Connect with us

ক্যাম্পাস

‘জুলাই ভয়াল স্মৃতি ও আগস্টের বিজয়’

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের পরে দেশের প্রথম প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ জুলাই চব্বিশের আন্দোলনে সরব ও সতর্ক ছিলেন। ছাত্র জনতার নেতৃত্বে আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। সেই সময় শিক্ষার্থীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মহাসড়কে সক্রিয় অবস্থান নেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই অবিনাশী চেতনা স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় “জুলাই স্মৃতিকথা” নামে একটি স্মারক প্রকাশিত হয়। যার— সম্পাদনায় ছিলেন, অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান, অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান, জুলাই যোদ্ধা এস এম সুইট, সাদিক আহমদ, ইমতিয়াজ আহমেদ ইমন ও চয়ন হোসেন।

‘জুলাই স্মৃতিকথা’ স্মারকে ৫৩টি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর লেখা স্থান পেয়েছে। তন্মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের লেখা ‘জুলাইয়ের ভয়াল স্মৃতি ও আগস্টের বিজয়’ পাঠকদের সুবিধার্থে ইবি প্রতিনিধি হুবহু তুলে ধরেছেন।

বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস জুলাই গণ-অভ্যুত্থান। যে ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী আমার মতো লাখো জনতা। শাসক যখন রক্তের নেশায় মেতে ওঠে, তার করুণ পরিণতি আমরা বইয়ের পাতায় পড়েছি কিন্তু আজ আমরাই এক নতুন ইতিহাসের জনক। নতুন ইতিহাস রচনার লক্ষ্যে সেই ভয়াল সফরের দিনগুলো আজও নাড়া দেয়। কত অনিশ্চয়তা, কত নির্ঘুম নির্বাসিত রাত, সহস্র ঘণ্টার মানসিক চাপ আমরা পার করে এসেছি। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনের আগে গত ১৬ বছরে যে জুলুম নির্যাতন হয়েছে তা আজও আমাকে তাড়িত করে। দেশের এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে মাঝে মাঝে অবিশ্বাস্য মনে হয়। একটা কালো শক্তির হাতে বাংলাদেশ বন্দী হয়ে গিয়েছিল। কণ্ঠস্বর থেমে গিয়েছিল মুক্তিকামী মানুষের। ঘরে ঘরে চাপা আর্তনাদ।

ইলিয়াস আলী সহ নাম না জানা হাজারো মানুষ হাসিনার ফ্যাসিবাদের ছোবলে হারিয়ে গেছে। আজ সেই সব হারিয়ে যাওয়া বিপ্লবীদের কথা মনে পড়ছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে সহস্র মানুষ জীবন দিয়েছেন। আজ তারা আমাদের স্মৃতিপটে বেঁচে আছেন নিরবে।

২৪-এর জুলাই বিপ্লবের শুরুটা যেদিন হলো, আমরা ধারণা করিনি যে, এই আন্দোলন হাসিনার পতনের দিকে নিয়ে যাবে। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের মানুষ গণ্য করেননি। নির্বিচারে গুলি চালিয়ে সে গণহত্যা চালিয়েছে।

১৬ জুলাই, ২৪ এ আবু সাইদ, ওয়াসিম সহ ৫ জন শহিদ হলেন। তাদের উন্মুক্ত বুকে পুলিশ কাপুরুষের মতো গুলি চালালো। পরদিন মাগুরা, ঢাকা, কুষ্টিয়া, ফেনী, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে প্রায় ৫০ এর অধিক ছাত্র জনতা শহিদ হলেন। ওই সময় ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতাম। আমরা সরাসরি তাদের ব্যানারে দাঁড়াতাম না। এটা আমাদের কৌশল ছিল। আমাদের ছাত্রদলের সাধারণ কর্মীদের হাসিনার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা জাগরণে পাঠাতে লাগলাম। কঠিন সেই দিনগুলোতে ছিল গ্রেফতার আতঙ্ক।

পদে পদে ছাত্রলীগ, যুবলীগ সন্ত্রাসীদের হামলা, পুলিশ ও গোয়েন্দাদের অভিযানে আমরা তখন তটস্থ। বাড়ি থাকা যায় না। পরিচিত আত্মীয় স্বজনরা তাদের বাড়িতে আশ্রয় দিতেও সংকোচ করতেন। আমার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বেঞ্চে কয়েক ঘন্টা ঘুমাতাম। তারপরও নানা কৌশলে রাজপথে সক্রিয় থেকেছি। শিক্ষার্থীদের ব্যানারে কর্মসূচি শুরু হলে মাস্ক পরে তাতে অংশ নিতাম। অনেকেই চিনে ফেলতো। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাহস দিতাম। ক্যাম্পাসে সরাসরি যাওয়ার অবস্থা ছিল না। এজন্য বিভিন্ন পথ ঘুরে ক্যাম্পাসে আন্দোলনে অংশগ্রহন করতাম প্রিয় সহযোদ্ধাদের নিয়ে। পাশাপাশি ঝিনাইদহ শহরের আন্দোলন বেগবান করার কাজে মনোযোগ দিলাম। সারারাত জনমত তৈরির কাজ করতাম। সকাল হলেই রাজপথে।

ভয় ছিল। ছিল আতঙ্ক। আমরা জানতাম, এবার হেরে গেলে হাসিনা কাউকে বাঁচিয়ে রাখবে না। এই চিন্তা কেবল আমার একার ছিল না, এটাই সব আন্দোলনকারীদের মনোভাব ছিল। যে কারণে শত নির্যাতন সহ্য করেও আন্দোলনে হাল ছাড়েনি কেউ। পুলিশের গ্রেফতার আতঙ্ক মাথায় নিয়ে প্রতিটি মুহূর্ত কেটেছে।

সারাদেশে যখন ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ করে দেয় ফ্যাসিস্ট সরকার, তখন আমরা একটা অন্ধকারে ডুবে যায়। সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে নির্বিচারে গণহত্যা চালায় হাসিনা। কোলের শিশু, গর্ভবতী নারী শ্রমজীবী মানুষ, কেউ হাসিনার পুলিশের হাত থেকে রেহাই পায়নি। হেলিকপ্টারে করে গুলি চালিয়েছে হাসিনার খুনি বাহিনী।

যেদিন ইন্টারনেট ফের সচল হয়, সেদিন থেকেই সারাদেশে আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। আমাকে গ্রেফতার করতে গ্রামের বাড়িতে বারবার পুলিশ অভিযান চালায়। দুর্বিষহ সেসব স্মৃতি আজও মনে হলে আঁতকে উঠি। তবে আমরা বারবার ভাবছিলাম, ছাত্ররা যেন আন্দোলন থামিয়ে না দেয়। আমরা সেই লক্ষ্যে যোগাযোগও রেখে যাচ্ছিলাম।

সর্বোপরি, ১ আগস্ট থেকে হাসিনা পতনের ১ দফার আন্দোলন শুরু হলে আমরা সর্বশক্তি দিয়ে রাজপথে নেমে পড়ি। বিশেষ করে, সকালের দিকে ক্যাম্পাসে এবং বিকালে ঝিনাইদহের রাজপথে আমি ও আমার স্থানীয় সহকর্মীদের নিয়ে প্রতিদিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখি। ৩ জুলাই থেকে সারাদেশে হাসিনার খুনি বাহিনী বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে। আগুন দেয় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয় অসংখ্য রাজনৈতিক কার্যালয় ও বিএনপি নেতাদের বাড়ি।

আর এই ঘৃণ্য অপকর্মের মধ্য দিয়ে হাসিনা তার পতনের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়। ৫ আগস্ট সর্বসাধারণের গণ বিস্ফোরণে হাসিনা তার মনিব রাষ্ট্র ভারতে পালিয়ে যায়। রচিত হয় নতুন বাংলাদেশের মাথা উচু করে ঘুরে দাঁড়ানোর এক নতুন ইতিহাস।

লেখক: সাহেদ আহম্মেদ, ইবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাম্পাস

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ইবি ইউট্যাবের শুভেচ্ছা

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলটিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রশিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ শুভেচ্ছা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা রেস্তোরাঁয় এক কর্মী সম্মেলনের মধ্য দিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার মূল্যবোধ ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনের ওপর ভিত্তি করে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়। এরপর দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপি সফলভাবে বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনা করে।

শহীদ জিয়ার পরিবার ও দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে একাধিক মিথ্যা মামলা, নির্যাতন এবং হয়রানি চালানোর কথা বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে। এ ছাড়াও দীর্ঘ আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসন ও দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ ও অসন্তোষ তীব্র রূপ ধারণ করে বলেও বলা হয় এতে।

বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের কথা তুলে ধরে বলা হয়, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে এবং অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। এতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে খালেদা জিয়া কারামুক্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো থেকেও তিনি অব্যাহতি পান।

বিবৃতির শেষাংশে, গণতন্ত্র, দেশপ্রেম ও অধিকার আদায়ের দীর্ঘ ঐতিহাসিক পথপরিক্রমায় দেশনায়ক তারেক রহমানসহ বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং দেশের সাধারণ জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানায় ইউট্যাব ইবি শাখা।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

ববিতে আবৃত্তি আসর, বরিশাল এর উদ্যােগে বিশ্ব চিঠি দিবস উদযাপন

Published

on

By

ববি প্রতিনিধি

আবৃত্তি আসর, বরিশাল এর উদ্যোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) আয়োজিত হলো বিশ্ব চিঠি দিবস উপলক্ষে চিঠিপাঠ ও আবৃত্তির এক ভিন্নধর্মী আয়োজন। আজ মঙ্গলবার ( ১লা সেপ্টেম্বর ) বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে আবৃত্তিকারদের কন্ঠে পঠিত হয়েছে ইতিহাসের বিখ্যাত কিছু চিঠি। এছাড়াও চিঠি দিবস কেন্দ্রিক বিখ্যাত কিছু কবিতা পাঠ সহ উপস্থিত সবাই নিজেদের মধ্যে চিঠির বিনিময়ের মাধ্যমে চিঠি দিবসকে করে তুলেছে আরো বেশি উপভোগ্য ও স্মরণীয়।

আবৃত্তি আসরের সদস্য সাইফ উদ্দিন বলেন, “চিঠির মাঝে আমাদের এক নতুন সত্তা ফুটে ওঠে। বর্তমান যুগে এই প্রচলন আমাদের নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। শিল্প ও সাহিত্য চর্চাকে আরো বেশি শানিত করে। আজকে উপস্থিত সবার মধ্যে পারস্পরিক চিঠি বিনিময় যেন নতুন এক সেতুবন্ধন তৈরি করেছে আমাদের মাঝে।”

আবৃত্তি আসরের সদস্য সচিব আবু সাঈদ জানান,” বর্তমান অনলাইনের যুগে চিঠি আদান-প্রদানের অভ্যাস বিলুপ্ত প্রায়। হারিয়ে যাওয়া সেই সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করতেই আমাদের এই প্রয়াস।”

আবৃত্তি আসর, বরিশাল এর এই চমকপ্রদ আয়োজন আবৃত্তিকারদের মধ্যে এক নতুন উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

শাবিতে প্রক্টরদের হাত থেকে পালিয়ে গেল মাদক সরবরাহকারী

Published

on

By

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক এক মাদক সরবরাহকারী প্রক্টরদের হাত থেকে পালিয়ে গেছেন। এ সময় তার ফেলে যাওয়া মোবাইল ফোন, তিনটি সিম কার্ড, চারটি ইয়াবা, দুই পুঁটলি গাঁজা ও একটি পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তি বরিশাল জেলার সৌরভ হাসান (২৪)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে এম জামাল অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের অধীনে অস্থায়ী নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন বলে জানা।গেছে।

নিরাপত্তাকর্মী ও প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় প্রধান ফটক এলাকায় নিরাপত্তাকর্মীরা ইয়াবা ও গাঁজাসহ সৌরবকে আরও তিনজনের সঙ্গে আটক করেন। পরে বিষয়টি প্রক্টরদের জানানো হলে চারজনকে প্রক্টর অফিসে নেওয়া হয়।

প্রক্টর অফিসে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সৌরভ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক সেবনকারী ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের তথ্য দেন বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের আটক করতে তাকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প এলাকায় যান প্রক্টররা।

সেখানে পৌঁছানোর পর প্রক্টরদের কাছ থেকে অভিযুক্ত পালিয়ে যান। এ সময় তিনি সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, তিনটি সিম কার্ড, চারটি ইয়াবা, দুই পুঁটলি গাঁজা ও পরিচয়পত্র ফেলে যান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো বেলাল হোসাইন শিকদার বলেন, “নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে প্রতিদিনের মতো সেদিনও আমরা টহল দিচ্ছিলাম। প্রধান ফটকে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা মাদকসহ কয়েকজনকে আটক করার খবর দিলে আমরা সেখানে যাই। পরে মাদক সরবরাহকারীকে আটক করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসি।”

এসময় “জিজ্ঞাসাবাদে সে আরও কয়েকজনের তথ্য দিলে তাদের ধরতে তাকে সঙ্গে নিয়ে যাই। সেখানে গিয়ে সে পালিয়ে যায়। তবে তার কাছে থাকা মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, ইয়াবা ও গাঁজা রেখে যায়। পরে পুলিশকে খবর দিয়ে উদ্ধার করা জিনিসগুলো তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে বলা হয়েছে।”

তবে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ (ওসি) শামসুল হাবিব বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। চারটি ইয়াবা, দুই পুঁটলি গাঁজা, একটি মোবাইল ফোন ও জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে আটকের জন্য আমাদের অভিযান ও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

Continue Reading

Trending