‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট না দিলে আমাদেরকে ইন্ডিয়াতে পাঠানোর ভয় দেখাচ্ছে জামাত ইসলাম, কিন্তু আমরা সবাই ধানের শীষে ভোট দিব’—একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারী এভাবে আতঙ্কের কথা বলছেন এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফেসবুকে বিএনপি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গ্রুপেও পোস্ট করা হয়েছে ভিডিওটি।
তবে গণমাধ্যম এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ভিডিওটির মূল আধেয় অভিন্ন রেখে দুটি ধরন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে।
যাচাইয়ে দেখা যায়, জোকভার্স নামে একটি ফেসবুক পেইজে পোস্ট করা ভিডিওটির ওপরের দিকে বামপাশে ইংরেজিতে লাইভ লিখে পাশে লাইভ নির্দেশক হিসেবে লাল বিন্দু দেওয়া হয়েছে। ভিডিওটির ফ্রেমের মধ্যে লেখা আছে, ‘জামাতি ইসলামির হুমকির অভিযোগ’ এবং ‘আমরা হিন্দু মহিলা-—ভয় দেখানো হচ্ছে এটা মেনে নেয়া যায়না’ (লেখা অপরিবর্তিত)। ফেসবুকে পোস্টটির ক্যাপশন হিসেবে লেখা আছে, ‘ভোটের আগে হিন্দু পল্লীতে আতঙ্ক—হুমকি ও নির্যাতনের অভিযোগ, অসহায় নারীদের লাইভ আর্তনাদ।’
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ১৭ লাখের বেশি নেটিজেন দেখেছে এবং ৪৫ হাজার বারের বেশি শেয়ার করা হয়েছে। এতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি মন্তব্য এসেছে ৩ হাজারের কাছাকাছি। ভিডিওতে করা দাবিটি বিশ্বাস করে মন্তব্য করেছেন শত শত নেটিজেন। যেমন: আব্দুর রব নামে একজন লিখেছেন, ‘যারা আপনাদের ভয় দেখায় তারা তো একাত্তরের স্বাধীনতা বিরোধী, জামায়াতের কাজ হচ্ছে মানুষকে ভয় দেখানো। কারণ তারা জানে, নির্বাচনে জনগণ তাদেরকে ভোট দেবে না। তাই তারা পাগল হয়ে গেছে।’
আখতার হোসেন নামে আরেকজন নেটিজেন লিখেছেন, ‘এঁরা ভারতীয় হিন্দু ভারতের ষড়যন্ত্র।’
অন্যদিকে, ভিডিওর ফ্রেমে ‘তারেক জিয়ার হাতকে শক্তিশালী কারুন, ধানের শীষে ভোট দিন’ লেখা আরেকটি ভিডিও টিকটক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিওটির এই ধরনটি রাশেদুল ইসলাম সবুজ নামে একজন ব্যক্তির একাউন্টে ৬ হাজারের কাছাকাছি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ৯১ হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে। সেখানেও দাবিটি বিশ্বাস করে প্রতিক্রিয়া দিতে দেখা গেছে অনেক নেটিজেনকে। যেমন সেখানে, সুমাইয়া আকতার নামে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘কোনো রাজাকারের বাচ্চার ঠাঁই হবে না। পাকিস্তানের দালালেরা পাকিস্তানে যাইতে হবে ইনশাআল্লাহ।’
মোহাম্মদ নানু মিয়া নামে অন্য একজন লিখেছেন, ‘তোমাদের কোনো ভয় নাই। ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারেক জিয়ার মাধ্যমে উন্নয়ন মুখী বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। জামায়াত ভয় দেখিয়ে কিছু করতে পারবে না। ইনশাআল্লাহ।’
তবে, এআই কন্টেন্ট শনাক্তকারী টুলস SynthID-তে ভিডিওটি আপলোড করে জানা গেছে, এর অডিও এবং ভিডিওটি গুগল এআই (AI) ব্যবহার করে তৈরি বা এডিট করা হয়েছে। ১৬ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ‘সিন্থ-আইডি’ ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করা হয়েছে। যা নির্দেশ করে, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি।
অন্যদিকে, এআই ইমেজ সনাক্তকারী টুলস আনডিটেক্টেভল.এআইয়ে ভিডিওটির একাধিক ছবি আপলোড করে জানা গেছে, এর ৯২ শতাংশই এআই এবং মাত্র ৩ শতাংশ বাস্তব। এ ছাড়াও এ সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে বাংলাদেশের কোনো সংবাদমাধ্যমে এ সম্পর্কিত কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।
সংবাদ
সুতরাং, ‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট না দিলে আমাদেরকে ইন্ডিয়াতে পাঠানোর ভয় দেখাচ্ছে জামাত ইসলাম’ এমন দাবি করে হিন্দু নারীকে ফ্রেমে রেখে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।