Connect with us

top1

৫ আগস্টের পর কিছু মানুষের চেহারা রাতারাতি পরিবর্তন হয়ে গেছে: জামায়াত আমির

Published

on

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কিছু মানুষের চেহারা রাতারাতি পরিবর্তন হয়ে গেছে। দখলদারত্ব আর চাঁদাবাজিতে তারা লিপ্ত।’ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘এক দিকে গায়ে হাত, অন্য দিকে ফ্যামেলি কার্ড; দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না। যাদের হাতে মা বোনেরা এখনই নিরাপদ নয়, তারা ভবিষ্যতে কী করবেন, তা সহজে বোঝা যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা। পাল্লার মাপে কোনো কম বেশি করবো না, যার যা প্রাপ্য তা বুঝিয়ে দেবো।’

দেশের মানুষ কোনো বিশেষ পরিবার বা দলের রাজনীতি চায় না, তারা চায় জনগণের রাজনীতি মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘আসন্ন গণভোটই ঠিক করবে দেশ আজাদির নাকি গোলামির পথে যাবে।’ গণভোটে বিজয়ী হলে দেশে আর কোনো স্বৈরাচারী শাসন, দলীয় চাঁদাবাজি বা জনসম্পদে হাত দেওয়ার সুযোগ থাকবে না বলেও দাবি করেন তিনি।

Politics

সমাবেশে জামায়াতে আমির নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, ‘কিছু সংগঠন একদিকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে, অন্যদিকে আমাদের মা-বোনদের গায়ে হাত তোলে। যারা এখনই মা-বোনদের বেইজ্জতি করে, তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়।’ জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা, কর্মস্থল এবং যাতায়াতে নারীদের জন্য শতভাগ নিরাপত্তা ও পৃথক উন্নত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে বলেও ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে সব ধর্মের মানুষ যেন তাদের ধর্মীয় পোশাক ও রীতি পালন করতে পারে, সেই স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান যুবসমাজের উদ্দেশে বলেন, আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে তাদের লজ্জিত করতে চাই না। আমরা তাদের দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তুলে সম্মানের কাজ দিতে চাই। বেকার ভাতা মানে বেকারত্বকে উৎসাহিত করা, যা আমরা করব না।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সিন্ডিকেট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের কারণে মানুষ আজ পিষ্ট। আমরা এই সিন্ডিকেটের হাত গুঁড়িয়ে দেব এবং ব্যবসায়ীদের চাঁদার হাত থেকে মুক্তি দেব।’ এমনকি যারা বর্তমানে ভুল পথে বা চাঁদাবাজিতে লিপ্ত, তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে এনে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পুনর্বাসিত করার আশ্বাস দেন তিনি।

যশোরে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘জামায়াত কোনো প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়।’ ভুয়া ও গায়েবি মামলার মাধ্যমে কাউকে হয়রানি না করার জন্য তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের কঠোর নির্দেশ দেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেই তরুণরা রক্ত দিয়ে নতুন বাংলাদেশ এনেছে, তারাই পরিবর্তনের বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। এসময় তিনি আসন্ন নির্বাচনে ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করতে এবং জুলাই বিপ্লবের শহিদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তব্য শেষে জামায়াতের আমির যশোরের ছয়টি আসনের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতিকৃতি তুলে দেন।

জেলা জামায়াতের আমি গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

সভায় আরও বক্তব্য দেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাও. আজিজুর রহমান, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, অঞ্চল টিম সদস্য ড. আলমগীর বিশ্বাস, নড়াইল জেলা আমির আতাউর রহমান বাচ্চু, মাগুরা জেলা আমির এম বি বাকের, বিশিষ্ট আইনজীবী ও যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাড. গাজী এনামুল হক, যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মুক্তার আলী, যশোর জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দিকী, খেলাফত মজলিস যশোর জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ, এনসিপি দক্ষিণ অঞ্চল সংগঠক সাকিব শাহরিয়ার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যশোর জেলা মুখ্য সমন্বয়ক আমানুল্লাহ আমান প্রমুখ।

জামায়াতের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে দলীয় নেতা-কর্মীরা ময়দানে এসে জড়ো হতে থাকেন। সকাল হতে না হতেই পুরো মাঠ পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। দলবেঁধে আসা নেতা-কর্মীদের হাতে দেখা গেছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকসহ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার। জনসভা ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে শহরজুড়ে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে নতুন বল

Published

on

By

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ বাড়াতে নকআউট পর্বের চূড়ান্ত চার ম্যাচের জন্য নতুন ফুটবল উন্মোচন করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ধারাবাহিকতায় এবারও সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ও ফাইনালের জন্য আনা হয়েছে বিশেষ বল ‘ট্রিওন্ডা ফাইনাল’।

জমকালো এই বলটির সোনালি ও কালো রঙের বিশেষ নকশা টুর্নামেন্টের শেষভাগের মহোৎসবকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন বলের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে এর নকশা ও রঙে এসেছে ভিন্নতা। কালো বেসের ওপর সোনালি রঙের প্রাধান্য রয়েছে, যা বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতীকী ইঙ্গিত বহন করে। এর সঙ্গে রয়েছে লাল ও গোলাপি রঙের সংমিশ্রণ।

বলটির প্যানেলে লেখা থাকবে টুর্নামেন্টের শেষ চার ম্যাচের আয়োজক শহরের নাম-ডালাস, আটলান্টা, মিয়ামি এবং নিউইয়র্ক/নিউ জার্সি। অন্য আয়োজক শহরগুলোর নাম থাকবে বলের গায়ে থাকা ত্রিভুজাকৃতির গ্রাফিক্সে।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে বলটিতে আগের মতোই থাকছে ‘কানেক্টেড বল টেকনোলজি’। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বলের ভেতরে থাকা বিশেষ সেন্সর চিপ রিয়াল-টাইম বা তাৎক্ষণিক ডেটা সরাসরি ম্যাচ রেফারি ও ভিএআর কক্ষে পাঠাবে, যা সেমি-অটোমেটেড অফসাইড সিস্টেমকে আরও নির্ভুলভাবে অফসাইড এবং নিখুঁত বল-টাচ শনাক্ত করতে সাহায্য করবে।

বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বল বদলানোর ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল থেকে নতুন বল ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে ২০১৮ রাশিয়া, ২০১৪ ব্রাজিল, ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা ও ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে শুধু ফাইনালের জন্য আলাদা বল আনা হয়েছিল। আর ২০০২ সালের আগে বিশ্বকাপের মাঝপথে বল পরিবর্তনের নজির ছিল না।

Continue Reading

top1

বাংলাদেশকে ৩.৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স

Published

on

By

দেশের জ্বালানি ও খাদ্য খাতের সুরক্ষায় বাংলাদেশকে ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেবে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি)। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তেল, গ্যাস ও সার আমদানিতে এই অর্থ ব্যবহৃত হবে।

সোমবার (৫ জুলাই) আইটিএফসির সৌদি আরবের জেদ্দার সদর দপ্তরে এ-সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়। আইটিএফসি ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি) গ্রুপের সদস্য প্রতিষ্ঠান।

আইটিএফসির এই অর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের তিনটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ঋণ সুবিধা পাবে। সেগুলো হলো—বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি), তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা) এবং কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পেট্রোলিয়াম পণ্য, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং সার আমদানির সুবিধার্থে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন জেদ্দা সফররত অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং আইটিএফসির পক্ষে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) নাজিম নুরদালি। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইটিএফসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইঞ্জিনিয়ার আদিব ইউসুফ আল আমা।

আইটিএফসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই অর্থায়ন কর্মসূচি জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার ও আইটিএফসির মধ্যকার যৌথ অংশীদারত্বকে আরও দৃঢ় করবে। ১৯৭৭ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারকে জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানিতে সহায়তার জন্য ২২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়ন দিয়েছে আইটিএফসি-আইএসডিবি।

Continue Reading

top1

বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

Published

on

By

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

তিনি বলেন, সরকারের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই এই অগ্রগতি এসেছে। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকটি দেশের শ্রমবাজারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত হবে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি এবং বিদ্যমান শ্রমবাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

সৌজন্য সাক্ষাতে সিলেটের সার্বিক উন্নয়ন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি, বিশেষ করে সিলেটি প্রবাসীদের অবদান, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ করতে দুই দেশ নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং উন্নয়ন অংশীদারত্বকে আরও গতিশীল করবে।

সাক্ষাতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Continue Reading

Trending