ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন হেভিওয়েট প্রার্থীরা। বড় রাজনৈতিক নেতারাও নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার বিষয়ে তীব্র চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন। নানামুখী পরিকল্পনা করেও জয়ের বিষয়ে তারা নিশ্চিত হতে পারছেন না। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হেভিওয়েট প্রার্থীরা হলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও সালাহউদ্দিন আহমেদ।
যদিও দুই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তারেক রহমান কিছুটা চাপমুক্ত। ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ আসন থেকে ধানের শীষের প্রার্থী তিনি। নিজ জেলা বগুড়ায় তার জয়ের সম্ভাবনা শতভাগ বলা হলেও অন্য হেভিওয়েট নেতারা শুধু একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কোনো কারণে পরাজিত হলে তাদের সংসদে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাবে। তবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে তারা উচ্চকক্ষে জায়গা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামান। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ উল্লাহ এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফ্রন্টের আবুল কালাম আজাদও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে মোট ভোটার তিন লাখ ৩৩ হাজার ৭৭৭ জন। বিশেষ করে কড়াইল বস্তির ভোট নির্বাচনি ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। আওয়ামী লীগের ভোটার সমর্থন ফখরুলের জন্য সুবিধাজনক হলেও স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা আছে। সম্প্রতি জামায়াত প্রার্থীর বিলবোর্ড ভাঙার ঘটনার পর নেতিবাচক প্রচারণা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির নেতা ও সাবেক মেয়র মির্জা আব্বাস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। জুলাই আন্দোলনের অগ্রসেনানি হিসেবে পাটওয়ারী সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয়। হাদির অনুসারীর সঙ্গে যুক্ত ঘটনায় প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে চাপ অনুভূত হচ্ছে।
কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার পাঁচ লাখ ৪০ হাজার ৪৯০ জন। দীর্ঘ সময় ভারতে অবস্থানরত থাকায় তিনি নির্বাচনি প্রচারণায় সীমিত অংশগ্রহণ করতে পেরেছেন। জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচনি মাঠে সক্রিয় থাকায় চাপ অনুভব করছেন সালাহউদ্দিন।
নির্বাচনি বিশ্লেষকরা মনে করেন, হেভিওয়েট নেতাদের বিজয় সহজ নয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতা, রাজনৈতিক সমীকরণ এবং স্থানীয় ভোটারের আচরণ শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করবে।