Connect with us

top1

এনসিপি নেতাদের যত সম্পদ

Published

on

দল গঠন করেছে এক বছরও হয়নি। অনেকেরই শিক্ষাজীবন শেষ হয়েছে মাত্র এক দেড় বছর আগে। প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। এরপরও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীদের মধ্যে অনেকের হলফনামায় উঠে এসেছে বিপুল সম্পদের হিসাব। এর মধ্যে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নিজেকে পরামর্শক পরিচয় দিয়ে ৩২ লাখ টাকার বেশি সম্পদের বিবরণী দিয়েছেন। আর মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসুদ যে সম্পদের বিবরণী দিয়েছেন, তা তার বাবার সম্পদের চেয়েও ১৮ গুণ বেশি। ব্যাংকে ২৬ লাখ টাকার স্বর্ণ ও ১৩ লাখ টাকা নগদ দেখিয়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। আরেক মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের সম্পদও ৩৩ লাখ টাকার বেশি। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

মনোনয়নপত্র জমার সময় হলফনামায় প্রার্থীর ১০ ধরনের তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইতোমধ্যে হলফনামা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। হলফনামায় অসত্য তথ্য প্রমাণিত হলে ভোটের পরও সদস্য পদ বাতিলের বিধান রয়েছে আইনে।

এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেই কোনো স্থাবর সম্পদ, নেই তার নামে কোনো মামলাও। ৩২ লাখ টাকার সম্পদের সঙ্গে তাঁর ৩ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন হলফনামায়। ২৭ বছর বয়সি এ নেতা পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন পরামর্শক। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারে ছয় মাস উপদেষ্টার দায়িত্ব সামলিয়েছেন। বছরে আয় দেখিয়েছেন ১৬ লাখ টাকা। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে নাহিদ ১৩ লাখ টাকার বেশি আয়ের বিপরীতে আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা। ঢাকা-১১ আসন থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে লড়তে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দেওয়া হলফনামায় এসব তথ্য তুলে ধরেছেন নাহিদ। হলফনামায় নাহিদের স্থায়ী ঠিকানা ঢাকা উত্তর সিটির বাড্ডার বড় বেরাইদ। থাকছেন দক্ষিণ সিটির গোড়ান এলাকার দক্ষিণ বনশ্রীতে। নাহিদের নিজের অর্জনের পৌনে ৮ লাখ টাকা মূল্যের অলংকার এবং স্ত্রীর রয়েছে ১০ লাখ টাকার গয়না।

এনসিপি সদস্যসচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন অফিসে দাখিলকৃত হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, আখতার হোসেনের গাড়ি ও বাড়ি নেই। তবে নিজের অস্থাবর সম্পদের মূল্য ২৭ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর ১৬ লাখ টাকা। নগদ আছে ১৩ লাখ টাকা। স্ত্রী সানজিদা আক্তারের আছে ৪ লাখ টাকা। নিজের ব্যাংকে জমা আছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৪২৬ টাকা। হলফনামায় পেশা হিসেবে আখতার হোসেন ‘শিক্ষানবিশ আইনজীবী’ এবং স্ত্রী ‘গৃহিণী’ উল্লেখ করা হয়েছে। হলফনামায় উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, কৃষি, ব্যবসা ও চাকরি থেকে আখতার হোসেনের বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা। নিজের ৭ লাখ ও স্ত্রীর আছে ১০ লাখ টাকার গয়না। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১৮ শতাংশ কৃষি জমি। যার বর্তমান মূল্য ২৩ হাজার টাকা।

এদিকে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ আসনে তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে হঠাৎ আলোচনায় আসা বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। দেখা যায়, হান্নান মাসউদের কাছে বর্তমানে টাকা রয়েছে ৩৫ লাখ আর তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের কাছে টাকা রয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার। সে হিসেবে হান্নান মাসউদের কাছে বাবার চেয়ে ১৮ গুণের চেয়ে বেশি টাকা রয়েছে।

হলফনামায় হান্নান মাসউদ নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়েছেন। তিনি নিজেকে আলিম (উচ্চ মাধ্যমিক সমমান) পাস উল্লেখ করে ঢাকায় ডিজিল্যান্ট গ্লোবাল নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে দেখিয়েছেন। এতে তার বাৎসরিক আয় দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার জমা রয়েছে ১ হাজার ৫৫ টাকা।

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রার্থী হচ্ছেন ঢাকা-৮ আসন থেকে। নির্বাচন উপলক্ষে তিনি ইতোমধ্যেই হলফনামা জমা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনে। হলফনামায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তার স্ত্রীর মোট ২২ লাখ টাকার স্বর্ণালংকারের হিসাব দিয়েছেন। হলফনামায় দেখা গেছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর হাতে নগদ আছে ২৫ লাখ টাকা। পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রীর মিলে ২২ লাখ টাকার গয়না রয়েছে। হলফনামায় পেশা হিসেবে মার্কেটিং কনসালটেন্সির বিষয় উল্লেখ করেছেন পাটওয়ারী। তার নামে কোনো বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট নেই। পেশা থেকে বার্ষিক আয় ২ লাখ ২ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। চাকরি করে তিনি বছরে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৩৩ টাকা আয় দেখিয়েছেন। তার হাতে নগদ ২৫ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৫ লাখ টাকা রয়েছে। হলফনামায় আরও দেখা গেছে, ব্যাংকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ৮ হাজার ২৭৫ টাকা জমা আছে, তবে স্ত্রীর নামে আছে ৬ লাখ ১৯ হাজার ৯৮০ টাকা।

পঞ্চগড়-১ আসন থেকে ভোটে অংশ নিচ্ছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তার বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ টাকা। ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন হলফনামায়। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সারজিস আলমের হাতে নগদ অর্থ আছে ৩ লাখ ১১ হাজার ১২৮ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা অর্থের পরিমাণ ১ লাখ টাকা। দান পাওয়া কৃষি জমির পরিমাণ ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্জনের সময় যার মূল্য ছিল ৭ হাজার ৫০০ টাকা; যা বর্তমানে হয়েছে আনুমানিক ৫ লাখ টাকা। ব্যবসা থেকে তার বছরে আয় ৯ লাখ টাকা। সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তিনি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) উল্লেখ করেছেন।

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তার নির্বাচনি হলফনামায় নিজের আর্থিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিয়েছেন। স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে তার মোট ৫০ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। তার ব্যাংকে ২৬ লাখ টাকার সোনা ও নগদ সাড়ে ১৩ লাখ টাকা রয়েছে। তিনি পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। হলফনামার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তার নামে বাড়ি, গাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট কিংবা ভবন কিছুই নেই। তবে তার বার্ষিক আয় ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৩৯ টাকা। হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এনসিপি থেকে সদ্য পদত্যাগ করা তাসনিম জারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন ঢাকা-৯ আসন থেকে। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী জারার সম্পদ আছে ১৯ লাখ টাকার। বছরে চাকরি থেকে আয় করে ৭ লাখ টাকা। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় তিনি এমন তথ্য উল্লেখ করেছেন। তাসনিম জারার বার্ষিক আয় ৭ লাখ ১৩ হাজার ৫৯৭ টাকা, সম্পদ আছে ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৫০৯ টাকার, আয়কর দিয়েছেন ৩৪ হাজার ৫৭ টাকা। কোনো মামলা, ঋণ, দায় বা সরকারি পাওনা নেই। নেই বাড়ি, ফ্ল্যাট, কৃষি বা অকৃষি জমিও। অলংকার আছে আড়াই লাখ টাকার। ব্যাংকে নিজ নামে জমা আছে ১০ হাজার ১৯ টাকা, হাতে নগদ আছে ১৬ লাখ টাকা ও ২ হাজার ২৭০ ব্রিটিশ পাউন্ড।

সিলেট জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ৩টিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী। হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তিন প্রার্থীই উচ্চ শিক্ষিত। এর মধ্যে দুজনের সম্পদ ও আয় অপেক্ষাকৃত কম হলেও একজন কোটিপতি। দুজনের দেশে ও দেশের বাইরে রয়েছে আয়ের উৎস।

হলফনামা থেকে জানা গেছে, সিলেট-১ আসনে এনসিপির প্রার্থী এহতেশামুল হক ছিলেন দ্বৈত নাগরিক। চলতি বছরের ২২ অক্টোবর তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। মাস্টার্স পাস এহতেশামুল হক পেশায় পরামর্শক (কনসালট্যান্ট)। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকারের একজন কর্মকর্তাও ছিলেন তিনি। স্ত্রী সাবিনা আক্তার পেশায় যুক্তরাজ্যের কমিউনিটি কাউন্সিলর ক্যাবিনেট মেম্বার।

দেশের ভিতরে এহতেশামুলের বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও দেশের বাইরে আয় ৬ লাখ টাকা। দেশের বাইরে তার স্ত্রীর বার্ষিক আয় ৪০ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে ১০ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়িও রয়েছে। এহতেশামুলের কাছে নগদ সাড়ে ৩ লাখ ও ব্যাংকে ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা রয়েছে। নিজের নামে ৩ লাখ টাকা ও স্ত্রীর নামে ৫ লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। হলফনামায় এহতেশামুল উল্লেখ করেছেন তার অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন ও বর্তমান মূল্য ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১৫  লাখ টাকা।

সিলেট-৩ আসনে এনসিপির প্রার্থী ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ একসময় যুক্তরাজ্যে ছিলেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। পেশায় শিক্ষানবিশ আইনজীবী জুনেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলএম।

তার স্ত্রী তানজিনা শহীদ পেশায় চিকিৎসক। হলফনামায় নুরুল হুদা জুনেদ উল্লেখ করেছেন তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, আইন পেশা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও অন্যান্য খাত থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার হাতে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও ব্যাংকে ৮০ হাজার টাকা জমা আছে। ১০ লাখ টাকা মূল্যের গাড়ি, ১০ ভরি স্বর্ণ, ২ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য ও দেড় লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার অর্জনকালীন অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করেছেন ব্যারিস্টার জুনেদ। তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৪ কেদার কৃষি, অকৃষি জমি ১ কেদার ও যৌথ মালিকানায় ৭ কেদার জমিসহ একটি দোতলা বাড়ি। তার স্থাবর সম্পদের মূল্য ১০ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করেছেন।

সিলেট-৪ আসনে এনসিপির প্রার্থী মো. রাশেল উল আলম পেশায় আইটি ডেভেলপার। তিনিও একসময় যুক্তরাষ্ট্রে সপরিবারে বসবাস করতেন। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রানু বেগম সেখানকার ব্যবসায়ী।

রাশেলের দেশের ভিতরে বার্ষিক আয় ৪৮ লাখ টাকা ও দেশের বাইরে ৬২ লাখ টাকা। দেশের বাইরে স্ত্রীর বার্ষিক আয় রয়েছে ৩০ লাখ টাকা। রাশেলের ব্যাংকে কোনো টাকা নেই, নগদ আছে ৩৯ লাখ ৬৩ হাজার ৬৫০ টাকা। স্ত্রী ও নির্ভরশীলদের কাছে নগদ আছে ৪০ লাখ টাকা। ১০ ভরি স্বর্ণ, ৪ লাখ টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক পণ্য ও ৪ লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে তার। রাশেলের অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন ও বর্তমান মূল্য ৫১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৫০ টাকা। এ ছাড়া স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৭৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের ৬০ ডেসিমেল অকৃষি জমি ও ১ কোটি ১০ লাখ ৪৩ হাজার ৮৮৫ টাকা মূল্যের একটি বাসা। হলফনামায় রাশেল তার স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন ও বর্তমান মূল্য ২ কোটি ২৪ লাখ ২২ হাজার ২৮৫ টাকা উল্লেখ করেছেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

সেপ্টেম্বরে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে আসছে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

Published

on

By

সব ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে চলছে শেষ মুহূর্তের কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা। পরীক্ষামূলক সরবরাহ সফল হলে পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যে ইউনিটটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংকট ও লোডশেডিংয়ের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের অন্যতম বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। কবে নাগাদ কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, সে অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রবেশ করানো হয়েছে। দুই ধাপে শতাধিক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি পরীক্ষাগুলোও পর্যায়ক্রমে শেষ করা হচ্ছে। প্রতিটি ধাপ যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন দিচ্ছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

একবার চালু হলে কেন্দ্রটি ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। একবার জ্বালানি লোড করার পর প্রায় ১৮ মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এরপর নতুন জ্বালানি দিতে একটি ইউনিট সর্বোচ্চ প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ অন্য বিদ্যুতের তুলনায় বেশি নির্ভুল ও স্থিতিশীল গ্রিডের মাধ্যমে সরবরাহ করতে হয়। তাই রূপপুরের সঙ্গে যুক্ত জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।

রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সঞ্চালনে বাঘাবাড়ী ২৩০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি ও গোপালগঞ্জের আরেকটি ৪০০ কেভি অবকাঠামো ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে বেশিরভাগ অবকাঠামোর কমিশনিং শেষ হয়েছে। তবে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য আরও প্রস্তুতি প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্রুতগতির বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের সিস্টেম এখনও পুরোপুরি সমন্বয় করার মতো সক্ষম নয়। এ সমন্বয় ঠিকভাবে না হলে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।

এ জন্য পিডিবির পাশাপাশি নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ দেশগুলোর বিশেষজ্ঞ ও বিদেশি পরামর্শকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় আপগ্রেডেশন ও প্রস্তুতির কাজ চলছে।

তবে রূপপুরের বিদ্যুতের চূড়ান্ত মূল্য এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর পর পিডিবির সঙ্গে আলাদা ক্রয়চুক্তি হবে। প্রকল্পের শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৩ থেকে ৪ টাকা ধরা হলেও প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এখন সেই হিসাব পরিবর্তিত হয়েছে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, রূপপুর প্রকল্পের বেশ কিছু পেমেন্ট আটকে আছে। রাশিয়ার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাজনিত সীমাবদ্ধতার কারণে এসব অর্থ পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে। ফলে প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ স্বাভাবিক গতিতে এগোচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

Continue Reading

top1

বরিশাল/ দিনে ৬২ লাখ টাকার বিদ্যুৎ টেনে নিচ্ছে ব্যাটারি রিকশা

Published

on

By

সরকারি হিসাবের বাইরে বরিশাল নগরে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা। এসব যান চার্জ দিতে প্রতিদিন অন্তত ৬২ লাখ টাকার বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। ফলে তীব্র বিদ্যুৎ ঘাটতির মুখে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে, যা জনজীবনে ফেলছে নেতিবাচক প্রভাব।

বরিশাল নগরে সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী, ইজিবাইকের সংখ্যা ৭ হাজার ৬০০ হলেও মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, এই সংখ্যা ৩০ হাজারের কম নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও অন্তত ৪০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা। অর্থাৎ সরকারি অনুমোদনের বাইরে কয়েক গুণ বেশি যান চলায় এর কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব বা নিয়ন্ত্রণ নেই।

পাটের বাজারে বড় ধাক্কা, ১৫ দিনেই মণপ্রতি কমল হাজার টাকা

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩০ হাজার ইজিবাইক ও ৪০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ করতে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সর্বনিম্ন দাম ১০ টাকা ধরে এর আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬২ লাখ টাকা।

এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কতটা বাণিজ্যিক মিটারের মাধ্যমে হচ্ছে আর কতটা অবৈধ বা আবাসিক সংযোগে—তারও কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। ওজোপাডিকোর দুই অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলীরা ১২৭টি গ্যারেজে বাণিজ্যিক মিটার থাকার কথা বললেও কর্মচারীদের দাবি, প্রায় ২০০ গ্যারেজে মিটার ছাড়াই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। গভীর রাতে মূল লাইনে হুক লাগিয়ে বা আবাসিক মিটারে অবৈধভাবে চার্জ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

নগরের কাউনিয়া, নবগ্রাম রোড, ভাটিখানা, বটতলা, কেডিসি কলোনি, স্টেডিয়াম কলোনি, জিয়া সড়ক, নতুন বাজার, রূপাতলী, ধান গবেষণা রোড, চাঁদমারী, পলাশপুর ও আমানতগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যারেজ গড়ে উঠেছে। দিনের বেলায় এসব গ্যারেজে রিকশা ও ইজিবাইক রাখা হয়। রাত গভীর হলে শুরু হয় ব্যাটারি চার্জ।

কয়েকটি গ্যারেজে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবাসিক মিটারে বিদ্যুৎ নিয়ে ব্যাটারি চার্জ করা হচ্ছে। কোথাও আবার বিদ্যুতের মূল লাইন থেকে সরাসরি সংযোগ নেওয়ার কথাও গ্যারেজ মালিকেরা স্বীকার করেছেন।

স্টেডিয়াম কলোনির এক গ্যারেজ মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাসে ১০ হাজার টাকা দিতে হয় বিদ্যুতের লোকজনকে, যাতে লাইন কেটে না দেয়। সামান্য এই ঘুষের মাধ্যমে আমরা আবাসিক মিটার ব্যবহার করি। কম খরচে বেশি যানবাহন চার্জ দিতে পারি।

বিসিক এলাকার নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক গ্যারেজ মালিক বলেন, বেশি ব্যবসার জন্য রাত ১টার পর মেইন লাইনের সঙ্গে হুক দিয়ে দিই। এতে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। মিটার রিডারকে মাঝে মাঝে কিছু টাকা দিই। গ্যারেজে ১৮ থেকে ২০টি ব্যাটারিচালিত যান আছে। অনেক খরচ বেঁচে যায়।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) দাবি, বরিশাল বিভাগে বিদ্যুৎ ব্যবহারে অনিয়ম ও অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে গত ছয় মাসে ৬৮১টি মামলা করেছেন তারা। এসব মামলায় প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

ওজোপাডিকোর তথ্য অনুযায়ী, আবাসিক মিটার ব্যবহার করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার ও বিদ্যুৎ চুরিসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে এসব মামলা করা হয়। এছাড়া অবৈধভাবে বিদ্যুৎ চুরির ঘটনায় তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের ঘটনায় আদায় করা হয়েছে ২৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা।

ওজোপাডিকো-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আমার আওতাধীন এলাকায় প্রায় ৮০টি গ্যারেজ কাম চার্জিং স্টেশনে বাণিজ্যিক মিটার রয়েছে। আবাসিক মিটার ব্যবহার করে কেউ ব্যাটারি চার্জ করছে—এমন তথ্য পেলে অভিযান চালানো হয়।

ওজোপাডিকো-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার জানান, আমার আওতাধীন এলাকায় ৪৭টি গ্যারেজে বাণিজ্যিক মিটার রয়েছে। অনিয়ম হলে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়।

বরিশাল নগরের বিদ্যুৎ চাহিদা প্রতিদিন ৭০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর বিপরীতে সরবরাহ রয়েছে মাত্র ৫৪ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। এই ঘাটতির মধ্যে রাতভর হাজার হাজার ব্যাটারি চার্জ হচ্ছে। নগরবাসী বলছেন, এর প্রভাব পড়ছে তাদের দৈনন্দিন জীবনে।

ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ, বরিশালের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. গোলাম সালেহ আহমেদ ছালেমের মতে, ৭০ হাজার ব্যাটারিচালিত যান চার্জ করতে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ লাখ টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহার হতে পারে। এত বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহার নগরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এমন অবস্থায় গ্রাহকরা সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ পেতে চাইলে ব্যাটারিচালিত যানবাহনগুলোতে চার্জ করতে সোলার সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে। আসলেই এর কোনো বিকল্প নেই। সংশ্লিষ্টদের কঠোর নজরদারির মাধ্যমে যদি ব্যাটারিচালিত যানবাহনগুলোর সোলার সিস্টেম ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, তাহলে বিদ্যুৎ নিয়ে সকল সমস্যার ৯০ ভাগ সমাধান হয়ে যাবে।

সু শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল নগর কমিটির সম্পাদক মো. রফিকুল আলম বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক নগরের মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তাই এগুলো একদিনে বন্ধ করার বাস্তবতা নেই। কিন্তু যানগুলোর সংখ্যা, নিবন্ধন, রুট, চার্জিং স্টেশন এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এর চাপ শেষ পর্যন্ত পড়ছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপরই। ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আনা জরুরি। সিটি করপোরেশন এ যানগুলোর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে বিদ্যুৎ সংকটের ওপর চাপ কিছুটা হলেও কমবে।

ওজোপাডিকো (পরিচালন ও সংরক্ষণ) বরিশাল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পরিতোষ চন্দ্র সরকার বলেন, বরিশাল নগরের আয়তনের তুলনায় যে পরিমাণ অটোরিকশা রয়েছে, তা দেশের অন্য কোনো শহরে নেই। আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। যদি কোথাও ব্যাটারিচালিত যানবাহন চার্জ করতে কেউ অবৈধ পথ বেছে নেয়, তাহলে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত যানবাহন বিদ্যুৎ সংকটে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। নগরীতে প্রথমে ৫ হাজার ও পরে আরও ২ হাজার ৬০০টি ব্যাটারিচালিত যান চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে এসব যান পুনঃনিবন্ধনের আওতায় রয়েছে। অনুমোদনের বাইরে থাকা যানবাহনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অটোরিকশা ও ইজিবাইক সীমিত পর্যায়ে আনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Continue Reading

top1

ধানমন্ডিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আটক দুই তরুণী ৬ মাস আগের মামলায় গ্রেপ্তার

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে আটক দুই তরুণীকে ছয় মাস আগে করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। রোববার (১৬ আগস্ট) তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।

পরে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গ্রেপ্তার দেখানো দুই তরুণী হলেন—জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে জান্নাত (২১) এবং সুমা বড়াল ওরফে ডলি (২৯)। শুনানিতে জান্নাতের পক্ষে আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম এবং সুমা বড়ালের পক্ষে আইনজীবী লিটন মিয়া জামিন আবেদন করেন।

পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আবুল বাশার আবদুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক আবু সোলায়মান সুমন আদালতে জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ভোরে ধানমন্ডির ৩ নম্বর সড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত মহিলা আওয়ামী লীগের ২০-২৫ জন নেতা-কর্মী সরকারবিরোধী মিছিলের উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছিলেন বলে পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায়। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে কয়েকজনকে আটক করে এবং অন্যরা পালিয়ে যায়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আটক ব্যক্তিরা সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে সেখানে সমবেত হয়ে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।

ওই মামলায় রোববার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে আটক হওয়া জান্নাতুল ফেরদৌস ও সুমা বড়ালকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী লিটন মিয়া বলেন, ছয় মাস আগের ওই মামলায় শনিবার আটক দুই তরুণীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অথচ মামলার এজাহারে তাদের নাম ছিল না।

Continue Reading

Trending