Connect with us

top1

এবারও ব্রাজিল দলে ডাক পেলেন না নেইমার

Published

on

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতিমূলক প্রীতি ম্যাচের জন্য শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তবে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে এই স্কোয়াডে জায়গা হয়নি দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমারের।

অন্যদিকে, ফর্মের তুঙ্গে থাকা তরুণ ফরোয়ার্ড এনড্রিককে প্রথমবারের মতো নিজের অধীনে ডেকেছেন ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ড।

যুক্তরাষ্ট্রে হতে যাওয়া ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ব্রাজিল। আগামী ১৮ মে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে এটিই আনচেলত্তির শেষ পরীক্ষা।

নেইমারের বাদ পড়া প্রসঙ্গে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘নেইমার বর্তমানে ১০০ ভাগ ফিট নয়, তাই সে এই তালিকায় নেই। যদি সে শারীরিকভাবে পূর্ণ সক্ষমতা ফিরে পায়, তবেই সে বিশ্বকাপে থাকতে পারবে। নেইমারকে কাজ চালিয়ে যেতে হবে, নিয়মিত খেলতে হবে এবং নিজের সামর্থ্য ও শারীরিক কন্ডিশন বজায় রাখতে হবে।’

এদিকে ২০২৩ সালের অক্টোবরে হাঁটুর ইনজুরিতে পড়ার পর থেকে জাতীয় দলের বাইরে আছেন এই সান্তোস তারকা। রোববার করিন্থিয়ানসের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট খেলে নেইমার বিশ্বকাপে ফেরার আকুতি জানালেও, আনচেলত্তির সহকারী মিনো ফুলকো এবং ফ্রান্সেস্কো মাউরি গ্যালারিতে বসে নেইমারের মধ্যে সেই কাঙ্ক্ষিত ফিটনেস খুঁজে পাননি।

ব্রাজিলের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড

গোলরক্ষক : অ্যালিসন (লিভারপুল), বেন্টো (আল নাসর), এদেরসন (ফেনারবাচে)।

ডিফেন্ডার : অ্যালেক্স সান্দ্রো (ফ্ল্যামেঙ্গো), ব্রেমার (জুভেন্টাস), দানিলো (ফ্ল্যামেঙ্গো), দগলাস সান্তোস (জেনিত), গ্যাব্রিয়েল মাগালেস (আর্সেনাল), ইবানেজ (আল-আহলি), লিও পেরেইরা (ফ্ল্যামেঙ্গো), মার্কিনহোস (পিএসজি), ওয়েসলি (রোমা)।

মিডফিল্ডার : আন্দ্রে সান্তোস (চেলসি), ক্যাসেমিরো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), দানিলো (বোটাফোগো), ফাবিনহো (আল-ইতিহাদ), গ্যাব্রিয়েল সারা (গালাতাসারে)।

ফরোয়ার্ড : এনড্রিক (লিওঁ), গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি (আর্সেনাল), ইগর থিয়াগো (ব্রেন্টফোর্ড), লুইজ হেনরিখ (জেনিত), মাথেউস কুনহা (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), রাফিনহা (বার্সেলোনা), রায়ান (বোর্নমাউথ), ভিনিসিউস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ), জোয়াও পেদ্রো (চেলসি)।

আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। গ্রুপ ‘সি’-তে তাদের অন্য প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড ও হাইতি।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত ৪০০: দাবি আফগানিস্তানের

Published

on

By

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। তালেবান নিয়ন্ত্রিত আফগান সরকারের দাবি, সোমবার সন্ধ্যায় চালানো এই হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা কেবল সামরিক স্থাপনায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, সোমবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে কাবুলের ওমর অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট হসপিটালে এই হামলা হয়। ২ হাজার শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালের বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।

হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেন, দুর্ভাগ্যবশত এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৪০০-এ পৌঁছেছে এবং অন্তত ২৫০ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলো বর্তমানে ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ করছে।

স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া আগুন নেভাতে দমকল কর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। হাসপাতালের নিরাপত্তা রক্ষী ওমিদ স্টানিকজাই ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, হামলার আগে তিনি আকাশে যুদ্ধবিমানের টহল শুনেছিলেন। তিনি বলেন, আশেপাশে সামরিক ইউনিট ছিল। তারা বিমান লক্ষ্য করে গুলি চালালে পাল্টা বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতেই আগুনের সূত্রপাত। নিহত ও আহতদের সবাই সাধারণ নাগরিক।

আফগান সরকারের আরেক মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান আবারও আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে এই হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের হামলা ছিল সুনির্দিষ্ট এবং তা কেবল সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, ওই স্থাপনাগুলো পাকিস্তানি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছিল এবং অভিযানে কোনও বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

পাকিস্তান দীর্ঘ দিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আফগান তালেবানরা পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি) ও বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় দিচ্ছে। তবে কাবুল বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান এই সংঘাত গত কয়েক বছরের মধ্যে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত তিন সপ্তাহ ধরে সীমান্তে পাল্টাপাল্টি গোলাবর্ষণ চলছে। সোমবারই সীমান্তে সংঘর্ষে দুই শিশুসহ চার আফগান নাগরিক নিহত হন। গত মাসে পাকিস্তান বিমান হামলা শুরু করলে এর জবাবে আফগানিস্তানও পাল্টা আক্রমণ চালায়।

Continue Reading

top1

ইরানের পাল্টা জবাবে ১৩ মার্কিন সেনা নিহত, আহত ২০০

Published

on

By

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০০ জন, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স আনুষ্ঠানিকভাবে এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে হকিন্স জানান, আক্রান্তদের মধ্যে ১৮০ জন সেনাসদস্য চিকিৎসা শেষে ইতিমধ্যে নিজ নিজ দায়িত্বে ফিরে এসেছেন। জখম হওয়া সেনাদের শরীরে অগ্নিদগ্ধ হওয়া, বিস্ফোরণের টুকরোর আঘাত এবং আঘাতজনিত মস্তিষ্কের ক্ষতির মতো সমস্যা পরিলক্ষিত হয়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিভিন্ন ফ্রন্টে আক্রান্ত হয়ে তারা হতাহত হন।

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এই হতাহতের প্রধান কারণ ইরানের ‘একমুখী’ ড্রোন হামলা। গত সপ্তাহে মার্কিন বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছিলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশিরভাগ সেনার ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির জন্য এই ধরনের ড্রোন দায়ী। ড্রোনের নির্ভুল আঘাত ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা মার্কিন শিবিরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত কয়েকটি উপসাগরীয় দেশে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে এক ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

উভয় পক্ষের এই সরাসরি সংঘাতে আন্তর্জাতিক মহলে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই লড়াই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Continue Reading

top1

ইসরায়েলের পরমাণু অস্ত্র প্রকল্পে গোপনে সহায়তা দিয়েছিল জার্মানি

Published

on

By

ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত ডিমোনা পারমাণবিক চুল্লির অস্তিত্ব প্রথম প্রকাশ্যে আসে ১৯৬০ সালের ডিসেম্বরে। এরপর থেকে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তর গবেষণা, বই এবং অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জার্মানি ‘গোপনে’ এই প্রকল্পে ‘অর্থায়ন’ করেছিল।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাভনার কোহেনের ‘ইসরায়েল অ্যান্ড দ্য বোম্ব’সহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ, পাশাপাশি সিমুর হার্শ, জাকি শালোম এবং আদম রাজের গবেষণায় এই কর্মসূচির উৎস, বিকাশ এবং গোপনীয়তা বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ২০২৪ সালে সাংবাদিক শ্যানি হাজিজার প্রামাণ্যচিত্র সিরিজ ‘দ্য অ্যাটম অ্যান্ড মি’ এই গল্পে ব্যক্তিগত ও সামাজিক মাত্রা যোগ করে।

তবে দশকের পর দশক গবেষণার পরও দুটি বড় প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত রয়ে গেছে—প্রকল্পের মোট খরচ কত ছিল এবং সেই অর্থ কে জুগিয়েছিল? প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ১৯৬১ থেকে ১৯৭৩ সালের মধ্যে বন সরকার (তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির রাজধানী) গোপন ঋণ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিবছর ১৪০ থেকে ১৬০ মিলিয়ন জার্মান মার্ক ইসরায়েলে পাঠায়। মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২ বিলিয়ন মার্ক, যা বর্তমান মূল্যে প্রায় ৫ বিলিয়ন ইউরো (৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি)। ১৯৮৯ সালে স্বাক্ষরিত পরবর্তী এক পরিশোধ চুক্তির মাধ্যমে এই ঋণ কার্যত অনুদানে পরিণত হয় বলে জানা যায়।

এই দাবি সত্য হলে, ইসরায়েলের পারমাণবিক প্রকল্পের বড় অংশ ইসরায়েলি করদাতা বা ব্যক্তিগত দাতাদের অর্থে নয়, বরং জার্মান সরকারি অর্থে নির্মিত হয়েছিল।

ফ্রান্সের সহায়তা, জার্মান সমর্থন

ঘটনার সূত্রপাত ১৯৫৭ সালে, যখন ১৯৫৬ সালের সিনাই যুদ্ধের পর ইসরায়েল-ফ্রান্স সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রান্স কূটনৈতিকভাবে ইসরায়েলকে সমর্থন দেয় এবং দুই দেশের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে গোপনে একটি পারমাণবিক চুল্লি পেতে সহায়তায় সম্মত হয়। তবে তৎকালীন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন গুরিয়ন কেবল ফরাসি সমর্থনে আশ্বস্ত ছিলেন না। তিনি আশঙ্কা করছিলেন, মিসরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গামাল আব্দেল নাসের এবং প্যান-আরব জাতীয়তাবাদের উত্থানের কারণে ইসরায়েল দীর্ঘমেয়াদি অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।

এ কারণে বেন-গুরিয়ন এমন এক শক্তির সন্ধান শুরু করেন, যাকে তিনি নাকি ‘বৃষ্টির দিনের ছাতা’ বা বিপদের সঙ্গী বলে উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর দৃষ্টিতে পশ্চিম জার্মানিই ছিল সবচেয়ে উপযুক্ত। এটি ছিল দ্রুত উত্থানশীল ইউরোপীয় শক্তি, নাসেরবিরোধী এবং নেতৃত্বে ছিলেন কনরাড অ্যাডওয়ারের মতো ব্যক্তিত্ব, যিনি হলোকাস্টের পর ইসরায়েলের প্রতি জার্মানির নৈতিক দায়বদ্ধতায় বিশ্বাস করতেন।

বনে গোপন সম্পর্কের সূচনা

১৯৫৭ সালের ৩ জুলাই বন শহরে এক গোপন বৈঠকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক শিমন পেরেস এবং পশ্চিম জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফ্রাঞ্জ জোসেফ স্ট্রাউস বৈঠকে বসেন। এটি ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। বেন-গুরিয়নের আশঙ্কা ছিল, জার্মানির সঙ্গে প্রকাশ্য সম্পর্ক ইসরায়েলের ভেতরে রাজনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে বন সরকার ভয় পাচ্ছিল, ইসরায়েলের সঙ্গে দৃশ্যমান সহযোগিতা আরব বিশ্বে তাদের অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং পূর্ব জার্মানিকে কূটনৈতিক সুবিধা দেবে।

পশ্চিম জার্মানি ইসরায়েলকে সহায়তা দেওয়াকে নৈতিক দায়িত্ব এবং কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে দেখছিল। আর ইসরায়েল চাইছিল সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন। আলোচনায় পেরেস জানান, ১৯৫২ সালের ক্ষতিপূরণ চুক্তির বাইরে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়া উচিত। স্ট্রাউস ইতিবাচক সাড়া দেন, এমনকি সাবমেরিন সরবরাহের অনুরোধেও। যদিও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এগুলোকে অপরিহার্য মনে করেনি, তবুও এই অনুরোধ বৃহত্তর প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পথ খুলে দেয়।

শেষ পর্যন্ত সাবমেরিনগুলো ব্রিটেন থেকে জার্মান অর্থায়নে কেনা হয়। পশ্চিম জার্মানি ইসরায়েলের কাছ থেকে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জামও কেনে, যা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

১৯৬০ সালের বৈঠক: মোড় ঘোরানো মুহূর্ত

এরপর, ১৯৬০ সালের ১৪ মার্চ নিউইয়র্কের ওয়াল্ডর্ফ অ্যাস্টোরিয়াতে বেন-গুরিয়ন ও অ্যাডেনওয়ারের বৈঠককে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হয়। বৈঠকটি প্রকাশ্যে হলেও আলোচনার বিষয়বস্তু বহু বছর গোপন ছিল। কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিলিপি নেই, তবু এটিকে ইসরায়েল-জার্মানি নিরাপত্তা সম্পর্কের ইতিহাসে বড় ঘটনা হিসেবে ধরা হয়।

আলোচনায় বেন-গুরিয়ন নাকি ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে সরাসরি হলোকাস্টের সঙ্গে যুক্ত করেন। তাঁর মতে, ইউরোপীয় ইহুদিদের ধ্বংস জায়নবাদী প্রকল্পকেও মারাত্মকভাবে দুর্বল করেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে জার্মান সহায়তাকে তিনি অতীত অপরাধের ক্ষতিপূরণই নয়, ভবিষ্যতে ইসরায়েলের টিকে থাকার জন্যও অবদান হিসেবে উপস্থাপন করেন।

‘নেগেভ উন্নয়ন’ ছিল আড়াল

জার্মান সামরিক সহায়তা নজর কাড়লেও প্রকৃত গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল গোপন আর্থিক ব্যবস্থা, যা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নেগেভ উন্নয়ন’ সহায়তা হিসেবে দেখানো হয়। অ্যাডেনওয়ারে দপ্তর এই পরিকল্পনার কোডনাম দেয় অ্যাকশিওন গুশাফসফ্রন্ড বা অপারেশন বিজনেস ফ্রেন্ড। এর আওতায় ইসরায়েলকে ১০ বছর ধরে বছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হওয়ার কথা ছিল, সুদের হার ৩.৬ শতাংশ।

প্রথমে বন সরকার চেয়েছিল ১৯৬৫ সালে ক্ষতিপূরণ প্রদান শেষ হওয়ার পর এই ব্যবস্থা কার্যকর হোক। কিন্তু ইসরায়েলের চাপের কারণে তা আগেই শুরু হয় এবং প্রথম অর্থ স্থানান্তর হয় ১৯৬১ সালের ডিসেম্বরে। গোপনীয়তা বজায় রাখতে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি করা হয়নি। পরিবর্তে ইসরায়েলের প্রতিনিধি ফেলিক্স শিনার এবং অ্যাডেনওয়ারের উপদেষ্টা হারমান অ্যাবস এমন এক ব্যবস্থা তৈরি করেন, যাতে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত উন্নয়ন ব্যাংকের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ঋণের মতো করে অর্থ পাঠানো হয়।

অর্থের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন রাখতে সরকারি কাগজে এগুলোকে অজ্ঞাত উন্নয়নশীল দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আর্থিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখানো হয়। জার্মানির অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয় এই ব্যবস্থা অনুমোদন দেয়, তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

সে সময়, ১৯৬০ সালের মে মাসে বেন-গুরিয়ন নাৎসি কর্মকর্তা এডলফ আইখম্যানকে গ্রেপ্তার এবং জেরুজালেমে বিচার করার পরিকল্পনা ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। পশ্চিম জার্মান কর্মকর্তারা আশঙ্কা করেন, এই বিচার অ্যাডেনওয়ার সরকারের সেইসব উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের দিকে নজর টানতে পারে, যারা নাৎসি আমলে কাজ করেছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন তাঁর চিফ অব স্টাফ হ্যান্স গ্লবকে, যিনি নুরেমবার্গ আইন প্রণয়নে ভূমিকা রেখেছিলেন এবং ইসরায়েলের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক সম্পর্কেও অবগত ছিলেন।

গোপন অর্থায়ন ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় ব্যক্তি হারমান অ্যাবসও নাৎসি আমলে শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকার ছিলেন।

সব মিলিয়ে এই বিবরণ থেকে বোঝা যায়, ডিমোনা প্রকল্প শুধু ফ্রান্সের প্রযুক্তিগত সহায়তায় নয়, বরং পশ্চিম জার্মানির গোপন আর্থিক সহায়তার ওপরও দাঁড়িয়ে ছিল। এই ব্যবস্থা পুরোপুরি নিশ্চিত হলে, তা ইসরায়েলের পারমাণবিক ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অথচ কম আলোচিত দিকগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে। হলোকাস্টের স্মৃতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং গোপন কূটনীতির জটিল মিশ্রণে এই ইতিহাস গড়ে উঠেছে

Continue Reading

Trending