Connect with us

top1

হঠাৎ স্পেন সীমান্তে অবিভাসীদের এত ভিড় কেন

Published

on

মরক্কো থেকে উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের ছিটমহল সেউতায় প্রবেশের চেষ্টাকালে অন্তত ৫৭ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। চলতি সপ্তাহে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সমুদ্র ও স্থলপথে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা চালান। তবে স্পেন সরকারের দাবি, শুক্রবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যার মধ্যে বেশির ভাগ মানুষই মরক্কোয় ফিরে গেছেন।

এ অনুপ্রবেশ সামলাতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জরুরি ভিত্তিতে সেউতা সফর করেন। এই সংকটের জেরে ইতালি স্পেন থেকে যাওয়া যাত্রীদের ওপর সাময়িক সীমান্ত কড়াকড়ি আরোপ করেছে। অন্যদিকে ফ্রান্স স্পেন সীমান্তে অতিরিক্ত নজরদারি জোরদার করেছে।

সেউতা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার সীমান্তরক্ষীদের নিরাপত্তা বলয় ছিন্ন করে দলে দলে মানুষ সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করে। এ সময় সমুদ্রে ডুবে অনেকের মৃত্যু হয়।

স্পেনে সীপান্ত নিরাপত্তা জোরদার

সম্প্রতি স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে জানায়, সমুদ্রপথে আসা অনিয়মিত অভিবাসীদের সরাসরি মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না। তবে এই রায়ের পরও বেআইনিভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুততম সময়ে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে স্পেন প্রশাসন।

কী ঘটেছে এবং কোথায়

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মরক্কো ও স্পেনের ক্ষুদ্র ভূখণ্ড সেউতার সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে। চরম বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে আনুমানিক ৫০ হাজার মানুষ স্পেনীয় অংশে ঢুকে পড়েন। এতে বেশ কয়েকজন মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

এই অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা ছিল সেউতার মূল জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের থেকেও বেশি। ফলে পুরো ছিটমহলে এক ভয়াবহ মানবিক সংকট দেখা দেয়।

শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে মরক্কোর দিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। প্রতি মুহূর্তে আরও শত শত মানুষকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

উত্তর আফ্রিকার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত সেউতা এবং তার থেকে ২৫০ মাইল পূর্বে অবস্থিত মেলিলা অঞ্চল। এই দুটি স্থানই আফ্রিকা মহাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একমাত্র স্থলসীমান্ত।

১৫৮০ সাল থেকে সেউতা স্পেনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখানে খ্রিস্টান ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর সহাবস্থান দেখা যায়। তবে মরক্কো কখনোই সেউতা ও মেলিলাকে স্পেনের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। তারা এগুলোকে নিজেদের ‘দখলকৃত ভূখণ্ড’ হিসেবে গণ্য করে।

অভিবাসনের কেন্দ্রবিন্দু কেন সেউতা

উন্নত জীবনযাত্রা ও নিজ দেশের সহিংসতা থেকে বাঁচতে ইউরোপে প্রবেশের জন্য স্পেন অন্যতম প্রধান রুট। আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পৌঁছাতে অভিবাসীরা সেউতা ও মেলিলাকে বেছে নেয়। তাই এই দুটি অঞ্চলকে শক্ত নিরাপত্তাবেষ্টনী দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।

সেউতা বা মেলিলায় পৌঁছানো অনেক অভিবাসীকে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ফেরত পাঠায়। বাকিদের আশ্রয়কেন্দ্রে রেখে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন প্রক্রিয়া চালানো হয়।

সেউতায় পৌঁছাতে অভিবাসীরা সাধারণত মরক্কোর ফনিদেক শহর থেকে প্রায় ৩ মাইল পথ সাঁতরে পাড়ি দেয়। আবার অনেকে কাছের শহর বেলিউনেচ থেকেও প্রবেশের চেষ্টা চালায়।

এর আগে ২০২২ সালে উপ-সাহারা অঞ্চল থেকে আসা প্রায় ২ হাজার মানুষ মেলিলায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। তখন ২৩ জন নিহত হয়েছিলেন। এছাড়া ২০১৪ সালে সেউতা উপকূলে প্রাণ হারান অন্তত ১৪ জন।

তবে ক্যানারি ও ব্যালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জ হয়ে স্পেনে প্রবেশকারীদের তুলনায় সেউতা ও মেলিলা সীমান্ত দিয়ে আগতদের সংখ্যা সাধারণত কম থাকে।

গত কয়েক দশকে স্পেনে বহিরাগত জনসংখ্যার হার অনেক বেড়েছে। দেশটির ৫ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ১ কোটি মানুষই বিদেশি বংশোদ্ভূত। এদের বড় একটি অংশ কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা ও মরক্কো থেকে এসে স্পেনের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে হাজার হাজার মানুষ প্রতি বছর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে আশ্রয় খুঁজছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মতে, ২০১৪ সাল থেকে ভূমধ্যসাগরে ৩৫ হাজার ১৫৩ জন অভিবাসী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। কেবল ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসেই এই সংখ্যা ১ হাজার ৪৯৩ জন।

এত মানুষ সীমান্ত পার হতে সক্ষম হলো যেভাবে

হঠাৎ এত মানুষ কীভাবে একসঙ্গে প্রবেশ করলো, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। মরক্কো কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তারা কতটা কঠোর ছিল, তাও জানা যায়নি।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার নেপথ্যে আঞ্চলিক রাজনীতি জড়িত থাকতে পারে। মরক্কো ও আলজেরিয়ার দ্বন্দ্ব এবং সম্প্রতি স্পেনীয় প্রধানমন্ত্রীর আলজিয়ার্স সফরের প্রধান কারণ হতে পারে।

এর আগে ২০২১ সালের মে মাসেও সেউতায় একইভাবে বড় ধরণের অনুপ্রবেশ ঘটেছিল। তখন পোলিসারিও ফ্রন্টের প্রধানকে কোভিডের চিকিৎসার জন্য স্থান দিয়েছিল স্পেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মরক্কো সীমান্ত শিথিল করে দেয়।

মরক্কো ও পোলিসারিও ফ্রন্ট উভয়ই বিতর্কিত পশ্চিম সাহারাকে নিজেদের এলাকা বলে দাবি করে। এটি ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত স্পেনের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

২০২২ সালে মাদ্রিদ মরক্কোর নীতিকে সমর্থন দিলে সেই সংকটের নিরসন ঘটে। তবে স্পেনের এই পদক্ষেপে মরক্কোর প্রতিদ্বন্দ্বী আলজেরিয়া ক্ষুব্ধ হয়।

এরই মধ্যে গত ২০ জুলাই স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজ আলজিয়ার্স সফরের যান। চার বছর পর এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের শীতল সম্পর্ক উষ্ণ হতে শুরু করে। এটি মরক্কো ভালোভাবে নেয়নি।

শুক্রবার সেউতায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী সানচেজ মানব পাচারকারীদের দায়ী করেন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পাচারকারীরা এই সংকট তৈরি করেছে বলে তিনি জানান। সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের সরাসরি ফেরত পাঠানো যাবে না। পাচারকারীরা এটিকে স্পেনে থাকার সুযোগ হিসেবে অপপ্রচার করেছে।

ইতালীয় গবেষণা সংস্থা আইএসপিআই-এর বিশেষজ্ঞ মাত্তেও ভিল্লা বলেন, ২০২১ সালের ঘটনারই এক বড় সংস্করণ দেখলাম আমরা। যেখানে মাসে কয়েকশো লোক আসে, সেখানে রাতারাতি ৫০ হাজার লোক চলে আসা স্বাভাবিক নয়। সানচেজের আলজেরিয়া সফর মরক্কো পছন্দ করেনি।

ভিল্লা মনে করেন, কৌশলগত ক্ষমতা দেখাতে মরক্কো হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবেই সীমান্ত শিথিল রেখেছিল।

সরকার ও কর্তৃপক্ষ কীভাবে প্রতিক্রিয়া

সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সেনা ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে স্পেন। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এটিকে ‘স্পেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এই ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে স্পেন সরকার। ইউরোপীয় রাজনীতিকদের মধ্যেও এ নিয়ে তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে। ডানপন্থী নেতারা স্পেনের সাম্প্রতিক অভিবাসন নীতিকে দায়ী করছেন।

ইতালির সরকার স্পেনকে শেঙ্গেন এলাকা থেকে সাময়িক বহিষ্কারের দাবি তুলেছে। অন্যদিকে পরিস্থিতি সামলাতে ফ্রান্সও স্পেনের সঙ্গে তাদের সীমান্ত পাহারা জোরদার করেছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, সিএনএন

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

মির্জা ফখরুলের প্রেসিডেন্ট হওয়া আনন্দের, আবার হতাশারও: ফাহাম

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়াকে একই সঙ্গে আনন্দ ও হতাশার বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতির মেয়ের জামাতা, লেখক ও গবেষক ফাহাম আবদুস সালাম। একই সঙ্গে তিনি মির্জা ফখরুলকে ‘দায়িত্বশীল বড় ছেলে’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোররাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়ে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ফাহাম।

ফাহাম জানান, তিনি ২২ বছর ধরে মির্জা ফখরুলকে চেনেন। তার ভাষায়, জীবনে মির্জা ফখরুলের মতো দায়িত্বশীল মানুষ তিনি কেবল আরেকজনকে দেখেছেন—ক্যাডেট কলেজের শিক্ষক ছাদিক স্যার।

মির্জা ফখরুলের দায়িত্বশীলতার উদাহরণ দিতে গিয়ে ফাহাম বলেন, তিনি এমন একজন বড় ভাই, যিনি সাত ভাইবোনের জন্য ছয়টি চকলেট পেলেও নিজের জন্য কিছু না রেখে অন্যদের মধ্যে ভাগ করে দিতে খুশি থাকবেন। দায়িত্ব নিয়ে সঠিক কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করাই তার সন্তুষ্টির মূল জায়গা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফাহামের মতে, নিজেকে কাজে লাগানোর মানসিকতা মির্জা ফখরুলের মধ্যে অত্যন্ত প্রবল। যেকোনো পরিস্থিতিতে তিনি নিজেকে কাজে লাগাতে চান। এমনকি ক্যানবেরায় ছুটি কাটাতে গেলেও বসে না থেকে ঘর পরিষ্কার করতে শুরু করেন বলে জানান তিনি। তার সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে দায়িত্বশীলতা ও ভদ্র আচরণের কথা উল্লেখ করেন ফাহাম।

পোস্টে ৫ আগস্টের পর সিঙ্গাপুরে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে একান্ত আলাপের স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি। ফাহাম জানান, ওই সময় মির্জা ফখরুল তাকে বলেছিলেন, তার জীবনের কাজ হয়ে গেছে—খালেদা জিয়াকে বের করে আনা এবং নির্বাচন হলে দেশকে গণতন্ত্রের পথে নিয়ে যাওয়া।

খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারাকে মির্জা ফখরুল নিজের ব্যর্থতা হিসেবে নিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন ফাহাম। তার মতে, বিএনপির প্রতি দায়িত্বের পাশাপাশি মির্জা ফখরুল সবসময় দেশকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

মির্জা ফখরুলকে বিএনপির তরুণ নেতাকর্মীদের অনেকে ‘বাংলাদেশের মহাসচিব’ বলে উল্লেখ করেন জানিয়ে ফাহাম বলেন, এর মধ্যে সত্যতা রয়েছে। তার দাবি, মির্জা ফখরুল বিএনপির আগে বাংলাদেশকে দেখতে পান।

বাংলাদেশে গণতন্ত্র চর্চা প্রসঙ্গে ফাহাম বলেন, দেশের বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় কোনো নেতার পক্ষেই শতভাগ গণতন্ত্র চর্চা করা সম্ভব নয়। তবে মির্জা ফখরুল সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন এবং সুযোগ পেলে তিনি সবার আগে দাঁড়াবেন।

মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়াকে নিজের জন্য একই সঙ্গে আনন্দ ও হতাশার বিষয় উল্লেখ করে ফাহাম বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন একজন মানুষ প্রয়োজন, যাকে জাতি অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। তার মতে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে সঠিক মানুষকেই নির্বাচিত করা হয়েছে।

তবে বিএনপিতে এমন একজন মানুষের প্রয়োজন ছিল, যিনি নিজের আগে দল ও দেশের স্বার্থ দেখতে পারেন—মির্জা ফখরুলের জায়গায় এমন কাউকে পাওয়া কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফাহাম আরও দাবি করেন, মির্জা ফখরুলকে আওয়ামী লীগের সমর্থকরাও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তার মতে, জীবদ্দশায় অন্য কোনো বড় রাজনৈতিক নেতা এমন ‘জেনুইন বাইপার্টিজান’ সমর্থন পেয়েছেন কি না, তা তার মনে পড়ে না। তিনি মির্জা ফখরুলকে ‘মারদাঙ্গা রাজনীতিবিদ’ নন এবং বিএনপিতে তার কোনো গ্রুপিং নেই বলেও উল্লেখ করেন।

Continue Reading

top1

আজ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল

Published

on

By

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ শুক্রবার শপথ গ্রহণ করবেন।

বঙ্গভবনের দরবার হলে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তিনি শপথ নেবেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধানের সাংবিধানিক দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট-সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

১৯৯১ সালের পর দেশে এই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।

সংসদ সচিবালয় ও বঙ্গভবন সূত্র জানায়, শপথ অনুষ্ঠানে সরকারপ্রধান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, রাজনৈতিক নেতা, ঊর্ধ্বতন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিদেশি কূটনীতিকসহ আমন্ত্রিত বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত থাকবেন।

শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

সংবিধান অনুযায়ী নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত অনুযায়ী, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করায় ডেপুটি স্পিকারই এখন শপথ পড়ানোর জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ। আইন মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এই আইনি ব্যাখ্যা প্রদান করেছে।

এদিকে, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শেষে বৃহস্পতিবার বঙ্গভবন ত্যাগ করেছেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

গত ২৪ জুলাই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর থেকে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় বিদায় জানান। প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি সুসজ্জিত দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

Continue Reading

top1

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশ্যে ভোট গণনা করা হয়।

গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন। নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে পরাজিত করে বিজয়ী হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মোট ৩৪৩টি বৈধ ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। আর কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

ভোটগ্রহণের সময় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ব্যালটের মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন।

সংসদ সদস্যদের মধ্যে প্রথম ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা ভোট দেন।

Continue Reading

Trending