Connect with us

ক্যাম্পাস

ইবিতে আইন বিভাগের আন্তঃসেশন মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা, নতুন নেতৃত্বে যারা

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আইন বিভাগের উদ্যোগে আন্তঃসেশন মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ জুলাই) সকাল ৯ টায় মীর মোশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবনের ২৩৭ নম্বর কক্ষে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মুট কোর্ট সোসাইটির (আইইউএমসিএস) সহযোগিতায় এটি আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হালিমা খাতুনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. খন্দকার তৌহিদুল আনাম। এসময় বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহজাহান মন্ডল, অধ্যাপক ড. রেহেনা পারভীন-সহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ ও বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াজেদুর রহমান সিথুন (ঝিনাইদহ), মো. মিলন আলী (ঝিনাইদহ) এবং জাহিদুর রহমান (মেহেরপুর)।অনুষ্ঠানে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মুট কোর্ট সোসাইটির (আইইউএমসিএস) কার্যনির্বাহী মডারেটর অধ্যাপক ড. রেহানা পারভীনের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রায়হান বিশ্বাস।

জানা যায়, গত ১৪ই জুলাই মুট কোর্ট কম্পিটিশনের কেস ফ্যাক্ট (কম্প্রোমি) ও রুলস প্রতিযোগীদের ইনাগুরাল সেরেমনির মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে এই সময়ের মাঝে ৪ সেশনের প্রতিযোগী হিসেবে ২০২০-২১, ২০২১-২২, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ সেশন থেকে এপ্লিকেন্ট (পক্ষে) ও রেসপনডেন্ট (বিপক্ষে) কেস মেমোরিয়াল সম্পূর্ণ করে জমা দেয়। এবং এর উপর ভিত্তি করে আজকের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয় ২০২০-২১ বর্ষ ও রানারআপ হয় ২০২২-২৩ বর্ষের প্রতিযোগীবৃন্দ। প্রতিযোগিতায় সেরা মুটার হিসেবে আইন বিভাগের ২০২০-২১ বর্ষের ফজলে রাব্বি ও উদীয়মান মুটার হিসেবে একই বিভাগের ২০২২-২৩ বর্ষের সোহানুর রহমান বিবেচিত হয়েছেন। এসময় বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদসহ বিচারকবৃন্দ ও প্রতিযোগীদের কোচ ও সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

বিচারকবৃন্দরা বলেন, আইন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত আজকের এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এখানের সকল প্রতিযোগী অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তাদের কথা ও যুক্তি উপস্থাপন করেছে। আমরা সাব জবডিকেটর হিসেবে তাদের উপস্থাপনাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করেছি। তার প্রেক্ষিতে বিচার বিশ্লেষণ করে রায় প্রদান করা হয়েছে।

আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হালিমা খাতুন বলেন, আজকের আয়োজনে অংশগ্রহণকারী সকল প্রতিযোগীই বিজয়ী। এর মাঝে আনুষ্ঠানিকতার জন্য সেরাদের সেরা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা শেষে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মুট কোর্ট সোসাইটির ২০২৫-২০২৬ বর্ষের নতুন আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। এতে সভাপতি হিসেবে আইন বিভাগের ২০১৯-২০ বর্ষের রায়হান বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে একই বিভাগ-বর্ষের উম্মে আশরাতুন তাজরীন মনোনীত হয়েছেন। খুব শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানান সংগঠনটি।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

মাদকের বিরুদ্ধে বেরোবির ‘জিরো টলারেন্স’, কারবারিদের ধরিয়ে দিলেই ১০ হাজার টাকা পুরস্কার

Published

on

By

আনাস মাহমুদ; বেরোবি প্রতিনিধি

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।ক্যাম্পাসের ভেতরে বহিরাগতের মাদক সেবন ও বিক্রি এবং তাদের সাথে গুটিকয়েক শিক্ষার্থী জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর এই কঠোর অবস্থান নিয়ে মাদক কারবারিদের শনাক্ত করতে সহযোগিতা করলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে প্রক্টর প্রফেসর ফেরদৌস রহমান সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

সরজমিনে দেখা যায়, রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারকের পিছনে , কেন্দ্রীয় ফুটবল খেলার মাঠ এবং নবনির্মিত EEE Annex Building এর সামনে বহিরাগত মাদকসেবনকারীদের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে। এসব স্পটে মাদক সেবনের পর ফেলে যাওয়া বিভিন্ন সরঞ্জাম ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাবিব বলেন, “মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় কয়েকদিন আগে রংপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই নিরাপত্তা হুমকি আমাদের ক্যাম্পাসে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাত দশটার পর প্রতিদিন বহিরাগতদের কয়েকটি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠে বসে মাদক সেবন করে।যা আমাদের শিক্ষার পরিবেশ এবং নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। “

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিবো। গত দুই বছরে আমরা মাদকের সাথে জড়িত প্রায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং তাদের মধ্য থেকে ৭ জনকে চালান দেওয়া হয়েছে। মাদকের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনোপ্রকার ছাড় দিবে না।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী যদি মাদকের সাথে জড়িত বা মাদক কেনা-বেচার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে সহযোগিতা করে তাকে ১০ হাজার টাকা নগদ পুরস্কার দেওয়া হবে।”

ক্যাম্পাসে মাদকের এই বিস্তার এবং প্রশাসনের উদ্যোগ নিয়ে বেরোবি ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ রিফাত হোসেন রাফি বলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে বর্তমানে মাদকসেবনের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। শিক্ষার্থীদের সুস্থ ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা এবং ক্যাম্পাসে নিয়মিত তদারকি ও নজরদারি বাড়ানো। একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও মাদকমুক্ত পরিবেশই পারে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করতে।

উল্লেখ্য, ইদানীং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে মাদক সেবনের পাশাপাশি বহিরাগতদের অনধিকার প্রবেশ এবং বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

Continue Reading

top3

ইবির হলে অশ্লীল নামে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক, ডিভাইস ব্লক ও হুমকির অভিযোগ

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) লালন শাহ হলের ৪০২ নম্বর কক্ষে ব্যবহৃত Wi-Fi রাউটারে অননুমোদিত প্রবেশ, নেটওয়ার্কের নাম পরিবর্তন করে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের ডিভাইস ব্লক করে ইন্টারনেট ব্যবহারে বাধা এবং অভিযোগ করার পর হুমকি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) লালন শাহ হল প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক মো. আব্দুর রাজ্জাকের কাছে লিখিত অভিযোগে দিয়েছেন ৪০২ নম্বর কক্ষের শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

অভিযোগপত্রে শিক্ষার্থীরা জানান, প্রায় ছয় মাস আগে একই Wi-Fi রাউটারে অননুমোদিত প্রবেশ ও সেটিংস পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি অনুসন্ধান ও যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মীমাংসা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা। তবে বর্তমানে একই ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

তাদের দাবি, গত এক মাস ধরে কক্ষটির Wi-Fi নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস ধারাবাহিকভাবে ব্লক করা হচ্ছে। পাশাপাশি Wi-Fi-এর নাম পরিবর্তন করে বিভিন্ন অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ও অপমানজনক শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে। এতে তারা ইন্টারনেট ব্যবহারে বাধার পাশাপাশি মানসিকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, Wi-Fi ব্যবহার করতে না পারায় তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ডাটা বা ইন্টারনেট প্যাকেজ কিনে প্রয়োজনীয় অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে প্রতি মাসে আনুমানিক ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বা তারও বেশি অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। একই সঙ্গে অনলাইন ক্লাস, শিক্ষক-সহপাঠীদের সঙ্গে যোগাযোগ, একাডেমিক উপকরণ সংগ্রহ, গবেষণা ও অন্যান্য শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ঘটনাটি যাচাই করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে কিছু স্ক্রিনশট ও কারিগরি তথ্য এসেছে। এর মধ্যে Device Name ও MAC Address-সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। একটি ডিভাইসকে ৪০৩ নম্বর কক্ষে অবস্থানরত শিক্ষার্থী ‘জিতু’র ব্যবহৃত বলে শনাক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

তবে শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট করেছেন, শুধুমাত্র Device Name বা MAC Address-এর ভিত্তিতে তারা কাউকে দায়ী করছেন না। বরং সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের মালিকানা, রাউটারের সঙ্গে তার সংযোগ, Access History এবং Wi-Fi-এর সেটিংস পরিবর্তনের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—তা নিরপেক্ষ প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন এবং হলের Wi-Fi ও নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত কারিগরি দায়িত্বে থাকা টেকনিশিয়ান ‘জয়’-এর কাছে থাকা কারিগরি তথ্য, রাউটার-সংক্রান্ত রেকর্ড এবং পূর্ববর্তী ও বর্তমান ঘটনার বিষয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণ তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ ও নিউজ প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। শারীরিক শিক্ষা ও
ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ‘সাব্বির’ কর্তৃক হুমকি প্রদর্শনের অভিযোগও তুলেছেন এবং পৃথকভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

এবিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সাব্বির হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কাউকে কোন হুমকি দে‌ই নি। তাদের রাউটার কে নিয়ন্ত্রন করছে আমি জানিনা।’

অপরদিকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী জিতুকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

এবিষয়ে লালন শাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমি আবাসিক শিক্ষকদের সাথে এ বিষয়ে বসবো এবং অপরাধীদের বের করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। পরবর্তীতে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত সকলের সাথে বসা হবে।’

Continue Reading

ক্যাম্পাস

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ম ট্রেজারার হিসেবে অধ্যাপক ইমদাদুল হুদার যোগদান

Published

on

By

জাককানইবি প্রতিনিধি:

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে যোগদান করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা।

আজ রোববার (৩০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে যোগদানপত্রে স্বাক্ষরের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ম ট্রেজারার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের মধ্য থেকে নিয়োগ পাওয়া প্রথম ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব নিলেন।
যোগদান অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন নবনিযুক্ত ট্রেজারারকে অভিনন্দন জানান। পরে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাস্কর্য, ‘চির উন্নত মম শির’ এবং পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে ২০০৬ সালের ২৫ মে উদ্বোধন করা ফলকের বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।

এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ এইচ এম কামাল, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. তানজিল হোসেন, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ (রাশেদ-সুখন), আইন অনুষদের ডিন মুহাম্মদ ইরফান আজিজ, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার নাজমুল হাসানসহ বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তাঁর নিয়োগের মেয়াদ চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ পর্যন্ত, এর মধ্যে যেটি আগে ঘটে।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার মোড়ভাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ থেকে ‘কালচার সেনসিটিভ মেটেরিয়ালস ডিজাইন ফর ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং ইন বাংলাদেশ’ বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৯৩ সালের ২৭ নভেম্বর সরকারি কলেজে প্রভাষক হিসেবে তাঁর শিক্ষকতা জীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন ধাপে পদোন্নতি পেয়ে ২০০৭ সালের ২৪ জুন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ২০১০ সালে সহযোগী অধ্যাপক, ২০১২ সালে অধ্যাপক এবং ২০২১ সালে অধ্যাপক গ্রেড-১ হিসেবে পদোন্নতি পান। তিনি ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে কলা অনুষদের ডিন, সিন্ডিকেট সদস্য, অর্থ কমিটির সদস্য, বিভাগীয় প্রধান, পরিবহণ প্রশাসক, একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, সহকারী প্রক্টরসহ বিভিন্ন দায়িত্ব রয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর উপাচার্য ও ট্রেজারার পদ শূন্য থাকাকালে তিনি প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সক্রিয় সদস্য এবং কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শাখার সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

গবেষণাক্ষেত্রেও তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জার্নালে তাঁর ২০টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর তত্ত্বাবধানে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে দুইজন পিএইচডি ও দুইজন এমফিল গবেষণা করছেন। এছাড়া তাঁর তত্ত্বাবধানে ২০টির বেশি এমএ থিসিস সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন জার্নালে সম্পাদক, প্রধান সম্পাদক ও সদস্য হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মশালা ও সেমিনারে অংশগ্রহণের পাশাপাশি তাঁর লেখা বিভিন্ন গণমাধ্যম, ম্যাগাজিন ও পুস্তকে প্রকাশিত হয়েছে।

Continue Reading

Trending