বিএনপির ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে ‘ফাজলামি’ আখ্যা দিয়ে এটি ভোট কেনার নতুন কৌশল বলে মন্তব্য করেছেন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. মাজেদুর রহমান সরকার। তিনি বলেন, এসব কার্ড দিয়ে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে ভোট নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা এমসি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সভায় মাজেদুর রহমান বলেন, ‘আগে শোনা যেত ভোটের আগের রাতে টাকা দিয়ে ভোট কেনা হয়। এবার এক মাস আগেই আইডি কার্ড নিয়ে তথাকথিত ফ্যামিলি কার্ড করা হচ্ছে। এটা ফ্যামিলি কার্ড নয়, এটা ফাজলামি কার্ড।’
তিনি অভিযোগ করেন, জনগণকে প্রতারিত করার উদ্দেশ্যেই এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘ভোট কেনার জন্য কখনো বিকাশে টাকা দেওয়া হচ্ছে, আবার কিছু লোককে গ্রুপ বের করে কাজ করানো হচ্ছে। ভোট কেনার এই নতুন পদ্ধতি আগেভাগেই শুরু হয়েছে।’ এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপও দাবি করেন তিনি।
জামায়াত প্রার্থী বলেন, ‘ক্ষমতায় যাওয়া আমাদের মূল লক্ষ্য নয়। আমাদের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতেই রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে হবে।’
দলীয় নেতাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্যদের মধ্যে দুজন ছিলেন দলের রাহবার—মো. মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। তারা তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, দুর্নীতি না করার কারণেই তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতকে স্তব্ধ করতেই পাঁচজন নেতাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে এবং ছয়জনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তাদের একজন ছিলেন হজরত আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, যিনি প্রায় ১৪ বছর কারাবন্দী ছিলেন।
সুন্দরগঞ্জে নিজের অবস্থান নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে মাজেদুর রহমান বলেন, ‘যত ষড়যন্ত্রই হোক, এই সুন্দরগঞ্জে আমাদের কেউ পরাস্ত করতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।’ তিনি দাবি করেন, এই এলাকায় জামায়াতে ইসলামী পাঁচজন নেতাকে হারিয়েছে এবং নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুল আজিজকে মিথ্যা মামলা দিয়ে দেশছাড়া করা হয়েছিল। তার লাশও দেশে আনা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বেলকা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা এ কে এম নাজমুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এলডিপির জেলা আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের শহিদুল ইসলাম সরকার মঞ্জু, সেক্রেটারি সামিউল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।