Connect with us

আন্তর্জাতিক

ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর ভূমিকম্প

Published

on

আর্কিওলজিস্ট ও ভূতাত্ত্বিকদের এক যৌথ গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং ভয়াবহ ভূমিকম্পের রহস্য। আজ থেকে প্রায় ৩,৮০০ বছর আগে বর্তমান উত্তর চিলিতে আঘাত হেনেছিল ৯.৫ মাত্রার এক প্রলয়ঙ্কারী ‘মেগাকোয়েক’। 

এই ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামির তাণ্ডব এতটাই বিশাল ছিল যে, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ ভয়ে দীর্ঘ ১,০০০ বছর সমুদ্র তীরের ধারেকাছেও ঘেঁষেনি।

গবেষকদের মতে, চিলির আটাকামা মরুভূমির গভীরে সমুদ্রের বালি, পাথর এবং সামুদ্রিক খোলসের উপস্থিতি এই মেগা-ভূমিকম্পের প্রধান প্রমাণ। 

সাউথহ্যাম্পটন ইউনিভার্সিটির ভূতত্ত্ববিদ জেমস গফ জানান, উপকূল থেকে অনেক দূরে এবং বেশ উঁচুতে পাওয়া এই সামুদ্রিক বস্তুগুলো কোনো সাধারণ ঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের ফল হতে পারে না। রেডিওকার্বন (কার্বন-১৪) পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই ধ্বংসযজ্ঞটি ঘটেছিল ৩,৮০০ বছর আগে।

কেন এটি ১৯৬০ সালের ভূমিকম্পের চেয়েও বড়?

এতদিন পর্যন্ত ১৯৬০ সালের চিলির ‘ভালদিভিয়া ভূমিকম্প’ (মাত্রা ৯.৪–৯.৬)-কে বিশ্বের বৃহত্তম রেকর্ড করা ভূমিকম্প ধরা হতো। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাচীন এই ভূমিকম্পটির চ্যুতি বা ফাটলের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার, যা ১৯৬০ সালের ভূমিকম্পের চেয়েও বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল। 

জানা যায়, মেগাথ্রাস্ট প্রক্রিয়ায় যখন একটি টেকটনিক প্লেট অন্যটির নিচে ঢুকে পড়ে এবং প্রচণ্ড চাপে সংযোগস্থল ফেটে যায়, তখনই এ ধরণের দানবীয় শক্তির উদ্ভব হয়।

এই গবেষণার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো মানুষের আচরণের পরিবর্তন। আর্কিওলজিস্টরা দেখেছেন, সুনামির তোড়ে প্রাচীন পাথুরে দেয়ালগুলো সমুদ্রের দিকে মুখ করে উল্টে পড়ে আছে। 

স্থানীয় বাসিন্দারা, যারা মূলত সামুদ্রিক খাবারের ওপর নির্ভরশীল ছিল, তারা এই ভয়াবহতা দেখে এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল যে উপকূল ছেড়ে জনমানবহীন মরুভূমিতে আশ্রয় নেয়। তারা পরবর্তী এক হাজার বছরের মধ্যে আর কখনও সমুদ্র তীরে ফিরে আসেনি।

জেমস গফ সতর্ক করে বলেছেন, সেই সময় উপকূলীয় অঞ্চলে মানুষের বসতি কম ছিল, তবুও ক্ষয়ক্ষতি ছিল অপূরণীয়। আজ দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপগুলোতে ঘন জনবসতি রয়েছে। যদি ৩,৮০০ বছর আগের মতো একই মাত্রার দুর্যোগ আবারও ফিরে আসে, তবে আধুনিক সভ্যতার জন্য তা হবে এক মহাবিপর্যয়।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

হরমুজ প্রণালিতে নিখোঁজ ২০০ মিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন

Published

on

By

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র দুই দিনের মাথায় হরমুজ প্রণালির আকাশে নিখোঁজ হয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন ‘এমকিউ-৪সি ট্রাইটন’।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি এলাকায় টানা তিন ঘণ্টার নজরদারি মিশন শেষে ফেরার পথে ড্রোনটি জরুরি সংকেত পাঠিয়ে রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

অনলাইন ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি ইতালির সিগোনেলা নৌ-ঘাঁটিতে ফেরার পথে হঠাৎ ইরানের দিকে সামান্য মোড় নেয় এবং জরুরি সংকেত (কোড ৭৭০০) পাঠাতে শুরু করে। এরপর দ্রুত উচ্চতা হারিয়ে এটি নিখোঁজ হয়। তবে ড্রোনটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি ইরানের পক্ষ থেকে ভূপাতিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নর্থরোপ গ্রুম্যান কোম্পানির তৈরি এই এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোনটির প্রতি ইউনিটের মূল্য প্রায় ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। এটি মূলত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীনে উপসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত নজরদারির কাজে নিয়োজিত ছিল।

এই ড্রোনটি ৫০ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় একটানা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় উড়তে সক্ষম এবং একবারে প্রায় ৭ হাজার ৪০০ নটিক্যাল মাইল পথ পাড়ি দিতে পারে। সমুদ্রসীমার ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চালানোর ক্ষেত্রে এটিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম সেরা শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার পরপরই এমন একটি ব্যয়বহুল ড্রোন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিচালনার বিশাল ব্যয়ের হিসাবও সামনে এসেছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি)-এর তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০ হাজার ৩০০ ডলার ব্যয় করছে। দৈনিক ব্যয়ের একটি বড় অংশ অর্থাৎ ৩৬ শতাংশ খরচ হচ্ছে গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে, যার পরিমাণ দিনে প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া বিমান অভিযানের জন্য দৈনিক ২৪৫ মিলিয়ন ডলার এবং নৌ-অভিযানের জন্য ১৫৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে। থাড ও প্যাট্রিয়টের মতো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পেছনে প্রতিদিন খরচ হচ্ছে প্রায় ৯৫ মিলিয়ন ডলার। বিপুল এই ব্যয়ের মাঝে ট্রাইটন ড্রোন নিখোঁজ হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ও সামরিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে মার্কিন সামরিক বাহিনী ড্রোনটির সন্ধানে ওই এলাকায় তল্লাশি শুরু করেছে। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে আলোচনার সম্ভাবনা যখন তৈরি হয়েছে, তখন এই ড্রোন নিখোঁজ হওয়ার রহস্য উদ্ঘাটন করা শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যদি ড্রোনটি কোনোভাবে ভূপাতিত করার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তা দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে। পারস্য উপসাগরের কৌশলগত পানিসীমায় এমন একটি উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন হারিয়ে যাওয়া নিয়ে পেন্টাগন এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।

সূত্র: এনডিটিভি

Continue Reading

top1

যেকোন পরিস্থিতিতে শত্রুকে নিশ্চিহ্ন করা হবে: মোজতবা খামেনি

Published

on

By

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে ইরানি জনগণ বিজয় অর্জন করেছে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র এখন একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, গত ৪০ দিনের ঘটনাপ্রবাহে ইরানের জনগণ সাহসিকতা, ধৈর্য ও ঐক্যের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করেছে। তিনি এটিকে ‘ইরানের তৃতীয় পবিত্র প্রতিরক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন যে, যেকোন পরিস্থিতিতে শত্রুকে নিশ্চিহ্ন করা হবে।

খামেনি জানান, শহীদদের আত্মত্যাগ ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘একটি শক্তিশালী ইরান গড়ার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।’

তিনি জনগণকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই রাস্তায়, পাড়া-মহল্লা ও মসজিদে সক্রিয় উপস্থিতি বজায় রাখতে হবে এবং ঐক্য আরও জোরদার করতে হবে। ইরানি নেতা আরও দাবি করেন, দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্য দিন দিন বাড়ছে এবং বিভাজন কমে আসছে, যা একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

Continue Reading

top1

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বৈঠক স্থগিত করল ইরান

Published

on

By

লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত আলোচনা স্থগিত করেছে ইরান। চলতি সপ্তাহান্তে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে এই বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও ইরানের প্রতিনিধি দল তেহরান ত্যাগ করেনি।

মধ্যপ্রাচ্য কৌশলগত গবেষণা কেন্দ্রের সিনিয়র ফেলো আব্বাস আসলানি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আলোচনা না হওয়ার কারণ

আব্বাস আসলানি জানান, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা চলতে থাকা অবস্থায় কোনো ধরনের সংলাপে বসতে রাজি নয় ইরান। তিনি বলেন, “ইরানি প্রতিনিধি দল এখনো তেহরান থেকে রওনা দেয়নি। তাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যতক্ষণ লেবাননে হামলা চলবে, ততক্ষণ ইসলামাবাদে কোনো আলোচনা হবে না।”

রাশিয়া-ইউক্রেনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিরাশিয়া-ইউক্রেনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি
মূলত লেবানন পরিস্থিতি এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বৈঠক স্থগিতের পেছনে কেবল যুদ্ধ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের পরিবর্তনকেও দায়ী করছে তেহরান। জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনুমোদিত একটি ১০-দফা শান্তি পরিকল্পনার কাঠামো থেকে সম্প্রতি সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন।

আব্বাস আসলানির মতে, এটি ইরানিদের মধ্যে একটি বড় ধরনের ‘আস্থা সংকট’ (Trust Deficit) তৈরি করেছে।

অভ্যন্তরীণ জনচাপ

ইরানের অভ্যন্তরীণ জনমতও এই মুহূর্তে আলোচনার বিপক্ষে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত কয়েক মাসে আলোচনার প্রক্রিয়া চলাকালেই ইরান দুইবার সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—কেন বারবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে বসতে হবে?

এই জনচাপ ইরানি প্রতিনিধি দলের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে, যা ইসলামাবাদ আলোচনা পিছিয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে পাকিস্তান বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক অস্থিতিশীলতা এই পরমাণু বা আঞ্চলিক সমঝোতার পথকে আরও সংকুচিত করে তুলছে

Continue Reading

Trending