Connect with us

top1

দিল্লিতে হাসিনার বাসায় গোপন বৈঠক: দেশজুড়ে চোরাগোপ্তা হামলার পরিকল্পনা

Published

on

ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতৃত্ব প্রতিবেশী দেশ ভারতের রাজধানী দিল্লিকে তাদের প্রধান রণকৌশল প্রণয়নের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। সেখান থেকেই তারা দেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার মাধ্যমে সরকার পতনের নীলনকশা তৈরি করেছে। বিশেষ করে দলটির পলাতক নেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা গণহত্যা মামলার রায় ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ ১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে নাশকতার পরিকল্পনা ফাঁস হওয়ার পরই রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৩৭ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন, যাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে অস্ত্রশস্ত্র। 

দিল্লিতে শেখ হাসিনার গোপন আস্তানা থেকেই চলছে নাশকতার গোপন প্রস্তুতি। তবে আন্দোলন পরিচালনার কৌশল নিয়ে মা শেখ হাসিনা এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের মধ্যে গত ৪ নভেম্বর কথাকাটাকাটি হয়। পুতুল মাকে এই মুহূর্তে চুপ থাকার অনুরোধ করলে তিনি ক্ষেপে যান বলে হাসিনার ওপর নজরদারিতে নিয়োজিত ঢাকার নিরাপত্তা বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, দিল্লির অভিজাত লুটিয়েন্স বাংলো জোনে ভারত সরকারের দেওয়া সুরক্ষিত একটি বাড়িতে শেখ হাসিনা বর্তমানে অবস্থান করছেন। তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ এশিয়া চ্যাপ্টারের প্রধানের পদ হারানোর পর থেকে সার্বক্ষণিক তার সঙ্গেই থাকছেন। বাসভবনটিকে কার্যত একটি ‘ওয়ার রুম’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখানে নিয়মিত শারীরিক চেকআপের জন্য চিকিৎসক ও নার্স এবং বড় কোনো সমস্যা দেখা দিলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ওই বাসায় থাকছেন ভারতে দায়িত্ব পালন করা সাবেক একজন হাইকমিশনার। পাশাপাশি ভারতীয় এস্টাবলিশমেন্টের পছন্দ করা একজন আইনজীবী আইনি ও গণমাধ্যমের বিষয়গুলো দেখভাল করছেন। দিল্লি প্রেস ক্লাবের একজন সাংবাদিকও সহযোগিতা করছেন। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের প্রশ্নের উত্তরগুলো তারা দেখভাল করেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র জানায়, ড. ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন নিয়ে পরিকল্পনা কীভাবে সাজানো যায় এবং দ্রুত সফলতা পাওয়া যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ নিয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল মাকে এ ধরনের তৎপরতা বন্ধ রাখার কথা বললে হাসিনা রেগে যান।

গত ১১ অক্টোবর শেখ হাসিনার দিল্লির বাসায় সাবেক সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা এবং সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠক হয়। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চার ঘণ্টাব্যাপী পলাতক শেখ হাসিনার দিল্লির গোপন বাসভবনে আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১০ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন—ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আকবর হোসেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এছাড়াও সাভার এলাকার সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও এমপি মহিউদ্দিন বাচ্চু, কক্সবাজারের সাবেক এমপি ও হুইপ সাইমুম সরোয়ার কমল, ফরিদপুরের সাজেদা চৌধুরীর ছেলে আয়মন আকবর চৌধুরী বাবলু এবং টাঙ্গাইলের সাবেক এমপি ছোট মনির বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে প্রধানত তিনটি বিষয়ে আলোচনা করা হয়—প্রথমত, সম্প্রতি ‘গুম প্রসিকিউশন চার্জে’ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ। দ্বিতীয়ত, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন জোরদার করা। তৃতীয়ত, দলকে সংগঠিত করা এবং তৃণমূলপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করাসহ ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ বিভাগীয় শহর এলাকায় সাংগঠনিক তৎপরতার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

১১ অক্টোবরের গোপন বৈঠকে কে কে ছিলেন

বৈঠকে যারা ছিলেন, তাদের নিয়েই পুতুল মায়ের কাছে প্রশ্ন তোলেন। পুতুলের বিশ্লেষণ হচ্ছে, ওই লোকগুলোর কারণেই হাসিনার এই পরিণতি হয়েছে। আর হাসিনার বক্তব্য হচ্ছে, এদের দিয়েই পরিস্থিতি পাল্টাতে হবে।

অন্য একটি সূত্র আরো নিশ্চিত করেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় হাসিনার সাবেক সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবির আহমেদের নাম সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় তিনি শেখ হাসিনার নির্দেশে গত ৯ অক্টোবর শেষ রাতে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান।

অর্থ জোগান ও নেতাকর্মীদের অসন্তোষ

নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অর্থ জোগান দেওয়া নিয়েও পলাতক নেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা গেছে। সূত্র জানায়, ১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে দেশের সব জেলা কমিটির বাছাইকৃত নেতাদের সঙ্গে গত শুক্রবার রাতে অনলাইনে বৈঠক করেন ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতারা। মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম, গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এবং ক্যাসিনো সম্রাটখ্যাত যুবলীগের সাবেক নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। বৈঠকে প্রতিটি উপজেলা থেকে অন্তত ২০০ জন করে নেতাকর্মী ঢাকায় জড়ো করার ওপর জোর দেওয়া হয়। নেতাকর্মীদের এরই মধ্যে ঢাকা এবং আশপাশের থানাগুলোয় (বিশেষ করে কেরানীগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই, দোহার, নবাবগঞ্জ, রূপগঞ্জ, ফতুল্লাসহ নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড ও চাষাঢ়া) জড়ো করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে অর্থ জোগান দেওয়ার বিষয়ে পলাতক নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে। নিজ থেকে আগ্রহী হয়ে টাকা খরচের ক্ষেত্রে অনীহা দেখাচ্ছেন নেতাদের কেউ কেউ।

তাদের বক্তব্য ছিল—অনেক অরাজনৈতিক ব্যক্তি হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন এবং অনেকে ব্যবসায়ী সেজে হাজার হাজার কোটি টাকা কামিয়েছেন। তাই বড় বড় ব্যবসায়ী গ্রুপের মধ্যে যারা সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিচ্ছে, তাদের কাছ থেকে ফান্ড নেওয়া দরকার।

এর মধ্যেই আলোচনায় উঠে আসে, শেখ পরিবারের ঘনিষ্ঠ সিকদার গ্রুপ ইতোমধ্যে সরকার ফেলে দিতে ছয় কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এর পাশাপাশি নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ আরো বাড়ে, যখন জানা যায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা আবেগী নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা শহরে গুলির মুখে মিছিল করছেন কিন্তু তাদের মাত্র দুই হাজার কিংবা পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ টাকার পরিমাণ বাড়ানোর কথা নেতাদের আলোচনায় উঠে আসে।

নাশকতার ব্লুপ্রিন্ট ও ককটেল হামলা

সূত্র জানায়, সরকারের পতন ঘটাতে নাশকতার এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার এড়িয়ে বোমা এবং ককটেলবাজি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কিছু লক্ষণও দেখা গেছে। গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের চার্চের (গির্জা) গেটে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পুলিশ জানায়, কিছুটা নিরিবিলি এলাকায় গভীর রাতে মোটরসাইকেল থেকে ককটেল নিক্ষেপ করে মূলত নিজেদের জানান দেওয়া এবং জনমনে ভীতি ছড়ানোর কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত নিয়মিতভাবে এভাবে বোমাবাজি এবং ককটেল নিক্ষেপ করা হবে বলে পরিকল্পনা নিয়েছে পলাতক ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগ।

এর আগে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ঢাকায় নাশকতার পরিকল্পনার মূল সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভারতে পলাতক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে। তাকে কৌশলগত সব সহযোগিতা দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসবির সাবেক প্রধান ভারতে পলাতক পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মনিরুল ইসলাম এবং ডিএমপির পলাতক কমিশনার হাবিবুর রহমানকে। এসএসএফের সাবেক ডিজি ও সাবেক কিউএমজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মুজিবুর রহমান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আকবর হোসেনসহ একাধিক সেনা কর্মকর্তা এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।

তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকায় অস্থিরতা তৈরির মিশন বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে পলাতক সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি লিয়াকত শিকদার, গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এবং যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ওরফে ক্যাসিনো সম্রাট। এ নাশকতার অংশ হিসেবে আদালতপাড়া ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় বোমাবাজির টার্গেট করা হয়েছে এবং অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারের বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। সরকার পতনের লক্ষ্যে নেওয়া নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বাছাইকৃত নেতাকর্মীদের ঢাকায় আনা শুরু হয়েছে এবং ওই দিন ঢাকায় লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটাতে চায় ষড়যন্ত্রকারীরা। এর মধ্যে সশস্ত্র ক্যাডাররা অস্ত্রবাজি করতে পারে বলে সরকারকে সতর্ক করা হয়েছে।

আরো জানা গেছে, নভেম্বরের মধ্যেই যদি হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলার রায় হয়ে যায়, তাহলে গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার ছক তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো থেকে মাঠপর্যায়ে এখনই সেনা মোতায়েন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান

অবশ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অভিযান জোরদার করেছে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানী ও আশপাশের থানাগুলোয় অভিযান চালিয়ে অন্তত ৩৭ জন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর মধ্যে রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এছাড়া ঢাকা জেলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ সাঁড়াশি অভিযান পলাতক নেতৃত্বের নাশকতার পরিকল্পনাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। নিয়মিত অভিযানে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হচ্ছেন।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী যদি দেশে আবার বিশৃঙ্খলা বা অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করে, তাহলে জনগণই তাদের প্রতিরোধ করবে। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিবাদ সরকার পালিয়ে গেছে। দেশ ও জনগণের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে এবং করে চলেছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

‘ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়’: এমপি নজরুলের স্ত্রীর চিরকুট

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া একাধিক হাতে লেখা চিঠি ও নোটে সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিশ্বাসভঙ্গ, ক্ষোভ এবং আত্মমর্যাদার বিষয় উঠে এসেছে। এসব লেখায় নিজেকে ‘দাবার ঘুঁটি’ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার আক্ষেপের পাশাপাশি সম্পর্কের পরিণতি নিয়েও সতর্কবার্তা রয়েছে।

জাতীয় সংসদের অফিশিয়াল প্যাডে কালো কালিতে লেখা একটি নোটে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে, লেখক একসময় বিশ্বাস নিয়ে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পরে বুঝতে পারেন, যাকে বিশ্বাস করেছিলেন তিনিই ছিলেন ‘বিপক্ষ দলের সেনাপতি’।

আরেকটি সাদা পাতায় সম্পর্কের অধিকার ও অপূর্ণতা নিয়ে লেখা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অন্য কারও স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর চেয়ে তাকে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের। একই লেখায় বলা হয়েছে, ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়—এটি হয় সম্পূর্ণ, নয়তো অপূর্ণ।

অন্য একটি নোটে ‘বন্ধুত্ব’ ও ‘গেমস’-এর প্রসঙ্গ তুলে নিজের অবস্থানকে দাবার ঘুঁটির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। লেখায় আস্থার সুযোগ নিয়ে প্রতারণার অভিযোগও করা হয়।

সংসদের প্যাডে লেখা আরেকটি অংশে ক্ষোভের পাশাপাশি সতর্কবার্তা রয়েছে। সেখানে বিশ্বাসের কারণে প্রতারিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যৎ পরিণতি সম্পর্কে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। লাল কালিতে লেখা আরেকটি সংক্ষিপ্ত নোটে নিজের আত্মমর্যাদার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া নথিগুলোর মধ্যে ‘১২-০৭-২০২৬’ তারিখ লেখা একটি আলাদা পাতাও রয়েছে। সেখানে ঘুমানোর আগে পাঠের জন্য কয়েকটি ধর্মীয় আমল ও দোয়ার তালিকা রয়েছে। এতে কালেমা, বিভিন্ন দোয়া, আয়াতুল কুরসি এবং নির্দিষ্ট সংখ্যায় দরুদ শরিফ ও ইস্তিগফারের উল্লেখ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া এসব নথির হাতের লেখা ও বিষয়বস্তু গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Continue Reading

top1

৮ দিন পর উৎপাদনে ফিরল রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট

Published

on

By

বাগেরহাট প্রতিনিধি

যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের পর আট দিন বন্ধ থাকার পর বাগেরহাটের রামপাল মৈত্রী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। ৬২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিটটি রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উৎপাদনে যায়। চালুর প্রথম দিনে ইউনিটটি থেকে ৩৬৮ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ১৩ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বয়লার অতিরিক্ত গরম হওয়া ও কারিগরি জটিলতার পর মেরামতের জন্য ভারত থেকে দুজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আনা হয়। তাঁদের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় মেরামত শেষে রোববার ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়েছে।

আনোয়ারুল আজিম বলেন, বর্তমানে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটেই বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছে। দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়িয়ে জাতীয় গ্রিডে আরও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রটিতে পর্যাপ্ত কয়লাও মজুদ রয়েছে।

রামপাল মৈত্রী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। তবে স্বাভাবিকভাবে দুটি ইউনিট একসঙ্গে চললে সাধারণত ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।

কর্তৃপক্ষ জানায়, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মাঝেমধ্যে কেন্দ্রটির কোনো একটি ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ হতে পারে। এ ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১০ সালে। ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও ভারতের এনটিপিসির মধ্যে চুক্তি সই হয়। পরে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড গঠন করা হয়।

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রাজনগর ও গৌরম্ভা ইউনিয়নের সাপমারী-কৈগর্দ্দাশকাঠি মৌজায় প্রায় ১ হাজার ৩৪ একর জমিতে কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর উৎপাদনে যায়। দ্বিতীয় ইউনিট পরীক্ষামূলক উৎপাদনে যায় ২০২৩ সালের ২৪ অক্টোবর এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে ২০২৪ সালের ১২ মার্চ।

দ্বিতীয় ইউনিটটি গত ১৩ সেপ্টেম্বর বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কেন্দ্রটির সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে যায়। এর আগে কেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল।

Continue Reading

top1

ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, হাসপাতালে ১৫৯৩

Published

on

By

ডেঙ্গুতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫৯৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৮৪ এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১ হাজার ৯৭২ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের রবিবারে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে দুইজন চট্টগ্রাম, দুইজন খুলনা, একজন ঢাকা এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে বরিশাল বিভাগে।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে- ৬৮৭ জন।

এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩২ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৭১ জন এবং দুই সিটি করপোরেশনের বাইরের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে ৩৮৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৯২ জন, বরিশাল বিভাগে ১৫৪, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৭, রাজশাহী বিভাগে ১৩৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮২, রংপুর বিভাগে ৬৫ এবং সিলেট বিভাগে ৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৫৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী। চলতি বছরে এ পর্যন্ত চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৬১০ জন।

Continue Reading

Trending