Connect with us

top1

এবার এনসিপি ছাড়লেন তাজনূভা জাবীন

Published

on

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমঝোতা মেনে নিতে না পেরে পদত্যাগ করেছেন আরেক নেত্রী তাজনূভা জাবীন। রোববার দুপুরে ফেসবুক পোস্টে তিনি পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন।

এর আগে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা। শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে দলটির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পদত্যাগের কথা জানান। তবে তিনি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকে জানিয়েছেন।

তাজনূভা জাবীনের ফেসবুক পোস্টটি হলো–

আপনারা অনেকে ভাবছেন, হয়তো জামায়াতের সাথে জোটে ঐতিহাসিক কারণ বা নারী বিষয়ের কারণে আমার আপত্তি। এর চেয়েও ভয়ঙ্কর যে কারণ, সেটা হল যে প্রক্রিয়ায় এটা হয়েছে। এটাকে রাজনৈতিক কৌশল, নির্বাচনী জোট ইত্যাদি লেভেল দেয়া হচ্ছে। আমি বলব এটা পরিকল্পিত। এটাকে সাজিয়ে এ পর্যন্ত আনা হয়েছে।

এটা আদর্শের চেয়েও অনেক বড়, সেটা হল বিশ্বাস। মাত্র কিছুদিন আগে সমারোহে সারাদেশ থেকে মনোনয়ন সংগ্রহের ডাক দিয়ে ১২৫ জনকে মনোনয়ন দিয়ে ৩০ জনের জন‍্য সীট সমঝোতা করে বাকিদের নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। এই সিদ্ধান্তে সীল মোহর বসানো হয়েছে। বিষয়টা ঠেলতে ঠেলতে একদম শেষ অবধি এনেছে যাতে কেউ স্বতন্ত্র নির্বাচনও করতে না পারে। আগামীকাল মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ তারিখ। আমার অবশ্য এই মুহূর্তে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার ইচ্ছা নাই। পুরো আগোছালো করে চোখের পলকে ডিসওউন করে দিয়েছে।

বিভিন্ন পত্রিকায় নানান খবর প্রকাশিত হচ্ছে। আমি মনোনয়ন হারানোর ভয়ে জোটের বিরোধিতা করছি। আমি কিছুদিন আগে লিখেওছিলাম আমার আসনে নেগোনিয়েশন হলে আমি নির্বাচন করব না, যত কঠিন প্রতিপক্ষ হোক আমি ফাইট দেব। দিলো না। তাদের গোষ্টীর ভাইরা তাদের পক্ষে দিস্তায় দিস্তায় লিখে ভরায় ফেলছে কেন আর কিভাবে এই জোট। কিন্তু কোন জেনারেল, ইসি মিটিং এর সিদ্ধান্ত এরকম ছিল না জোট হলে বাকি আসনে প্রার্থীকে বসে যেতে হবে। আবার বাকি আসনগুলোতে জামায়াতের হয়ে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা করতে হবে। জামায়াতের সাথে চরমোনাই পীরের ৭০ টা আসনে সমঝোতা হচ্ছে। আর গণঅভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেয়া দলের ৩০ টা আসনে।

এনসিপি শুরু থেকে যে গণপরিষদ, সেকেন্ড রিপাবলিক মধ‍্যপন্থার, নারী, বিভিন্ন জাতিসত্তাকে নিয়ে রাজনীতি করার কথা বলছে সেটা ধারন করে যে কয়জন পার্টিতে ছিল তাদের মধ্যে আমি একজন। এই পার্টির একজন ফাউন্ডার মেম্বার আমি। স্বাভাবিকভাবেই ভীষণ মন খারাপ। কিন্তু এই দল ছেড়ে দেয়া ছাড়া আমার সামনে আর কোন সম্মানজনক অপশন নাই। দলের খারাপ সময়ে দল ছেড়ে দিয়ে অরাজনৈতিক, অপরিপক্কতার পরিচয় ইত্যাদি বয়ান দিবে অনেকে। জাস্ট বুলশিট। শুধু এটুকু বলি, আমি বহিরাগত ওখানে, আমাকে প্রতারিত করলে মেইক সেন্স। কিন্তু এক শীর্ষ নেতা আরেক শীর্ষ নেতার সাথে যে মাইনাসের রাজনীতি করে ওখানে সেটা ভয়ঙ্কর। এরা নিজেদের মধ্যে রাজনীতি করতে এতো ব‍্যস্ত এরা কখনো দেশের জন‍্য নতুন একটা মধ‍্যপন্থার বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি করতে পারবে না।

সবাই খুব বলছেন কালকে থেকে, রাজনীতি লম্বা, অনেক দূর যেতে হয়। একদম ঠিক। কিন্তু সেই নীতি এনসিপির নিজেরই নাই। নেতারা বিতর্কের পর বিতর্ক জন্ম দিয়ে সেটাকে বিপ্লব নাম দিয়েছে আর আমাদের মত যারা আসলেই এনসিপির নীতি ধারণ করেছি তাদের আবেগী লেবেল দেয়া হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণাপত্র থেকে শুরু করে সবশেষ ডেইলি স্টারের ডিবেটে বলা কথা শীর্ষ নেতারা কতটুকু ধারণ করে সময় মতো মিলিয়ে নিয়েন।

ওই পুরোনো ফাঁকা বুলির রাজনীতি করতে হলে পুরোনো দলই করতাম, নতুন কেন? এবার আবারও আসি, জামায়াতের সাথে জোট প্রসঙ্গে, এনসিপি স্বতন্ত্র স্বকীয়তা নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলে যে কারো সাথে রাজনৈতিক জোটে অসুবিধা ছিল না। সেটা ৫ বছর পরে হতো, ঠিক প্রথম নির্বাচনেই কেন? কিন্তু আর সব অপশনকে ধীরে ধীরে রাজনীতি করে বাদ দেয়া হয়েছে যাতে জামায়াতের সাথে জোট ছাড়া কোন উপায় না থাকে। সুনিপুণভাবে এখানে এনে অনেককে জিম্মি করা হয়েছে। যাই হোক। এটা কোন রাজনৈতিক কৌশল না। এটাই পরিকল্পনা।

এই লেখার পরে আমার উপর অনেক আক্রমণ আসবে। আমার অনেক ব‍্যথতার ঢালি সাজানো হবে। চরিত্রহননের চেষ্টা হবে। কিন্তু নিজের কাছে নিশ্চিত। আমি এদের সাথে রাজনীতি করতে এসেছিলাম, এদের বিরুদ্ধে না। আমার আজকে মনোনয়ন জমা দেয়ার জন‍্য দৌড়ঝাঁপ করার কথা, আর আমি এখানে বসে এসব লিখছি। জোট নাকি হবে দেড় মাসের, তারপর তারা মধ‍্যপন্থায় ব‍্যাক বাউন্স করবে। ট্রু। ব‍্যাক করে আবার দ্বিচারিতা, ভন্ডামি শুরু করবে। যে জবাবদিহিতার কথা বলে এরা মুখে ফেনা তুলে, সেটা নিজেদের কেউ করলে তাকেই মাইনাস করে।

আমি আগে রাজনীতি করি নাই, ঠিক। কিন্তু এরা কে আগে জাতীয় রাজনীতি করেছে? আমি নিজে বের হয়ে দলের বদনাম করছি, বলতে পারেন। বিষয়টা আমারও ভালো লাগছে না। কিন্তু সেটার থেকে আমার কাছে বেশি জরুরি মানুষ যে এনসিপির দিকে তাকিয়ে আছে, এনসিপিকে এটা সেটা ভেবে, এনসিপি ওটা না। এনসিপিকে আমরা যারা ওটা করতে চেয়েছি তাদেরকে ট‍্যাগিং করা হয়েছে নানাভাবে। আমরা যারা আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, তারা একে একে ছাড়ছি। যাতে এই এনার্জিটা গঠনে ব‍্যয় হয়, এই চেষ্টাটা প্রোডাকটিভ ভাবে করতে পারি। এখন কলুর বলদ খাটছি।

নিজেরও ভাল লাগছে না, এভাবে ছেড়ে যেতে। কিন্ত যারা এই দেশ, এই সংসদই চায় নাই তাদের সমঝোতায় একদম শুরুতেই এমপি হতে চাওয়া, বা যারা এদের কল্যাণে এমপি হওয়ার জন‍্য হাভাইত্তার মতো করছে তাদের নেতৃত্ব মানা আমার পক্ষে ঠিক গণঅভ্যুত্থানের পরের বছর অসম্ভব। এই জিনিস হজম করে মরতেও পারব না আমি। আমার নেতা হবে মাজাওয়ালা, জুলাই রাজনীতির ধারক। কিন্তু পুরো জুলাইকে নিয়ে রাজনৈতিক কৌশলের নাম করে তুলে দিচ্ছে জামায়াতের হাতে। আবার নাকি বাউন্স ব‍্যাক করবে। হাস‍্যকর। বিএনপি, এই জামাতের সাথে জোট করে ১৭ বছর ক্ষমতা থেকে দূরে ছিল। বিএনপির দশক লেগে গেলে এই তকমা থেকে বের হতে।আর বিএনপির অধীনে জামায়াতের সাথে জোট হয়েছিল। জামায়াতের অধীনে না। যেখানে এনসিপিকে বলাই হয় জামায়াতের আরেকটা দোকান, তাহলে কেন এনসিপি আগে নিজের স্বকীয়তা, নিজের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা না করে ক্ষমতায় যাওয়ার জন‍্য জামায়াতকে বেছে নিতে মরিয়া হয়ে যাচ্ছে? তিনজন মন্ত্রী ছিল না ক্ষমতায় ? পারে নাই তো।

ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা যায় কৌশল করে, কিন্তু সংগঠন দাঁড় করাতে যোগ্যতা লাগে। আপনারা মিলায় নেবেন, যারা এনসিপি ছাড়ছি তারাই এনসিপির বলা নয়া বন্দোবস্তের রাজনীতি করেছি। কিন্তু ছাড়তে হচ্ছে আমাদের। পার্টিতে থাকা অবস্থায় কোন শোকজ না পেয়ে, সম্পূর্ণ পার্টির ইন্টিগ্রিটি মেনে যখন ছেড়ে আসতে চাই, তখন “অরাজনৈতিক” তকমা পরে। আপনারা এটাও মিলায় দেখেন কত কয়েকমাসে কোন কোন নেতা কত অসংখ‍্যবার পাটির ইন্টিগ্রিটি ভেঙ্গে বক্তব্য দিয়েছে, বিভিন্ন কাজ করেছে কিন্তু তারা মিলিয়ন ফলোয়ার ওয়ালা গণঅভ্যুত্থানের নেতা তাই তারা নির্বাচনী জোটের নামে বাকিদের নির্বাচন করার অধিকার কেড়ে নিয়ে এমপি হতে পারেন আর আমরা পদত্যাগও করতে পারব না। সেটাকে অপরাধ হিসেবে দেখা হবে।

নির্বাচন কেন্দ্র করে প্রচুর পজিটিভ পিআর হবে এসকল নেতাদের ঘিরে। কিন্তু আমি নিশ্চিত এরা নয়া বন্দোবস্ত না, এরা মধ‍্যপন্থার রাজনীতি না। আপনারা বলতে পারেন, এসব আগে থেকেই জানতেন। কিন্তু এই দলে অনেকে আছে/ছিল যারা আদৌতেই এনসিপির রাজনীতি করেছে। তাদেরকে এম্পাওআরড করা হয় নাই ইচ্ছাকৃতভাবে। আপনারা তাদেরই চেনেন যাদের এনসিপি চেনাতে চেয়েছে। জুলাই এর যে স্পিরিট সেটা এনসিপিতে চর্চা করা হয় না, ব‍্যবহার করা হয়।

যারা চর্চা করত, তাদের “নীতি কথা বলা যায় অনেক, বিপ্লব দিয়ে রাজনীতি হয় না, আবেগ দিয়ে রাজনীতি হয় না” ইত্যাদি বলে থামানো হয়, যাতে তারা নিজেদের ভন্ডামি চালিয়ে যেতে পারে।

আরেকটা বিষয় দেখলাম, বিএনপি গণভোটে না ভোটকে জেতায় আনবে তাই সেটা ঠেকানোর জন‍্য এই কৌশল। আমার প্রশ্ন, হ‍্যাঁ ভোট জেতানোর জন‍্য এনসিপিকে ৩০ টা আসনে সীমিত হতে হল???? যে লিস্ট ঘুরছে তাদের ৬০-৭০% এর রাজনৈতিক ব‍্যাকগ্রাউন্ড দেখেন। আমার চেয়ে ভাল জানবেন। এরপরও এনসিপির জোর করে চেপে বসে থাকা নেতাদের মধ্যে যদি এনসিপির রাজনীতি নিয়ে পরিকল্পনা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দেখতাম, জবাবদিহিতা পেতাম, তাহলে আমি আরো চেষ্টা করতাম টিকে থাকার। এখন সময় নষ্ট না করি আর।

ভেবেছিলাম, জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পর আমি পদত্যাগ দেবো। শেষ আশাই ছিলাম। কিন্তু গতকাল সবাই নিশ্চিত করেছে এই জোটে সীল পরেছে। আর আবারও বলি, আমার পদত্যাগের কারণ যতটা না জোট তার চেয়ে বেশি যে প্রক্রিয়ায় জোট হয়েছে। অবিশ্বাস, অনাস্থা মূল কারণ। দল অনেক বড় হয়ে স্টাবলিশ করতে পারলে অনেক কিছু বিবেচনা করে ছাড় দেয়া যেত কিন্তু গঠনের শুরুটাই নাকি আগে সংসদে যেতে হবে, তারপর ওই যে কজন এমপি বের হবে তাদেরকে কেন্দ্র করে নাকি সংগঠন বড় হবে। কিয়েক্টাবস্থা।

যাই হোক, আমি আজকে পদত্যাগ করেছি এনসিপি থেকে। অত্যন্ত ভাঙ্গা মন নিয়ে জানাচ্ছি আমি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছি না। সবচেয়ে কষ্ট লাগছে আজকেই আম্মু চট্টগ্রাম থেকে আসছে আমার নির্বাচন করা উপলক্ষ‍্যে, আর আজকেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলাম। আমি জানি অনেকে ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন আমার এই সিদ্ধান্তে। কিন্তু এটাই আমার জন‍্য সঠিক। এখানে ন‍্যুনতম আশা থাকলে, আমি আমার আত্মসম্মানবোধকেও বোধ হয় ডাউট অফ বেনিফিট দিতাম।

আমি আপনাদের পাঠানো ডোনেশন ফেরত দেব এক এক করে। আমাকে একটু সময় দেবেন। সেটার জন‍্য বিস্তারিত লিখে আপডেট দেব কিভাবে ধীরে ধীরে ফেরত দেব। প্রত্যেকটা পয়সা ফেরত দেব। আপনাদের সমর্থন, আপনাদের ভালোবাসার জন‍্য আমি কৃতজ্ঞ।

শেষ কথা বলি, আমি আগে কখনো রাজনীতি করি নাই। জুলাই এ আমার রাজপথে নামা, পরিবর্তনের লক্ষ্যে নতুন কিছুর জন‍্য।আমি মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত সেই চেষ্টা করতে থাকব। আমার আওয়াজ, দেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন‍্য কাজ আরো জোরালোভাবে জারি থাকবে। মধ‍্যপন্থার বাংলাদেশ পন্থী নয়া বন্দোবস্তের রাজনীতির জায়গাটা খালিই পরে থাকল। আমি ওই জায়গা পূরণ করার চেষ্টায় থাকব। সময় বলে দিবে বাকিটা।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

যেকোন পরিস্থিতিতে শত্রুকে নিশ্চিহ্ন করা হবে: মোজতবা খামেনি

Published

on

By

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে ইরানি জনগণ বিজয় অর্জন করেছে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র এখন একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, গত ৪০ দিনের ঘটনাপ্রবাহে ইরানের জনগণ সাহসিকতা, ধৈর্য ও ঐক্যের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করেছে। তিনি এটিকে ‘ইরানের তৃতীয় পবিত্র প্রতিরক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন যে, যেকোন পরিস্থিতিতে শত্রুকে নিশ্চিহ্ন করা হবে।

খামেনি জানান, শহীদদের আত্মত্যাগ ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘একটি শক্তিশালী ইরান গড়ার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।’

তিনি জনগণকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই রাস্তায়, পাড়া-মহল্লা ও মসজিদে সক্রিয় উপস্থিতি বজায় রাখতে হবে এবং ঐক্য আরও জোরদার করতে হবে। ইরানি নেতা আরও দাবি করেন, দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্য দিন দিন বাড়ছে এবং বিভাজন কমে আসছে, যা একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

Continue Reading

top1

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বৈঠক স্থগিত করল ইরান

Published

on

By

লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত আলোচনা স্থগিত করেছে ইরান। চলতি সপ্তাহান্তে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে এই বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও ইরানের প্রতিনিধি দল তেহরান ত্যাগ করেনি।

মধ্যপ্রাচ্য কৌশলগত গবেষণা কেন্দ্রের সিনিয়র ফেলো আব্বাস আসলানি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আলোচনা না হওয়ার কারণ

আব্বাস আসলানি জানান, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা চলতে থাকা অবস্থায় কোনো ধরনের সংলাপে বসতে রাজি নয় ইরান। তিনি বলেন, “ইরানি প্রতিনিধি দল এখনো তেহরান থেকে রওনা দেয়নি। তাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যতক্ষণ লেবাননে হামলা চলবে, ততক্ষণ ইসলামাবাদে কোনো আলোচনা হবে না।”

রাশিয়া-ইউক্রেনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিরাশিয়া-ইউক্রেনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি
মূলত লেবানন পরিস্থিতি এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বৈঠক স্থগিতের পেছনে কেবল যুদ্ধ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের পরিবর্তনকেও দায়ী করছে তেহরান। জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনুমোদিত একটি ১০-দফা শান্তি পরিকল্পনার কাঠামো থেকে সম্প্রতি সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন।

আব্বাস আসলানির মতে, এটি ইরানিদের মধ্যে একটি বড় ধরনের ‘আস্থা সংকট’ (Trust Deficit) তৈরি করেছে।

অভ্যন্তরীণ জনচাপ

ইরানের অভ্যন্তরীণ জনমতও এই মুহূর্তে আলোচনার বিপক্ষে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত কয়েক মাসে আলোচনার প্রক্রিয়া চলাকালেই ইরান দুইবার সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—কেন বারবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে বসতে হবে?

এই জনচাপ ইরানি প্রতিনিধি দলের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে, যা ইসলামাবাদ আলোচনা পিছিয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে পাকিস্তান বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক অস্থিতিশীলতা এই পরমাণু বা আঞ্চলিক সমঝোতার পথকে আরও সংকুচিত করে তুলছে

Continue Reading

top1

আরও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

Published

on

By

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত থাকায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ভোরে এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর সময়ও এ দাম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গিয়েছে।

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর সময় ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৭৫ ডলারে পৌঁছেছে। এটি আগের তুলনায় প্রায় শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুড তেলের দামও ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

আলজাজিরা জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নাজুক যুদ্ধবিরতি চললেও, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সমালোচনা করে বলেন, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ‘খুব খারাপ কাজ করছে’। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, জাহাজ থেকে ফি আদায়ের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ করতে হবে।

সাম্প্রতিক হামলায় সৌদি আরবের তেল উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, এসব হামলার ফলে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমে গেছে। এছাড়া সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহনও প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল প্রতিদিন কমে গেছে।

এদিকে যুদ্ধবিরতির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম পরিবর্তন হলেও জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের নাগালে ফিরতে এখনো দীর্ঘসময় লাগবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেও সময় লাগবে। বিশ্বজুড়ে তেলের সংকট সুরাহা হতে যেসব সংকট রয়েছে, সেগুলো নিয়ে প্রতিবেদন করেছে আলজাজিরা।

হরমুজ প্রণালি ও সরবরাহ জটিলতা: বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ জলপথটি কার্যত বন্ধ ছিল। চুক্তি অনুযায়ী এটি খুলে দেওয়া হলেও তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।

ট্যাংকারের দূরত্ব: যুদ্ধের কারণে বিশাল আকৃতির তেলবাহী ট্যাংকারগুলো বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এই জাহাজগুলো ফের উপসাগরীয় অঞ্চলে ফিরে এসে তেল লোড করতে কয়েক সপ্তাহ সময় নেবে।

নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা: মাত্র দুই সপ্তাহের এই ‘ভঙ্গুর’ যুদ্ধবিরতির মধ্যে বড় বিনিয়োগ বা জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি নিতে এখনো অনেক কোম্পানি দ্বিধাগ্রস্ত।

তেলকূপ চালুর কারিগরি চ্যালেঞ্জ: দীর্ঘদিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় এবং অনশোর স্টোরেজ (তীরবর্তী মজুতাগার) পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের অনেক তেল উৎপাদনকারী দেশ তাদের কূপগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল।

ধীর প্রক্রিয়া: একটি তেলকূপ বা রিফাইনারি ফের চালু করা বৈদ্যুতিক সুইচ টেপার মতো সহজ কাজ নয়। এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ কারিগরি প্রক্রিয়া।

স্থাপনার ক্ষতি: যুদ্ধের সময় অনেক জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, যা মেরামত করতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।

Continue Reading

Trending