নড়াইল জেলা সমিতি, রাজশাহীর উদ্যোগে নিজ জেলায় জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা এবং ইফতার মাহফিল। গতকাল বুধবার (১৯ মার্চ) নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা ভবনের কনফারেন্স কক্ষে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) নড়াইল জেলার শতাধিক সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘ দিন পর নাড়ির টানে নিজ জেলায় এসে বড় ভাই-বোন ও অনুজদের সাথে একত্রিত হতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন সকলে।
oplus_2097154
আয়োজনে উপস্থিত সাবেক শিক্ষার্থীরা তাদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, “আমরা যারা নড়াইলের মানুষ আছি, তারা সব সময় একটি পরিবারের মতো থাকার চেষ্টা করি। আজ নিজ জেলায় এই আয়োজন আমাদের সেই বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করল। পেশাগত জীবনে আমরা যে যেখানেই থাকি না কেন, জেলার উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব।”
Oplus_19005442
আয়োজনের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব নিয়ে নড়াইল জেলা সমিতি রাজশাহীর সভাপতি দিপু বিশ্বাস বলেন, “আমরা রাজশাহীতে পড়াশোনা করলেও আমাদের শেকড় এই নড়াইলে। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল সাবেক ও বর্তমানদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করা। বিশেষ করে যারা নতুন ভর্তি হয়েছে, তারা যেন অগ্রজদের অভিজ্ঞতা থেকে দিকনির্দেশনা পেতে পারে, সেই চেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।”
oplus_2097154
সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাজিউর রহমান তাঁজ বলেন, “নড়াইল জেলা সমিতি রাজশাহী সব সময় শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল এবং থাকবে। নিজ জেলায় এই ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে আমরা একে অপরের আরও কাছাকাছি আসার সুযোগ পেলাম। আগামীতে আমরা জেলার সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আরও গঠনমূলক কাজ করার পরিকল্পনা করছি।”
oplus_2097154
বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থী ওসামা হোসেন নাহিদ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর নড়াইল জেলা সমিতির অগ্রজদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেয়েছি, তা অতুলনীয়। আজ নিজ জেলার মাটিতে ক্যাম্পাসের বড় ভাই ও নড়াইলের কৃতি সন্তানদের সাথে ইফতার করতে পেরে আমি গর্বিত। এমন আয়োজন আমাদের মতো নতুনদের অনেক উৎসাহিত করে।”
oplus_2
ইফতারের আগে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় এবং নড়াইল জেলা সমিতির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি চেয়ে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এরপর সকলে মিলে একসঙ্গে ইফতারে অংশগ্রহণ করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি নড়াইলের কৃতি সন্তানদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দপ্তরের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক র্যাংকিং উন্নয়ন ও একাডেমিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান, এশিয়ায় ইরাসমাস প্লাস ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্টস (ইএনএফপিএস) নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় সহায়তা কার্যক্রমের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ড. আশিকুর রহমান, আইকিউএসি (ইন্টারনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দুর রহমান, গবেষণা ও সম্প্রসারণ সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, বিভিন্ন অনুষদের নবনিযুক্ত ডিন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান।
আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে ড. আশিকুর রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং কোনো প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়; বরং এটি একটি প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কার্যক্রমের প্রতিফলন। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত কর্মপরিবেশ, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা, গবেষণাবান্ধব পরিবেশ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়নের ধারাবাহিক উদ্যোগ থাকলে সেই প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে যায়। বিচ্ছিন্ন কোনো সাফল্যের চেয়ে প্রতিষ্ঠানের সব অংশীজনের সম্মিলিত অগ্রগতি আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে।”
তিনি আরও বলেন, ‘কিউএস, টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই), সাংহাই র্যাংকিং এবং সিমাগো-সহ আন্তর্জাতিক র্যাংকিং ব্যবস্থার বিভিন্ন মূল্যায়ন সূচক বিবেচনা করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করতে হবে।’
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান বলেন, “ড. আশিকুর রহমান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং ও উচ্চশিক্ষা উন্নয়ন বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বাস্তবসম্মত করণীয় নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় উপাচার্য গবেষণা পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সম্পৃক্ততা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, যৌথ গবেষণা প্রকাশনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এসব আলোচনার ভিত্তিতে এক বছর মেয়াদি একটি রোডম্যাপ প্রণয়নের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে মতৈক্য হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে ধাপে ধাপে এগোতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তবতা, সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে আরও ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে বলে আমরা আশাবাদী।”
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নৈশকালীন পোস্টারিংয়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যায় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি। একই সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মূখ্য সংগঠক যায়েদ বিন ওসমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে একাধিক হত্যাকাণ্ডের পরও নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন অপতৎপরতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম দুর্বলতা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতারই প্রমাণ। এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি তিন দফা দাবি জানায়। দাবিগুলো হলো— ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, ক্যাম্পাসে কার্যকর ও দৃশ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপতৎপরতা রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুনরায় ঘটলে এর দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ বাড়াতে নকআউট পর্বের চূড়ান্ত চার ম্যাচের জন্য নতুন ফুটবল উন্মোচন করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ধারাবাহিকতায় এবারও সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ও ফাইনালের জন্য আনা হয়েছে বিশেষ বল ‘ট্রিওন্ডা ফাইনাল’।
জমকালো এই বলটির সোনালি ও কালো রঙের বিশেষ নকশা টুর্নামেন্টের শেষভাগের মহোৎসবকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন বলের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে এর নকশা ও রঙে এসেছে ভিন্নতা। কালো বেসের ওপর সোনালি রঙের প্রাধান্য রয়েছে, যা বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতীকী ইঙ্গিত বহন করে। এর সঙ্গে রয়েছে লাল ও গোলাপি রঙের সংমিশ্রণ।
বলটির প্যানেলে লেখা থাকবে টুর্নামেন্টের শেষ চার ম্যাচের আয়োজক শহরের নাম-ডালাস, আটলান্টা, মিয়ামি এবং নিউইয়র্ক/নিউ জার্সি। অন্য আয়োজক শহরগুলোর নাম থাকবে বলের গায়ে থাকা ত্রিভুজাকৃতির গ্রাফিক্সে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে বলটিতে আগের মতোই থাকছে ‘কানেক্টেড বল টেকনোলজি’। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বলের ভেতরে থাকা বিশেষ সেন্সর চিপ রিয়াল-টাইম বা তাৎক্ষণিক ডেটা সরাসরি ম্যাচ রেফারি ও ভিএআর কক্ষে পাঠাবে, যা সেমি-অটোমেটেড অফসাইড সিস্টেমকে আরও নির্ভুলভাবে অফসাইড এবং নিখুঁত বল-টাচ শনাক্ত করতে সাহায্য করবে।
বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বল বদলানোর ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল থেকে নতুন বল ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে ২০১৮ রাশিয়া, ২০১৪ ব্রাজিল, ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা ও ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে শুধু ফাইনালের জন্য আলাদা বল আনা হয়েছিল। আর ২০০২ সালের আগে বিশ্বকাপের মাঝপথে বল পরিবর্তনের নজির ছিল না।