Connect with us

top2

জরিপে তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন ৪৭%

Published

on

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যে সরকার গঠিত হবে, এর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাবনা বেশি দেখছেন মানুষ। আর প্রায় এক–চতুর্থাংশ মানুষ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন। 

দেশীয় গণমাধ্যম ‘প্রথম আলোর’ উদ্যোগে করা এক জরিপে মানুষের এই মতামত উঠে এসেছে। জরিপটি করেছে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কিমেকারস কনসাল্টিং লিমিটেড। জরিপের শিরোনাম, ‘গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয়ে জাতীয় জনমত জরিপ ২০২৫’।

জরিপে একটি প্রশ্ন ছিল, বাংলাদেশের বিভিন্ন নেতার মধ্যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা কার বেশি বলে মনে করেন? এ প্রশ্নের জবাবে সবচেয়ে বেশি সাড়ে ৪৭ শতাংশ মানুষ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে মত দিয়েছেন।

তারেক রহমান কখনো কোনো সংসদ নির্বাচনে অংশ নেননি। ২০০৮ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। যদিও খালেদা জিয়া কারাগারে থাকার সময় এবং তিনি অসুস্থ থাকায় তারেক রহমানই দল পরিচালনা করছেন। বিএনপি আগামী নির্বাচনে জয়ী হলে তারেক রহমানকেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী করা হবে, দলটির নেতারাও তা বলছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা, এমন মত প্রায় ১৯ শতাংশ মানুষের। তবে তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি এই নেত্রীর অবস্থা সংকটাপন্ন। খালেদা জিয়া এর আগে তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। দুবার ছিলেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা।

প্রথম আলো গ্রাফিকস

খালেদা জিয়া অথবা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জরিপে যে মত এসেছে, দুটি যোগ করলে ৬৬ শতাংশের কিছু বেশি হয়। 

অন্যদিকে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা মনে করেন ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ। তিনি অতীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হতে পারেননি।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। তিনি পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, কিন্তু গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে তিনি ভারতে চলে যান। রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের অনেকে মনে করেন, বয়স, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়সহ সার্বিক বিবেচনায় শেখ হাসিনার রাজনীতিতে ফেরা কঠিন। তবে জরিপে ৭ শতাংশের কিছু বেশি মানুষ বলেছেন, শেখ হাসিনার পরবর্তী নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে (উল্লেখ্য, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনার সাজা হওয়ার আগে জরিপের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে)।

এর বাইরে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং শূন্য দশমিক ২ শতাংশ মানুষ জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা দেখেন।

জরিপে দেশের ৫টি নগর ও ৫টি গ্রাম বা আধা শহরাঞ্চলের প্রাপ্তবয়স্ক (১৮-৫৫ বছর) ১ হাজার ৩৪২ জনের মতামত নেওয়া হয়। এর মধ্যে পুরুষ ৬৭৪ জন, নারী ৬৬৮ জন। জরিপে অংশ নেওয়া মানুষেরা বিভিন্ন আয়, শ্রেণি ও পেশার। গত ২১ থেকে ২৮ অক্টোবর জরিপের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। 

জরিপকারী প্রতিষ্ঠান বলেছে, এটি একটি মতামত জরিপ। এটা দেশের প্রতিনিধিত্বমূলক জরিপ, তবে নির্দিষ্টভাবে কোনো নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করে না। জরিপের নমুনা এমন মানুষদেরই তুলে ধরেছে, যাঁরা অনলাইন অথবা ছাপা পত্রিকা পড়তে পারেন এবং আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জরিপের ফলাফলের নির্ভরযোগ্যতার (কনফিডেন্স লেভেল) মাত্রা ৯৯ শতাংশ। 

কে প্রধানমন্ত্রী হলে দেশের ভালো

জরিপের আরেকটি প্রশ্ন ছিল, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন নেতার মধ্যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কে প্রধানমন্ত্রী হলে দেশের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে?’ উত্তরে প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষের মত, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে দেশের জন্য ভালো হবে। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের পক্ষে মত দিয়েছেন প্রায় ৩২ শতাংশ মানুষ।

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান

জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ২১ শতাংশ মানুষ মনে করেন, খালেদা জিয়া পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হলে দেশের জন্য ভালো হবে। শেখ হাসিনার বেলায় এই সমর্থন ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। নাহিদ ইসলাম প্রধানমন্ত্রী হলে ভালো হবে বলে মনে করেন শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ।

জরিপে অংশ নেওয়া শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হলে দেশের ভালো হবে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা ইরানের

Published

on

By

ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি প্রাণ হারিয়েছেন। এ হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান আমির হাতামি। খবর বিবিসির।

প্রতিবেদনে ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি জানায়, লারিজানি হত্যার চূড়ান্ত প্রতিশোধ নেওয়া কথা জানিয়েছেন হাতামি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “উপযুক্ত সময় ও স্থানে অপরাধী আমেরিকা এবং রক্তপিপাসু জয়নিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে একটি চূড়ান্ত প্রতিরোধমূলক এবং অনুতাপজনক জবাব দেওয়া হবে।”

বিবৃতিতে লারিজানিকে শহীদ আখ্যা দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান। 

এদিকে, লারিজানির মৃত্যুর ‘প্রতিশোধ’ হিসেবে ইতোমধ্যেই মধ্য ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার কথা জানিয়েছে ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, ইরানের হামলায় মধ্য ইসরায়েলে দু’জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কাতার, সৌদি আরব, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে হামলার সাইরেন বাজতে শোনা গেছে।

কাতারের প্রতিরক্ষা বাহিনী বলছে, আমাতের সশস্ত্র বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইন্টারসেপ্ট করেছে। আর কুয়েতের ন্যাশনাল গার্ড সাতটি মানবহীন ড্রোন ভূপাতিতের কথা জানিয়েছে।

অন্যদিকে, লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। রাজধানী বৈরুতে তীব্র শব্দ শোনা গেছে। 

Continue Reading

top2

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী কার্যক্রমের উদ্বোধন শনিবার

Published

on

By

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের ধর্মীয় প্রতিনিধিদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সহযোগিতা প্রদানের লক্ষে এই বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমরানুল হাসানের পাঠানো ওই বার্তায় জানানো হয় যে, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের ধর্মীয় সেবকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেবল ইমাম ও মুয়াজ্জিনদেরই নয়, বরং দেশের সব ধর্মের ধর্মীয় প্রতিনিধিদের এই সম্মানী কার্যক্রমের আওতায় আনা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, একই দিনে মসজিদের খাদেম, মন্দিরের পুরোহিত ও সেবায়েত এবং বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদেরও এই সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হবে। সরকারের এই উদ্যোগকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের জীবনমান উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এই ঘোষণার পর ধর্মীয় প্রতিনিধিদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সম্মানী কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে সারা দেশের কয়েক হাজার ধর্মীয় সেবক সরাসরি উপকৃত হবেন।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, স্বচ্ছতা বজায় রেখে এই সম্মানী বন্টন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং এটি দেশের সামগ্রিক ধর্মীয় কাঠামোর প্রতি সরকারের সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Continue Reading

top2

বেঁচে আছেন খামেনির স্ত্রী

Published

on

By

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাগেরজাদেহ জীবিত আছেন। তাকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া মৃত্যুর খবর সঠিক নয় বলে জানিয়েছে ইরানের আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির স্ত্রী মারা গেছেন—এমন যে দাবিগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো ভিত্তিহীন।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বৃহস্পতিবার তার প্রথম বিবৃতিতে মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ না করায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

এর আগে যুদ্ধের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে খবর প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ওই হামলায় তার স্ত্রীও নিহত হয়েছেন।

তবে ফার্স নিউজ জানিয়েছে, মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাগেরজাদেহ জীবিত রয়েছেন এবং তার মৃত্যুর খবর সত্য নয়।

কোমায় আছেন মোজতবা খামেনি— ব্রিটিশ গণমাধ্যমের দাবিকোমায় আছেন মোজতবা খামেনি— ব্রিটিশ গণমাধ্যমের দাবি
খামেনির স্ত্রী সাধারণত জনসম্মুখে খুব কমই আসতেন। তিনি ইরানের শাসক পরিবারের সবচেয়ে ব্যক্তিগত জীবনযাপন করা সদস্যদের একজন হিসেবে পরিচিত।

এদিকে স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে হওয়া হামলায় আলী খামেনির পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে পুত্রবধূ, জামাতা, মেয়ে ও নাতি-নাতনিও রয়েছেন।

অন্যদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রথম জনসম্মুখের ভাষণে মোজতবা খামেনি চলমান যুদ্ধে নিহত ইরানিদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একজন সংবাদ উপস্থাপকের মাধ্যমে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে তিনি তেহরানের অবস্থানও তুলে ধরেন এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কথাও উল্লেখ করেন।

সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল।

Continue Reading

Trending