ক্যাম্পাস

‎‎নিরাপত্তা নিয়ে কুমিল্লার এএসপির আশ্বাসের রাতেই ছিনতাইয়ের শিকার কুবি শিক্ষার্থী

Published

on


‎কুবি প্রতিনিধি:

‎চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার পথে কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসান মোহাম্মদ তাসবির। এ সময় তাকে ছুরি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
‎
‎সোমবার (৫ অক্টোবর) আনুমানিক রাত সাড়ে ১১টার দিকে কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
‎
‎ঘটনার দিনই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সভায় কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. লুৎফর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা রক্ষার আশ্বাস দেন।
‎
‎সভায় এএসপি মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘কুমিল্লা নগরীকে একটি নিরাপদ নগরীতে রূপান্তরের জন্য আমরা সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করছি। সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত টমছম ব্রিজ এলাকায় আমাদের ছয়টি টিম কাজ করে। এছাড়া সম্প্রতি আমরা কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু করেছি। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের পাশাপাশি অন্যান্য অপরাধীদেরও আটক করা হচ্ছে। আশা করছি, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত কমে যাবে।’
‎
‎এদিকে ওই সভার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ছিনতাইয়ের শিকার হন কুবি শিক্ষার্থী তাসবির। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, ‘চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার পথে তিনি পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে নামেন। পরে সেখান থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার জন্য কোটবাড়ি বিশ্বরোডে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সিএনজি খুঁজছিলেন। একপর্যায়ে একটি সিএনজি ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত যাবে জানালে তিনি সেটিতে ওঠেন। ওই সময় সিএনজিতে চালকসহ আরও দুই ব্যক্তি ছিলেন।
‎
‎তিনি আরও জানান, ‘কিছুদূর যাওয়ার পর পদুয়ার বাজার ও কোটবাড়ি বিশ্বরোডের মধ্যবর্তী একটি নির্জন স্থানে যাত্রী ওঠানোর কথা বলে সিএনজিটি থামানো হয়। পরে চালকসহ পেছনে বসা দুই ব্যক্তি তাকে ছুরি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। একপর্যায়ে তারা আমার মোবাইল ফোনে থাকা বিকাশ অ্যাকাউন্ট ও মানিব্যাগ চেক করে সঙ্গে থাকা কিছু টাকা নিয়ে নেন।’
‎
‎পরে বিষয়টি কাউকে না বলার শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান তাসবির। তিনি বলেন, ছিনতাইয়ের বিষয়টি কাউকে জানালে পরবর্তীতে আবারও তাকে আটক করা হবে বলে হুমকি দেন ছিনতাইকারীরা। এমনকি তার চেহারা টার্গেট করে রাখা হয়েছে বলেও তারা জানায়। ঘটনার পর থেকে ছিনতাইকারীদের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি।
‎
‎এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো লিখিত অভিযোগপত্র পাইনি। অভিযোগপত্র পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
‎
‎অন্যদিকে কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি অবগত আছি, ফেসবুকেও দেখেছি। আমাদের টিম বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। আমরা সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি।’
‎
‎

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version