Connect with us

top1

এনসিপি নেতাদের যত সম্পদ

Published

on

দল গঠন করেছে এক বছরও হয়নি। অনেকেরই শিক্ষাজীবন শেষ হয়েছে মাত্র এক দেড় বছর আগে। প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। এরপরও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীদের মধ্যে অনেকের হলফনামায় উঠে এসেছে বিপুল সম্পদের হিসাব। এর মধ্যে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নিজেকে পরামর্শক পরিচয় দিয়ে ৩২ লাখ টাকার বেশি সম্পদের বিবরণী দিয়েছেন। আর মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসুদ যে সম্পদের বিবরণী দিয়েছেন, তা তার বাবার সম্পদের চেয়েও ১৮ গুণ বেশি। ব্যাংকে ২৬ লাখ টাকার স্বর্ণ ও ১৩ লাখ টাকা নগদ দেখিয়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। আরেক মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের সম্পদও ৩৩ লাখ টাকার বেশি। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

মনোনয়নপত্র জমার সময় হলফনামায় প্রার্থীর ১০ ধরনের তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইতোমধ্যে হলফনামা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। হলফনামায় অসত্য তথ্য প্রমাণিত হলে ভোটের পরও সদস্য পদ বাতিলের বিধান রয়েছে আইনে।

এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেই কোনো স্থাবর সম্পদ, নেই তার নামে কোনো মামলাও। ৩২ লাখ টাকার সম্পদের সঙ্গে তাঁর ৩ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন হলফনামায়। ২৭ বছর বয়সি এ নেতা পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন পরামর্শক। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারে ছয় মাস উপদেষ্টার দায়িত্ব সামলিয়েছেন। বছরে আয় দেখিয়েছেন ১৬ লাখ টাকা। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে নাহিদ ১৩ লাখ টাকার বেশি আয়ের বিপরীতে আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা। ঢাকা-১১ আসন থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে লড়তে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দেওয়া হলফনামায় এসব তথ্য তুলে ধরেছেন নাহিদ। হলফনামায় নাহিদের স্থায়ী ঠিকানা ঢাকা উত্তর সিটির বাড্ডার বড় বেরাইদ। থাকছেন দক্ষিণ সিটির গোড়ান এলাকার দক্ষিণ বনশ্রীতে। নাহিদের নিজের অর্জনের পৌনে ৮ লাখ টাকা মূল্যের অলংকার এবং স্ত্রীর রয়েছে ১০ লাখ টাকার গয়না।

এনসিপি সদস্যসচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন অফিসে দাখিলকৃত হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, আখতার হোসেনের গাড়ি ও বাড়ি নেই। তবে নিজের অস্থাবর সম্পদের মূল্য ২৭ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর ১৬ লাখ টাকা। নগদ আছে ১৩ লাখ টাকা। স্ত্রী সানজিদা আক্তারের আছে ৪ লাখ টাকা। নিজের ব্যাংকে জমা আছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৪২৬ টাকা। হলফনামায় পেশা হিসেবে আখতার হোসেন ‘শিক্ষানবিশ আইনজীবী’ এবং স্ত্রী ‘গৃহিণী’ উল্লেখ করা হয়েছে। হলফনামায় উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, কৃষি, ব্যবসা ও চাকরি থেকে আখতার হোসেনের বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা। নিজের ৭ লাখ ও স্ত্রীর আছে ১০ লাখ টাকার গয়না। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১৮ শতাংশ কৃষি জমি। যার বর্তমান মূল্য ২৩ হাজার টাকা।

এদিকে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ আসনে তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে হঠাৎ আলোচনায় আসা বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। দেখা যায়, হান্নান মাসউদের কাছে বর্তমানে টাকা রয়েছে ৩৫ লাখ আর তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের কাছে টাকা রয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার। সে হিসেবে হান্নান মাসউদের কাছে বাবার চেয়ে ১৮ গুণের চেয়ে বেশি টাকা রয়েছে।

হলফনামায় হান্নান মাসউদ নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়েছেন। তিনি নিজেকে আলিম (উচ্চ মাধ্যমিক সমমান) পাস উল্লেখ করে ঢাকায় ডিজিল্যান্ট গ্লোবাল নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে দেখিয়েছেন। এতে তার বাৎসরিক আয় দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার জমা রয়েছে ১ হাজার ৫৫ টাকা।

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রার্থী হচ্ছেন ঢাকা-৮ আসন থেকে। নির্বাচন উপলক্ষে তিনি ইতোমধ্যেই হলফনামা জমা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনে। হলফনামায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তার স্ত্রীর মোট ২২ লাখ টাকার স্বর্ণালংকারের হিসাব দিয়েছেন। হলফনামায় দেখা গেছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর হাতে নগদ আছে ২৫ লাখ টাকা। পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রীর মিলে ২২ লাখ টাকার গয়না রয়েছে। হলফনামায় পেশা হিসেবে মার্কেটিং কনসালটেন্সির বিষয় উল্লেখ করেছেন পাটওয়ারী। তার নামে কোনো বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট নেই। পেশা থেকে বার্ষিক আয় ২ লাখ ২ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। চাকরি করে তিনি বছরে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৩৩ টাকা আয় দেখিয়েছেন। তার হাতে নগদ ২৫ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৫ লাখ টাকা রয়েছে। হলফনামায় আরও দেখা গেছে, ব্যাংকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ৮ হাজার ২৭৫ টাকা জমা আছে, তবে স্ত্রীর নামে আছে ৬ লাখ ১৯ হাজার ৯৮০ টাকা।

পঞ্চগড়-১ আসন থেকে ভোটে অংশ নিচ্ছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তার বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ টাকা। ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন হলফনামায়। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সারজিস আলমের হাতে নগদ অর্থ আছে ৩ লাখ ১১ হাজার ১২৮ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা অর্থের পরিমাণ ১ লাখ টাকা। দান পাওয়া কৃষি জমির পরিমাণ ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্জনের সময় যার মূল্য ছিল ৭ হাজার ৫০০ টাকা; যা বর্তমানে হয়েছে আনুমানিক ৫ লাখ টাকা। ব্যবসা থেকে তার বছরে আয় ৯ লাখ টাকা। সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তিনি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) উল্লেখ করেছেন।

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তার নির্বাচনি হলফনামায় নিজের আর্থিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিয়েছেন। স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে তার মোট ৫০ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। তার ব্যাংকে ২৬ লাখ টাকার সোনা ও নগদ সাড়ে ১৩ লাখ টাকা রয়েছে। তিনি পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। হলফনামার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তার নামে বাড়ি, গাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট কিংবা ভবন কিছুই নেই। তবে তার বার্ষিক আয় ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৩৯ টাকা। হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এনসিপি থেকে সদ্য পদত্যাগ করা তাসনিম জারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন ঢাকা-৯ আসন থেকে। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী জারার সম্পদ আছে ১৯ লাখ টাকার। বছরে চাকরি থেকে আয় করে ৭ লাখ টাকা। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় তিনি এমন তথ্য উল্লেখ করেছেন। তাসনিম জারার বার্ষিক আয় ৭ লাখ ১৩ হাজার ৫৯৭ টাকা, সম্পদ আছে ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৫০৯ টাকার, আয়কর দিয়েছেন ৩৪ হাজার ৫৭ টাকা। কোনো মামলা, ঋণ, দায় বা সরকারি পাওনা নেই। নেই বাড়ি, ফ্ল্যাট, কৃষি বা অকৃষি জমিও। অলংকার আছে আড়াই লাখ টাকার। ব্যাংকে নিজ নামে জমা আছে ১০ হাজার ১৯ টাকা, হাতে নগদ আছে ১৬ লাখ টাকা ও ২ হাজার ২৭০ ব্রিটিশ পাউন্ড।

সিলেট জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ৩টিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী। হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তিন প্রার্থীই উচ্চ শিক্ষিত। এর মধ্যে দুজনের সম্পদ ও আয় অপেক্ষাকৃত কম হলেও একজন কোটিপতি। দুজনের দেশে ও দেশের বাইরে রয়েছে আয়ের উৎস।

হলফনামা থেকে জানা গেছে, সিলেট-১ আসনে এনসিপির প্রার্থী এহতেশামুল হক ছিলেন দ্বৈত নাগরিক। চলতি বছরের ২২ অক্টোবর তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। মাস্টার্স পাস এহতেশামুল হক পেশায় পরামর্শক (কনসালট্যান্ট)। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকারের একজন কর্মকর্তাও ছিলেন তিনি। স্ত্রী সাবিনা আক্তার পেশায় যুক্তরাজ্যের কমিউনিটি কাউন্সিলর ক্যাবিনেট মেম্বার।

দেশের ভিতরে এহতেশামুলের বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও দেশের বাইরে আয় ৬ লাখ টাকা। দেশের বাইরে তার স্ত্রীর বার্ষিক আয় ৪০ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে ১০ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়িও রয়েছে। এহতেশামুলের কাছে নগদ সাড়ে ৩ লাখ ও ব্যাংকে ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা রয়েছে। নিজের নামে ৩ লাখ টাকা ও স্ত্রীর নামে ৫ লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। হলফনামায় এহতেশামুল উল্লেখ করেছেন তার অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন ও বর্তমান মূল্য ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১৫  লাখ টাকা।

সিলেট-৩ আসনে এনসিপির প্রার্থী ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ একসময় যুক্তরাজ্যে ছিলেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। পেশায় শিক্ষানবিশ আইনজীবী জুনেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলএম।

তার স্ত্রী তানজিনা শহীদ পেশায় চিকিৎসক। হলফনামায় নুরুল হুদা জুনেদ উল্লেখ করেছেন তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, আইন পেশা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও অন্যান্য খাত থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার হাতে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও ব্যাংকে ৮০ হাজার টাকা জমা আছে। ১০ লাখ টাকা মূল্যের গাড়ি, ১০ ভরি স্বর্ণ, ২ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য ও দেড় লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার অর্জনকালীন অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করেছেন ব্যারিস্টার জুনেদ। তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৪ কেদার কৃষি, অকৃষি জমি ১ কেদার ও যৌথ মালিকানায় ৭ কেদার জমিসহ একটি দোতলা বাড়ি। তার স্থাবর সম্পদের মূল্য ১০ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করেছেন।

সিলেট-৪ আসনে এনসিপির প্রার্থী মো. রাশেল উল আলম পেশায় আইটি ডেভেলপার। তিনিও একসময় যুক্তরাষ্ট্রে সপরিবারে বসবাস করতেন। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রানু বেগম সেখানকার ব্যবসায়ী।

রাশেলের দেশের ভিতরে বার্ষিক আয় ৪৮ লাখ টাকা ও দেশের বাইরে ৬২ লাখ টাকা। দেশের বাইরে স্ত্রীর বার্ষিক আয় রয়েছে ৩০ লাখ টাকা। রাশেলের ব্যাংকে কোনো টাকা নেই, নগদ আছে ৩৯ লাখ ৬৩ হাজার ৬৫০ টাকা। স্ত্রী ও নির্ভরশীলদের কাছে নগদ আছে ৪০ লাখ টাকা। ১০ ভরি স্বর্ণ, ৪ লাখ টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক পণ্য ও ৪ লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে তার। রাশেলের অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন ও বর্তমান মূল্য ৫১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৫০ টাকা। এ ছাড়া স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৭৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের ৬০ ডেসিমেল অকৃষি জমি ও ১ কোটি ১০ লাখ ৪৩ হাজার ৮৮৫ টাকা মূল্যের একটি বাসা। হলফনামায় রাশেল তার স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন ও বর্তমান মূল্য ২ কোটি ২৪ লাখ ২২ হাজার ২৮৫ টাকা উল্লেখ করেছেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

পাটওয়ারী-সারজিসের গাড়িবহরে ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ

Published

on

By

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই জাগরণ পদযাত্রা’ শেষে ফেরার পথে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছে এনসিপি।

হবিগঞ্জ সদরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে হামলার কথা জানিয়েছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেছেন, “হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। হামলায় সাংবাদিক ও এনসিপির একাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন”।

তিনি আরও লেখেছেন, “উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পুলিশের উপস্থিতিতেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি এনসিপির মিডিয়া টিমের মাইক্রোবাস, জেলা সার্কিট হাউসের ভেতরে নিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে সংঘটিত এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক সহিংসতার এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। হামলাকারীরা মোবাইল ফোন ও ক্যামেরাও ছিনিয়ে নিয়ে গেছে”।

নিজের ফেসবুকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, “উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক জনাব সারজিস সালামের ওপরও হামলা করা হয়। হবিগঞ্জের স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্মমভাবে আঘাত করা হয়। কারও হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে, কারও পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে লুটিয়ে পড়ে আছে। আমরা এই ন্যক্কারজনক, বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই”।

এর আগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের থানার মোড় এলাকায় এ ঘটনায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

দুই পক্ষে সংঘর্ষের একপর্যায়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ সরিয়ে নেয়। পরে তাদের সার্কিট হাউসে নেওয়া হয়।

এনসিপির জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা হলে থানার মোড় এলাকায় ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে দলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

অন্যদিকে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, “শান্তিপূর্ণ হবিগঞ্জে কেউ উসকানিমূলক বা অশালীন বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে”।

তবে সংঘর্ষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “অশালীন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ মানুষ ধাওয়া দিয়েছে বলে তিনি শুনেছেন”।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুল হক বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এনসিপির নেতারা বর্তমানে নিরাপদ স্থানে রয়েছেন এবং তাদের নিরাপদে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে”।

মঙ্গলবার দুপুরে আজমিরীগঞ্জ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ পদযাত্রা’ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা, কর্মসংস্থান, সীমান্ত সুরক্ষা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।

Continue Reading

top1

স্পিকার-সিইসির বৈঠক, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনে ‘প্রস্তুত’ ইসি

Published

on

By

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

জাতীয় সংসদে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সিইসি। 

সিইসি জানান, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রাথমিক ও প্রক্রিয়াগত আলোচনা হয়েছে। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

তফসিল প্রসঙ্গে নাসির উদ্দিন বলেন, “বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যথাসময়ে নির্বাচন কমিশনের সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত করে তফসিল ঘোষণা করা হবে। দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি”।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা হবে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারই রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনাতেই পুরো নির্বাচন সম্পন্ন হবে। প্রয়োজন হলে প্রক্রিয়াগত কারণে ভোটগ্রহণের ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে। এ-সংক্রান্ত সব তথ্য গেজেটের মাধ্যমে জানানো হবে।

সিইসি আরও বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত। একই সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কমিশনের প্রস্তুতি চললেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করতে কমিশন সক্ষম”।

ভোটার তালিকার বিষয়ে তিনি জানান, সম্ভাব্য ভোটারদের তালিকা চেয়ে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। তালিকা পাওয়ার পর ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশসহ পরবর্তী কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

সংসদ অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না- সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, “সংসদ অধিবেশন থাকুক বা না থাকুক, আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই”।

সাতক্ষীরা-৪ আসন নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। বৈঠকের পুরো আলোচনাই ছিল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে”।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমদ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব উপস্থিত ছিলেন।

Continue Reading

top1

জামায়াত এমপি গোলাম রসুলের বাড়ি ঘেরাও

Published

on

By

যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় শত শত মানুষ।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তার বাড়িতে হামলার অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নীলগঞ্জ এলাকার আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ ও সংশ্লিষ্ট মসজিদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য গোলাম রসুল ও তার মেয়ে অনন্যার বিরুদ্ধে মাদ্রাসার এক শিশু শিক্ষার্থী আয়ান এবং রেক্সনা নামে এক নারীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, ওই হামলায় রেক্সনার মাথায় আঘাত লাগে।

জানা গেছে, এ বিরোধ নিয়ে আগের রাতে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলেও মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসা খুললে তা বন্ধ রাখতে বলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর পরই স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ১০টার দিকে তারা এমপির বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে তাদের অভিযোগ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে এমপি গোলাম রসুল ও তার মেয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে গোলাম রসুলের এক স্বজন ঘটনাস্থলে এলে বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশ তাকে মারধর করে। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে বিক্ষোভকারীরা যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং এমপি ও তার মেয়ের বিচারের দাবি জানান।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে গোলাম রসুলের স্ত্রী শারমিন ভিনা বলেন, তাদের মেয়ে অনন্যা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তার দাবি, মাদ্রাসা বন্ধ থাকার পরও কিছু শিশু সেখানে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিল। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ আনা হচ্ছে এবং বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এমপির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।

Continue Reading

Trending