনো বিদেশি বকেয়া থাকলে তা পরিশোধের বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

Continue Reading

Trending