Connect with us

top1

গাজীপুর-৬ আসনে কে এই হাফিজুর রহমান

Published

on

গাজীপুর, অক্টোবর ২০২৫: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৬ (টঙ্গী, গাছা ও পূবাইল) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বনামধন্য একাডেমিশিয়ান ও লেখক ড. হাফিজুর রহমান। প্রবাসফেরত এই তরুণ শিক্ষাবিদের প্রার্থিতা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ড. হাফিজুর রহমান তুরস্কের তোকাত গাজি ওসমান পাশা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন এবং সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন এবং পরে তুরস্ক সরকারের স্কলারশিপে পিএইচডি অর্জন করেন।
ছাত্রজীবনে তিনি টঙ্গীর তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার ছাত্র সংসদের ভিপি এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর উত্তর-এর সেক্রেটারি ছিলেন। তুরস্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ ফোরাম অব তুর্কি’র সভাপতি এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিভাগের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার রচিত বই ‘এরদোয়ান: দ্য চেঞ্জ মেকার’, ‘আমার দেখা তুরস্ক’, এবং ‘ইসলামী রাজনীতি তত্ত্বে রাষ্ট্র ধারণা’ পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। লেখক, শিক্ষক ও খতিব হিসেবে তার পরিচিতি তাকে গাজীপুরের শিক্ষিত তরুণ সমাজে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
ড. হাফিজুর রহমান বলেন, “তুরস্কে সম্মানজনক ক্যারিয়ার ছেড়ে আমি দেশে এসেছি গাজীপুরকে গড়তে। আমীরে জামায়াতের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমি দায়িত্ববোধ থেকে দেশে ফিরে এসেছি। গাজীপুর-৬ পরিবর্তনের প্রতীক হবে ইনশাআল্লাহ।” তিনি আরও বলেন, “আমার লক্ষ্য হলো ছিনতাই, ডাকাতি, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের জন্য ফ্রি ওষুধ সেন্টার চালু করা”।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ


ড. হাফিজুর রহমানের প্রার্থিতা গাজীপুরের শিক্ষিত তরুণ সমাজে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রার্থিতাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই তাকে জামায়াতের ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী হিসেবে অভিহিত করছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার মতো একাডেমিক ও নৈতিক নেতৃত্ব গাজীপুর-৬ আসনে নতুন ভোটধারার সূচনা করতে পারে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, “ড. হাফিজুর রহমান একজন সৎ, মেধাবী ও নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতীক। তার প্রার্থিতা নতুন প্রজন্মের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে।”
গাজীপুর-৬ আসনটি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের একটি নতুন সংসদীয় আসন, যা ২০২৫ সালে নির্বাচন কমিশনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে। এটি গাজীপুর জেলার অন্তর্গত এবং জাতীয় সংসদের ১৯৮ নম্বর আসন হিসেবে চিহ্নিত।

🗺️ সীমানা ও গঠন
গাজীপুর-৬ আসনটি গঠিত হয়েছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩২ থেকে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড এবং ৪৩ থেকে ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
গাজীপুর-৬ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা হলো ৫,৪০,২৫৪ জন।
টঙ্গী পূর্ব থানা, টঙ্গী পশ্চিম থানা, গাছা থানা, পূবাইল থানা

এই আসনটি মূলত গাজীপুর-২ ও গাজীপুর-৫ আসনের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয়েছে। আগে গাছা থানা ছিল গাজীপুর-২-এ এবং পূবাইল ছিল গাজীপুর-৫-এ। নতুন সীমানা অনুযায়ী এই দুটি থানা ও টঙ্গীকে একত্র করে গাজীপুর-৬ আসন তৈরি করা হয়েছে।

🗳️ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
গাজীপুর-৬ আসনের সৃষ্টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। যেহেতু এটি একটি নতুন আসন, তাই এখানে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালে। ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নতুন প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বিএনপি: এই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান উদ্দিন সরকারসহ একাধিক প্রবীণ ও নবীন নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
জামায়াতে ইসলামী: এই আসনে দলটি ড. হাফিজুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছে, যিনি একজন প্রবাসফেরত একাডেমিশিয়ান ও লেখক হিসেবে পরিচিত।
এনসিপি ও অন্যান্য দল: নতুন আসন হওয়ায় উন্নয়ন ও জনসেবার সুযোগকে সামনে রেখে বিভিন্ন দল এই আসনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

📈 গুরুত্ব ও সম্ভাবনা
গাজীপুর-৬ আসনটি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলসমূহ নিয়ে গঠিত হওয়ায় এটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জনসংখ্যা ও ভোটার সংখ্যার দিক থেকে এই আসনটি একটি হেভিওয়েট কনস্টিটুয়েন্সি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন আসন হওয়ায় এখানে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

🗳️ ড. হাফিজুর রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি (গাজীপুর-৬)
🎯 মূল স্লোগান:
“গাজীপুর-৬ পরিবর্তনই আমাদের অঙ্গীকার”
📌 প্রধান অঙ্গীকার ও লক্ষ্যসমূহ:

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন:

আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ
মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়
গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও সহায়তা

স্বাস্থ্যসেবা:
শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকায় ফ্রি ওষুধ সেন্টার চালু
সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর সেবার মানোন্নয়ন
মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ

আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা:
ছিনতাই, মাদক ও সন্ত্রাস দমনে কঠোর ব্যবস্থা
কমিউনিটি পুলিশিং ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি

অবকাঠামো উন্নয়ন:
রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ও পানির সমস্যা সমাধান
টঙ্গী, গাছা ও পূবাইল এলাকায় আধুনিক নগরায়ণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন

শ্রমিক কল্যাণ:
গার্মেন্টস ও শিল্প শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা
ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ
শ্রমিকদের জন্য আবাসন ও চিকিৎসা সুবিধা

যুব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান:
কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন
উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও স্টার্টআপে সহায়তা
খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে পৃষ্ঠপোষকতা

ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা:
মসজিদভিত্তিক সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম
ইমাম ও আলেমদের মর্যাদা ও প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি
ধর্মীয় সহনশীলতা ও সম্প্রীতি রক্ষা

পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনা:
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন
সবুজায়ন ও খেলার মাঠ সংরক্ষণ
পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনা

🧭 ব্যক্তিগত অঙ্গীকার:
ড. হাফিজুর রহমান বলেন, “তুরস্কে সম্মানজনক ক্যারিয়ার ছেড়ে আমি এসেছি গাজীপুরকে গড়তে। আমার একাডেমিক অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক জ্ঞান ও নৈতিক মূল্যবোধ দিয়ে আমি গাজীপুর-৬ কে একটি মডেল আসনে রূপান্তর করতে চাই।

জামাত ইসলামি বাংলাদেশ দেশের যে সমস্ত আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে তার মধ্যে সর্বশেষ ছিল এইবার নির্বাচনে নতুন ঘোষণাকৃত আসন গাজীপুর-৬ এ ডঃ হাফিজুর রহমান। ইতি মধ্যে দলটির যে সকল আসনে প্রার্থীরা বিশেষ সাড়া জাগিয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম জামাতের আমিরের ফোনে দেশে ছুটে আশা এই প্রার্থী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছে এটি ছিল জামাতের মনোনয়নের অন্যতম ট্রামকার্ড। তারা আরো ধারণা করছে নির্বাচনে আগ দেয়া আরো কিছু বিশেষ আকর্ষণ আনবে এই দলটি।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

জামায়াতের সঙ্গে বৈঠককে স্বাভাবিক কূটনৈতিক যোগাযোগ বলছে ভারত

Published

on

By

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ভারতের একজন কূটনীতিকের বৈঠক নিয়ে সম্প্রতি আলোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের অবস্থান জানিয়েছে ভারত। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের বৈঠককে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয় মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে। জবাবে তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে এবং ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পক্ষের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেন। তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে হওয়া বৈঠকটিও সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই পড়ে।

এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান জানান, চলতি বছরের শুরুতে তিনি ভারতের একজন কূটনীতিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তিনি বলেন, অন্য দেশের কূটনীতিকেরা প্রকাশ্যে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেও ওই ভারতীয় কর্মকর্তা বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ করেছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য একে অপরের সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগ জরুরি এবং এ ক্ষেত্রে বিকল্প কোনো পথ নেই।

এই মন্তব্য প্রকাশের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিল রয়টার্স। তবে সে সময় কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। প্রায় দুই সপ্তাহ পর ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য এলো

Continue Reading

top1

জামায়াতের জোট থেকে দলগুলোকে বেরিয়ে আসতে চরমোনাই পীরের আহ্বান

Published

on

By

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট থেকে অন্যান্য ইসলামী দলগুলোকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের জোটে না যাওয়ার ঘোষণা দেন ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান। এ সময় তিনি এ আহ্বান জানান।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, জামায়াত শরিয়াহ আইনে রাষ্ট্র পরিচালনা নীতি থেকে সরে এসেছে। তাই ১১ দলীয় জোট থেকে অন্যান্য ইসলামী দলগুলোকেও বেরিয়ে আসার আহ্বান জানাই।

ইসলামপন্থী দলগুলোর জন্য আলোচনার দরজা খোলা আছে, বলেও জানান তিনি।

ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতের আমির বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলছেন, যার অর্থ দাঁড়ায়, সমঝোতার নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে জামায়াত।

দীর্ঘ সময় পর দেশের মানুষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আশায় ছিলেন, এর ফলে সেই প্রত্যাশা পূরণ পূরণ হওয়া নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়।

ইসলামের নীতি থেকে জামায়াত সরে এসেছে দাবি করে একলা পথে গিয়ে ২৬৮টি আসনে লড়ার কথা জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন।
বাকি আসনগুলোতে বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টির সাথে আসন সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন চরমোনাই পীরের দল।

Continue Reading

top1

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সব নথি জব্দের দাবি চিকিৎসকদলের প্রধানের

Published

on

By

বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা-সংক্রান্ত বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সব নথিপত্র জব্দ ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার বর্তমান চিকিৎসকদলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় তিনি এ দাবি তুলে ধরেন।

ডা. সিদ্দিকী বলেন, ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল কোভিড-১৯–এর জটিলতা নিয়ে খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বর্তমান মেডিকেল বোর্ড চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। 

পরীক্ষা-নিরীক্ষার শুরুতেই তারা দেখতে পান, খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত, অথচ বিএমইউর ছাড়পত্রে তাকে রিউমাটয়েড আর্থাইটিসের জন্য ‘মেথোট্রেক্সেট’ নামের ওষুধ নিয়মিত সেবনের নির্দেশ দেওয়া ছিল এবং ভর্তি অবস্থাতেও সেটি খাওয়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, “মেথোট্রেক্সেট সেবনের ক্ষেত্রে নিয়মিত লিভার ফাংশন পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক। পরীক্ষায় অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে ওষুধ বন্ধ করে ন্যূনতম একটি আলট্রাসনোগ্রাম করানো প্রয়োজন। কিন্তু সরকার গঠিত মেডিকেল টিম ম্যাডামের লিভার ফাংশন খারাপ দেখার পরও কোনো আলট্রাসনোগ্রাম করেনি এবং ওষুধটিও বন্ধ করেনি।”

তিনি দাবি করেন, এই অবহেলার কারণেই ফ্যাটি লিভার দ্রুত সিরোসিসে রূপ নেয়। “মেথোট্রেক্সেট তার লিভারের জন্য কার্যত ‘স্লো পয়জন’ হিসেবে কাজ করেছে”—বলেন তিনি।

ডা. সিদ্দিকী আরও বলেন, তৎকালীন চিকিৎসকদের প্রতি আস্থাহীনতার কারণে খালেদা জিয়া সেখানে আলট্রাসনোগ্রাফিতে রাজি হননি, তবে বেডসাইড ‘পয়েন্ট-অব-কেয়ার’ আলট্রাসনোগ্রাম সহজেই করা যেতো।

তিনি অভিযোগ করেন, “চিকিৎসায় এমন অবহেলা খালেদা জিয়ার অবস্থাকে দ্রুত অবনতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। এটি ইচ্ছাকৃত অবহেলা কি না বা পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টার অংশ কি না—তা বিশদভাবে তদন্ত করা জরুরি।”

তার ভাষ্য, মেডিকেল বোর্ডের কাছে ডায়াবেটিস ও আর্থাইটিসের চিকিৎসায় অবহেলারও সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এজন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটির মাধ্যমে তিনটি বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন— সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা কারা ছিলেন, কোন দক্ষতার ভিত্তিতে তারা দায়িত্ব পান, এবং ব্যর্থতার দায় তাদের ওপর বর্তায় কি না; ভর্তিকালে কারা চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় কি না; বিএমইউতে চিকিৎসার সময় খালেদা জিয়া তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করতে আইনজীবীর মাধ্যমে যে অনুরোধ করেছিলেন, তা কেন গ্রহণ করা হয়নি এবং কারা বাধা দিয়েছিল।

ডা. সিদ্দিকী আরও বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বিএমইউয়ের সব চিকিৎসা-নথি জব্দ এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।

Continue Reading

Trending