Connect with us

ক্যাম্পাস

২ জুলাই থেকে ইবিতে আন্দোলনের সূচনা: ‘মুক্তির নতুন সূর্যোদয়’

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের পরে দেশের প্রথম প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ জুলাই চব্বিশের আন্দোলনে সরব ও সতর্ক ছিলেন। ছাত্র জনতার নেতৃত্বে আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। সেই সময় শিক্ষার্থীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মহাসড়কে সক্রিয় অবস্থান নেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই অবিনাশী চেতনা স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় “জুলাই স্মৃতিকথা” নামে একটি স্মারক প্রকাশিত হয়। যার— সম্পাদনায় ছিলেন, অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান, অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান, জুলাই যোদ্ধা এস এম সুইট, সাদিক আহমদ, ইমতিয়াজ আহমেদ ইমন ও চয়ন হোসেন।

‘জুলাই স্মৃতিকথা’ স্মারকে ৫৩টি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর লেখা স্থান পেয়েছে। তন্মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী এহসানুল হকের লেখা ‘মুক্তির নতুন সূর্যোদয়’ পাঠকদের সুবিধার্থে ইবি প্রতিনিধি হুবহু তুলে ধরেছেন।

শুরুর সময়টা ২০১৮ এর প্রথম থেকেই। সবেমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পা দিয়েছি। বছরের শুরু থেকেই আন্দোলন কিছুতেই পিছু ছাড়ার মতো না। ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফি পূর্বের থেকে অনেক বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেটা কমানোর আন্দোলন, বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির আন্দোলন, সবশেষে যুক্ত হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন। সবগুলো আন্দোলনেই অংশগ্রহণ করার সুযোগ হয়। একে একে বিভিন্ন চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে মুক্তিকামী জনতার বিজয়ের বার্তা নিয়ে হাজির হয় ২০২৪। আমি তখন এম.এস.সি. তে অধ্যায়নরত অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ পর্যায়ে।

২ জুলাই ২০২৪ তারিখ থেকে ক্যাম্পাস যেন আবার ২০১৮-তে ফিরে যায়। কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে সারাদেশের সাথে তাল মিলিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও শুরু হয় আন্দোলন। আবারও সুযোগ আসে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশীদার হওয়ার। মঙ্গলবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। একই আন্দোলন চলে ৮ তারিখ পর্যন্ত।

১০ জুলাই ২০২৪, বাসায় যাই। খুলনা থাকাকালীন আন্দোলন থেকে দূরেই ছিলাম। ১৫ জুলাই ২০২৪ শিক্ষার্থীদের অবস্থান খুলনা জিরো পয়েন্ট। ১৭ জুলাই খুবির শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণ এর সামনে শহীদ আবু সাঈদ এর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তখন সিচুয়েশন এমন যে— বাসায় থাকাও অনিরাপদ। হয়রানির এক পর্যায়ে ৩১ জুলাই আমি খুলনা থেকে সাতক্ষীরা যাই।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত:

ইবি ক্যাম্পাসের সিদ্ধান্ত যেকোনো মূল্যে ৩ আগস্টের মধ্যে ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে হবে। অস্থিরতা বেড়ে চলে। ৩ আগস্ট ২০২৪, খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠি। সকাল বেলা রওনা রওনা হই। ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হওয়ার সুবাদে এই দিনের প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল ক্যাম্পাসে পৌঁছানো। দুপুর ২ টার দিকে বাসায় পৌঁছি।

দুপুরে খেতে খেতে ক্যাম্পাসে আসার কথা বললে আব্বু আম্মু কেউ রাজি হন না। শেষতক চোরের পানিসমেড কিছুটা সম্মতি দিলেন। বাসা থেকে বের হব শুধু এতটুকুই নিশ্চিত। এরপর কী হবে একমাত্র আল্লাহই জানেন। বাসা থেকে ভিন্ন রাস্তা দিয়ে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে গাড়িতে উঠি। রাত ৯ টার দিকে শেখপাড়া বাজারে গাড়ি থেকে নেমে ত্রিবেনী রোড দিয়ে অজানা গন্তব্যে হাঁটতে শুরু করি। থাকার কোন সমাধান না পেয়ে আবু মুসা ভাইকে নক করলে তিনি থাকার ব্যবস্থা করেন।

বদলে যাওয়ার বার্তা:

৩ আগস্ট ২০২৪, ঢাকায় আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ নেতৃতাধীন সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করে এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয়।

৪ আগস্ট ২০২৪, সকাল ১০ টা ৩০ মিনিটের দিকে রুম থেকে বের হয়ে ডায়না চত্ত্বরে পৌছলাম। তখন কারোরই থাকা-খাওয়ার কোন ঠিক নেই। আল্লাহর কাছে শুধু একটাই ফরিয়াদ ছিল আল্লাহ যেন শহীদ হিসাবে কবুল করে নেন। পুলিশ, বিজিবিসহ সকল বাহিনীর সদস্যরা মেইন গেইটসহ রাস্তার দুই পাশে অবস্থান নিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়েই ডায়না চত্ত্বর থেকে মিছিল শুরু হল। কোন ক্লান্তি নেই, থেমে যাওয়ার আশংকা নেই। আন্দোলনের মাঝে ভাইয়েরা শুকনো খাবার ও পানি বিতরণ করছিল। সবশেষে এস এম সুইট ভাইয়ের পরবর্তী দিনে আন্দোলন চলমান রাখার ঘোষণার মাধ্যমে আজকের আন্দোলন সমাপ্ত হয়।

রাত ১১টা ৩০ মিনিটে প্রচণ্ড মাথা ব্যাথাসহ ঘুমাতে যাই। এ সময় ইউসুফ ভাই নির্দেশ দেন- মেস পাহাড়া দিতে হবে। আমরা ফজর পর্যন্দ মেস পাহাড়া দেই ও অসুস্থ হয়ে পড়ি।

নতুন সূর্যোদয়:

৫ আগস্ট ২০২৪, সকাল দশটায় এলার্মের শব্দে ঘুম ভাঙ্গে। সকাল ১১ টায় ক্যাম্পাস থেকে আন্দোলন শুরু হবে। রুম থেকে বের হই। নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত জায়গা থেকেই শ্লোগানে-স্লোগানে আন্দোলন শুরু হয়। আশেপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী ছোট ছোট মিছিল নিয়ে আমাদের সাথে যোগ দিতে থাকে। এলাকার মা-বোনেরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের সাথে অংশ গ্রহণ করে। লাঠিতে ভর করে ও ঠিকমতো হাঁটতে না পারা আশি উর্ধ্ব বয়সের মুরুব্বী এবং হাত-পা না থাকা লোকও আমাদের সাথে অংশগ্রহণ করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো মেইন গেট এলাকা লোকারণ্য হয়ে যায়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নামে স্বৈরাচারের দোসর বিপুল সংখ্যক পুলিশ, বিজিবিসহ যৌথ বাহিনীর সদস্যরা মেইন গেটের আশেপাশে অবস্থান নেয়।

বেলা আড়াইটার দিকে মাইক্রোফোন হাতে ভ্যানের উপরে দাড়িয়ে আছে হাসানুল বান্না অলি। ওর সাথে জাকারিয়া, আমিনুর, জোবায়েরসহ আরো কয়েকজন। হঠাৎ কানে ভেসে আসে সেই অকাঙ্ক্ষিত বাক্য। যা শোনার অপেক্ষায় ছিল বাংলার লক্ষ-কোটি মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা। মাইক থেকে ঘোষণা হয়- স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।

দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে। মনে হচ্ছিল সদ্য মুক্ত হওয়া স্বাধীন নতুন এক বাংলাদেশে নতুন করে প্রশ্বাস নিচ্ছি। বাংলাদেশের আকাশে যেন নতুন এক সূর্য উঠেছে। মহান রবের কাছে ফরিয়াদ, তিনি যেন আন্দোলনে আহতদের সুস্থতা দানের পাশাপাশি নিহতদের শহীদ হিসাবে কবুল করে নেন এবং আমাদের সকলের এই প্রচেষ্টাকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করে নেন।

লেখক: এহসানুল হক
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

ইবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের ঘটনায় হল কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটি

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হল কর্তৃপক্ষ।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) শহীদ জিয়াউর রহমান হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, শহীদ জিয়াউর রহমান হলে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে দুইটায় হলের ২জন আবাসিক শিক্ষার্থীর মধ্যে সংগঠিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য অত্র হলের আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম তালুকদারকে আগামী ৩ (তিন) কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের করতে বলা হলো।

এদিকে একইদিনে ঘটনার তথ্য চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তিও দিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়, কারো কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা লিখিতভাবে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে মীর মশাররফ হোসেন ভবনের ১০৯ নম্বর কক্ষে জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়। তথ্য সত্য, নিরপেক্ষ ও যথাসম্ভব বিস্তারিতভাবে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় ও দেওয়া তথ্যের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষার কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজনে তথ্যদাতার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ বা আলোচনার জন্য নাম ও মোবাইল নম্বর দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আরও বলা হয়, প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি তথ্য প্রদানকারীর সাথে সাক্ষাৎ বা আলোচনা করে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।

প্রসঙ্গত, গতকাল (শনিবার) দুপুরে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদল নেতা আলিনূর রহমান বাঁধন কর্তৃক ছাত্রশিবির নেতা কাজী জুহায়েরকে থাপ্পড়ের ঘটনায় উত্তাল হয় ক্যাম্পাস। হলেই এক দফা হট্টগোলের পরে ছাত্রশিবির জিয়া মোড়ে এবং ছাত্রদল মেইন গেটে অবস্থান নেয়। এসময় উভয় দলের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়। এদিকে ছাত্রদলের মিছিলে আসা বহিরাগত অনেককে হাতে রামদা, কিরিচ, চাপাতি-সহ দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়। গভীর রাত পর্যন্ত উত্তেজনার পরে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটে পুলিশের অবস্থান দেখা যায়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদারে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে ইবি প্রশাসন।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

শাকসু দে প্রশাসন, নইলে তোর গদি ধরে টান দিব

Published

on

By

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

পুনরায় শাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদানকালে জাতীয় ছাত্রশক্তি শাবিপ্রবি শাখার সদস্য সচিব রিয়াজ রিমন বলেন, ‘কেউ একজন বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, “ভাত দে হারামজাদা, নইলে মানচিত্র চিবিয়ে খাব।” আমরাও প্রশাসনকে বলতে চাই শাকসু দে প্রশাসন, নইলে তোর গদি ধরে টান দিব।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর একটায় ‘শাকসু পুনরুদ্ধার আন্দোলন’ এর ব্যানারে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অনুষ্ঠিত মানবন্ধনে এ কথা বলেন তিনি। মানবন্ধনে ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, ছাত্র আন্দোলন, ইনকিলাব মঞ্চের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিল।

তিনি আরো বলেন, ‘শাকসু নির্বাচন বন্ধ করতে কারা হাইকোর্টে গিয়েছিল, কারা নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করেছিল এবং কারা শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে শাকসু নির্বাচনে সহযোগিতা করবে না বলে সংবাদ সম্মেলন করেছিল তা পুরো বাংলাদেশ দেখেছে। বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন পদে থাকা ব্যক্তিরাই শাকসু নির্বাচন বানচালের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, শাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকার। শাবিপ্রবিতে শাকসু নির্বাচন হবে, প্রশাসনকে নির্বাচন দিতেই হবে। আমরা শাকসু নিয়েই ঘরে ফিরব। নির্বাচন না দিলে কীভাবে শাকসু আদায় করতে হয়, তা সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভালো করেই জানে।’

মানববন্ধনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল হাসান বলেন, শাকসু স্থগিত হওয়ার পর প্রশাসন বলেছিল ৪ সপ্তাহ পর শাকসু নির্বাচন হতে কোন বাঁধা থাকবে না। কিন্তু প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন এখনো কি সেই ৪ সপ্তাহ হয় নাই?

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার বিন সেলিম বলেন, ‘‘বর্তমান প্রশাসন এবং নির্বাচিত সরকার কথায় কথায় গণতন্ত্রের কথা বলে। কিন্তু তাদের কাছে কি গণতন্ত্রের অর্থ শুধুমাত্র ৩০০ আসনের সংসদীয় নির্বাচন? একটি দেশের জনগণের ভোটাধিকার থাকলে সেই দেশের শিক্ষার্থীদেরও তো গণতান্ত্রিকভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার থাকা উচিত। কিন্তু তারা সেটি বাস্তবায়ন করছেন না। তারা যদি সত্যিই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তাহলে সব জায়গাতেই এর চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু একদিকে গণতন্ত্রের কথা বলা, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পদে পদে বাধাগ্রস্ত করা এক ধরনের মুনাফিকি।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘৯০ এর পর বিএনপি আর ছাত্রসংসদ নির্বাচন হইতে দেয় নাই। তারা ছাত্রসংসদ নির্বাচনের ‘হত্যাকারী’। যদি তারা সেই ‘ছাত্র সংসদ হত্যাকারী’ তকমা বহন করতে না চায় এবং সত্যিকার অর্থেই গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারে বিশ্বাস করে, তাহলে তাদের স্বীকার করতে হবে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার রয়েছে।’’

স্বতন্ত্র ক্যান্টিন ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক শাকিল বলেন, নির্বাচনের একদিন আগে রিটের মাধ্যমে তা নির্বাচন বন্ধ করার মতো এমন নোংরামির নজির আর কোথাও আছে বলে মনে হয় না। আমি এখনো শাকসুর সময়ে নেওয়া ঋণ পরিশোধ করতে পারিনি। আমার মতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন অন্যায় কেন করা হলো? প্রশাসনের প্রতি আহ্বান, শিক্ষার্থীদের যে কষ্ট দিয়েছেন, তা উপলব্ধি করুন। শিক্ষার্থীদের অধিকার ও প্রত্যাশার প্রতি সম্মান দেখিয়ে দ্রুত শাকসু নির্বাচন দিন।’

ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক রশিদ আবরার বলেন, ‘শাকসু নির্বাচন বানচালে যারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে, তাদের জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রশাসন শাকসু চায় না। কারণ শাকসু প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত হবে। শিক্ষকদের স্বৈরাচারী মনোভাব, অনিয়ম-দুর্নীতি, প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। শিক্ষার্থীদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে পুতুলের মতো নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগও তারা হারাবে। এ কারণেই প্রশাসন শাকসু নির্বাচন দিতে চায় না।

ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক শাকিল মাহমুদ বলেন, আশা করছিলাম নতুন যে প্রশাসন এসেছে তারা শিক্ষার্থীদের পার্লস বুঝবেন। শিক্ষার্থীদের অধিকার বাস্তবায়নে তারা তাদের ন্যূনতম কর্তব্য (শাকসু নির্বাচন দেওয়া) পালন করবেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন ‘নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন’, ‘দায়িত্ব বুঝে পাই নাই’ এরকম নানা কথা বলে নাটক মঞ্চায়ন করছেন।

মানবন্ধনে আরো বক্তব্য দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক হাফিজুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম, বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবুল ইসলাম পবন প্রমূখ।

আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘‘শাকসু পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা গত বৃহষ্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেছি। আজ মানববন্ধন করলাম। আগামীকাল দেয়াল লিখন কর্মসূচি পালন করব। যদি প্রশাসন আমাদের দাবি মেনে না নেয় তাহলে সামনে আরো কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।’’

Continue Reading

ক্যাম্পাস

ববিতে সংঘাত-বিশৃঙ্খলা রোধে উপাচার্যকে ছাত্র অধিকার পরিষদের স্মারকলিপি

Published

on

By

ববি প্রতিনিধি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ফেরানো, বিভাগভিত্তিক সংঘাত বন্ধ এবং সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক মামুন অর রশীদ বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, ববি শাখা। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেন সংগঠনের নেতারা।

স্মারকলিপিতে ক্যাম্পাসের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস ও আশপাশের মেসগুলোতে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এসব সংঘাত ব্যক্তিপর্যায় ছাড়িয়ে ‘বিভাগভিত্তিক’ রূপ নিচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক একাডেমিক কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে বিনষ্ট করছে।

নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ক্যাম্পাসের বর্তমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ভীতির মধ্যে রয়েছেন। প্রশাসন অবিলম্বে এসব নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আপসহীন ও কঠোর অবস্থান না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যার দায়ভার কোনোভাবেই এড়ানো সম্ভব নয়।

ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্মারকলিপিতে তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়:

  • জিরো টলারেন্স নীতি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক বিধি মোতাবেক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনাগুলো সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দল-মত ও বিভাগ নির্বিশেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ও একাডেমিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
  • নিরাপত্তা জোরদার: ক্যাম্পাস, প্রধান ফটক ও সংবেদনশীল স্থানগুলোতে প্রক্টরিয়াল বডি এবং নিরাপত্তাকর্মীদের সার্বক্ষণিক টহল ও নজরদারি বাড়াতে হবে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা শুরুতেই রুখে দিতে প্রক্টরিয়াল বডিকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
  • কাউন্সেলিং ও সচেতনতা বৃদ্ধি: বিভাগভিত্তিক রেষারেষি বন্ধে প্রতিটি বিভাগের শিক্ষক ও ছাত্রপ্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি সভা বা ‘কাউন্সেলিং’-এর আয়োজন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক উগ্রতা কমাতে এবং পারস্পরিক সহনশীলতা বাড়াতে জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনিক উদ্যোগ নিতে হবে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষাজীবন ও ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষায় উপাচার্য অভিভাবকসুলভ দৃঢ়তা দেখিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে স্মারকলিপিতে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

Continue Reading

Trending