Connect with us

top2

ঐতিহাসিক ‘লাল বাড়ি’ বরাদ্দ হলো জামায়াত আমিরের জন্য

Published

on

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের জন্য ঢাকার মিন্টো রোডের ঐতিহাসিক দোতলা লাল রঙের ভবনটি বরাদ্দ দিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। ‘লাল বাড়ি’ নামে পরিচিত ২৯ নম্বর এই বাসভবনটি দীর্ঘদিন খালি পড়ে ছিল।

দীর্ঘ সময় ব্যবহার না হওয়ায় ভবনটি বেশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সেখানে জোরেশোরে মেরামত, সংস্কার ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাজ চলছে। পূর্ত মন্ত্রণালয়ের দাবি, বাসভবনটি বিরোধীদলীয় নেতার বসবাসের উপযোগী করে তুলতে আরও এক থেকে দেড় মাস সময় লাগতে পারে।

ব্রিটিশ আমলে প্রায় আড়াই একর জায়গার ওপর নির্মিত দোতলা লাল রঙের এই ভবনটি ‘লাল বাড়ি’ নামে পরিচিত। সময়ের পরিক্রমায় এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এ বাসভবনে ওঠেন। পরে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এখানে নিয়মিত কার্যালয় পরিচালনা করেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সে সময় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পদচারণায় বাড়িটি ছিল সরগরম, চারপাশও থাকত প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর।

২০০১ সালে খালেদা জিয়া বাসভবনটি ছেড়ে দেওয়ার পর দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সেখানে আর কোনো বিরোধীদলীয় নেতা বসবাস করেননি।

বাড়িটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন প্রকৌশলী বলেন, এ বাড়িটির প্রায় নব্বই ভাগ কাজ সম্পূর্ণ করা আছে। এখন রাস্তার অংশ আর রঙের ফিনিশিং কাজ চলছে। আসবাবপত্র দেওয়া হবে যিনি থাকবেন তার চাহিদার ওপর। গত ২৫ বছর এ বাসভবনে কেউ থাকেননি। এবার যদি কেউ থাকেন তার সঙ্গে কথা বলে এবং সর্বোচ্চ এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে সব কাজ শেষ করার চেষ্টা চলবে।

জানা গেছে, এ বাড়িটি ১৯৯৬-২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াতসহ চারদলীয় জোটের আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল। বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাসহ জোটের শীর্ষ নেতারা এখানে অসংখ্যবার বৈঠক করেছেন। গত ২৫ বছরে কেউ না উঠলেও এবার জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা হিসাবে এখানে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও দলটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর একজন শীর্ষ নেতা জানান, তাদের দলের আমির বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি শপথের পর এবং আগে বলেছেন জামায়াত ইতিবাচক রাজনীতি করবে। যেহেতু বাড়িটি বিরোধীদলীয় নেতার জন্য বরাদ্দ তাই সেখানে তিনি উঠতে পারেন এমনটি ধারণা করা যায়। তবে এখন পর্যন্ত দলীয়ভাবে বা আমিরের পক্ষ থেকে ওই বাড়িতে ওঠার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদ সচিবালয় বা সরকার নিয়ম অনুসারেই বিরোধীদলীয় নেতার জন্য ২৯ মিন্টো রোডের বাড়ি বরাদ্দ দিয়েছে। ওই বাড়িতে তিনি উঠবেন কিনা বা উঠলে কবে নাগাদ উঠবেন তা এখনো ঠিক হয়নি। এ ব্যাপারে দলের কোনো ফোরামে এখন পর্যন্ত আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, সংসদ তো এখনো বসেনি। অধিবেশন শুরু হোক, তখন আমরা দলীয় নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা করে জানাব।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ আমলে মূলত সরকারি কর্মকর্তাদের কথা ভেবেই এ বাসভবন তৈরি করা হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর একসময় এটি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার জন্য নির্ধারণ করা হয়। তবে দীর্ঘদিন কেউ না থাকায় বাসভবনটি এখন অনেকটাই জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। একটি নিভৃত বাসভবন হিসাবে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে মন্ত্রিপাড়াখ্যাত মিন্টো রোডের এ বাড়িটি। দুই দশকের বেশি সময় ধরে অব্যবহৃত থাকা এ বাসভবনের আশপাশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ডিএমপি কমিশনার, একজন বিচারপতি, একজন নির্বাচন কমিশনার, পররাষ্ট্র সচিব, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, ঢাকা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বাসভবন রয়েছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

দুটি বিমানবাহী রণতরিসহ ২৬ যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

Published

on

By

মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব আরও সুসংহত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চলমান ইরান অবরোধ কার্যকর করার লক্ষ্যে ওই অঞ্চলে বর্তমানে দুটি বিমানবাহী রণতরিসহ অন্তত ২৬টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই নজিরবিহীন সামরিক তৎপরতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ কার্যকর করতে মাঠে নেমেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই অভিযানের অংশ হিসেবে কৌশলগত অবস্থান থেকে যুদ্ধজাহাজগুলো মোতায়েন করা হয়েছে। ভারত মহাসাগরসহ বিভিন্ন এলাকায় এ পর্যন্ত অন্তত তিনটি জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে মার্কিন সেনারা, যার মধ্যে দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয় পারস্য উপসাগর থেকে প্রায় দুই হাজার মাইল দূরে ভারত মহাসাগরে।

সর্বশেষ বুধবার রাতে ভারত মহাসাগরে নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন একটি তেলবাহী জাহাজে অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ইরান থেকে তেল পরিবহন করছিল।

বর্তমানে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) অধীনে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ১৯টি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এই বিশাল নৌবহরের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দুটি বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। তাদের সাথে পাহারায় রয়েছে ইউএসএস বেইনব্রিজ, ইউএসএস টমাস হাডনার, ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই পিটারসেন জুনিয়র, ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাক, ইউএসএস মাইকেল মারফি, ইউএসএস মিটশার, ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা, ইউএসএস স্প্রুয়েন্স, ইউএসএস মিলিয়াস, ইউএসএস চার্চিল, ইউএসএস ট্রাক্সটন ও ইউএসএস মাহান নামক ১২টি ডেস্ট্রয়ার। এছাড়া এই বহরে যুক্ত রয়েছে ইউএসএস ক্যানবেরা ও ইউএসএস তুলসা নামক দুটি কমব্যাট শিপ এবং ইউএসএস ত্রিপোলি, ইউএসএস নিউ অরলিন্স ও ইউএসএস রাশমোর নিয়ে গঠিত অ্যাম্ফিবিয়াস গ্রুপ।

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় আলাদাভাবে টহল দিচ্ছে আরও সাতটি যুদ্ধজাহাজ। এর মধ্যে রয়েছে ইউএসএস জন ফিন, ইউএসএস পিঙ্কনি, ইউএসএস হিগিন্স, ইউএসএস মাস্টিন, ইউএসএস ম্যাকফল, ইউএসএস জন এল. ক্যানলি এবং ইউএসএস সান্তা বারবারা। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অঞ্চলটিতে মার্কিন বাহিনীর এই বিপুল উপস্থিতি ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা এবং ওই এলাকায় নিজেদের কৌশলগত আধিপত্য বজায় রাখার প্রচেষ্টারই বহিঃপ্রকাশ।

Continue Reading

top2

চুক্তি না হলে আমাদের আবার বোমা ফেলতে হবে: ট্রাম্প

Published

on

By

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিয়ে নতুন করে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও বোমা হামলা শুরু করতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বুধবার শেষ হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে তিনি যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে নিশ্চিত নন।

ট্রাম্প বলেন, ‘হয়তো আমি যুদ্ধবিরতি বাড়াব না, তবে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় থাকবে। তখন পরিস্থিতি এমন হবে যে, দুঃখজনকভাবে আমাদের আবার বোমা ফেলতে হবে।’

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে, যার লক্ষ্য যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা এবং একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো। তবে সম্প্রতি ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয়নি।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশাসন এখনও আশাবাদী।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Continue Reading

top2

দেশে এপ্রিল-মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি সক্ষমতা রয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

Published

on

By

দেশে এপ্রিল মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি সক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) চট্টগ্রামে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে আমাদের আমদানিকৃত সকল জ্বালানি এসেছে। মার্চ ও এপ্রিলে কিছুটা বিঘ্নিত হলেও এপ্রিল মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি সক্ষমতা আছে। বর্তমানে জুন মাসের চাহিদা মাথায় রেখে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। জ্বালানি চাহিদা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বর্তমানে সর্বোচ্চ জ্বালানি মজুত রয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, সরকার বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানির চেষ্টা করছে।

পরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহও বাড়ানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন,ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিকল্প উৎসে অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জ্বালানির বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষি ও শিল্প খাতকে প্রাধান্য দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম।

এর আগে গত ১৫ এপ্রিল জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশে অকটেন এবং পেট্রোলের যে মজুত আছে তাতে আগামী দুই মাসেও কোনো সমস্যা হবে না। দেশে ডিজেল রয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৮৫ টন, অকটেন রয়েছে ৩১ হাজার ৮২১ টন। পেট্রোল রয়েছে ১৮ হাজার ২১ টন ও ফার্নেস ওয়েল রয়েছে ৭৭ হাজার ৫৪৬ টন।

মূলত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়ে গেছে। মানুষ ফিলিং স্টেশনে ভিড় করতে শুরু করে। এ ভিড় প্রতিদিন বাড়ছে। পেট্রলপাম্পের মালিকেরা বলছেন, মূলত অকটেন ও পেট্রলের জন্যই সারা দেশে এমন তেলের লাইন।

Continue Reading

Trending