Connect with us

সারাদেশ

নড়াইলের কালিয়ায় মিলন সংঘের উদ্যোগে বাণী অর্চনা ও ‘গীতার আলোকে জ্ঞান আহরণ’

Published

on

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালিয়া

শীতের আমেজ আর কুয়াশা ভেজা ভোরে যখন শিউলি ঝরার শব্দ শোনা যায়, ঠিক তখনই নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ঘোষনাওড়ায় বেজে ওঠে এক অনন্য সুর। এই সুর দেবী সরস্বতীর আবাহনের, এই সুর জ্ঞান ও বিদ্যার আলোয় নিজেকে আলোকিত করার। আগামী ২২ ও ২৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ ঘোষনাওড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত হতে যাচ্ছে এক বিশেষ বাণী অর্চনা, যার আয়োজনে রয়েছে ‘মিলন সংঘ’

এবারের উৎসব কেবল চিরাচরিত পূজা বা উপাসনার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। মিলন সংঘ এবার তাদের ভাবনায় যোগ করেছে এক গভীর মাত্রা— “গীতার আলোকে জ্ঞান আহরণ”। বর্তমান সময়ের অস্থিরতায় নৈতিক ও আধ্যাত্মিক চেতনার যে অভাব লক্ষ্য করা যায়, তা দূর করতেই গীতামৃতের নির্যাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই প্রয়াস। আয়োজকদের মতে, সরস্বতী কেবল অক্ষরের দেবী নন, তিনি বোধ ও বিবেকেরও দেবী। আর সেই বোধের পূর্ণতা মেলে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার জ্ঞানে।

উৎসবের প্রস্তুতি ও সূচি

উৎসবের প্রস্তুতি ঘিরে এখন সাজ সাজ রব ঘোষনাওড়া গ্রামে। মন্দিরের প্রাঙ্গণে তৈরি হচ্ছে জ্ঞানের আঙিনা। অনুষ্ঠানের সূচি অনুযায়ী:

২২ জানুয়ারি (সন্ধ্যা ৭:০০): উৎসবের সূচনা হবে মা সরস্বতীর আবাহন ও ভক্তিপূর্ণ ‘মাতৃবরণ’ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। সন্ধ্যায় যখন মন্দিরের প্রদীপগুলো জ্বলে উঠবে, তখন এক স্বর্গীয় আবহ তৈরি হবে পুরো এলাকায়।

২৩ জানুয়ারি: মূল পূজার দিন। সকাল সকাল ৮টায় শুরু হবে মায়ের মঙ্গলঘট স্থাপন ও পূজা। এরপর চলবে পুষ্পাঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণ। উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ বিতরণী কর্মসূচিরও।

সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা: সন্ধ্যা ৬টায় প্রাণের স্পন্দন ফুটে উঠবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। গান, কবিতা আর নাচের ছন্দে মুখরিত হবে ঘোষনাকোড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির।

ঐতিহ্যের সাথে আধুনিকতার মেলবন্ধন

মিলন সংঘের এই আয়োজন নড়াইলের কালিয়া অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সাথে আধুনিক ভাবনার এক মেলবন্ধন ঘটিয়েছে। প্রীতি ও শুভেচ্ছার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ এই উৎসবে শামিল হন। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে এই অনুষ্ঠান এখন কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

মিলন সংঘের সহ-সভাপতি প্রিতম ঘোষ বলেন, “মিলন সংঘের এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা এলাকার সকলকে এক সুতোয় বাঁধতে চাই। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মায়ের আরাধনার মধ্য দিয়ে আমরা এক উৎসবমুখর পরিবেশ গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিয়েছি। সকলকে এই আনন্দ আয়োজনে শামিল হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক স্বপ্নজিৎ ঘোষ বলেন, “এবারের বাণী অর্চনায় আমাদের মূল লক্ষ্য হলো পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটানো। তাই গীতামৃতের অমীয় বাণীর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মাঝে সঠিক জীবনদর্শন ছড়িয়ে দিতেই আমরা ‘গীতার আলোকে জ্ঞান আহরণ’ ভাবনাটি বেছে নিয়েছি। আশা করি, এই আয়োজন সবার মনে জ্ঞানের আলো প্রজ্জ্বলিত করবে।”

সাধারণ সম্পাদক লিখন ঘোষ বলেন, “কেবল পূজা নয়, বরং উৎসবের আবহে সমাজকে সুন্দর বার্তা দেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা চাই গীতার শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মাঝে জ্ঞানের প্রসার ঘটুক। আগামী ২২ ও ২৩ জানুয়ারির এই উৎসবে আমরা সকল ভক্ত ও সুধীজনকে আমন্ত্রণ জানাই।”

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সারাদেশ

শতাধিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে মহেশখালীর ‘তাজিয়াকাটা স্টুডেন্টস’ সোসাইটি’র ইফতার মাহফিল

Published

on

By

মোজো রিপোর্টার

মহেশখালীর ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন ‘তাজিয়াকাটা স্টুডেন্টস’ সোসাইটি’র উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) তাজিয়াকাটা সুমাইয়া (র.) বালিকা দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে বাদ আসর থেকে সংগঠনটির সাবেক ও বর্তমান শতাধিক সদস্যদের নিয়ে এ কর্মসূচি পালন করে তারা।

সংগঠনটির সভাপতি মুহিউদ্দীন মুহাম্মাদ যুবাইরের সভাপতিত্বে আমন্ত্রিত অতিথির মধ্যে তাজিয়াকাটা সুমাইয়া (র.) বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা ইলিয়াছ নূরী, কুতুবজুম অফসোর হাইস্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মাস্টার আমিন শরীফ, সাবেক সেনা সদস্য মাহাবুব আলম, স্থানীয় সমাজসেবক মোহাম্মদ আলমগীর, তাজিয়াকাটার কৃতি সন্তান সেনাবাহিনীর সদস্য আবু বকর ছিদ্দিক, বিজিবি সদস্য জয়নাল আবেদীন, সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মাস্টার এবাদুল হক, মিজানুর রহমান, বেলাল সজীব, মিজানুল হক ও সালাহ উদ্দিন সহ সংগঠনটির শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সাবেক ও বর্তমান শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

এসময় এলাকার বিভিন্ন সংকট নিয়ে বক্তারা আলোকপাত করেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সমাজ অবক্ষয়ের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। যেকোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসার তাগিদ দেন বক্তারা। ইফতারের মাধ্যমে আলোচনা সভা সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

Continue Reading

top1

পয়লা বৈশাখ কৃষক কার্ড বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী

Published

on

By

আগামী পয়লা বৈশাখ ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার কৃষকদের মাঝে এই কার্ড বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচির শুরু হচ্ছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রি-পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় কৃষক কার্ড বিতরণ করতে যাচ্ছে সরকার।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ফার্মস কার্ড বিষয়ক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, ‘আজ এ বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পয়লা বৈশাখে টাঙ্গাইল সদরসহ মোট ১১ উপজেলায় একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথম ধাপে এসব উপজেলার ২২ হাজার কৃষকের কাছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা পৌঁছে যাবে।’

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, এই কার্ড কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের চাষি ও খামারিদের দেওয়া হবে। এটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে। শুধু ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র শ্রেণির কৃষককে কৃষি উপকরণ কেনার জন্য প্রণোদনা হিসেবে বছরে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সার, বীজ, কীটনাশক ও পশু খাদ্য কিনতে পারবেন।

বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী মো. আমিনুর রশীদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, প্রধানমন্ত্রী অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ডাক টেলিডোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।

১১ উপজেলা হচ্ছে, টাঙ্গাইলের সদর, পঞ্চগড়ের সদর, পঞ্চগড়ের ভোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আর্দশ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজাবাড়ীর গোয়ালন্দ এবং মৌলভীবাজার জুড়ী।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপির অঙ্গীকার ছিল দেশের কৃষকদের সহায়তার জন্য ফার্মাস কার্ড তথা কৃষক কার্ড চালু করা হবে।

Continue Reading

সর্বশেষ

কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড কুয়াকাটা

Published

on

By

পটুয়াখালীর কুয়াকাটার লেম্বুরবন এলাকায় হঠাৎ বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে অন্তত ৩৫টি দোকান। সোমবার (১৬ মার্চ) গভীর রাতে হঠাৎ ঝড়ের তীব্রতায় উড়ে গেছে টিনের চাল, ভেঙে পড়েছে দোকানের কাঠামো এবং নষ্ট হয়ে গেছে ব্যবসায়ীদের মালামাল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে আকস্মিকভাবে শুরু হওয়া ঝড়ে মুহূর্তেই পুরো এলাকা তছনছ হয়ে যায়। অনেক ব্যবসায়ী ঘুম থেকে উঠে কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের দোকানপাট ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। লেম্বুরবন এলাকার শুঁটকি, আচার, মাছ ফ্রাই দোকান, জেলেবাসাসহ অন্তত ৩৫টি ঘর লন্ডভন্ড হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী নাসির জোমাদ্দার বলেন, রাতে হঠাৎ ঝড় শুরু হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দোকানের টিন উড়ে যায়। সকালে দেখি সব শেষ—মালামাল নষ্ট, দোকান ভেঙে গেছে। প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

আরেক ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন এই দোকান। ঝড়ে সব ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন আমরা পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাউছার হামিদ বলেন, ঘটনাটি আমরা জেনেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সরকারি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Continue Reading

Trending