Connect with us

top2

এককভাবে সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী, প্রত্যাশা দেখছেন মানুষের

Published

on

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের পর এককভাবে সরকার গঠনে সক্ষম হবেন বলে আশা করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ডয়চে ভেলেকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান নারীর ক্ষমতায়ন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং গুম-খুনের বিচার নিয়েও কথা বলেন।

১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরার পর মা খালেদা জিয়ার মৃত্যু এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি—দুটোর সামঞ্জস্য রাখাই তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলে জানান তারেক রহমান।

ডয়চে ভেলে: ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট। তো এই নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে বলে আপনি আশাবাদী?

তারেক রহমান : আমরা আশা করছি যে নির্বাচনটা সুষ্ঠু হবে। মানুষেরও তাই প্রত্যাশা। আমরা আশাবাদী।

ডয়চে ভেলে : ১৭ বছর পর আপনি বাংলাদেশে এসেছেন। আপনি নির্বাসনে ছিলেন নানা কারণে। এই ১৭ বছর পর আসার পরে আপনার দল গোছানো নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনটা ছিল?

তারেক রহমান : চ্যালেঞ্জটা হয়তো কিছুটা খুব সম্ভবত আমারই ছিল। এত বছর পরে এসেছি, আসার পরে মানুষের চোখেমুখে একটা প্রত্যাশা দেখেছি। এটা হলো রাজনৈতিক দিক, অন্যদিকে আসার পাঁচ দিন পরেই আম্মা মারা গেলেন। উনি অসুস্থ ছিলেন অনেক দিন ধরে। স্বাভাবিকভাবে এটাও একটা খুব কষ্টকর বিষয় আমাদের সবার জন্য। আমরা পরিবার যে একসাথে বসে নিজেদের কষ্টটা ভাগ করে নেব, সেই সুযোগটা বা সময়টা হয়নি। কারণ আমরা একদম নির্বাচনের ডামাডোলের ভেতরে। একদিকে নির্বাচনী ডামাডোল, অন্যদিকে ব্যক্তিগত বিষয়টা—দুটোর সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, এটাই আসলে আমার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে, হয়ত এই চ্যালেঞ্জটা মোটামুটিভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি আমি।

ডয়চে ভেলে : এবার নতুন ভোটাররা প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছেন। গত তিনটি নির্বাচন বিতর্কিত, তা আপনি জানেন। ফলে মানুষের মধ্যে একটা বাড়তি আগ্রহ রয়েছে। তরুণদের আগ্রহী করতে বা তরুণদের কাছে পৌঁছাতে, আপনার দলের পক্ষ থেকে কি আলাদা করে বা বিশেষ করে কোনো কিছু করা হয়েছে যেটাতে তরুণরা একটু আকৃষ্ট হতে পারে?

তারেক রহমান : দেখুন আপনি যদি আমাদের মেনিফেস্টোটা দেখে থাকেন, যেটা আমরা কয়েক দিন আগে জাতির সামনে উপস্থাপন করেছি, সেখানে কিন্তু আমরা সমাজের তরুণদের জন্য, একইভাবে বয়স্কদের জন্য, একই সঙ্গে দেশের চল্লিশ লাখ প্রতিবন্ধীর জন্য, একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক যে নারী, তাদের ক্ষমতায়নের জন্য আমরা পরিকল্পনা রেখেছি। কর্মসূচি রেখেছি, বিশেষ করে শুধু তরুণদের জন্য না, সবার জন্য। কারণ দেশটা গঠন করতে হবে সবাইকে নিয়ে।

ডয়চে ভেলে : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং তারপর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের ক্রমেই অবনতি হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। এই যে সম্পর্ক এবং অতীতে দেখা গেছে যে গত এক দশকে অনেকে মনে করেন যে ভারতের সঙ্গে বিএনপির একটা দূরত্ব রয়ে গেছে এবং সেই দূরত্বটা ঘোচানো যায়নি। ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনার অবস্থান কী হবে?

তারেক রহমান : দেখুন, আপনি যেটা বললেন যে দেখা গিয়েছে যে বিএনপির সঙ্গে তাদের একটা দূরত্ব আছে। অবশ্যই আমরা যদি দেখি যে এমন কোনো চুক্তি হচ্ছে, যেটা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের পরিপন্থি, বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি, সেটা যেকোনো দেশের সঙ্গেই হোক, তাদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব হবে। কারণ আমি তো প্রতিনিধিত্ব করি আমার দেশের মানুষকে। কাজেই যেকোনো দুই দেশের মধ্যে যদি কোনো চুক্তি হয়, যেটা আমার দেশের স্বার্থের সঙ্গে যাবে না, সে ক্ষেত্রে যে কারও সঙ্গেই আমাদের এ রকম দূরত্ব হতে পারে।

ডয়চে ভেলে : ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, দেখা যাচ্ছে যে চীনের একটা বাড়তি আগ্রহ আছে বাংলাদেশ নিয়ে। আপনাদের কি চীনের জন্য আলাদা কোনো নীতি বা কোনো পদক্ষেপ আছে?

তারেক রহমান : বর্তমান বিশ্বে যদি আমরা চিন্তা করি আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সম্পর্ক থাকবে, আমরা একা বসবাস করতে পারব না। গ্লোবাল ভিলেজ বলা হয় এখন পৃথিবীকে। কাজেই আমাদের দেশের মানুষ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করবে। আমাদের দেশের মানুষ বিভিন্ন দেশে যাবে চাকরি-বাকরি বিভিন্ন কারণে। কাজেই আমার দেশের স্বার্থ যেখানে বজায় থাকবে, দেশের মানুষের স্বার্থ যেখানে বজায় থাকবে, আমাদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভালো হবে।

ডয়চে ভেলে : একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে আপনি কয়েক দিন আগেই বলেছেন যে, বিএনপি কোনো রকম ঐক্যের সরকার বা জাতীয় সরকার গঠনের পরিকল্পনা নেই জামায়াতের সঙ্গে। কিন্তু জামায়াত বলছে যে, তারা যদি সুযোগ পায় তারা বিএনপির সঙ্গে এখনো ঐক্যের সরকার করতে রাজি এবং তারা আমন্ত্রণ জানাবে। সে ক্ষেত্রে কি আপনি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করবেন?

তারেক রহমান : আমরা কনফিডেন্ট যে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের মানুষের রায় আমরা পাব। আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হব এককভাবে। সে ক্ষেত্রে তো কাউকে অপজিশনে থাকতে হবে। কারণ একটা ব্যালেন্সড রাষ্ট্র যদি হতে হয়, ব্যালেন্সড সরকার যদি হতে হয় তাদের সে ক্ষেত্রে অপজিশনে থাকতে হবে কাউকে। সবাই সরকারে চলে এলে কেমন করে দেশ চলবে?

ডয়চে ভেলে : বাংলাদেশে প্রায় ১৩ কোটি ভোটার এবং তার অর্ধেকের মতোই নারী। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি যে রাজনৈতিক দলগুলো যে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন তার মধ্যে নারীর সংখ্যা খুবই কম এবং এটা নিয়ে একটা আলোচনা হচ্ছে দেশে-বিদেশে যে নারীকে কেন এতটা কম সুযোগ দেওয়া হচ্ছে ভোটের রাজনীতিতে? যদি জুলাই বিপ্লবের কথা বলা হয়, গণঅভ্যুত্থানের কথা বলা হয়, সেখানেও তারা বিশেষভাবে অবদান রেখেছেন। বিষয়টা কীভাবে দেখছেন?

তারেক রহমান : বিষয়টাকে আমি অন্যভাবে দেখি। বেগম খালেদা জিয়া যখন এর আগে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন উনি একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিলেন এবং সেটা হচ্ছে মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা। ক্লাস ওয়ান থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত উনি ফ্রি করে দিয়েছিলেন। এটি হচ্ছে নারী সমাজকে এমপাওয়ার করার প্রথম একটি পদক্ষেপ। অর্থাৎ আপনি একজনের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করলেন। আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে নারীদের এই শিক্ষার সুযোগটা আরও হায়ার ক্লাস পর্যন্ত আমরা নিয়ে যাব। এটা হলো এক নম্বর। দ্বিতীয়ত, আপনি নিশ্চয়ই শুনেছেন, আমরা দেশের প্রত্যেক হাউসওয়াইফের জন্য, বিশেষ করে শুরু করব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর থেকে, আমরা একটি ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই, যার মাধ্যমে আমরা তাকে একটি রাষ্ট্র বা সরকার থেকে একটা সহযোগিতা দেব। এই ফ্যামিলি কার্ডটা যখন পাবে, সে মানসিকভাবে সে এমপাওয়ার্ড ফিল করবে এবং সহযোগিতা যখন বজায় থাকবে আস্তে আস্তে অর্থনৈতিকভাবে সে স্বাবলম্বী হবে। একদিকে আমরা চেষ্টা করছি নারীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে। একই সঙ্গে আমরা তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলছি।

আমরা শুধু কথার কথা বলে কিছু নমিনেশন বা কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কিছু নারীকে দিয়ে দিলাম না। কিন্তু আপনি যদি সত্যিই নারীদের ক্ষমতায়নের কথা বলেন, তা এভাবে আনতে হবে। তাদের শিক্ষা এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হবে। আমরা চাইছি শিক্ষার পাশাপাশি নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে। তাহলে সে তার নিজ যোগ্যতাতেই যেকোনো পর্যায়ের নির্বাচন হোক, স্থানীয় হোক বা জাতীয় নির্বাচন, সে তার নিজ যোগ্যতাবলে নমিনেশন আদায় করেই নিতে সক্ষম হবে। বিষয়টিকে আমরা লংটার্মে নিয়ে যেতে চাইছি। ধীরে ধীরে স্থায়ীভাবে জিনিসটাকে গড়ে তুলতে চাইছি আমরা।

ডয়চে ভেলে : আমরা যখন কথা বলি নারী ভোটারদের সঙ্গে, তাদের কারও কারো মধ্যে একধরনের ভয় বা উৎকণ্ঠাও কাজ করছে যে, ১২ তারিখের পরে কী হবে, তারা কতটা নিরাপদ থাকতে পারবেন বা তাদের উপরে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ হবে কি না, তাদের জীবন সংকুচিত করার কোনো রকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না। এ রকম এক ধরনের ভয়, এক ধরনের উৎকণ্ঠা কাজ করছে। তাদের উদ্দেশ্যে আপনার কি কোনো বার্তা আছে?

তারেক রহমান : আপনি যেই বিষয়গুলো বললেন, এটি অবশ্যই আমাদের পক্ষ থেকে নয়। এটি বাংলাদেশে কিছু কিছু অন্য রাজনৈতিক দল আছে, যাদের বিভিন্ন কথাবার্তা বা সোশ্যাল মিডিয়াতে তাদের বিভিন্ন স্টেটমেন্টের মাধ্যমে এই ধারণাগুলো জন্ম নিয়েছে মানুষের মাঝে বা নারীদের মাঝে। আমরা সবসময়ই নারীদের এম্পাওয়ারমেন্ট এর কথা বলেছি। কারণ আমরা যত যাই পরিকল্পনাই করি না কেন, যখন দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হয়ে থাকেন, তাদেরকে আলাদা রেখে আমরা দেশকে সামনে নিতে পারব না। আমাদের সকলকে নিয়েই নিতে হবে। সেজন্যই আমরা তাদের শিক্ষার আরও এমন ব্যবস্থা করতে চেয়েছি যাতে তারা আরও উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারে সহজে। আমরা এমন ব্যবস্থা করতে চাইছি যাতে তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। অর্থাৎ তাদের কনফিডেন্স আমরা আরও স্ট্রং করতে চাইছি। তাদের আত্মবিশ্বাসটা আমরা দৃঢ় করতে চাইছি। শুধু তাই নয়, আমরা এরই মধ্যে বলেছি যে, আমরা দেশে সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে আমরা দেশে এমন শিল্পও নিয়ে আসতে চাই যেখানে নারীরা তাদের কর্মসংস্থানে বেশি হবে। কর্মসংস্থানে নারীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারেন, সেই জন্য কেয়ার সেন্টারসহ অন্যান্য বিষয়গুলো আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে।

আমরা এটাও বলেছি যে, নারীরা যাতে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন, ঢাকা শহরসহ বড় শহরগুলোতে আমরা নারীদের জন্য ইলেকট্রিক বাস ইন্ট্রোডিউস করব, যেটা শুধু নারীরাই ব্যবহার করবেন এবং সেই বাস পরিচালনাও করবেন নারীরা। কাজেই আমাদের দলীয় অবস্থান থেকে আমরা পরিকল্পনা রেখেছি, যেগুলো আমরা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন করব সুযোগ পেলে যাতে করে নারীরা তাদের জন্য যত বেশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

ডয়চে ভেলে : গণঅভ্যুত্থানের পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না এবং কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ এরকম মত দিচ্ছেন যে, আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় এই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে না। এই বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?

তারেক রহমান : দেখুন এটা তো পুরো রাজনীতি। আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য, মানুষের সমর্থন নিয়ে। কাজেই আমি মনে করি, রাজনীতিতে মানুষ যাকে গ্রহণ করবে তাকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। আর যাকে মানুষ গ্রহণ করবে না, যত শক্তিই থাকুক না কেন, শক্তি প্রয়োগ করে সে ধরে রাখতে পারে না, ৫ই আগস্ট যার উদাহরণ।

ডয়চে ভেলে : দুর্নীতি দমনের যে উদ্যোগের কথা আপনি বলছেন এবং আপনার ম্যানিফেস্টোতে সেটা রয়েছে, ইশতেহারে রয়েছে। কিন্তু টিআইবি ও একাধিক সংগঠন নানারকম পরিসংখ্যান দিচ্ছে এবং তাতে দেখা যাচ্ছে যে বিএনপির বেশ কয়েকজন প্রার্থী ঋণখেলাপি। তারা আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে তারপরে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং অনেকে আছেন যারা ঋণগ্রস্ত। এই বিষয়ে আপনার মতামত কী?

তারেক রহমান : দেখুন, দুর্নীতি এবং ঋণগ্রস্ত বা ব্যাংক ডিফল্ট দুটো ভিন্ন জিনিস। আমাদের দলের লাখো নেতাকর্মীর নামে বিগত স্বৈরাচার সরকার কেস দিয়েছিল। আমাদের দলের মধ্যে যারা আছেন, যারা আমাদের দলীয় রাজনীতির সাথে আছে, যারা ব্যবসা বাণিজ্য করে তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য চলতে দেওয়া হয়নি। তাদেরকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। তাদের ন্যায্য ব্যাংক লোন যেটা আছে সেটা তাদেরকে দেওয়া হয়নি। কাজেই এরকম একটি অবস্থার মধ্যে আমাদের লোকজন, আমাদের ব্যবসায়ীরা, আমাদের নেতাকর্মীরা যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন, তাদের জন্য তো এরকম ডিফল্ট হওয়াটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। দুর্নীতি ও ডিফল্ট হয়ে যাওয়ার মধ্যে সম্পর্ক তো নেই। দুটো একদম ভিন্ন জিনিস।

ডয়চে ভেলে : সম্পূর্ণভাবে গণঅভ্যুত্থানের কথা আপনি যেটা বলছেন যে, বিএনপির অনেক নেতাকর্মী হতাহত হয়েছেন বলে আপনার দল থেকে জানানো হয়েছে। গত ১৫-১৬ বছরে গুম খুনের শিকার হয়েছেন অনেকে। যারা ভুক্তভোগী, তাদের পরিবারকে বা তাদের বিচার নিশ্চিত করার জন্য আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

তারেক রহমান : অবশ্যই আমাদের পরিকল্পনা আছে, কারণ আমাদের নেতাকর্মীরা যেরকম গুম খুনের শিকার হয়েছে, অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল যারা আমাদের সাথে আন্দোলন সংগ্রামে ছিল তারা গুম খুনের শিকার হয়েছে। হয়ত সংখ্যা কম-বেশি হবে। এমনকি অনেক মানুষ আছেন যারা রাজনীতির সাথে জড়িত না। কিন্তু তারা অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছে, গুম খুনের শিকার হয়েছে। এটি একটি অন্যায় ব্যাপার। একটি সভ্য দেশে মানুষ গুম হয়ে যাবে, দেশের মানুষ খুন হয়ে যাবে, কিন্তু তার কোনো বিচার হবে না, এটা তো হতে পারে না। কাজেই দেশের আইন অনুযায়ী অবশ্যই প্রত্যেকটা মানুষ কারো সাথে যদি অন্যায় হয়ে থাকে তার বিচার পাওয়ার অধিকার আছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

খুলনায় মসজিদে নামাজের সময় এলোপাতাড়ি গুলিতে দুই মুসল্লি বিদ্ধ

Published

on

By

খুলনায় নামাজের সময় মসজিদে এলোপাতাড়ি গুলির ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৪ জুন) ফজরের নামাজের সময় দৌলতপুর ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি জামে মসজিদের ভেতর ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, মুসল্লিরা নামাজে দাঁড়ালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত পেছন থেকে এলোপাতাড় গুলি ছোড়ে। এতে লোকমান এবং আলম নামে দুই মুসল্লি গুলিবিদ্ধ হন।

তাদেরকে মুসল্লিরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য লোকমানকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

দৌলতপুর থানার পরিদর্শক তদন্ত জাহিদুল ইসলাম জানান, দুর্বৃত্তরা মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

দুই দিন আগে খুলনা নগরীর মাথাভাঙ্গা কাজীপাড়া এলাকায় দোকানে বসে থাকা রফিক গাজী নামে এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। গত শুক্রবার দুপুরে হেলমেট পরিহিত অবস্থায় এক যুবক মোটরসাইকেলে এসে তাকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়ে। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

Continue Reading

top2

হরমুজে মার্কিন হামলায় ৩ ভারতীয় নিহতের ঘটনায় ইরানের শোক

Published

on

By

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালীর ওমান উপকূলে মার্কিন বাহিনীর হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিকের নিহতের ঘটনায় শোক জানিয়েছে ইরান।

শুক্রবার (১২ জুন) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ শোক জানিয়েছেন।

এক্সবার্তায় বাঘায়েই বলেন, ‘ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনীর নিষ্ঠুর হামলা এবং তার জেরে ভারতের ৩ জন নাগরিকের মৃত্যু আরও একবার প্রমাণ করলো যে যুক্তরাষ্ট্র সশস্ত্র ডাকাতি এবং সরকারি জলদস্যুতার নীতি গ্রহণ করেছে। আমরা নিহত ভারতীয় নাগরিক, তাদের পরিবার, বন্ধু-স্বজন, ভারতের জনগণ এবং সরকারের প্রতি গভীর সহানুভূতি এবং স্বান্তনা জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে এ ধরনের আইনবহির্ভূত কাজের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের জবাবদিহিতার দাবি জানাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্রের বেপরোয়া আচরণের কারণে আজ বৈশ্বিক শান্তি এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর সমুদ্র চলাচলের স্বাধীনতা- উভয়েই গুরুতর হুমকির মধ্যে আছে।’

উল্লেখ্য, গত ১০ জুন বুধবার হরমুজ প্রনালীর ওমান উপকূলে পালাউয়ের পতাকাবাহী জাহাজের ইঞ্জিনকক্ষে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে মার্কিন বাহিনী। জাহাজটিতে মোট ২৮ জন নাবিক বা ক্রু ছিলেন, তাদের মধ্যে ২৪ জনই ভারতীয়।

মার্কিন হামলার পর তিন জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ ছিলেন। বৃহস্পতিবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের জাহাজ চলাচলমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিখোঁজ ৩ জনই নিহত হয়েছেন।

সূত্র: ফার্স্টপোস্ট

Continue Reading

top2

বাংলাদেশে এসেই দুই দেশ এক করার কথা বললেন নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার

Published

on

By

বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বলেছেন,ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যা আর বাংলাদেশের ২০ কোটি যদি এই সঙ্গে করা হয় ১৬০ কোটি। দুই গণতান্ত্রিক দেশের শক্তি এক হলে বিশ্ব শক্তিতে পরিণত হবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে তা বৃহৎ একটি জনশক্তিতে রূপান্তরিত হবে। এ জন্য দুই দেশের সহযোগিতা থাকা দরকার।

শুক্রবার (দুপুর সাড়ে ১১টার পর) বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশে পৌঁছে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, একটা শক্তি হলে হবে না। দুই দেশ মিলে যে শক্তি হবে ওইটা আসল শক্তি। ওই শক্তিটা যেন পুরো পৃথিবী দেখে। ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশে যে ট্যালেন্ট আছে তাদের নিয়ে আগামী প্রজন্ম খেলাধুলা, স্বাস্থ্য, টেকনোলজি —সবকিছু নিয়ে কাজ করব।

আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার পর বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে আসেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। ছবি: আজকের পত্রিকা

দুই দেশের প্রতিভা ও সম্পদ কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খেলাধুলা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানান তিনি।

সীমান্তে ‘পুশইন’ ইস্যু, ভ্রমণ ও বাণিজ্যে আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ অভিন্ন আকাশ-বাতাস ভাগাভাগি করে। দুই দেশের জন্য যা কল্যাণকর, ভবিষ্যতে সে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার পর বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে আসেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাংলাদেশে আসার সময় নোম্যান্সল্যান্ডে তাকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভারতীয় হাইকমিশন ও বেনাপোল স্থলবন্দরের প্রতিনিধিরা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদী।

দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘একটা শক্তি হলে হবে না। দুই দেশ মিলে যে শক্তি হবে, সেটাই আসল শক্তি।’

গত এপ্রিল মাসে ভারত সরকার সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। দুই দেশের ৫৫ বছরের কূটনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার করা হলো। তিনি প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। প্রণয় ভার্মা বর্তমানে ব্রাসেলসে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন

Continue Reading

Trending