top1

‘৩ ফুটের মধ্যেও শিশুর নিরাপত্তা নেই’, রামিসার বাবা

Published

on

একই ভবনের এক ফ্ল্যাট থেকে আরেক ফ্ল্যাটের দরজার দূরত্ব মাত্র তিন ফুট। অথচ সেই অল্প দূরত্বের মধ্যেও নিজের সন্তানকে নিরাপদ রাখতে না পারার বেদনা ও ক্ষোভ নিয়ে কথা বলেছেন ধর্ষণের পর হত্যা করা আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।

তিনি মনে করেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু রাষ্ট্র নয়, পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি তার মেয়ের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীতে নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল কর্তৃক ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অশ্রুজল চোখে এ আকুতি জানান রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।

তিনি বলেন, সন্তান যদি সমাজের এমন নৃশংসতার শিকার হয়, তাহলে এর দায় শুধু পরিবারের নয়; সমাজ ও রাষ্ট্রকেও এর জবাবদিহি করতে হবে। আমি আমার রামিসা হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। বাংলাদেশের আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করি এবং সেই শাস্তি যেন দ্রুত কার্যকর হয়, সেটাই আমি দেখতে চাই।

এদিকে শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৭ জুন (রোববার) দিন ধার্য করেছেন আদালত। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের এই দিন নির্ধারণ করেন।

যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, সাক্ষীরা আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে আইনে বর্ণিত সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ আদালতে দাবি করেন, এ মামলায় কোনো ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়নি এবং আশপাশের কোনো সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে তিনি আসামিদের খালাস চান।

আদালত সূত্র জানায়, গত ২ জুন এ মামলায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের জবানবন্দিতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্তকরণ, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি উঠে আসে। একই সঙ্গে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে পালাতে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কীভাবে সহায়তা করেছিলেন, সেই বিবরণও উঠে এসেছে।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, ‘আমিও দোষ করছি, ডলারও দোষ করছে স্যার। আমাকেও সাজা দেন, সঙ্গে ওকেও দেন।’ তবে নিজের স্ত্রীকে নির্দোষ দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে স্বপ্নার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমি কিছু করিনি স্যার, আমি নির্দোষ।

উল্লেখ্য, আদালত উভয় আসামির বক্তব্য রেকর্ড করে রায়ের দিন চূড়ান্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version