Connect with us

top1

ইউক্রেনকে যুদ্ধের জন্য ঋণ দিচ্ছে ইইউ!

Published

on

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দ্বিচারিতাকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এলো। একদিকে তারা রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের ব্যয় নির্বাহ করতে ইউক্রেনকে হাজার কোটি ডলার ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে। আবার অন্যদিকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির মাধ্যমে রাশিয়ার কথিত ‘ওয়ার মেশিনের’ জন্য অর্থের জোগান দিচ্ছে।

২০২৭ সালের মধ্যে রুশ এলএনজি আমদানি নিষিদ্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইইউ। অথচ গত বছর রাশিয়ার কাছ থেকে ইইউ’র এলএনজি আমদানি কমার বদলে বেড়েছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, ইইউ’র কাছে এলএনজি রপ্তানি করে গত বছর আনুমানিক ৭২০ কোটি ইউরো আয় করেছে ক্রেমলিন। এর ফলে ইউরোপীয় সরকারগুলোর বিরুদ্ধে ইউক্রেনে ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধকে ইন্ধন জোগানোর অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাইবেরিয়ার ইয়ামাল উপদ্বীপে অবস্থিত রাশিয়ার এলএনজি কমপ্লেক্স থেকে ইউরোপীয় বন্দরে বিপুল পরিমাণ চালান আসায় ইইউ’র সদস্য দেশগুলোতে এখনো কোনো উল্লেখযোগ্য ভাটা পড়েনি। মানবাধিকারবিষয়ক এনজিও উরগেওয়াল্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আর্কটিক অঞ্চল দিয়ে ১ কোটি ৫০ লাখ টনের বেশি রুশ এলএনজি ইইউ টার্মিনালে পৌঁছেছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর দেশটি থেকে ইউরোপে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ সার্বিকভাবে কমেছে। তবে গত বছর ইয়ামাল থেকে বৈশ্বিক মোট চালানের মধ্যে ইইউর অংশ বেড়ে ৭৬ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৭৫ দশমিক ৪ শতাংশ।

মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো এখনো জ্বালানির জন্য রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। তাই রাশিয়ার এলএনজি চালান নিষিদ্ধ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না ইইউ।

ইয়ামাল উপদ্বীপ থেকে এলএনজির পরিবহন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে পরিচিত দুটি ইউরোপীয় শিপিং কোম্পানির একটি হলো যুক্তরাজ্যভিত্তিক সিপিক। সর্বশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সিপিক তাদের জাহাজে করে ইয়ামালের এলএনজির ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবহন করেছে, আর গ্রিসের ডাইনাগাস পরিবহন করেছে ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

ইয়ামাল থেকে এলএনজি পরিবহনে ব্যবহৃত ১৪টি বিশেষ বরফভেদী ‘আর্ক৭’ শ্রেণির ট্যাংকারের মধ্যে ১১টির মালিক সিপিক ও ডাইনাগাস। সিপিকের মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান স্টোনপিকের হাতে। যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, চলতি বছরই রুশ এলএনজি বহনকারী জাহাজের জন্য সামুদ্রিক সেবা প্রদানে নিষেধাজ্ঞার দিকে অগ্রসর হবে তারা।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

উদীয়মান চতুর্থ পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে ইরান

Published

on

By

বিশ্বরাজনীতির চালিকাশক্তি মূলত যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীন এমন ধারণা এতদিন ধরে প্রচলিত ছিল। কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর সামনে ভিন্ন এক সমীকরণ নিয়ে এসেছে। অর্থনীতি বা প্রথাগত সামরিক শক্তিতে পিছিয়ে থাকলেও ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে ‘চতুর্থ বৈশ্বিক পরাশক্তি’ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে ইরান। এমনটাই বিশ্লেষণ করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

ইরানকে বিশ্লেষণ করতে প্রথমেই চলে আসে হরমুজ প্রণালির নাম। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক পঞ্চমাংশ (প্রায় ২০ ভাগ) পরিবাহিত হয় এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে সংঘাতের জেরে ইরান এই রুটে আংশিক সামরিক অবরোধ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতামত, ইরানকে এই প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে না; মাঝে মাঝে দু-একটি জাহাজে হামলা বা হুমকির মাধ্যমেই তারা বিশ্ববাজার নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। এর ফলে বীমা খরচ বৃদ্ধি ও নিরাপত্তার অভাবে জাহাজ চলাচল ইতিমধ্যে ৯০ শতাংশ কমে গেছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ডের গোয়েন্দাপ্রধানকে হত্যা

আধুনিক বিশ্ব অর্থনীতি শুধু তেলের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং তেলের নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল সরবরাহের ওপরই মূলত টিকে আছে। যখন এই নির্ভরযোগ্যতা ভেঙে পড়ে, তখন সরবরাহ ব্যবস্থা আর সাধারণ বাজারের লেনদেন থাকে না। তা দ্রুত পরিণত হয় একটি জটিল ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রতিটি জাহাজকে আলাদাভাবে পাহারা দেওয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বাস্তবে প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে, ইরানের জন্য মাত্র কয়েকটি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েই পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তোলা যথেষ্ট। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইতিমধ্যেই স্বীকার করেছেন যে, শুধু শক্তি প্রয়োগ করে এই পথ খোলা রাখা বাস্তবসম্মত নয়। এটি সম্ভব শুধুমাত্র ইরানের সাথে কূটনৈতিক সমন্বয় ও আলোচনার মাধ্যমেই।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জ্বালানির জন্য এই অঞ্চলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত ও চীনের মতো দেশগুলো। সরবরাহ বিঘ্নিত হলে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা বা ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ দেখা দিতে পারে, যা ১৯৭০-এর দশকের সংকটের কথা মনে করিয়ে দেয়। এই পরিস্থিতিতে ইরান, রাশিয়া ও চীন—এই তিন শক্তির স্বার্থ মিলে যাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। যদি ইরান (২০ শতাংশ), রাশিয়া (১১ শতাংশ) এবং চীন মিলে একটি জ্বালানি জোট বা কার্টেল তৈরি করে, তবে তারা বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ তেল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করবে। এতে পশ্চিমা বিশ্বের ক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পাবে এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু এই জোটের দিকে ঝুঁকে পড়বে।

সুতরাং যুক্তরাষ্ট্র দাঁড়িয়ে আছে এখন এক কঠিন সন্ধিক্ষণে। হয় তাদের দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করতে হবে, নয়তো ইরানকে একটি বৈশ্বিক শক্তিকেন্দ্র হিসেবে মেনে নিতে হবে। এই যুদ্ধ কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং এটি বিশ্বব্যবস্থাকে অপরিবর্তনীয়ভাবে বদলে দেওয়ার এক রূপান্তরমূলক অধ্যায়।

Continue Reading

top1

৭১-এর সংবিধান সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published

on

By

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন, আমরা এটি চাই। বিরোধী দল চাই কিনা, জিজ্ঞেস করেন।

আজ রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, বিরোধী দল সংস্কার চায়, ৭১ এবং ২৪কে বরাবর করে চায়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ৭১ এর সাথে কিছু তুলনা চলে না। ৭১ এর সংবিধান কেনো ভাল লাগে না, আমরা বুঝিতো। সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন, বিজয়গাঁথা। কার কারো কাছে, পরাজয়ের গ্লানি। আমি সেই পথে যাবো না।

Continue Reading

top1

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের নতুন বয়স নির্ধারণ

Published

on

By

সংসদে সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল- ২০২৬ পাস হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল, ২০২৬ সংসদে উত্থাপন করলে তা পাস হয়।

এই বিলের আওতায় সিভিল সার্ভিসের সকল ক্যাডারের চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২, সিভিল সার্ভিসের আওতা বহির্ভূত অন্যান্য সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, স্ব শাসিত সংস্থাসমূহে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩২ এবং প্রতিরক্ষা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চাকরিতে স্ব স্ব বিধিমালা বহাল

Continue Reading

Trending