Connect with us

ফিচার

নতুন বছরে নারী শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশা

Published

on

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে নতুন বছরের আগমনটাও একটু ভিন্ন দৃশ্যপটে। বিপ্লব পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলোর অপূর্ণতার ভার ২০২৫ সালের ঘাড়ে চেপে বসেছিল। ২৫ সালের সকল অপূর্ণতা ২০২৬ সালে পূর্ণতা পাক সেই প্রত্যাশা রাখে ছাত্র সমাজ। বিশেষ করে নতুন বছর আগমনে নারীরা কী ভাবছে? তাদের অনুভূতি ও প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুরাইয়া শ্রাবণী

নতুন বছরে আমরা আশা করি— ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান-বিজ্ঞান ও গবেষণায় আরও এগিয়ে যাক। শিক্ষার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সুস্থ ও স্বাভাবিক সংস্কৃতির চর্চা নিশ্চিত হোক, কোনো ধরনের অশ্লীলতা যেন প্রশ্রয় না পায়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ইকসু) নির্বাচন দ্রুত আয়োজন করা হোক। ইকসু নির্বাচন হলে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়, নেতৃত্বের বিকাশ এবং গণতান্ত্রিক চর্চা আরও শক্তিশালী হবে। একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে উঠুক—এটাই নতুন বছরের প্রত্যাশা।

সাদিয়া জামান রিমু

ব্যবস্থাপনা বিভাগ

২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষ

‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে আরও সুপরিকল্পিত এবং টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। পাঠদানের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান, দক্ষ ও গবেষণামুখী শিক্ষক এবং আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির যথাযথ প্রয়োগ করা যায়।আবাসিক শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য হলের খাবারের মান উন্নত করা, হলগুলোতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ সুসজ্জিত রিডিং রুম স্থাপন এবং পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কল্যাণের স্বার্থে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত আসন, আধুনিক গ্রন্থ, গবেষণা জার্নাল এবং দীর্ঘ সময় অধ্যয়নের সুব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

নদীয়া খাতুন

বিভাগ: ব্যবস্থাপনা

২০২২-২০২৩

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং এখানকার শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলার শিকার। জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী বছর হিসেবে ২০২৫ সাল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি আদর্শ ও দৃষ্টান্তমূলক বছর হয়ে উঠতে পারত। অভূতপূর্ব উন্নয়নের সুবর্ণ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সবকিছু সীমাবদ্ধ থেকেছে কেবল সম্ভাবনার গণ্ডিতে। শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রমের পরিসংখ্যান বিচার করলে তা অত্যন্ত নগণ্য বলেই প্রতীয়মান হয়।যেখানে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নিজেদের রূপান্তরিত করছে, সেখানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এখনও গতানুগতিক নিয়মনীতি আঁকড়ে ধরে আছে। ২০২৫ সাল অতিক্রম করে ২০২৬ সালের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েও এখানে আধুনিকায়নের কোনো সুস্পষ্ট চিহ্ন চোখে পড়ে না। ২০২৫ সালে ক্যাম্পাসে সংঘটিত সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ও হৃদয়বিদারক ঘটনা—সহপাঠী সাজিদ হত্যাকাণ্ডের বিচার ও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না ঘটিয়ে প্রশাসন আমাদের গভীর হতাশা ও বেদনায় নিমজ্জিত করেছে। সার্বিকভাবে বিবেচনা করলে, আশানুরূপ উন্নয়নের স্বপ্ন থাকলেও বছরশেষে তার প্রতিফলন প্রত্যাশার তুলনায় ছিল হতাশাজনক; বাস্তবতার চেয়ে তা রয়ে গেছে প্রতিশ্রুতি ও সম্ভাবনার মধ্যেই আবদ্ধ। সবকিছুর পরও নতুন বছর আমাদের জন্য বয়ে আনুক নতুন আলো, নতুন প্রত্যয় ও নতুন সম্ভাবনা। প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে আসুক ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় তার গৌরবময় অবস্থান পুনরুদ্ধার করুক—এই প্রত্যাশাই রইল। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব পেরিয়ে নতুন বছর হোক আত্মসমালোচনা, সংশোধন ও ইতিবাচক পরিবর্তনের বছর।

নার্গিস পারভীন

বিভাগ: ফার্মেসি

২০২১-২২

ক্যাম্পাস জীবন শুধু একটি অধ্যায় নয়, এটি জীবনের সবচেয়ে রঙিন ও স্মরণীয় সময়ের নাম। ক্লাসের দিনগুলো, ক্যান্টিনের আড্ডা, বন্ধুদের খুনসুটি আর হলের রাতের গল্প—সব মিলিয়ে এই সময়টুকু হয়ে ওঠে হৃদয়ের বিশেষ অংশ।আর আমার হৃদয়ের অংশ হলো ইবি!ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস আমার স্বপ্ন ও সম্ভাবনার জায়গা। এই ক্যাম্পাস থেকে আমি চাই জ্ঞান, নৈতিকতা ও নেতৃত্বের সমন্বয়। প্রত্যাশা করি—ক্যাম্পাস হবে রাজনীতি ও সহিংসতামুক্ত, যেখানে শিক্ষার পরিবেশ থাকবে শান্ত ও নিরাপদ। শিক্ষকরা হবেন আরও শিক্ষার্থী–বান্ধব, গবেষণামুখী এবং নৈতিকতায় অনুকরণীয়। ক্লাস, লাইব্রেরি ও ল্যাব সুবিধা হবে আধুনিক ও কার্যকর।আমি চাই ক্যাম্পাসে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু তা হবে শালীন ও দায়িত্বশীল। সহশিক্ষা কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলার সুযোগ আরও বাড়ুক। হল ও আবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক। সর্বোপরি, ইবি ক্যাম্পাস এমন এক মানবিক পরিবেশ গড়ে তুলুক, যেখানে শিক্ষার্থীরা দেশ ও সমাজের জন্য যোগ্য, সচেতন ও নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।

মাহফুজা আক্তার মনি

বিভাগ সমাজ কল্যাণ

২০২২-২৩

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফিচার

ঈদে সালামি আদায়ের সহজ কৌশল

Published

on

By

ঈদে অনলাইন বা অফলাইনে সালামি আদায়ের প্রশ্নটি প্রায়ই উঠে আসে। বর্তমানে অনলাইনে সালামি আদায়ের প্রবণতা বেড়েছে, যা সরাসরি দেখা না হলেও মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন ট্রান্সফারের মাধ্যমে সম্ভব।

সালামি আদায়ের একটি সহজ উপায় হলো সময়মতো হাজির হওয়া। ঈদের নামাজ শেষে বড়রা ভালো মুডে থাকেন, তখন সালাম দিলে খালি হাতে ফিরতে হয় না। দেরি করলে সালামি হাতছাড়া হতে পারে।

হাসিমুখে ও ভদ্রভাবে সালাম দিলে বড়রা খুশি হন এবং সালামি দিতে আগ্রহী হন। মুখ গোমড়া করে দাঁড়িয়ে থাকলে সালামি পাওয়া কঠিন হতে পারে।

আত্মীয়স্বজনের বাসায় ঘুরে বেড়ানো সালামির সম্ভাবনা বাড়ায়। এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি যাওয়ার মাধ্যমে নেটওয়ার্কিং করা যায়।

অনেকে সালামি দিতে ভুলে গেলে হালকা মজার ছলে ইঙ্গিত দেওয়া যেতে পারে, যেমন “আজ তো ঈদ!” বলা। তবে এটা যেন অশোভন না হয়।

ছোটরা একসঙ্গে গেলে বড়রা মজা করে সবাইকে সালামি দিতে পারেন, যা পরিবেশ জমিয়ে তোলে। সবশেষে, সালামি আদায় যেন চাপ সৃষ্টি না করে, বরং ভালোবাসা ও আনন্দের অংশ হয়।

Continue Reading

ফিচার

এবার নিজের জন্য বাঁচুন

Published

on

By

লেখা: অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া

লেখা প্রকাশ: আজকের পত্রিকা

নারীদের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় দেখা যায়, তাঁরা নিজের জন্য বাঁচেন না। সংসার, সন্তান, পরিবারের জন্যই সব করেন, সবটা দিয়ে দেন। অন্যকে ভালো রাখার মধ্য়েই আনন্দ খুঁজে নেন, সমাজও যেন অদৃশ্যভাবে তা-ই শেখায়। কিন্তু যে নিজেকে ভালোবাসে না, নিজের যত্ন নেয় না, সে কি আদৌ কাউকে খুব ভালোবাসতে পারে? সমস্যা তো এখানেই থেমে নেই। আমরা তো বর্তমানে বাঁচি না। হয় অতীত নিয়ে মনঃকষ্টে, নয়তো ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় বাঁচি। তার থেকেও বড় কথা হলো, জীবনে কী চাই, সেটাও আমরা জানি না। বর্তমানে তো আমরা সেই জিনিসগুলোই জীবনে চাই, যেগুলো দেখে আশপাশের মানুষ ঈর্ষান্বিত হবে। যেন অন্যকে ঈর্ষান্বিত করতে পারাটাই জীবনের সার্থকতা।

যে বাধা পথ আগলে

সচরাচর আমরা নানান বাধায় বৃত্তবন্দী হয়ে পড়ি নিজে কেমন জীবন চাচ্ছি সেটা পেতে। তখন মনে হয়, অন্যরা আমাকে টপকে পারিবারিক, সামাজিক, পেশাগত জীবনে দিব্যি এগিয়ে যাচ্ছেন।

আমরা মনে করি, আমাদের অতীত ভবিষ্যৎকে নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে এই ভাবনা আমাদের মনে অসহায়ত্ব তৈরি করে। আমরা হেরে যাওয়া, প্রত্যাখ্যাত হওয়াকে সাফল্যহীনতা মনে করে ভয় পাই। আমরা না বলতে এবং না শুনতে পারি না। তাই মনে মনে খুব স্থিতি অবস্থা চাইলেও সাফল্য অর্জনের জন্য যেসব হিসাব-নিকাশ করে ঝুঁকি নিতে হয়, সেই সাহস করি না।

তাহলে ইচ্ছেমতো বাঁচার উপায় কী? কীভাবে বাঁচলে নিজের আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মান অটুট থাকবে?

রবীন্দ্রনাথের একটা চমৎকার কথা আছে,

‘সম্মুখে টানিয়া ধরে পশ্চাতে আমি…’

মনস্তত্ত্ব বলে, মানুষের ভবিষ্যৎ আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে তার অতীত আচরণ। অতীতের বিশ্বাস আমাদের ভবিষ্যতে নতুন কিছু পাওয়া ও সম্ভাবনা খোঁজার জায়গা থেকে মাঝেমধ্যে দূরে সরিয়ে রাখে। কিন্তু গবেষণা জানাচ্ছে, আমরা যদি চাই মাত্র ১৫ শতাংশ আচরণে অতীতের ছাপ রেখে নিজেকে বদলে ফেলতে পারি। গতকাল আমি যা করেছি করেছি; কিন্তু আগামীকালের আমাকে বদলানোর দায়িত্বটি শুধু আমার নিজেকেই নিতে হবে। অন্য কেউ পারবে না, যদি আমি সেই রিমোট কন্ট্রোলটি অতীতের ঘটনার হাতে তুলে দিই।

মুক্তির উপায়

আপনি যদি হেরে যাওয়ার ভয় বা প্রত্যাখ্যানের ভয়ে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন, তাহলে আপনি মানসিকভাবে পঙ্গু হয়ে গেলেন। এই পঙ্গুত্ব নিয়ে আপনি বদলে যাওয়ার পথে হাঁটতে পারবেন না। ভয় মনের মধ্যে গেড়ে বসে থাকলে, নিজেকে তিনটি কথা বলুন।

প্রথমত, যেটা পেতে পারি, সেটা হারাতেও পারি। আমি জানি কীভাবে পেতে হয়।

দ্বিতীয়ত, কিছু হারালে আমি দুর্বল হয়ে পড়ি না; বরং এই হারানোর অভিজ্ঞতা আমাকে আরও শক্তিশালী করে ভবিষ্যৎ মোকাবিলায়।

তৃতীয়ত, জীবন একটা যাত্রা। এটি কোনো গন্তব্য নয়। জীবনের পথে চলতে চলতে কখনো হোঁচট খেয়ে পড়ব, কখনো উঠে দাঁড়াব।

মডেল: প্রিতী, পোশাক: অন ক্লাউড নাইন অ্যান্ড হাফ, মেকআপ: নিউ রেড বিউটি স্যালন। ছবি: হাসান রাজা

যা করতে পারেন

যদি মমতাময় কেউ না থাকে, নিজেই নিজেকে সে মমতা দেওয়ার চেষ্টা করুন এবং অপেক্ষা করুন হতাশ না হয়ে।

আপনি জীবনে আনন্দ, সাফল্য পাওয়ার অযোগ্য—এই ভ্রান্ত ধারণা বাদ দিন।

এমন কারও কাছে আর আত্মসমর্পণ করবেন না, যে আপনাকে সম্মান ও যত্ন করে না।

জীবনের যেকোনো ধাপে ঘুরে দাঁড়ানো যায়, নতুন করে শুরু করা যায়।

নারী দিবসের মুহূর্তটি হোক আপনার নিজের মুহূর্ত। নিজেকে যত্ন করার, নিজেকে সম্মান করার, নিজেকে ভালোবাসার মুহূর্ত।

লেখক: চিকিৎসক ও সাইকোথেরাপি প্র‍্যাকটিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার, ঢাকা

Continue Reading

ফিচার

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ

Published

on

By

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ (৮ মার্চ)। ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার।’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও উদযাপিত হবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস।

দিবসটি উপলক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারিভাবে বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থা নানান কর্মসূচি পালন করবে। এর মধ্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক ‘অদম্য নারী পুরস্কার প্রদান, আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রাসহ বিশেষ কর্মসূচি পালন করছে। এরমধ্যে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা প্রদান অন্যতম।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অদম্য নারী পুরস্কারের আওতায় বিশেষ অবদান রাখা নারীদের স্বীকৃতি প্রদান, দেশজুড়ে নারী অধিকার, সমতা ও ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন। অ্যাকশন অ্যাইড বাংলাদেশ ও দেশের একটি গণমাধ্যমর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় সব তফসিলি ব্যাংকে নারী দিবস যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করা হবে।

এ বছর বিশ্বব্যাপী ‘গিভ টু গেইন’ (দিয়ে অর্জন) প্রচারাভিযান চালানো হচ্ছে, যা নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেয়। এই কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে তাদের অসামান্য অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।

উল্লিখিত প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা ও উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়পূর্বক কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানিয়েছে মহিলা অধিদপ্তর। এ ছাড়া, বিভিন্ন অফিস ও সংগঠন দিবসটি পালনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা বিশ্বের সব নারীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রতিবছরের মতো এবারও আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও প্রদীপ প্রজ্বলন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বেলা ১১টায় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হবে। এবারও একজন কৃতী নারীকে সম্মাননা প্রদান করা হবে। এবার এ সম্মাননা পাচ্ছেন সাংবাদিক মমতাজ বানু।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রতিবছরের মতো এবারও দিবসটি উপলক্ষ্যে কর্মসূচি নিয়েছে। সকাল ১০টায় র‌্যালির মধ্য দিয়ে দিবসটির উদযাপন করবে। ডিআরইউয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পবিত্র মাহে রমজানের কারণে নারী দিবসের অবশিষ্ট অনুষ্ঠান পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরে উদযাপন করা হবে।

সারা বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী দিবস একটি প্রধান উপলক্ষ্য হিসেবে উদযাপন করা হয়ে থাকে। ১৯৭৫ সাল থেকে জাতিসংঘ এ দিনটিকে নারী দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

এই দিবসটি উদযাপনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে মজুরি বৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধরা প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। সেই মিছিলে চলে সরকার লেঠেল বাহিনীর দমন-পীড়ন।

১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি, নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হয়। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ, জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন। এরপর ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বৎসর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সিদ্ধান্ত হয় যে, ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে। দিবসটি পালনে এগিয়ে আসে বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা। ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ পালিত হতে লাগল। বাংলাদেশেও ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীনতার লাভের পূর্ব থেকেই এই দিবসটি পালিত হতে শুরু করে।

১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। এরপর থেকে পৃথিবীজুড়ে পালিত হচ্ছে দিবসটি। এবারও সারা বিশ্বের সব দেশে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। দিবসটি পালনে প্রতিবছরই একটি প্রতিপাদ্য সুনির্দিষ্ট করা হয়।

Continue Reading

Trending