Connect with us

top2

ইউক্রেনের পাঁচটি জনপদ দখলের দাবি রাশিয়ার

Published

on

মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইউক্রেনের খারকিভ ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চল এবং দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকের পাঁচটি জনপদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৭ থেকে ২৩ জানুয়ারির মধ্যে এসব এলাকা দখল করা হয়েছে। রুশ বার্তা সংস্থা তাস এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, খারকিভ অভিমুখে চালানো সক্রিয় অভিযানে ব্যাটলগ্রুপ নর্থ খারকিভ অঞ্চলের সিমিনোভকা জনপদ দখল করে। একই সময়ে ব্যাটলগ্রুপ সাউথ দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকের প্রিভোলিয়ে দখলে নেয়। ব্যাটলগ্রুপ সেন্টারের অভিযানে দোনেৎস্ক অঞ্চলের নভোপাভলোভকা তাদের নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ছাড়া ব্যাটলগ্রুপ ইস্ট জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের প্রিলুকি এবং ব্যাটলগ্রুপ দনিপ্র একই অঞ্চলের পাভলোভকা দখল করেছে বলে জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ১৭ থেকে ২৩ জানুয়ারি সময়কালে ইউক্রেনীয় বাহিনীর তথাকথিত ‘সন্ত্রাসী হামলার’ জবাবে রুশ সশস্ত্র বাহিনী একটি বৃহৎ ও পাঁচটি সমন্বিত নির্ভুল হামলা চালায়। এসব হামলায় ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্স, জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামো, গোলাবারুদ ও জ্বালানি গুদাম, দীর্ঘপাল্লার ড্রোন উৎপাদন ও সংরক্ষণ কেন্দ্র, ড্রোন উৎক্ষেপণস্থল এবং ইউক্রেনীয় সেনা ও বিদেশি ভাড়াটে যোদ্ধাদের অস্থায়ী অবস্থান লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, এক সপ্তাহে ব্যাটলগ্রুপ নর্থের অভিযানে এক হাজার ১১০ জনের বেশি ইউক্রেনীয় সেনা হতাহত হয়েছে। খারকিভ ও সুমি অঞ্চলে চালানো হামলায় ইউক্রেনের যান্ত্রিক, আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা, ন্যাশনাল গার্ড ও সীমান্তরক্ষী ইউনিটগুলোর নয়টি সাঁজোয়া যান, ১০৭টি সামরিক যান ও ১৮টি ফিল্ড আর্টিলারি ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি ১০টি ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা ও কাউন্টারব্যাটারি রাডার এবং ২৩টি গোলাবারুদ ও রসদ গুদাম ধ্বংসের দাবি করা হয়।

ব্যাটলগ্রুপ ওয়েস্ট এক সপ্তাহে এক হাজার ৪০০ জনের বেশি ইউক্রেনীয় সেনা হতাহত করার দাবি করেছে। তাদের অভিযানে দুটি ট্যাংক, ১৮টি সাঁজোয়া যান, ১৫০টি সামরিক যান ও ১১টি ফিল্ড আর্টিলারি ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে ২৯টি গোলাবারুদ গুদাম ধ্বংসের কথাও উল্লেখ করা হয়।

ব্যাটলগ্রুপ সাউথের অভিযানে এক সপ্তাহে এক হাজার ২৫৫ জনের বেশি ইউক্রেনীয় সেনা হতাহত হয়েছে বলে রাশিয়ার দাবি। এ সময় ৩৩টি সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত দুটি স্ট্রাইকার ও চারটি এম–১১৩ সাঁজোয়া যান রয়েছে। এ ছাড়া ৮০টি সামরিক যান, ১৮টি আর্টিলারি গান, ১৩টি ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও রাডার স্টেশন এবং ১১টি গোলাবারুদ ও জ্বালানি গুদাম ধ্বংসের তথ্য দেওয়া হয়।

সবচেয়ে বেশি হতাহতের দাবি করা হয়েছে ব্যাটলগ্রুপ সেন্টারের অভিযানে। এক সপ্তাহে তাদের অভিযানে দুই হাজার ৯৭০ জনের বেশি ইউক্রেনীয় সেনা হতাহত হয়েছে বলে জানানো হয়। এতে চারটি ট্যাংক ধ্বংস হয়, যার মধ্যে একটি জার্মান নির্মিত লিওপার্ড ট্যাংক রয়েছে। পাশাপাশি ৩৩টি সাঁজোয়া যান, ৫০টি সামরিক যান ও ১৫টি আর্টিলারি গান ধ্বংস করা হয়েছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত দুটি ১৫৫ মিলিমিটার প্যালাডিন স্বচালিত কামান রয়েছে।

ব্যাটলগ্রুপ ইস্টের অভিযানে এক হাজার ৭৪০ জনের বেশি ইউক্রেনীয় সেনা হতাহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ সময় তিনটি ট্যাংক, ২৩টি সাঁজোয়া যান, ৬৭টি সামরিক যান ও ১১টি আর্টিলারি গান ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনটি গোলাবারুদ ও রসদ গুদাম ধ্বংসের কথাও জানানো হয়।

ব্যাটলগ্রুপ দনিপ্রের অভিযানে আনুমানিক ৩৩৫ জন ইউক্রেনীয় সেনা হতাহত হয়েছে বলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি। এ সময় ৩৭টি সামরিক যান, দুটি আর্টিলারি গান, ১৩টি ইলেকট্রনিক জ্যামিং স্টেশন এবং পাঁচটি রসদ গুদাম ধ্বংস করা হয়েছে।

এ ছাড়া এক সপ্তাহে ইউক্রেনীয় বাহিনীর আটটি মাল্টিপল রকেট লঞ্চার ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানায় রাশিয়া, যার মধ্যে তিনটি ছিল পশ্চিমা নির্মিত। পাশাপাশি একটি ওসা ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাও ধ্বংসের দাবি করা হয়েছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

তারেক রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্বে এলে গুণগত পরিবর্তন হবে: মোহাম্মদ শাহজাহান

Published

on

By

তারেক রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসলে গুণগত পরিবর্তন আসবে এবং জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ শাহজাহান।

তিনি বলেন, বিএনপি পরিবর্তিত রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে আগামীর সরকার জনগণের সরকার হবে এবং রাষ্ট্রের মালিক জনগণ হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার জমিদার হাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এওজবালিয়া ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শাহজাহান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে যারা অভাবগ্রস্থ ও অনঅগ্রসর তাদেরকে ফ্যামিলি কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান করা হবে। তাই আগামী নির্বাচন অর্থবহ ও শান্তিপূর্ণ করার দায়িত্ব আমাদের সকলের।

নির্বাচনী জমনসভায় এওজবালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেন এর সভাপতিত্বে ও সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, সদস্য সচিব হারুনুর রশীদ আজাদ, সদর উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সলিম উল্যাহ বাহার হিরণ, সদস্য সচিব ভিপি জসিম জসিম ও সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড. কাজী কবির আহমদ সহ ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

Continue Reading

top2

গজারিয়ায় নির্বাচনি মিছিলে সংঘর্ষ, আহত ৭

Published

on

By

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় সোনালী মার্কেট এলাকায় মুন্সীগঞ্জ–৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের সমর্থকদের মিছিলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান রতনের সমর্থকদের বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত সবাইকে নিজের সমর্থক বলে দাবি করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৫টায় গজারিয়া ইউনিয়নের সোনালী মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

আহতরা হলেন- মামুন (৪৭), মানিক (৪২), আল আমিন (২৫), স্বপন সরকার (৫৫), বাবু (৪০) ও জয়নাল (৩৮)।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নাজমুল হোসেন বলেন, শুক্রবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ–৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী মহিউদ্দিনের সমর্থনে আমরা একটি মিছিল বের করি। মিছিলটি গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে শুরু হয়ে গজারিয়া গার্লস স্কুল পার হয়ে সোনালী মার্কেট এলাকায় পৌঁছালে ২০–২৫ জন রতন সমর্থক লাঠিসোঁটা হাতে ওত পেতে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তাদের লাঠিপেটায় আমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যাই। আমাদের ৭-৮ জন লোক আহত হয়। আহতরা বিভিন্ন ফার্মেসি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিনের সমর্থক হুমায়ন খান বলেন, এই ন্যক্কারজনক হামলার আমি নিন্দা জানাই। আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক, তাই কি আমাদের স্বাধীনভাবে প্রচার-প্রচারণা চালানোর অধিকার নেই? আমার কাছে আসা তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় আমাদের ৭ জন সমর্থক আহত হয়েছেন। আমরা প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ–৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন বলেন, আমার ৭-৮ জন কর্মী আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। আমার প্রতিপক্ষ বুঝতে পেরেছে যে মুন্সীগঞ্জ–৩ আসনে আমার জনসমর্থন অনেক বেশি, তাই তারা প্রথম থেকেই মারমুখী আচরণ করছে। আমি এই ঘটনার নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের শাস্তির দাবি করছি।

এ বিষয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান রতন বলেন, আমি আজ মুন্সীগঞ্জ শহরে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলাম। যারা এই কাজটি করেছে, তারা খুব খারাপ কাজ করেছে। এর দায়ভার আমি কিংবা আমার দল নেবে না। যারা করেছে, তাদেরই এর দায়ভার নিতে হবে।

এ বিষয়ে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসান আলী বলেন, এমন একটি খবর আমরা পেয়েছি। খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Continue Reading

top2

রোববার ৪ জেলায় নির্বাচনি জনসভা করবেন তারেক রহমান

Published

on

By

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের তৃতীয় দিনের নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণার কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়েছে। রোববার চার জেলায় নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেবেন তিনি।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান গণমাধ্যমের কাছে তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

সূচি অনুযায়ী, রোববার (২৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে দিনব্যাপী একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।

নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, রোববার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরীর হোটেল র‌্যাডিসনে আয়োজিত একটি ‘পলিসি ডায়ালগ’-এ অংশ নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এতে দলের নীতিগত অবস্থান, নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিকল্পনা এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এরপর বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড ময়দানে আয়োজিত এক জনসমাবেশে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম মহানগরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

চট্টগ্রামের কর্মসূচি শেষ করে তিনি ফেনীর উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সেখানে ফেনী পাইলট কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য আরেকটি জনসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।

এরপর পর্যায়ক্রমে কুমিল্লার তিনটি স্থানে জনসমাবেশে অংশ নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান। এসব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে চৌদ্দগ্রাম, সুয়াগাজী ও দাউদকান্দি এলাকায়।

দিনের শেষ কর্মসূচি হিসেবে তিনি নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বালুর মাঠে একটি জনসমাবেশে যোগ দেবেন। সমাবেশ শেষে তিনি ঢাকার গুলশানে নিজ বাসভবনের উদ্দেশে রওনা হবেন।

দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে এসব কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলের ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং দলের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরাই বিএনপির মূল উদ্দেশ্য।

Continue Reading

Trending