Connect with us

top1

দিল্লিতে হাসিনার বাসায় গোপন বৈঠক: দেশজুড়ে চোরাগোপ্তা হামলার পরিকল্পনা

Published

on

ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতৃত্ব প্রতিবেশী দেশ ভারতের রাজধানী দিল্লিকে তাদের প্রধান রণকৌশল প্রণয়নের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। সেখান থেকেই তারা দেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার মাধ্যমে সরকার পতনের নীলনকশা তৈরি করেছে। বিশেষ করে দলটির পলাতক নেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা গণহত্যা মামলার রায় ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ ১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে নাশকতার পরিকল্পনা ফাঁস হওয়ার পরই রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৩৭ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন, যাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে অস্ত্রশস্ত্র। 

দিল্লিতে শেখ হাসিনার গোপন আস্তানা থেকেই চলছে নাশকতার গোপন প্রস্তুতি। তবে আন্দোলন পরিচালনার কৌশল নিয়ে মা শেখ হাসিনা এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের মধ্যে গত ৪ নভেম্বর কথাকাটাকাটি হয়। পুতুল মাকে এই মুহূর্তে চুপ থাকার অনুরোধ করলে তিনি ক্ষেপে যান বলে হাসিনার ওপর নজরদারিতে নিয়োজিত ঢাকার নিরাপত্তা বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, দিল্লির অভিজাত লুটিয়েন্স বাংলো জোনে ভারত সরকারের দেওয়া সুরক্ষিত একটি বাড়িতে শেখ হাসিনা বর্তমানে অবস্থান করছেন। তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ এশিয়া চ্যাপ্টারের প্রধানের পদ হারানোর পর থেকে সার্বক্ষণিক তার সঙ্গেই থাকছেন। বাসভবনটিকে কার্যত একটি ‘ওয়ার রুম’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখানে নিয়মিত শারীরিক চেকআপের জন্য চিকিৎসক ও নার্স এবং বড় কোনো সমস্যা দেখা দিলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ওই বাসায় থাকছেন ভারতে দায়িত্ব পালন করা সাবেক একজন হাইকমিশনার। পাশাপাশি ভারতীয় এস্টাবলিশমেন্টের পছন্দ করা একজন আইনজীবী আইনি ও গণমাধ্যমের বিষয়গুলো দেখভাল করছেন। দিল্লি প্রেস ক্লাবের একজন সাংবাদিকও সহযোগিতা করছেন। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের প্রশ্নের উত্তরগুলো তারা দেখভাল করেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র জানায়, ড. ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন নিয়ে পরিকল্পনা কীভাবে সাজানো যায় এবং দ্রুত সফলতা পাওয়া যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ নিয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল মাকে এ ধরনের তৎপরতা বন্ধ রাখার কথা বললে হাসিনা রেগে যান।

গত ১১ অক্টোবর শেখ হাসিনার দিল্লির বাসায় সাবেক সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা এবং সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠক হয়। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চার ঘণ্টাব্যাপী পলাতক শেখ হাসিনার দিল্লির গোপন বাসভবনে আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১০ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন—ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আকবর হোসেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এছাড়াও সাভার এলাকার সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও এমপি মহিউদ্দিন বাচ্চু, কক্সবাজারের সাবেক এমপি ও হুইপ সাইমুম সরোয়ার কমল, ফরিদপুরের সাজেদা চৌধুরীর ছেলে আয়মন আকবর চৌধুরী বাবলু এবং টাঙ্গাইলের সাবেক এমপি ছোট মনির বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে প্রধানত তিনটি বিষয়ে আলোচনা করা হয়—প্রথমত, সম্প্রতি ‘গুম প্রসিকিউশন চার্জে’ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ। দ্বিতীয়ত, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন জোরদার করা। তৃতীয়ত, দলকে সংগঠিত করা এবং তৃণমূলপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করাসহ ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ বিভাগীয় শহর এলাকায় সাংগঠনিক তৎপরতার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

১১ অক্টোবরের গোপন বৈঠকে কে কে ছিলেন

বৈঠকে যারা ছিলেন, তাদের নিয়েই পুতুল মায়ের কাছে প্রশ্ন তোলেন। পুতুলের বিশ্লেষণ হচ্ছে, ওই লোকগুলোর কারণেই হাসিনার এই পরিণতি হয়েছে। আর হাসিনার বক্তব্য হচ্ছে, এদের দিয়েই পরিস্থিতি পাল্টাতে হবে।

অন্য একটি সূত্র আরো নিশ্চিত করেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় হাসিনার সাবেক সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবির আহমেদের নাম সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় তিনি শেখ হাসিনার নির্দেশে গত ৯ অক্টোবর শেষ রাতে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান।

অর্থ জোগান ও নেতাকর্মীদের অসন্তোষ

নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অর্থ জোগান দেওয়া নিয়েও পলাতক নেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা গেছে। সূত্র জানায়, ১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে দেশের সব জেলা কমিটির বাছাইকৃত নেতাদের সঙ্গে গত শুক্রবার রাতে অনলাইনে বৈঠক করেন ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতারা। মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম, গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এবং ক্যাসিনো সম্রাটখ্যাত যুবলীগের সাবেক নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। বৈঠকে প্রতিটি উপজেলা থেকে অন্তত ২০০ জন করে নেতাকর্মী ঢাকায় জড়ো করার ওপর জোর দেওয়া হয়। নেতাকর্মীদের এরই মধ্যে ঢাকা এবং আশপাশের থানাগুলোয় (বিশেষ করে কেরানীগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই, দোহার, নবাবগঞ্জ, রূপগঞ্জ, ফতুল্লাসহ নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড ও চাষাঢ়া) জড়ো করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে অর্থ জোগান দেওয়ার বিষয়ে পলাতক নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে। নিজ থেকে আগ্রহী হয়ে টাকা খরচের ক্ষেত্রে অনীহা দেখাচ্ছেন নেতাদের কেউ কেউ।

তাদের বক্তব্য ছিল—অনেক অরাজনৈতিক ব্যক্তি হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন এবং অনেকে ব্যবসায়ী সেজে হাজার হাজার কোটি টাকা কামিয়েছেন। তাই বড় বড় ব্যবসায়ী গ্রুপের মধ্যে যারা সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিচ্ছে, তাদের কাছ থেকে ফান্ড নেওয়া দরকার।

এর মধ্যেই আলোচনায় উঠে আসে, শেখ পরিবারের ঘনিষ্ঠ সিকদার গ্রুপ ইতোমধ্যে সরকার ফেলে দিতে ছয় কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এর পাশাপাশি নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ আরো বাড়ে, যখন জানা যায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা আবেগী নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা শহরে গুলির মুখে মিছিল করছেন কিন্তু তাদের মাত্র দুই হাজার কিংবা পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ টাকার পরিমাণ বাড়ানোর কথা নেতাদের আলোচনায় উঠে আসে।

নাশকতার ব্লুপ্রিন্ট ও ককটেল হামলা

সূত্র জানায়, সরকারের পতন ঘটাতে নাশকতার এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার এড়িয়ে বোমা এবং ককটেলবাজি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কিছু লক্ষণও দেখা গেছে। গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের চার্চের (গির্জা) গেটে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পুলিশ জানায়, কিছুটা নিরিবিলি এলাকায় গভীর রাতে মোটরসাইকেল থেকে ককটেল নিক্ষেপ করে মূলত নিজেদের জানান দেওয়া এবং জনমনে ভীতি ছড়ানোর কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত নিয়মিতভাবে এভাবে বোমাবাজি এবং ককটেল নিক্ষেপ করা হবে বলে পরিকল্পনা নিয়েছে পলাতক ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগ।

এর আগে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ঢাকায় নাশকতার পরিকল্পনার মূল সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভারতে পলাতক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে। তাকে কৌশলগত সব সহযোগিতা দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসবির সাবেক প্রধান ভারতে পলাতক পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মনিরুল ইসলাম এবং ডিএমপির পলাতক কমিশনার হাবিবুর রহমানকে। এসএসএফের সাবেক ডিজি ও সাবেক কিউএমজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মুজিবুর রহমান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আকবর হোসেনসহ একাধিক সেনা কর্মকর্তা এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।

তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকায় অস্থিরতা তৈরির মিশন বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে পলাতক সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি লিয়াকত শিকদার, গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এবং যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ওরফে ক্যাসিনো সম্রাট। এ নাশকতার অংশ হিসেবে আদালতপাড়া ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় বোমাবাজির টার্গেট করা হয়েছে এবং অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারের বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। সরকার পতনের লক্ষ্যে নেওয়া নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বাছাইকৃত নেতাকর্মীদের ঢাকায় আনা শুরু হয়েছে এবং ওই দিন ঢাকায় লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটাতে চায় ষড়যন্ত্রকারীরা। এর মধ্যে সশস্ত্র ক্যাডাররা অস্ত্রবাজি করতে পারে বলে সরকারকে সতর্ক করা হয়েছে।

আরো জানা গেছে, নভেম্বরের মধ্যেই যদি হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলার রায় হয়ে যায়, তাহলে গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার ছক তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো থেকে মাঠপর্যায়ে এখনই সেনা মোতায়েন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান

অবশ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অভিযান জোরদার করেছে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানী ও আশপাশের থানাগুলোয় অভিযান চালিয়ে অন্তত ৩৭ জন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর মধ্যে রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এছাড়া ঢাকা জেলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ সাঁড়াশি অভিযান পলাতক নেতৃত্বের নাশকতার পরিকল্পনাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। নিয়মিত অভিযানে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হচ্ছেন।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী যদি দেশে আবার বিশৃঙ্খলা বা অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করে, তাহলে জনগণই তাদের প্রতিরোধ করবে। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিবাদ সরকার পালিয়ে গেছে। দেশ ও জনগণের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে এবং করে চলেছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

৮ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থার পর কার্যক্রমে গতি

Published

on

By

রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশের পর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে গতি এসেছে। তারপরও কিছু এলাকায় শনিবারও বর্জ্য রয়ে গেছে। আবার কিছু এলাকায় খুব দায়সারাভাবে বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। ফলে সেসব জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে পশুবর্জ্য। এসব থেকে উৎকট দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

রাজধানীর পল্লবীর হাজী মার্কেট এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান আজ সকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ফেসবুকে মন্তব্য করেন, ‘আমরা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। এই এলাকায় সিটি করপোরেশন থেকে মাসে মাত্র ৫/৬ দিন ময়লা সরানো হয়। মাসের শেষ দিকে ২ দিন ঘনঘন আসে। এই কয়দিন ময়লা সরিয়ে বাসাপ্রতি মাসে ১৫০ টাকা নিয়ে যায়। ঈদের ২/৩ দিন আগের থেকে অদ্যাবধি ময়লা সরাচ্ছে না। উৎকট দুর্গন্ধে জনজীবন অতিষ্ঠ।’

পীরেরবাগের জিয়া সরণির এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সিটি করপোরেশনের অনুমতি ছাড়াই স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী রাস্তার ভেতরে পশুহাট বসিয়েছিলেন। ওই হাটের পশুবর্জ্য এখনো রয়ে গেছে। বর্জ্যের দুর্গন্ধে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ।

এদিকে গতকাল শুক্রবার রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বর্জ্য অপসারণের কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। উত্তরার দিয়াবাড়ী পশুহাট ও মেট্রোরেলের আশপাশের বর্জ্য অপসারণের চিত্র পরিদর্শন করেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মেট্রো স্টেশনের নিচের বর্জ্য অপসারণ করা হলেও হাটের বর্জ্য অনেকটাই রয়ে গেছে।

ওদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পুরোনো কিছু ওয়ার্ড ছাড়াও নতুন ওয়ার্ডগুলোতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চিত্র বেশ নাজুক। ৫২ থেকে ৫৪, ৫৮–৬১—এই ওয়ার্ডগুলোতে বর্জ্য অপসারণ করা হলেও তা দায়সারা গোছের। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা-বর্জ্য পড়ে আছে।

জুরাইনের বাসিন্দা মিজানুর রহমান সমকালকে জানান, তিনি চার-পাঁচটি ওয়ার্ড ঘুরেছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডের অবস্থা এখনো খারাপ। অনেক স্থানেই বর্জ্য রয়ে গেছে। আবার কিছু বর্জ্য অপসারণ করলেও সেটা একেবারে দায়সারা।

এদিকে ডিএসসিসি জানিয়েছে, আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৩৭ টন বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে ডাম্পিং করা হয়েছে। আর এ পর্যন্ত ২৮ হাজার ৪২৮ টন কোরবানির বর্জ্য ডিএসসিসি অপসারণ করেছে। তবে আরও কী পরিমাণ বর্জ্য রয়ে গেছে, সেটা জানাতে পারেনি। আর ডিএনসিসি কী পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ করেছে, এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্যই দিতে পারেনি।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নিজে রাজধানীর বর্জ্য অপসারণের চিত্র দেখার জন্য বের হওয়ার পর থেকে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে গতি ফিরেছে। দুই সিটি করপোরেশনের পদস্থ আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশের পর তা আরও গতি পায়। রাতেই বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়

Continue Reading

top1

জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানাল ভারতীয় হাইকমিশন

Published

on

By

শহীদ রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে তার স্মরণে একটি বিবৃতি দিয়েছে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন।

শনিবার (৩০ মে) নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিবৃতি দেয় ভারতীয় হাইকমিশন।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ যখন জিয়াউর রহমানের স্মরণে সমবেত হয়েছে, তখন ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে তার সেই ঐতিহাসিক বেতার ভাষণের কথা স্মরণ করা হচ্ছে, যা দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেছিল এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করেছিল।

আরও বলা হয়, সেই ভাষণ জনগণকে জাতীয় মুক্তির সংগ্রামের পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহ জুগিয়েছিল।

ভারতীয় হাইকমিশন তাদের বার্তায় উল্লেখ করে, ১৯৭১ সালের মতো আজও ভারত বাংলাদেশের জনগণের পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে তারা দুই দেশের জনগণের অভিন্ন আত্মত্যাগ, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির যৌথ যাত্রার কথাও তুলে ধরে।

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এই বার্তায় তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানায় ভারতীয় হাইকমিশ

Continue Reading

top1

সাড়ে নয় বছর জেল খেটে অবশেষে খালাস পেলেন সেই তিন ছাত্রী

Published

on

By

প্রায় সাড়ে নয় বছর ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের তিন ছাত্রীর ক্ষেত্রে। জঙ্গিবাদের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দিয়েছেন।

গত ২৪ মে জেলা ও দায়রা জজ আদালত পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে এই তিন ছাত্রীকে অব্যাহতি প্রদান করেন।

শনিবার (৩০ মে) মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, এই শিক্ষার্থীদের জঙ্গি তকমা দিয়ে রাষ্ট্র বা তদন্ত সংশ্লিষ্টরা কী অর্জন করেছে? তাদের কাছ থেকে কোনো অবৈধ বা নিষিদ্ধ বস্তু পাওয়া যায়নি, কেবল কোরআন, হাদিস এবং ডা. জাকির নায়েকের কিছু বই উদ্ধার করা হয়েছিল। অথচ জঙ্গি তকমার কারণে অভিযুক্তদের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাদের খালাস দিয়েছেন।

পরিবার চাইলে রাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে জানিয়ে বদিউল আলম সুজন আরও বলেন, সেক্ষেত্রে আমরা আইনগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে এ মামলার পেছনে কারা ভূমিকা রেখেছে, তা চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানাই।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই রাতে কুমিল্লা শহরের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলে যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ, র‌্যাব, সিআইডি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। অভিযানের সময় হলের ২০২ নম্বর কক্ষে অবস্থানরত তিন ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাদের কক্ষ তল্লাশি চালানো হয়।

তল্লাশিকালে কক্ষ থেকে কয়েকটি ধর্মীয় ও ইসলামী বিষয়ক বই জব্দ করা হয়। জব্দকৃত বইয়ের মধ্যে ছিল ড. জাকির নায়েকের লেকচার সমগ্র, ‘আদর্শ পরিবার পরিবেশ’, ‘পরকালের প্রস্তুতি’ এবং ‘ইসলামী আন্দোলনের পথ ও পাথেয়’ শীর্ষক গ্রন্থ।

পরে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশির পর তিন ছাত্রীকে জঙ্গিবাদের অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

ঘটনাটি সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিছুদিন কারাভোগের পর তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।

এরপর মামলাটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং উচ্চ আদালতসহ বিভিন্ন বিচারিক ধাপ অতিক্রম করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার একপর্যায়ে আদালত অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ না পাওয়ায় গত ২৪ মে তিন শিক্ষার্থীকে খালাসের আদেশ দেন।

রায়ের পর শিক্ষার্থীরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় এক দশক ধরে চলা একটি কঠিন অধ্যায়ের অবসান হয়েছে। তারা আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

মামলার শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের পক্ষে আইনি সহায়তা প্রদান করেন অ্যাডভোকেট শহীদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন এবং অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম মনির

Continue Reading

Trending