Connect with us

রাজনীতি

জামায়াত থেকে নারী প্রার্থী হচ্ছেন ৫ জন, থাকছে অমুসলিম ও উপজাতি প্রার্থী

Published

on

চলতি বছরের শুরুতে সবার আগে ৩০০ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এর মাধ্যমে দলটি নির্বাচনি মাঠে আগেভাগেই অবস্থান নিতে সক্ষম হয়। দলীয় এসব প্রার্থীর মাঠে জোরালো তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নির্বাচনি কমিটিও তারা ইতোপূর্বে গঠন করেছে। তবে আট দলের শরিকদের জন্য আসন ছাড়া এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে প্রার্থী তালিকায় আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। দলীয় সূত্রমতে, ডাকসু, চাকসু, রাকসু, জাকসুতে দলটির ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সফলতার পর তারা জাতীয় নির্বাচনেও একইভাবে ইনক্লুসিভ বা সর্বজনীন প্রার্থী তালিকা দিতে যাচ্ছে। জামায়াত এবং তাদের আন্দোলনের সহযোগীদের সমন্বিত নির্বাচনি টিম এ নিয়ে কাজ করছে। ইতোমধ্যে পাঁচজন বিশিষ্ট নারী নেত্রী এবং পাঁচজন অমুসলিম বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম আলোচনায় এসেছে। এসব তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের এসব তালিকা চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছেন।জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপিকা নুরুন্নিসা সিদ্দিকার নাম এসেছে আলোচনায়। তবে কোন আসন থেকে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তা জানা যায়নি। বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ ঢাকা-১৮ আসন থেকে প্রার্থী হতে পারেন বলে একটি টেলিভিশন টকশোতেও উঠে এসেছে। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সাবেক এমপি ডা. আমিনা রহমানের নামও এসেছে আলোচনায়। তার আসন সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ মহিলা বিভাগ জামায়াতের সিনিয়র সদস্য কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য সাবেক এমপি শাহান আরা বেগম এবং সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও জামায়াতের মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি ব্যারিস্টার সাবিকুন্নাহারের নামও আলোচনায় এসেছে। তাদেরও ঢাকার কোনো আসনে বা ঢাকার বাইরেও প্রার্থী করা হতে পারে।

জামায়াতের প্রার্থী তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক আসছে অমুসলিমদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে। হিন্দুসহ অন্তত পাঁচজন অমুসলিম এবং কমপক্ষে একজন উপজাতিকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী হিসাবে। এর মধ্যে আলোচনায় এসেছে শ্রীকৃষ্ণ নন্দী মহাশয়ের। তিনি দীর্ঘদিন থেকেই জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত এবং জামায়াতে ইসলামী অমুসলিম শাখা খুলনার জেলা সভাপতি বলে জানা গেছে। খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনে প্রার্থী হতে পারেন কৃষ্ণনন্দী। বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী পরেশকান্তি সাহা জামায়াতে ইসলামী অমুসলিম শাখা মাগুরার জেলা সভাপতি এবং প্রথিতযশা চিকিৎসক। তিনি মাগুরা-২ আসনে প্রার্থী হতে পারেন বলে আলোচনায় এসেছে। বিপুলসংখ্যক অমুসলিম অধ্যুষিত এই আসনে বিএনপি অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর মোকাবেলায় জামায়াত এমনটি চিন্তা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবার মাগুরা-১ আসনে বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. শুশান্তকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা অনেক আগে থেকেই আলোচনায় আছে। পঞ্চগড়-১ আসনে প্রার্থী হতে পারেন বিশিষ্ট শিক্ষক ও সমাজসেবক শ্রী তপনমোহন চক্রবর্তী। জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ্রী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বৃহত্তর ইসলামী ঐক্য সমর্থিত নির্দলীয় প্রার্থী হিসাবে যে কোনো আসনে প্রার্থী হতে পারেন- এমনটিও আলোচনায় আছে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের যুগান্তরকে বলেন, এসব তালিকা আমরাও দেখেছি, তবে তা সঠিক নয়। আলোচনায় অনেকেই আছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না। জামায়াত দেশ পরিচালনার জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রার্থী তালিকা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, আমাদের সাথে পাঁচ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে যারা আছেন তাদের মধ্যে যোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তা বিবেচনা করে মনোনয়ন দেওয়া হবে। জোটের শরিক সংখ্যা বেড়ে আট থেকে ১০ বা ১১ তে পৌঁছাতে পারে। শরিক দলের শীর্ষ নেতারাসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের আমরা সংসদে নিয়ে আসতে চাই। তিনি বলেন, ছাত্র প্রতিনিধি, জুলাই যোদ্ধা, বিশিষ্ট নাগরিকদের নির্বাচনে অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা করা হচ্ছে। অমুসলিম তো বটেই, হিন্দু ছাড়াও অন্য ধর্মের প্রতিনিধিত্বও থাকবে। আরও থাকবেন উপজাতীয় প্রার্থী। তবে কারওই নাম বলার মতো সময় আসেনি।

জামায়াত সূত্র জানায়, দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারকে সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহকে সেক্রেটারি করে আট সদস্যের একটি নির্বাচনি কমিটি আগে থেকেই কাজ করছে। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন-নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুর রব, মোহম্মদ মোবারক হোসাইন ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত। এই কমিটি প্রার্থী চূড়ান্ত করার জন্য শরিকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছে। শিগগিরই জামায়াত ও তাদের সমর্থিত জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা আসবে, যাতে থাকবে বড় ধরনের চমক।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

রাজনীতি

ঈদের পর বৃহত্তর কর্মসূচি জামায়াত-এনসিপির!

Published

on

By

জুলাই সনদ, গণভোট বাস্তবায়ন ও জুলাই সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে রাজপথে আন্দোলনের কথা ভাবছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঈদুল ফিতরের পরই কঠোর কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়েছে দল দুটি।

জুলাই আদেশে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে যে পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হয়, একইভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করার বিধান রাখা হয়েছে। সে অনুযায়ী গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতের পর (১৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের ফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। ফলে জুলাই আদেশ অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বানের শেষ সময় ছিল গত রোববার। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে সেই অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি।

এতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও কার্যক্রম শুরু হওয়া নিয়ে নতুন করে জটিলতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এ নিয়ে বিতর্ক করেন সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা।

এ প্রসঙ্গে জামায়াত ও এনসিপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের পক্ষে একাট্টা অবস্থানে থাকলেও বিএনপি সংবিধানের বাধ্যবাধকতার বিষয়টি সামনে এনেছে। সরকার বলেছে, এ ধরনের কোনো পরিষদ করতে হলে আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। দলটির নেতারা বলছেন, সংবিধানে নির্ধারিত সময় ও পদ্ধতি অনুসরণ না করলে ভবিষ্যতে এ নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপির নেতারা মনে করছেন, জুলাই আদেশের উদ্দেশ্য ছিল দ্রুত সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করা। সেই সংস্কারের পক্ষে গণভোটে জনগণ রায় দিলেও বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার সেটি বাস্তবায়ন করছেন না।

গত শনিবার জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি বৈঠকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথের আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। শিগগির শীর্ষ নেতারা বৈঠক করে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক বলেন, একই দিনে দুটি ভোট হয়েছে, দুটি অধিবেশনই ডাকার কথা। কিন্তু অধিবেশন ডাকা হয়েছে শুধু জাতীয় সংসদের। বিএনপির সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তে সংসদ সদস্যের শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি। এতে বোঝা যায়, বিএনপি সরকার গঠনের পর তাদের আগের অবস্থান থেকে ইউটার্ন নিয়েছে, সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থানে চলে গেছে। এর মাধ্যমে জাতির সঙ্গে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। যারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছে, তাদের অপমান করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এনসিপির শীর্ষস্থানীয় এক নেতা কালবেলাকে বলেন, ‘আমরা ১১ দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি নেওয়ার কথা ভাবছি। আমরা মনে করছি বিএনপি সংস্কার ও জুলাই সনদ এড়িয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এ সুযোগ আমরা দেব না। যে কোনো মূল্যে গণভোট বাস্তবায়ন হতে হবে। এর জন্য আলোচনা, রাজপথ আদালত কিংবা গণআন্দোলন সবকিছুই বিবেচনায় নিচ্ছি। ঈদের পরেই আমাদের লিয়াজোঁ কমিটির সভা রয়েছে। সেখান থেকে আসবে বড় ধরনের কর্মসূচির ঘোষণা। সরকার এ বিষয়ে ভালো সিদ্ধান্ত না নিলে আমরা বৃহত্তর কর্মসূচিতেও যেতে পারি।’

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন কালবেলাকে বলেন, ‘গণভোট বাস্তবায়ন আমরা করেই ছাড়ব। জনগণের রায় প্রত্যাখ্যান করার কোনো সুযোগ নেই। সংসদে এ নিয়ে আমরা আমাদের বক্তব্য সুস্পষ্টভাবে জানাচ্ছি। এ ছাড়া সংস্কার পরিষদ গঠনসহ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে কোনো ধরনের টালবাহানা করলে যে কোনো কঠিন পদক্ষেপও আমরা নিতে বাধ্য হব।’

এদিকে জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে জাতীয় সংসদে বিতর্ক হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে নির্ধারিত সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করায় জাতীয় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।

এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব না থাকায় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন না। রাষ্ট্রপতিও অধিবেশন ডাকতে পারেন না বলে তা করেননি। বিরোধীদলীয় নেতাকে সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনার প্রস্তাব দেন তিনি।

এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সরকার পুরোনো পথে হাঁটতে শুরু করেছে। সংস্কারের বিপক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতি যে আশা বাংলাদেশের মানুষ দেখিয়েছে, এনসিপির পক্ষ থেকে তার সর্বোচ্চ প্রতিফলন দেখাতে হবে। সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে সংসদ ও রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনকে ঘিরে সৃষ্ট অচলাবস্থা দ্রুত সমাধান না হলে রাজপথে আন্দোলনে নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও। তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার সমাধান সংসদের ভেতরেই হওয়া উচিত। সংসদের ভেতরে যদি বিষয়টির সমাধান না হয় এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন না ঘটে, তাহলে রাজপথে আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হতে পারে বিরোধী পক্ষ।’

Continue Reading

top1

পরাজিত প্রার্থীদের দায়িত্ব দিয়ে কোটার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে সরকার : জামায়াত

Published

on

By

পরাজিত প্রার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে সরকার কার্যত কোটাভিত্তিক নিয়োগের সংস্কৃতি চালু করছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, জুলাইয়ের যে স্পিরিট ছিল ‘কেটা না মেধা’ সেই মেধাকে উপেক্ষা করছে সরকার। এ ধরনের পদায়ন গণতান্ত্রিক রীতি ও জনমতের প্রতি অবজ্ঞা এবং রাজনৈতিক পুনর্বাসনের একটি কৌশল।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ১১টি সিটি করপোরেশন এবং ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে এমন ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে যারা বিগত নির্বাচনে জনগণের ভোটে পরাজিত হয়েছেন। এর মাধ্যমে সরকার মেধা ও জনসমর্থনের পরিবর্তে দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দিচ্ছে।

মাওলানা আব্দুল হালিম অভিযোগ করেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং খুলনা সিটি করপোরেশনে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন। তার ভাষ্য, জাতীয় নির্বাচনের অল্প সময়ের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে এ ধরনের নিয়োগ সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৮ বছর ধরে যে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে, বর্তমান সরকার সেই একই পথে হাঁটছে। জনমতের তোয়াক্কা না করে দলীয় ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে, যা জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থী।

জেলা পরিষদের নিয়োগ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধাসহ কয়েকটি জেলায় জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হলেও সেখানে পরাজিতদের প্রশাসক করা হয়েছে। গাইবান্ধা-৩ আসনে পরাজিত এক নেতাকে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে তিনি জনমতের অবমাননা বলে উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ নিয়েও সমালোচনা করা হয়। আব্দুল হালিম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যদের সরিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুনদের বসানো হচ্ছে। একইভাবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে একজন পেশাদারের পরিবর্তে ব্যবসায়ীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

Continue Reading

top1

পয়লা বৈশাখ কৃষক কার্ড বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী

Published

on

By

আগামী পয়লা বৈশাখ ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার কৃষকদের মাঝে এই কার্ড বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচির শুরু হচ্ছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রি-পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় কৃষক কার্ড বিতরণ করতে যাচ্ছে সরকার।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ফার্মস কার্ড বিষয়ক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, ‘আজ এ বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পয়লা বৈশাখে টাঙ্গাইল সদরসহ মোট ১১ উপজেলায় একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথম ধাপে এসব উপজেলার ২২ হাজার কৃষকের কাছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা পৌঁছে যাবে।’

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, এই কার্ড কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের চাষি ও খামারিদের দেওয়া হবে। এটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে। শুধু ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র শ্রেণির কৃষককে কৃষি উপকরণ কেনার জন্য প্রণোদনা হিসেবে বছরে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সার, বীজ, কীটনাশক ও পশু খাদ্য কিনতে পারবেন।

বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী মো. আমিনুর রশীদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, প্রধানমন্ত্রী অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ডাক টেলিডোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।

১১ উপজেলা হচ্ছে, টাঙ্গাইলের সদর, পঞ্চগড়ের সদর, পঞ্চগড়ের ভোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আর্দশ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজাবাড়ীর গোয়ালন্দ এবং মৌলভীবাজার জুড়ী।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপির অঙ্গীকার ছিল দেশের কৃষকদের সহায়তার জন্য ফার্মাস কার্ড তথা কৃষক কার্ড চালু করা হবে।

Continue Reading

Trending