Connect with us

top1

খেলাপি ঋণ আরও বেড়েছে, ঝুঁকি বাড়ছে ব্যাংক খাতে

Published

on

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বেড়েছে। মোট ঋণের ৩২ শতাংশের বেশি ঋণখেলাপি হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ খেলাপি ঋণের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন মাসের ব্যবধানে দেশের ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি। দেশের ব্যাংকগুলোয় এখন মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক গত মার্চ পর্যন্ত হিসাব শেষ করে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

জানা যায়, ঋণখেলাপি হলে ব্যাংক খাতে তীব্র তারল্য সংকট (লিকুইডিটি) দেখা দেয়, যার ফলে ব্যাংকগুলো গ্রাহকের আমানতের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয় এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা হারায়; খেলাপি ঋণের বিপরীতে বাধ্যতামূলক প্রভিশন বা সঞ্চিতি রাখতে গিয়ে ব্যাংকের মুনাফা ও মূলধন কমে যায়, যা বড় ধরনের অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এর আগে ঋণ আদায় ও পুনঃতপশিল সুবিধায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ নবায়ন হওয়ায় দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ হঠাৎ বড় লাফ দিয়েছিল। গত ডিসেম্বর মাস শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। মার্চ শেষে তিন মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। গত অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ কমলেও পরের প্রান্তিকে তা বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, মার্চ মাস শেষে দেশের ৬১টি তপশিলি ব্যাংকে মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে ঋণ বিতরণ বেড়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। আর এখন মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপি হয়ে পড়েছে।

রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি। এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৪৬ শতাংশ। তবে এসব ব্যাংকে আগের প্রান্তিকের চেয়ে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ কমেছে। সব মিলিয়ে ওই সব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খেলাপি ঋণ বেড়েছিল। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। দেশের ইতিহাসে ২০১৯ সালের মার্চে প্রথমবারের মতো খেলাপি ঋণ লাখের ঘর পেরিয়ে ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা হয়। এর পর থেকে ধীরে ধীরে স্তূপাকারে জমা হতে থাকে খেলাপি ঋণ। ওই সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে ২০২৪ সালের জুনে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা।

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সরকারের মেয়াদে ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে শুরু হয়। ওই সময় আবার আওয়ামী লীগ-সমর্থক অনেক গ্রাহক আত্মগোপনে চলে যায়। ফলে খেলাপি ঋণ হুহু করে বেড়ে যায়। এমন অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ ছাড়ে ঋণ পুনঃতপশিলের সুযোগ দেয়। তাতে খেলাপি ঋণ কমে আসে।

ব্যাংকারদের মতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, জালিয়াতি, প্রতারণা ও সীমাহীন দুর্নীতির প্রভাবেই খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পায়। এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, হল-মার্ক গ্রুপসহ কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী এবং ন্যাশনাল, ইসলামী ও বেসিক ব্যাংকে সংঘটিত কেলেঙ্কারির ঘটনায় খেলাপি ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হতাশাজনক। সেজন্য আগের খেলাপি সুদ যোগ হয়ে মোট খেলাপির পরিমাণ ও হার দুটোই বেড়েছে। ঋণ চাহিদা বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বন্ধ কারখানা চালু ও অর্থনীতি সক্রিয় করতে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published

on

By

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ভারত সরকার তাদের আইন ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিষয়টি দেখবে। 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা দেশে প্রত্যার্বতনের কথা বারবার বললেও সরকার তাকে ভারত থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনতে চায়। যেহেতু ইতোমধ্যে তিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, আদালতে তার আত্মসমর্পণের সুযোগ আছে কিনা, সেটা আইনজ্ঞরা বলবেন। তবে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হবে এবং রায় কার্যকরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারকে বিব্রত করতে চায় এ রকম কিছু মহল আছে। তারা বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের পরিচয় গোপন করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের ব্যবস্থা করতে চায়। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও এমন আন্দোলনের প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।

এ আন্দোলনে অনেক অছাত্রও এসেছিল উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার এখন পর্যন্ত বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে না।’

Continue Reading

top1

এবার আইসিসিতে বড় দায়িত্ব পেলেন তামিম ইকবাল

Published

on

By

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল এবার বিশ্ব ক্রিকেটের প্রশাসনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তাকে নবগঠিত ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় অনুষ্ঠিত আইসিসির বার্ষিক সভা শেষে বুধবার (১৫ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আইসিসি বোর্ডের অনুমোদনেই নতুন এই উপকমিটি গঠন করা হয়েছে, যার লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে দ্রুত বিস্তৃত হওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বিভিন্ন বিষয় তদারকি ও নীতিগত দিকনির্দেশনা দেওয়া।

তামিমের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের কমিটিতে রয়েছেন ক্রিকেট নামিবিয়ার রুডি ভ্যান ভুরেন, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের দেবজিৎ সাইকিয়া, ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের রিচার্ড গোল্ড এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার টড গ্রিনবার্গ।

যদিও কমিটির কার্যপরিধি, দায়িত্বের মেয়াদ কিংবা প্রথম বৈঠকের সময়সূচি এখনো প্রকাশ করেনি আইসিসি।

একই সভায় বিসিবির নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে তামিম ইকবালকে আইসিসির পূর্ণ সদস্য পরিচালক হিসেবেও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আইসিসির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।

এদিকে, আইসিসি একই সঙ্গে একটি গভর্ন্যান্স রিভিউ কমিটি গঠন করেছে। এর চেয়ারম্যান হয়েছেন ভারতের দেবজিৎ সাইকিয়া। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার মোহাম্মদ মুসাজি এবং আইসিসির স্বাধীন পরিচালক রস রিভাজ।

বার্ষিক সভায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মরিশাসকে আইসিসির ১১১তম সদস্য হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের আর্থিক সহায়তায় ১ কোটি ২৮ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্তও অনুমোদন করেছে আইসিসি বোর্ড।

Continue Reading

top1

‘পুরো মধ্যপ্রাচ্য ধ্বংসের’ হুঁশিয়ারি ইরানের

Published

on

By

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা সামরিক অবকাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। দেশটির দাবি, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক পাল্টা হামলা চালানো হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের শীর্ষ সামরিক সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইব্রাহিম জোলফাগারি এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করে, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কঠোর জবাব দেবে। তিনি দাবি করেন, পাল্টা অভিযানে পুরো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এই সামরিক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ইরানের জন্য একটি ‘লাল রেখা’ এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুমকি ও সামরিক তৎপরতায় আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

Continue Reading

Trending