Connect with us

top3

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI): আগামী ৫ বছরে কি ইংরেজিই হবে প্রধান ভাষা?

Published

on

প্রযুক্তি বিশ্বে গত কয়েক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এক নতুন বিপ্লব এনেছে। আমরা বর্তমানে যে প্রোগ্রামিং ভাষাগুলো ব্যবহার করছি – যেমন Python, C++, R, Java – সেগুলো কি আগামী ৫ বছরেও একই রকম প্রাসঙ্গিক থাকবে, নাকি নতুন কোনো ভাষা তাদের স্থান দখল করবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে একটি চমকপ্রদ সম্ভাবনার কথা উঠে আসে: স্বয়ং ইংরেজি ভাষাই কি হয়ে উঠবে ভবিষ্যতের প্রধান প্রোগ্রামিং ভাষা?

বর্তমানে, AI এর ব্যবহার এতটাই বিস্তৃত হচ্ছে যে, প্রোগ্রামিংয়ের ধারণাটাই বদলে যাচ্ছে। AI মডেলগুলো এখন এতটাই শক্তিশালী যে, তারা সাধারণ মানুষের দেওয়া নির্দেশ বা ‘প্রম্পট’ (Prompts) বিশ্লেষণ করে কোড তৈরি করতে পারে। এর অর্থ হলো, একজন প্রোগ্রামারকে হয়তো আর জটিল সিনট্যাক্স (Syntax) বা ডেটা স্ট্রাকচার (Data structure) নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে না। বরং, তাকে জানতে হবে কিভাবে AI-কে কার্যকরভাবে নির্দেশ দিতে হয়, যাতে AI তার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক প্রোগ্রাম লিখতে পারে।

যদি আপনি ইংরেজি ভাষা ভালোভাবে জানেন এবং AI-কে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেন, তবে আপনি যেকোনো ধরনের প্রোগ্রাম লিখতে সক্ষম হবেন। AI-এর ক্ষমতা বাড়ার সাথে সাথে এটি কেবল কোড লেখা নয়, বরং অ্যাপ্লিকেশন ডিজাইন, ডেটা অ্যানালাইসিস এবং সিস্টেম অপ্টিমাইজেশনের মতো কাজগুলোও সহজ করে তুলবে। এর ফলে প্রোগ্রামিংয়ের ক্ষেত্রটি আরও বেশি সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য হবে, যারা হয়তো ঐতিহ্যবাহী প্রোগ্রামিং ভাষায় দক্ষ নন।

তবে এর মানে এই নয় যে, ঐতিহ্যবাহী প্রোগ্রামিং ভাষাগুলোর গুরুত্ব কমে যাবে। বরং, সেগুলোর চাহিদা হয়তো কিছুটা পরিবর্তিত হবে। যারা AI মডেল তৈরি করবেন, তাদের Python বা C++ এর মতো ভাষায় গভীর জ্ঞান থাকা আবশ্যক। কিন্তু সাধারণ অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট বা অটোমেশনের ক্ষেত্রে, ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে AI-কে নির্দেশনা দেওয়াই হয়তো যথেষ্ট হবে।

এই নতুন যুগে, প্রোগ্রামিংয়ের সংজ্ঞা প্রসারিত হচ্ছে। এটি এখন কেবল কম্পিউটার কোড লেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি মানুষের চিন্তাভাবনা এবং অভিপ্রায়কে মেশিনের ভাষায় রূপান্তরিত করার একটি প্রক্রিয়া হয়ে উঠবে। মানব-AI ইন্টারঅ্যাকশন (Human-AI Interaction) হবে ভবিষ্যতের প্রোগ্রামিংয়ের মূল ভিত্তি। যারা এই নতুন পদ্ধতিতে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারবেন, তারাই প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে নিজেদের এগিয়ে রাখতে সক্ষম হবেন। আগামী ৫ বছরে আমরা এমন এক ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছি, যেখানে প্রোগ্রামিং হবে আরও স্বজ্ঞাত এবং মানুষের ভাষার কাছাকাছি। ইংরেজি হয়তো সরাসরি প্রোগ্রামিং ভাষা হিসেবে কাজ করবে না, কিন্তু এটি AI-এর সাথে যোগাযোগের মূল মাধ্যম হয়ে উঠবে, যা পরোক্ষভাবে প্রোগ্রামিংয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

মোস্তফা ওয়াসিফ আলভী- ::তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক::

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের গবেষণা প্রকল্প ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সেমিনার অনুষ্ঠিত

Published

on

By

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের উদ্যোগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গবেষণা প্রকল্প সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। ইউজিসির অর্থায়নে পরিচালিত ২৪টি গবেষণা প্রকল্পের অগ্রগতি ও গবেষণা কার্যক্রম উপস্থাপনকে কেন্দ্র করে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, ‘গবেষণা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎকর্ষতার মানদ-। তাই বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে গবেষণার কোন বিকল্প নাই। আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিজ্ঞানে যে দেশ যত এগিয়ে সে দেশ তত এগিয়ে। তবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদ অনেকটা অবহেলিত। সমসাময়িক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞান অনুষদে অনেক বিষয় চালু রয়েছে, অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো বিজ্ঞানের বেসিক বিষয়গুলোই চালু করা হয় নি। বিজ্ঞানের বেসিক বিষয়গুলো চালুর জন্য ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছি, আশা করি দ্রুত বিষয়গুলো চালু করা সম্ভব হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গবেষণাকে উৎসাহিত করতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি অনুষদে শ্রেষ্ঠ গবেষককে আমরা পুরস্কৃত করবো। প্রতি অনুষদের শ্রেষ্ঠ গবেষককে নগদ অর্থ, সম্মাননা ক্রেস্ট এবং সনদপত্র প্রদান করা হবে।’ তবে শুধু সংখ্যা না বাড়িয়ে মানসম্মত প্রবন্ধ প্রকাশ এবং নিজ নিজ প্রোফাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে আপডেট করতে উপস্থিত গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানান মাননীয় উপাচার্য।

সেমিনারের উদ্বোধনী পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা এবং গবেষণা ও সম্প্রসারণ কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান। সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ এইচ এম কামাল। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার, চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ (রাশেদ- সুখন) এবং আইন অনুষদের ডিন মুহাম্মদ ইরফান আজিজ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহবুবুন নাহার।

রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. হাসান খালেদ রউফ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রফেসর ড. মো. বদিউজ্জামান খান এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রফেসর ড. সাজ্জাদ ওয়াহিদ। সঞ্চালনায় ছিলেন ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

উল্লেখ্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)- এর অর্থায়ণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে গবেষণা প্রকল্পগুলোর সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের মোট ২৪টি গবেষণা প্রকল্পের সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

Continue Reading

top3

ঘাটতি গ্যাসে বাড়তি লোডশেডিং

Published

on

By

অলটাইম ডিজিটাল রিপোর্ট

মহেশখালীতে একটি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে তীব্র গ্যাস-সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর সঙ্গে কয়লা ও তরল জ্বালানির সরবরাহ-সংকট এবং কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি যুক্ত হয়ে লোডশেডিং আরও বেড়েছে। শনিবার (২ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে দেশের বিদ্যুতের ঘাটতি একপর্যায়ে প্রায় ২ হাজার ৯১৬ মেগাওয়াটে পৌঁছায়।

গ্যাস-সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে শিল্প, আবাসিক ও পরিবহন খাতে। অনেক শিল্পকারখানার উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। বাসাবাড়িতে রান্নার চুলায় পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় রাজধানীর বাইরে, বিশেষ করে জেলা ও গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে।

পেট্রোবাংলার একাধিক কর্মকর্তা জানান, গত ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত পেট্রোবাংলার মালিকানাধীন এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি জানিয়েছে, টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল করতে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে অক্ষত অংশ থেকে চলতি সপ্তাহেই গ্যাস সরবরাহ চালুর চেষ্টা চলছে, যা জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস যোগ করতে সক্ষম হবে।

গ্যাস সরবরাহ নেমেছে ২১০ কোটি ঘনফুটে

দেশে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) রয়েছে। এর মধ্যে একটি পেট্রোবাংলার এবং অন্যটি সামিটের মালিকানাধীন হলেও দুটি টার্মিনালই পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট এনার্জি। একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দেশের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ২৬০–২৭০ কোটি ঘনফুট থেকে কমে ২১০–২১৫ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। অথচ বর্তমান চাহিদা প্রায় ৪১০ কোটি ঘনফুট।

মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ এলএনজি থেকে আসে। ফলে আবাসিক, শিল্প, বিদ্যুৎ ও সিএনজিসহ প্রায় সব খাতেই গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তাদের আওতাধীন সব শ্রেণির গ্রাহক স্বল্পচাপের সমস্যায় ভুগবেন।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় প্রভাব

গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। সাধারণত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে দৈনিক প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও শুক্রবার তা নেমে আসে প্রায় ৬৭ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুটে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসের অভাবে দেড় হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে।

শনিবার রাত ১টার দিকে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৫৪ মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ২৩৮ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৯১৬ মেগাওয়াট। দিনের বিভিন্ন সময়েও বিদ্যুতের ঘাটতি আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি ছিল।

গ্যাস-সংকটের পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এছাড়া কিছু ফার্নেস অয়েলচালিত কেন্দ্রেও জ্বালানির ঘাটতি রয়েছে। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

ঢাকার বাইরে লোডশেডিং বেশি

বিদ্যুতের ঘাটতি সামাল দিতে দেশজুড়ে লোডশেডিং করা হলেও রাজধানীর তুলনায় জেলা ও গ্রামাঞ্চলে এর মাত্রা বেশি। গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার বৈদ্যুতিক চুলা ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করায় বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। যদিও সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও তুলনামূলক কম তাপমাত্রার কারণে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার কিছুটা কম থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শিল্প, সিএনজি ও আবাসিকে দুর্ভোগ

রাজধানীর রামপুরা, মিরপুর, উত্তরা, মগবাজার, মোহাম্মদপুর ও আদাবরসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরেই গ্যাসের চাপ কম। অনেক এলাকায় গভীর রাতেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।

সিএনজি স্টেশনগুলোতেও দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় অনেক স্টেশন দিনের বড় একটি সময় গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে অনেক চালক ও ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ভালুকাসহ দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ তীব্রভাবে কমে যাওয়ায় অনেক কারখানা উৎপাদন কমাতে বা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। বিকল্প হিসেবে ডিজেল ব্যবহার করায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে।

পরিস্থিতির উন্নতি কবে?

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আনা হয়েছে এবং দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীরা যৌথভাবে মেরামত কাজ করছেন। চলতি সপ্তাহেই অক্ষত অংশ চালু করা সম্ভব হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও আবাসিক খাতে সরবরাহ কিছুটা বাড়বে এবং গ্যাসের স্বল্পচাপ ও লোডশেডিং পরিস্থিতিরও আংশিক উন্নতি হতে পারে। তবে টার্মিনাল পুরোপুরি সচল হতে আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

Continue Reading

top3

কুবিতে মাতৃত্বকালীন একাডেমিক নীতিমালার দাবিতে ছাত্রশক্তির স্মারকলিপি

Published

on

By

কুবি প্রতিনিধি:

‘আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে একটি শিক্ষিত জাতি দেব’- নেপোলিয়নের এই উক্তিকে সামনে রেখে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) অধ্যয়নরত নারী শিক্ষার্থীদের জন্য মাতৃত্বকালীন একাডেমিক সহায়তা নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকরের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে কুবি শাখার জাতীয় ছাত্রশক্তি।

রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় ছাত্রশক্তির কুবি শাখার সংগঠক সৈয়দা নাজিফা নাফিলের নেতৃত্বে এ স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি মাতৃত্ব একজন নারীর জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে গর্ভকালীন সময় এবং সন্তান জন্মের পর শারীরিক, মানসিক ও পারিবারিক নানা কারণে নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা এবং নির্ধারিত সময়ে একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে উপস্থিতির ঘাটতির কারণে অতিরিক্ত জরিমানা দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়, কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ইয়ার ড্রপ নেন। এমনকি অনেকের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়।

এছাড়াও বলা হয়, দেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মাতৃত্বকালীন একাডেমিক সহায়তা নীতিমালা চালু থাকলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা নেই। তাই নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্থায়ী ও শিক্ষার্থীবান্ধব মাতৃত্বকালীন একাডেমিক সহায়তা নীতিমালা প্রণয়ন এবং বিভাগীয় পর্যায়ে তা কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।

এছাড়া গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মের পর বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় ৬০ শতাংশের কম উপস্থিতি থাকলেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ, উপস্থিতিজনিত জরিমানা মওকুফ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ইনকোর্স, মিডটার্ম, অ্যাসাইনমেন্ট ও অন্যান্য একাডেমিক মূল্যায়নে বিকল্প সুযোগ রাখার দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, “যেসব শিক্ষার্থী মাতৃত্বকালীন সময়ে একাডেমিক কার্যক্রমে শিথিলতা চায়; তাদের নাম, বিভাগ, রোল এবং কোর্সভিত্তিক সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে জমা দিতে হবে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”

Continue Reading

Trending