Connect with us

top1

তারেক রহমানের সফরে চাঙ্গা তৃণমূল, ভুলছে বিভেদ

Published

on

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলের বিজয় ত্বরান্বিত করতে তৃণমূলে প্রচারে নেমেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের সদ্যপ্রয়াত চেয়ারপারসন মা খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত শোককে শক্তিতে পরিণত করে সরাসরি নেমে পড়েছেন ভোটের মাঠে। সিলেটে জনসভার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর এখন পর্যন্ত ঢাকাসহ ১২টি জেলায় নির্বাচনী সমাবেশ করেছেন তিনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোট সামনে রেখে তারেক রহমানের এই নির্বাচনী সফরে একদিকে সংগঠনের তৃণমূল যেমন আরও চাঙ্গা হচ্ছে, তেমনি দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীদের ‘ম্রিয়মাণ’ করে ধানের শীষের পক্ষে জোয়ার সৃষ্টি হচ্ছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট হবে। তপশিল অনুযায়ী, গত বুধবার প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী প্রচারে নেমে পড়েছে নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো। ওইদিন রাতে সিলেটে দুই সুফি সাধক হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের পরদিন সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওইদিন সিলেটের পর আরও ছয় জেলা মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে সমাবেশ করে ঢাকায় ফেরেন তিনি।

এরপর গত শুক্রবার রাতে নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ আসনের আওতাধীন রাজধানীর ভাসানটেকের বিআরবি ময়দানে আয়োজিত জনসভায়ও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনের পাশাপাশি বগুড়া-৬ (সদর) আসনেও ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন তারেক রহমান।

শুক্রবার ঢাকায় নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেওয়ার পর শনিবার রাতে চট্টগ্রামে যান বিএনপি চেয়ারম্যান। গতকাল রোববার চট্টগ্রামসহ চার জেলায় ছয়টি নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন তিনি। এই সফরে তারেক রহমানের প্রথম নির্বাচনী সমাবেশ হয় চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ডে। এরপর বিএনপি চেয়ারম্যান ফেনী পাইলট স্কুল মাঠ, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাই স্কুল মাঠ, সুয়াগাজীর ডিগবাজি খেলার মাঠ, দাউদকান্দি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ এবং নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বালুর মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন। দিনের কর্মসূচি শেষ করে গভীর রাতে গুলশানের বাসায় ফেরেন তিনি।

তারেক রহমানের প্রতিটি জনসভায় সংশ্লিষ্ট জেলার সব সংসদীয় আসনের ধানের শীষ ও বিএনপি জোটের সব প্রার্থীকে তার সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত থাকতে দেখা যাচ্ছে, যাদের তিনি উপস্থিত জনতার সামনে একে একে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। একই সঙ্গে জনগণের কল্যাণে বিএনপির পরিকল্পনা তথা রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং মসজিদ-মাদ্রাসাভিত্তিক ধর্মীয় নেতাদের জনকল্যাণমুখী কর্মকাণ্ড কীভাবে এগিয়ে নেবেন, তা তুলে ধরছেন। আগামী নির্বাচনকে ‘দেশ গড়ার নির্বাচন’ হিসেবে অভিহিত করে প্রতিটি জনসভায় ধানের শীষ এবং জোট প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারম্যান এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের বাকি বিভাগীয় শহরসহ সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোয় জনসভা করবেন। একদম সাদামাটা ভঙ্গিমায় প্রয়াত বাবা-মায়ের মতোই তিনি ছুটে যাচ্ছেন তৃণমূলে। বিএনপি নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের এই নির্বাচনী মুভমেন্টের মধ্য দিয়ে সারা দেশে ধানের শীষ ও জোট প্রার্থীদের পক্ষে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, যা নির্বাচনে বিএনপির বিজয় নিশ্চিতে সহায়ক হবে। এ ছাড়া এর মধ্য দিয়ে দলের বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দমে গিয়ে ‘ম্রিয়মাণ’ হয়ে পড়ছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া এসব নেতাকে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে দেখছে বিএনপি। নির্বাচনে থাকা দলের এমন অন্তত ৭১ নেতাকে এরই মধ্যে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

নির্বাচন সামনে রেখে তারেক রহমানের তৃণমূলে এই সফরগুলো যে কোনো সময়ের বিবেচনায় অন্য যে কোনো সফরের চেয়ে ‘অত্যন্ত সফল কর্মসূচি’ বলে মনে করেন বিএনপি ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি কালবেলাকে বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন। স্বাভাবিক কারণেই তার ব্যাপারে, বিশেষ করে তাকে দেখার জন্য দেশের মানুষ খুবই আগ্রহী। তার প্রতি মানুষের যে আগ্রহ এবং বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের যে মমত্ববোধ, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা—সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই সফরগুলোর প্রতিটিতেই মানুষের সমাগম, আগ্রহ, সমর্থন সব দিক থেকেই উল্লেখযোগ্য, যা ভোটের আগে একটি ইতিবাচক রাজনীতিরই লক্ষণ।

তিনি দাবি করেন, বিএনপি চেয়ারম্যানের এই সফরগুলোর মধ্য দিয়ে মোটাদাগে তিনটি কাজ হচ্ছে। এক. কোনো বিভেদ-দ্বন্দ্ব থাকলে তা কেটে গিয়ে বিএনপির তৃণমূল আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হচ্ছে। দুই. দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপির যেসব নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে রয়ে গেছেন, তারা ‘ম্রিয়মাণ’ হয়ে পড়ছেন। তিন. সারা দেশে ধানের শীষের পক্ষে জোয়ার সৃষ্টি হচ্ছে।

নির্বাচন সামনে রেখে তারেক রহমানের সফর তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপিকে আরও চাঙ্গা করার পাশাপাশি দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ‘আড়ালে ঠেলে দিচ্ছে’ বলে অভিমত রাজনীতি বিশ্লেষকদেরও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান কালবেলাকে বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘদিন পর লন্ডন থেকে দেশে এসেছেন। স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূলে তার এই সফর দরকার ছিল। বিএনপি চেয়ারম্যানের এই সফর তৃণমূলে সংগঠনকে আরও চাঙ্গা করছে।

তিনি বলেন, এখন নির্বাচন না হলেও নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য, তাদের উদ্দীপ্ত করার জন্য তারেক রহমানকে তৃণমূলে যেতে হতো। জনগণকে সরাসরি আকর্ষণ-আকৃষ্ট করতে তাদের সামনে হাজির হতে হয়, এ ক্ষেত্রে জনসভার বিকল্প নেই। নির্বাচন সামনে রেখে সভা-সমাবেশের মাধ্যমে তিনি তার সম্মোহনী শক্তির বহিঃপ্রকাশের পাশাপাশি নিজেদের এজেন্ডা, আদর্শ মানুষের কাছে তুলে ধরছেন। ফলে এই সফরের ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে দলের রাজনীতিতেও, যা বিএনপির জন্য নির্বাচনী বৈতরণি পার হতে সহায়ক হবে।

তারেক রহমান এসব সফরের মধ্য দিয়ে প্রতীকের পাশাপাশি দলীয় এবং জোটের প্রার্থীকে পরিচিত করাচ্ছেন উল্লেখ করে মাহবুবুর রহমান বলেন, এর মধ্য দিয়ে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থীকে এক ধরনের ‘প্রান্তিক’ করছেন। কারণ, বিএনপির সর্বোচ্চ নেতা যখন দলীয় প্ল্যাটফর্মে-ফোরামে হাজার হাজার মানুষের সামনে দলের এবং জোটের প্রার্থীকে নিজে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন, তখন দল এবং স্থানীয় নেতাকর্মী ও মানুষের কাছে বিদ্রোহী প্রার্থীদের আর তেমন কোনো অবস্থান থাকছে না। এর মধ্য দিয়ে জনগণের কাছে এই বার্তা যাচ্ছে যে, বিএনপি চেয়ারম্যান তাকে ‘ওন’ করছেন না। এভাবে ওই লোকটা ‘নিঃসঙ্গ’ হয়ে যাচ্ছেন, প্রান্তিক হয়ে পড়ছেন। দল থেকে বহিষ্কার করার চেয়েও এটা আরও বড় ফল বয়ে আনছে।

এই রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, তারেক রহমানের অনুপস্থিতিজনিত কারণে বিএনপি যে অবস্থায় ছিল, তিনি দেশে আসার কারণে সেই বিএনপির মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্য বাড়ছে, নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ-উদ্দীপনা-উৎসাহ তৈরি হচ্ছে, বিভেদ ভুলে তারা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। তাই বলতে হবে, তারেক রহমান দেশে না থাকলে নির্বাচনে যে ফল হতো, এখন তার সরাসরি নেতৃত্বের সম্মোহনী শক্তির ফলে চাঙ্গা তৃণমূলের কারণে দল আরও ভালো ফলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

অতিরিক্ত ভাড়া ফেরতের নামে ধোঁকাবাজি চলছে: বিরোধীদলীয় নেতা

Published

on

By

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, ঈদের সময় যাত্রীরা টিকেট কিনতে গিয়ে দেখেছেন অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি। যে আশা নিয়ে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা করবে, সেমাই খাবে, তার আনন্দ তো এখানেই মাটি হয়ে গেল।

জনগণের সঙ্গে ধোকাবাজি চলছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, মন্ত্রী বলেছেন, অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দেওয়া হবে। দেশবাসীর প্রশ্ন, লাখ লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়েছে। এই বিপুলসংখ্যক মানুষের নিকট তিনি ফেরতকৃত টাকা পৌঁছাবেন কীভাবে? এটা দেশবাসীর সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।

সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের নিজ এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নির্বাচন শেষ হয়েছে। অনিয়ম হলেও আমরা তা মেনে নিয়েছি, যাতে দেশটা অচল না হয়। আপনারা যদি সঠিক ধারায় ফিরে না আসেন তাহলে সারাদেশের মানুষ কিন্তু জুলাই যোদ্ধা। এই মানুষগুলো আপনাদের ক্ষমা করবে না।

তিনি বলেন, আমরা সরকারের কণ্ঠে শুনতে চাই, ‘আর বাংলাদেশে চাঁদাবাজি হবে না, মানুষের ওপর জুলুম করা হবে না।’ আমরাও সরকারকে দৃঢ় কণ্ঠে বলতে চাই, যদি সরকার কথা ও কাজে এটা প্রমাণ করতে পারেন, আমরা সরকারের সকল ইতিবাচক কাজে সহযোগিতা করবো, সমর্থন করব। কিন্তু যে পদক্ষেপ জনস্বার্থের বিপক্ষে যাবে আমরা তার প্রতিবাদ করব। এতেও কাজ না হলে, আমরা প্রতিহত করবো।

প্রাণবন্ত এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর আমির মো. ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলা নায়েবে আমির হাফেজ মাওলানা আনোয়ার হোসাইন খাঁন, সাবেক জেলা আমির মো. আব্দুল মান্নান, মহানগরী মজলিসে শূরা সদস্য আব্দুস সালাম আল মাদানী, জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামির আলী, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমেদ, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইন, সাবেক জেলা সেক্রেটারি খন্দকার আব্দুস সোবহান ও আব্দুল হামিদ খান, উপজেলা নায়েবে আমির জাকির আহমেদ, সেক্রেটারি বেলাল আহমদ চৌধুরী, উপজেলা শূরা সদস্য রাজানুর রহিম ইফতেখার, জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মো. ফরিদ উদ্দিন, শহর সভাপতি কাজী দাইয়ান আহমেদ প্রমুখ।

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ঈদের প্রচণ্ড ব্যস্ততার মাঝেও নিজ এলাকায় আসায় জনগণের মাঝে বেশ উচ্ছাস সৃষ্টি হয়। বাড়িতে প্রবেশের আগে তিনি নিজ গ্রামের কবরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তাকে বিশাল মোটর সাইকেল বহর নিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৪ হাজার মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মেহমানদের সঙ্গে তিনি দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন।

Continue Reading

top1

কলার মোচা দেখিয়ে ট্রেন থামালেন বৃদ্ধ, বাঁচল কয়েকশ যাত্রীর প্রাণ

Published

on

By

উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে দৃষ্টান্ত গড়লেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর দিনমজুর এনামুল হক (৬৫)। কলার মোচা দেখিয়ে ট্রেন থামিয়ে কয়েকশ যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৩ মার্চ) ঈদের তৃতীয় দিন সকাল সাড়ে ৬টায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী-বিরামপুর রেলওয়ের মধ্যবর্তী স্থানে এ ঘটনা ঘটে । এনামুল হক ওই এলাকার পূর্ব চণ্ডীপুর গ্রামের মৃত ফজলুল হক সোনারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ফুলবাড়ী-বিরামপুর রেলওয়ের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ব চণ্ডীপুর এলাকায় এনামুল হক রেললাইনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী-ঢাকা রেলপথের প্রায় এক ফুট অংশ ভাঙা দেখতে পান।

তাৎক্ষণিক তিনি আশপাশের লোকজনকে ডেকে রেলওয়ের অফিসে ফোন করতে বলেন। সেই সঙ্গে দ্রুত পাশের একটি কলাবাগান থেকে কলার মোচা ভেঙে এনে পাপড়ি (মোচার অংশ) লাঠিতে বেঁধে রেললাইনে দাঁড়িয়ে যান।

দাড়ানোর মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যেই ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী আন্তঃনগর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি কাছাকাছি চলে আসে। কিন্তু এনামুলের হাতে ‘লাল পতাকা’ দেখে ট্রেনটি দূর্ঘটনার আশংকায় নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে যায়।

এনামুলের উপস্থিত বুদ্ধিতে কয়েকশ যাত্রী ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যান। প্রতিদিন ওই পথে ঢাকা, রাজশাহী, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, পার্বতীপুর, চিলাহাটিসহ উত্তরাঞ্চলে ১৫-২০টি ট্রেন যাতায়াত করে।

এদিকে এনামুল হকের কথায় ওই গ্রামের একরামুল হকের ছেলে শাহিনুর পার্বতীপুর রেলওয়ে অফিসে ফোন করেন। খবর পেয়ে আধা ঘণ্টা পর রেলওয়ের প্রকৌশলী টিম ও শ্রমিকরা এসে বিকল্প ব্যবস্থায় ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করেন।

বর্তমানে রেললাইন সম্পূর্ণ মেরামত সম্পন্ন হয়েছে এবং রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

পূর্ব চণ্ডীপুর গ্রামে এনামুল হকের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই ঘটনার পর তিনি কাজের সন্ধানে ফরিদপুর জেলার উদ্দেশে বেরিয়ে গেছেন।

রেলওয়ে অফিসে ফোন করে খবর দেওয়া ব্যক্তি শাহিনুরের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, প্রতিবেশি এনামুল হক ঘুম থেকে ডেকে তুলে তাকে বিষয়টি জানান। সেটি শুনে তিনি দ্রুত তার পরিচিত এক রেল কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান। পরে রেলওয়ের লোকজন গিয়ে ভেঙে যাওয়া স্থানে আটকে থাকা পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে কাঠ দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। তারপর ওই লাইন মেরামত করলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ফুলবাড়ী স্টেশনমাস্টার শওকত আলী জানান, সকাল সাড়ে ৬টায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী-বিরামপুর রেলওয়ের মধ্যবর্তী ৩৫২/৫ থেকে ৩৫২/৬ মধ্যে রেললাইন ভেঙে যাওয়ার খবর পান তারা। দ্রুত প্রকৌশলী টিম গিয়ে রেললাইন মেরামত করে। বর্তমানে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ সময় আধা ঘণ্টার অধিক সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।

স্টেশনমাস্টার জানান, এলাকাবাসীর সচেতনতার কারণে আজ একটি ট্রেন দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল।

Continue Reading

top1

সামনে কঠিন সময়, তেল ও জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে: এলজিআরডি মন্ত্রী

Published

on

By

এলজিআরডি মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধটা আমাদের খুব ক্ষতি করছে। সামনে কঠিন সময়, তেলের দাম বেড়ে যাবে, সেই সঙ্গে বাড়বে জিনিসপত্রের দাম। সেগুলো সয়ে নিয়ে আমাদের আগাতে হবে।

সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের নেহা নদী পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফকরুল বলেন, আমরা কাজ করতে এসেছি, এই বৃদ্ধ বয়সেও আমাদের ছুটি নেই, প্রতিদিন সকালে অফিস করতে হয়। আমরা কাজ করে ইবাদত করে বেহেস্তে যাবো। একদল বেহেস্তের টিকিট বিক্রি করে তারাতো এবার ক্ষমতায় আসতে পারেনি। আমরা ভোট দিয়ে জান্নাতের টিকিট নেয়ার দলে না। আমরা কাজ করে আরো পরিশ্রম করে কাজ করে বেহেশতে যাব।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যুদ্ধ লেগেছে সেকারণে তেলের সরবরাহ কম কিন্তু পাম্প ভাঙচুর করা সমীচিন নয়। মবকে আমরা কঠোর হস্তে দমন করব। গায়ের জোরে আইনের বাইরে কোনো কাজ করতে দেব না।’ 

মন্ত্রী বলেন, ‘গম ঝড়-বৃষ্টিতে পড়ে গেছে। আলু বৃষ্টিতে শুয়ে পড়েছে। আমাদের কৃষকের ভাগ্য এটাই। এসব সমস্যা আমরা বুঝি। নির্বাচনের আগে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম কৃষি ঋণ মওকুফের। আমরা করে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকদের সাহায্য হবে এমন কাজগুলো করছেন। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে কয়েক কোটি মহিলাকে কার্ড দেওয়া হবে। এটার মাধ্যমে তারা সহযোগিতা পাবে। আমাদের সব প্রজেক্টগুলো সম্পন্ন করা হবে। গোটা দেশে ২০ হাজার খাল খনন করা হবে।’

Continue Reading

Trending