Connect with us

top1

কুমিল্লায় অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের একাধিক ক্লু পাওয়া গেছে: পুলিশ সুপার

Published

on

অলটাইম ডেস্ক

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে একাধিক ক্লু পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান।

শনিবার বিকালে কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত সন্দেহে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হতে পারে। 

তিনি বলেন, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। এ হত্যাকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক ক্লু পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডটির পেছনে শুধু আইফোন ছিল, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল তা দ্রুত উদ্ঘাটন করা হবে। হত্যাকাণ্ডে যতজনই জড়িত থাকুক তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কয়েকজন পুলিশ হেফাজতে আছে।

তবে তাদের নাম তদন্তের স্বার্থে এখনই বলা যাবে না। লাশ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তবে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তুহিন নামে এক যুবকের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। ওই যুবকই বিকাল থেকে অপ্রতীমের সঙ্গে ছিল। সে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। 

এর আগে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সি অপ্রতীম। শনিবার দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের একটি জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অপ্রতীম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।

এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে ওইদিন সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।

নিখোঁজের পর থেকেই অপ্রতীমকে উদ্ধারে স্বজনদের পাশাপাশি পুলিশও তৎপর ছিল। তার সর্বশেষ অবস্থান এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছিল পুলিশ।

অপ্রতীমের লাশের প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল কাদের জিলানী বলেন, আমরা বাঁশ কাটার জন্য এখানে এসেছিলাম। হাতে ঘড়ি বা সঙ্গে মোবাইল ছিল না। সময়টা আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা হবে। আমাকে ছেলে বলছিল ওখানে কেউ ঘুমায়। ভালোভাবে খেয়াল করে দেখি ওর মাথায় জখম আছে। ভয় পেয়ে যাই। একটু পর মামুন নামে একজনের সঙ্গে দেখা হয়। 

তিনি বলেন, ম্যাডামের ছেলে নিখোঁজ। আমরা এ ঘটনা খুলে বলতেই তিনি ঘটনাস্থলে যান। গিয়ে দেখেন অপ্রতীমের মরদেহ পড়ে আছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম বলেন, ঘটনার পর থেকেই আমরা পুলিশ, ডিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমরা ছেলেটিকে আর জীবিত পেলাম না। তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটিও পাওয়া যায়নি।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

অটোরিকশার পক্ষে কথা বলা নেতারই ৭০০ অটোরিকশা রয়েছে: ডিএনসিসি প্রশাসক

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের পক্ষে বক্তব্য দেওয়া একটি বড় রাজনৈতিক দলের সেক্রেটারি জেনারেলের নিজেরই ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় মেট্রোরেলের পিলারে জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি আঁকার কার্যক্রম উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।

শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, সাধারণ মানুষ অটোরিকশা চলাচলের পক্ষে আন্দোলন করবে—এমনটা তিনি মনে করেন না। অথচ একটি বড় রাজনৈতিক দলের সেক্রেটারি জেনারেল প্রকাশ্যে অটোরিকশা চলাচলের দাবি মেনে নেওয়ার কথা বলছেন। পরে খোঁজ নিয়ে ওই নেতার ৭০০টি অটোরিকশা থাকার তথ্য পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকার প্রতিটি এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে। দোকানের সামনে কিংবা ফুটপাতে যাতে কেউ অবৈধভাবে বসতে না পারে, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। নগরবাসী যা চাইবে না, সিটি করপোরেশন তা করবে না।

ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নের কাজ চলছে জানিয়ে মিল্টন বলেন, যেসব এলাকার ফুটপাত ভেঙে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো সংস্কার করে পথচারীবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন করে তোলা হচ্ছে।

এ সময় একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে ফুটপাতের হকারদের উসকানিমূলক পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগও করেন ডিএনসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, জনস্বার্থের বিরুদ্ধে কেউ নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে সিটি করপোরেশন।

Continue Reading

top1

সেপ্টেম্বরে দেশজুড়ে বেড়েছে হত্যাকাণ্ড, শীর্ষে চট্রগ্রাম

Published

on

By

কার্টেসি: এশিয়া পোস্ট

দেশজুড়ে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। আগস্টে সারা দেশে ২৮৬টি খুনের মামলা নথিভুক্ত হলেও সেপ্টেম্বরে ১১টি বেড়ে দাঁড়ায় ২৯৭টিতে। হত্যাকাণ্ড ছাড়াও এ মাসে সারা দেশে বেড়েছে চুরির ঘটনা।

এদিকে দেশজুড়ে সামগ্রিক অপরাধের চিত্রে কিছুটা স্বস্তি এনেছে সেপ্টেম্বর মাস। পুলিশের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আগস্টে দায়ের করা মোট ১৮ হাজার ৮৯৬টি মামলার বিপরীতে সেপ্টেম্বরে নথিভুক্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৬৫০টি। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে সামগ্রিকভাবে মোট মামলা ২৪৬টি কমেছে। দেশের এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর হওয়ার বিকল্প দেখছেন না অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

শীর্ষে চট্রগ্রাম, দ্বিতীয় ঢাকা

পুলিশের অপরাধ পরিসংখ্যানে অঞ্চলভিত্তিক হিসেবে সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ৫৭টি খুনের ঘটনা নিয়ে শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম রেঞ্জ। আগস্টে যা ছিল ৫০টিতে। রাজধানীর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এলাকায় খুনের মামলা আগস্টের ২০টি থেকে বেড়ে সেপ্টেম্বরে ৩১-এ পৌঁছেছে। শুধু ঢাকা ও চট্টগ্রাম নয়, দেশের আরও কয়েকটি রেঞ্জে খুনের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। যার মধ্যে খুলনা রেঞ্জে ২২টি থেকে বেড়ে ৩১, রংপুর রেঞ্জে ১৫টি থেকে বেড়ে ২১ এবং রাজশাহী রেঞ্জে ২৩টি থেকে বেড়ে ২৭টিতে হয়েছে। তবে ঢাকা রেঞ্জে খুনের ঘটনা আগস্টের ৮৬টি থেকে কমে সেপ্টেম্বরে ৫৩টিতে নেমে এসেছে।

বেড়েছে চুরির ঘটনা

হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি সেপ্টেম্বর মাসে চুরি ও দ্রুত বিচার আইনের অধীনে দায়ের করা মামলার সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগস্টের ৮৩৯টি চুরির মামলা সেপ্টেম্বরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬৫টিতে। একই সময়ে দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা মামলা সারা দেশে ৫২টি থেকে লাফিয়ে ৮১টিতে পৌঁছায়। এই বিশেষ আইনের মামলা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল খুলনা এবং ঢাকা রেঞ্জের। বিপরীতে, সেপ্টেম্বরে ডাকাতির ঘটনা আগস্টের ৪২টি থেকে কমে ২৮টিতে এবং অপহরণের ঘটনা ৯২টি থেকে কমে ৭৮টিতে নেমে এসেছে। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা আগস্টের ২ হাজার ১৫৬টি থেকে কিছুটা কমে সেপ্টেম্বরে ২ হাজার ১১৩টিতে দাঁড়িয়েছে এবং লুণ্ঠনের ঘটনা ১৫৪টি থেকে একটি কমে ১৫৩টি হয়েছে।

রাজধানীতে পাঁচ গুণ বিষ্ফোরক উদ্ধার

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকসহ সার্বিক উদ্ধার অভিযানের মামলায়ও সেপ্টেম্বরে কিছুটা কমতি দেখা গেছে। আগস্ট মাসে যেখানে উদ্ধার সংক্রান্ত মোট মামলা ছিল ৭ হাজার ৬১৮টি, সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৫৩৪টিতে। এর মধ্যে মাদক উদ্ধার মামলা আগস্টের ৭ হাজার ১৬৭টি থেকে কমে সেপ্টেম্বরে ৭ হাজার ১০১টি হয়েছে। তবে উদ্ধার অভিযানের সার্বিক সংখ্যা কমলেও আশঙ্কার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার মামলা বৃদ্ধি। সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দায়ের করা মামলা ১৫৯টি থেকে সামান্য বেড়ে ১৬০টি হলেও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলা ২৪টি থেকে বেড়ে ৩০টিতে গিয়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় বিস্ফোরক সংক্রান্ত অপরাধের চিত্র উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডিএমপি এলাকায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা মামলা আগস্টের মাত্র চারটি থেকে পাঁচ গুণ বেড়ে সেপ্টেম্বরে ২০-এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

বরিশাল রেঞ্জে মামলার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি

এক মাসের ব্যবধানে সারা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে বরিশাল রেঞ্জে। সেখানে আগস্টের ১ হাজার ১১৮টি মামলার বিপরীতে সেপ্টেম্বরে একলাফে ১ হাজার ৫৮৪টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ- এক মাসেই মামলা বেড়েছে ৪৬৬টি। বরিশাল রেঞ্জে এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পেছনে কাজ করেছে মাদক উদ্ধার ও নারী নির্যাতন সংক্রান্ত মামলার আস্বাভাবিক বৃদ্ধি। মাদক মামলা ৩১০টি থেকে বেড়ে ৬৪৩টি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা ২২২টি থেকে বেড়ে ২৯৬টিতে পৌঁছেছে।

তবে সামগ্রিক মামলায় বিভাগীয় রেঞ্জগুলোর মধ্যে উভয় মাসেই শীর্ষ স্থানে আছে ঢাকা রেঞ্জ। দ্বিতীয় স্থানে চট্টগ্রাম রেঞ্জ। এছাড়া আঞ্চলিক মাদক অভিযানে খুলনা রেঞ্জে ৬০৩টি এবং রংপুর রেঞ্জে ৫৬২টি মাদক সংক্রান্ত মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোর মধ্যে ডিএমপিতে মোট মামলা আগস্টের ১ হাজার ৫০৯টি থেকে কমে সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ৪৫৮টিতে নেমেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) ৪৫০টি, গাজীপুরে (জিএমপি) ৩৪৪টি, রাজশাহীতে (আরএমপি) ২৭৭টি, সিলেটে (এসএমপি) ১৬৪টি, খুলনায় (কেএমপি) ১৪৫টি, বরিশালে (বিএমপি) ১৪২টি এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে (আরপিএমপি) ১২২টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রাম রেঞ্জে হত্যা বৃদ্ধির বিষয়ে রেঞ্জ ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে নথিভুক্ত খুনের মামলা কিছুটা বাড়লেও এর পেছনে আদালতের আদেশে পুরোনো অভিযোগের এফআইআর এবং বিলম্বিত সন্দেহজনক কিছু মৃত্যুর ঘটনা থাকায় এমনটি হয়েছে। এটি সরাসরি আইন-শৃঙ্খলার অবনতির প্রতিফলন নয়। বরং মাঠপর্যায়ের ঘটনার সিংহভাগই সামাজিক ও পারিবারিক কলহজনিত। পুরো রেঞ্জে কোনো রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। হত্যা ও ডাকাতির মতো দুয়েকটি সূচক ছাড়া চট্রগ্রাম রেঞ্জে দস্যুতা, গণধর্ষণ ও অপহরণের মতো অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা জেলায় অপরাধ প্রবণতা অনেক বেশি হ্রাস পেয়েছে।

রাষ্ট্রের টাকায় বেসরকারি হাসপাতালে জনগণকে চিকিৎসা দেবে সরকার

আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশি তৎপরতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রেঞ্জের ১১টি জেলায় দিনে ও রাতে প্রায় ১ হাজার ১০০টি মোবাইল পুলিশ টিম নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। ফলে অপরাধী গ্রেপ্তারের হার চার গুণ বেড়েছে। আগে যেখানে দৈনিক গড়ে ২৫০ জন গ্রেপ্তার হতো, বর্তমানে তা বেড়ে এক হাজারের বেশি জনে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্ধার সংক্রান্ত মামলা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে এবং মামলা নিষ্পত্তির হার প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মাঠপর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং ও নানা সতর্কতামূলক পদক্ষেপের ফলে সার্বিক পরিস্থিতি আরও উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম এশিয়া পোস্টকে বলেন, দীর্ঘমেয়াদী সংকটের কারণে অপরাধীরা এখনও মনে করছে না যে পুলিশ আগের মতো কঠোরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে। তাই অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে এবং মাঠপর্যায়ে তাদের পূর্ণ মনোবল ও সক্রিয় উপস্থিতি দেখাতে হবে, যাতে অপরাধীদের মধ্যে আইনের ভয় তৈরি হয়। পুলিশ যেসব সফল অভিযান পরিচালনা করছে ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার করছে, সেই ইতিবাচক সংবাদগুলো যেভাবে প্রচার হওয়া দরকার, তা হচ্ছে না। ফলে অপরাধীরা অনেক ক্ষেত্রে ভাবছে যে তারা অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে। তাই গ্রেপ্তার ও আইনি পদক্ষেপের খবর ব্যাপকভাবে প্রচার করে অপরাধীদের কাছে বার্তা পৌঁছানো এবং জনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।

২৪ সালের আগস্টে থানা থেকে লুট হওয়া প্রচুর অবৈধ অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, এগুলোর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ নিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই এসব অবৈধ অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করতে হবে। পাশাপাশি দেশে মাদকের সহজলভ্যতা বজায় থাকলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে; তাই মাদকের উৎস ও সরবরাহ ব্যবস্থা যে কোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে বলেও জানান তিনি।

অপরাধ বেড়ে যাওয়ার পেছনে আরও একটি কারণ জানান এই অপরাধ বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতার কারণে জামিনে অপরাধীরা বের হয়ে আসে। আমাদের দেশে বিচার প্রক্রিয়া সাক্ষ্য-প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু উপযুক্ত সুরক্ষার অভাবে অনেকেই ভয়ে আদালতে সাক্ষী দিতে চান না। সাক্ষীদের পরিচয় গোপন রাখা এবং তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা না গেলে অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অপরাধগুলো ঘুরেফিরে একই লোকগুলোর দ্বারাই সংঘটিত হয়।

এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ, বিচার বিভাগ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে একসঙ্গে বসে আইনি ব্যবস্থার ফাঁকফোকরগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের পরামর্শ দেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম।

Continue Reading

top1

পাঠাওয়ের ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার দাবি

Published

on

By

ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য নিজেদের কাছে থাকার দাবি করেছে একটি সাইবার অপরাধী চক্র। এসব তথ্যের মধ্যে ফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স, অবস্থান, ফেসবুক পরিচিতি ও বাসার ঠিকানা রয়েছে বলে দাবি করেছে চক্রটি। তথ্য প্রকাশ না করার বিনিময়ে পাঠাওয়ের কাছে ৪ লাখ ডলার দাবি করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ডেইলি ডার্ক ওয়েব বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ-সংক্রান্ত একটি পোস্ট প্রকাশ করে।

সেখানে ডার্ক ওয়েবে দেওয়া একটি পোস্টের স্ক্রিনশটও প্রকাশ করা হয়। তবে তথ্য ফাঁসের পুরো দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে পাঠাও জানিয়েছে, ‘আমরা জানতে পেরেছি যে দুষ্কৃতকারীরা ব্যবহারকারীদের নাম, ই-মেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বরসহ কিছু পার্সোন্যাল ইনফরমেশন অ্যাকসেস করেছে। ঘটনাটি ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং পাঠাওয়ের সিস্টেম সুরক্ষিত রাখতে এক্সটার্নাল সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্টদের যুক্ত করা হয়েছে।

চলমান তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সার্বিক বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পর, নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আপডেট করা হবে। ’
পাঠাওয়ের এক লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়, ৪ অক্টোবর পাঠাও প্ল্যাটফর্মের সেবায় সাময়িক সমস্যা দেখা দেয়। একটি সাইবার-সিকিউরিটি সংক্রান্ত ঘটনা শনাক্ত করার পরপরই প্ল্যাটফর্মের সিকিউরিটি ও তথ্য নিরাপদ রাখার আগাম সতর্কতা হিসেবে পাঠাও তাদের গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমগুলো অফলাইনে নিয়ে যায়। সেবা দ্রুতই চালু করা হয়েছে।

তবে সিস্টেম পুরোপুরি ‘স্ট্যাবল’ করার কাজ চলায় ব্যবহারকারীরা সাময়িকভাবে হালকা কিছু কারিগরি সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন।
এর আগে বুধবার সেবা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় পাঠাওয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ৪ অক্টোবর সাইবার নিরাপত্তাজনিত একটি ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। এতে প্ল্যাটফর্মটির বিভিন্ন সেবা বিঘ্নিত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সেবাগুলো আবার চালু করা হলেও সিস্টেম পুরোপুরি স্থিতিশীল করার কাজ চলছে।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ৪ অক্টোবর সাইবার নিরাপত্তাজনিত একটি ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।

ঘটনার সময় কিছু ব্যক্তিগত তথ্য, যার মধ্যে নাম, ই-মেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বর রয়েছে, দুর্বৃত্তদের হাতে গেছে বলে তারা জানতে পেরেছে।
ডার্ক ওয়েবের ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছে, তাদের কাছে পাঠাওয়ের প্রায় ১৩৩ গিগাবাইট তথ্য রয়েছে। এতে প্রায় ২৫ কোটি রেকর্ড এবং ৫৯১টি তথ্যভান্ডার রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় তথ্যভান্ডারে ১ কোটি ৯০ লাখ ৬৩ হাজার ৯১৮টি হিসাবের তথ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি এনআইডি নম্বর ও মুঠোফোন নম্বর, ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য, প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর ছবি এবং প্রায় ৫৭ লাখ বাসার ঠিকানা থাকার দাবি করা হয়েছে।

পাঠাওয়ের অভ্যন্তরীণ ও ব্যবসায়িক তথ্যও নিজেদের কাছে থাকার দাবি করেছে ওই গোষ্ঠী। এর মধ্যে কর্মীদের তথ্য, প্রশাসনিক প্রবেশাধিকারের নথি, ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব ও ব্যাংকের শাখা শনাক্তকরণ নম্বর, অর্থ লেনদেনের তথ্য, পণ্য সরবরাহের অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্য এবং চালকদের যাত্রার নথি থাকার কথা বলা হয়েছে।

পোস্টে পাঠাওয়ের কাছে চার লাখ ডলার দাবি করা হয়েছে। অর্থ পরিশোধ না করলে এনআইডি, ব্যাংক, কর্মী ও প্রশাসনিক তথ্য প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে

Continue Reading

Trending