Connect with us

top1

ইসলামী অর্থনীতিতে নতুন অধ্যায়: প্রথম ‘ক্লাইমেট সুকুক’ চালু

Published

on

ইসলামী অর্থনীতিতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে মালয়েশিয়া চালু করেছে বিশ্বের প্রথম ‘ক্লাইমেট সুকুক’। এর মূল্যমান ২০০ মিলিয়ন ইউয়ান বা প্রায় ১১৮ মিলিয়ন রিঙ্গিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ইসলামী আর্থিক খাতে সবুজ বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সুকুক প্রকল্পের মাধ্যমে চারটি আধুনিক উপাদান—শরিয়াহভিত্তিক অর্থব্যবস্থা, সবুজ বিনিয়োগ, ডিজিটাল টোকেনাইজেশন ও কার্বন ক্রেডিট বাণিজ্য—একই কাঠামোর অধীনে আনা হয়েছে। এর ফলে ইসলামী ফাইন্যান্স সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারবে।

প্রকল্পটি ঘোষণা করা হয় গ্লোবাল ইসলামিক ফিন্যান্স ফোরাম (GIFF) ২০২৫-এ, মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে। যৌথভাবে এটি ইস্যু করেছে Unity Group Holdings International Ltd এবং Tek Securities Ltd, মালয়েশিয়ার Labuan IBFC কাঠামোর অধীনে।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো লাবুয়ানকে বৈশ্বিক ডিজিটাল ইসলামী ফাইন্যান্সের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং জলবায়ু-বান্ধব বিনিয়োগে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করা।

ইউনিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও ম্যানসফিল্ড ওয়ং বলেন, “ক্লাইমেট সুকুক টেকসই ইসলামী বিনিয়োগের নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে। এটি ইসলামী অর্থনীতিকে জলবায়ু পদক্ষেপে বাস্তবভাবে যুক্ত করছে।”

ফোরামে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো’ সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম আনুষ্ঠানিকভাবে সুকুকের উদ্বোধন করেন। তিনি জানান, ২০২৬ সালের বাজেটে জলবায়ুবান্ধব ও স্বচ্ছ অর্থনৈতিক উদ্যোগের জন্য সরকার বিশেষ প্রণোদনা দেবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মালয়েশিয়া ইসলামী অর্থনীতির নেতৃত্ব ধরে রেখেই জলবায়ু-সংবেদনশীল অর্থনৈতিক সংস্কারের অগ্রদূত হতে চায়। ক্লাইমেট সুকুক সেই লক্ষ্যের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

ইউনিটি গ্রুপ জানিয়েছে, তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্মার্ট কৃষি ও কার্বন-নিরপেক্ষ অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াবে, যা দেশের ‘নেট-জিরো ট্রান্সফরমেশন স্ট্র্যাটেজি’ বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মালয়েশিয়ার এই উদ্যোগ ইসলামী ফাইন্যান্সের ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে। কারণ এটি শুধু শরিয়াহসম্মত অর্থব্যবস্থার উদাহরণ নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াইয়ে এক কার্যকর অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করবে।

সব মিলিয়ে, মালয়েশিয়ার ‘ক্লাইমেট সুকুক’ উদ্যোগ ইসলামী অর্থনীতির আধুনিকায়ন ও সবুজ ভবিষ্যতের এক প্রতীকী মাইলফলক—যা বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে নতুন বল

Published

on

By

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ বাড়াতে নকআউট পর্বের চূড়ান্ত চার ম্যাচের জন্য নতুন ফুটবল উন্মোচন করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ধারাবাহিকতায় এবারও সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ও ফাইনালের জন্য আনা হয়েছে বিশেষ বল ‘ট্রিওন্ডা ফাইনাল’।

জমকালো এই বলটির সোনালি ও কালো রঙের বিশেষ নকশা টুর্নামেন্টের শেষভাগের মহোৎসবকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন বলের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে এর নকশা ও রঙে এসেছে ভিন্নতা। কালো বেসের ওপর সোনালি রঙের প্রাধান্য রয়েছে, যা বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতীকী ইঙ্গিত বহন করে। এর সঙ্গে রয়েছে লাল ও গোলাপি রঙের সংমিশ্রণ।

বলটির প্যানেলে লেখা থাকবে টুর্নামেন্টের শেষ চার ম্যাচের আয়োজক শহরের নাম-ডালাস, আটলান্টা, মিয়ামি এবং নিউইয়র্ক/নিউ জার্সি। অন্য আয়োজক শহরগুলোর নাম থাকবে বলের গায়ে থাকা ত্রিভুজাকৃতির গ্রাফিক্সে।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে বলটিতে আগের মতোই থাকছে ‘কানেক্টেড বল টেকনোলজি’। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বলের ভেতরে থাকা বিশেষ সেন্সর চিপ রিয়াল-টাইম বা তাৎক্ষণিক ডেটা সরাসরি ম্যাচ রেফারি ও ভিএআর কক্ষে পাঠাবে, যা সেমি-অটোমেটেড অফসাইড সিস্টেমকে আরও নির্ভুলভাবে অফসাইড এবং নিখুঁত বল-টাচ শনাক্ত করতে সাহায্য করবে।

বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বল বদলানোর ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল থেকে নতুন বল ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে ২০১৮ রাশিয়া, ২০১৪ ব্রাজিল, ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা ও ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে শুধু ফাইনালের জন্য আলাদা বল আনা হয়েছিল। আর ২০০২ সালের আগে বিশ্বকাপের মাঝপথে বল পরিবর্তনের নজির ছিল না।

Continue Reading

top1

বাংলাদেশকে ৩.৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স

Published

on

By

দেশের জ্বালানি ও খাদ্য খাতের সুরক্ষায় বাংলাদেশকে ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেবে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি)। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তেল, গ্যাস ও সার আমদানিতে এই অর্থ ব্যবহৃত হবে।

সোমবার (৫ জুলাই) আইটিএফসির সৌদি আরবের জেদ্দার সদর দপ্তরে এ-সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়। আইটিএফসি ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি) গ্রুপের সদস্য প্রতিষ্ঠান।

আইটিএফসির এই অর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের তিনটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ঋণ সুবিধা পাবে। সেগুলো হলো—বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি), তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা) এবং কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পেট্রোলিয়াম পণ্য, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং সার আমদানির সুবিধার্থে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন জেদ্দা সফররত অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং আইটিএফসির পক্ষে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) নাজিম নুরদালি। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইটিএফসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইঞ্জিনিয়ার আদিব ইউসুফ আল আমা।

আইটিএফসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই অর্থায়ন কর্মসূচি জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার ও আইটিএফসির মধ্যকার যৌথ অংশীদারত্বকে আরও দৃঢ় করবে। ১৯৭৭ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারকে জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানিতে সহায়তার জন্য ২২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়ন দিয়েছে আইটিএফসি-আইএসডিবি।

Continue Reading

top1

বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

Published

on

By

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

তিনি বলেন, সরকারের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই এই অগ্রগতি এসেছে। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকটি দেশের শ্রমবাজারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত হবে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি এবং বিদ্যমান শ্রমবাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

সৌজন্য সাক্ষাতে সিলেটের সার্বিক উন্নয়ন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি, বিশেষ করে সিলেটি প্রবাসীদের অবদান, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ করতে দুই দেশ নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং উন্নয়ন অংশীদারত্বকে আরও গতিশীল করবে।

সাক্ষাতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Continue Reading

Trending