সেদিন শুটিং ফ্লোরে আলো ছিল, ক্যামেরা ছিল, ছিল চেনা অ্যাকশন আর কাটের আওয়াজ। কিন্তু হঠাৎই সব স্তব্ধ হয়ে গেল। না ফেরার দেশে চলে গেলেন ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা ও লেখক রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। শুটিং সেটের সেই আকস্মিক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে এক উজ্জ্বল প্রাণকে।
কিন্তু এই মৃত্যু নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং অবহেলার ফল কি না, সেই প্রশ্ন তুলে এখন উত্তাল টালিপাড়া। গত ৭ই এপ্রিল টালিউডের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব দিন সাক্ষী হয়ে থাকল গোটা পশ্চিমবঙ্গে। এদিন সমস্ত লাইট-ক্যামেরা বন্ধ রেখে পালিত হলো একদিনের কর্মবিরতি। সেদিন উপস্থিত ছিলেন প্রিয়াঙ্কা। সেসময় অভিনেত্রী তার মনেরভাব ব্যক্ত করেননি মিডিয়ার কাছে। তবে এবার নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে মনের ভাব প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী নিজেই।
স্বামীর মৃত্যুর ন্যায়বিচার চেয়ে ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের করেছেন রাহুলের স্ত্রী অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার।
অভিনেত্রী তার সোশ্যাল হ্যান্ডেল ফেসবুকে অনুভূতি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ জানাই সকলকে, এই কঠিন সময়ে আমাদের পাশে থাকার জন্য। গত ৭ তারিখে গোটা চলচ্চিত্র পরিবার যেন এক সুরে বাঁধল নিজেদের একই ভাবনা, একইচিন্তা আর অফুরন্ত ভালোবাসায়। এখানে কোনও বিভাজন নেই,কোনও রাজনৈতিক রং নেই, নেই কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ বা আমিত্বের সংঘাত। এখানে শুধু একটাই সত্য আমরা একটি পরিবার।‘
তিনি আরও বলেন, ‘পরিবারেরই একজন সদস্যের প্রতিগভীর স্নেহ আর মমতা থেকেই আজকের এই ঐক্যবদ্ধ লড়াই। রাহুলকে কেউ অভিনেতা হিসেবে ভালোবেসেছেন, কেউ চেনেন অরুণোদয় হিসেবে, আবার কেউবা ভালোবেসেছেন লেখক রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
একটি মৃত্যু আজ আমাদের গোটা পরিবারকে এক সুতোয় গেঁথে দিল। তবে এই অকাল প্রয়াণ যেন নিছক একটি শোকের স্মৃতি হয়ে না থাকে। এটি যেন আরও বড় কোনও পরিবর্তনের সূচনা করে। তবেই এই মানুষটি আমাদের মাঝে অমর হয়ে থাকবেন, এটাই হবে তার প্রকৃত উত্তরসূরি বা লেগাসি।
প্রিয়াঙ্কা বলেন, আমাদের লক্ষ্য হোক একটাই ভবিষ্যতে যেন এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে। টেকনেশিয়ান হন বা শিল্পী মৃত্যুর পর নিজের সম্মান আর মর্যাদার লড়াই যেন কাউকে লড়তে না হয়।‘
প্রসঙ্গত, এইকঠিন সময়ে তালসারিতেও প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে গিয়েছিলেন ওপার বাংলার সুপারস্টার প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত থেকে যিশু সেনগুপ্ত । প্রিয়াঙ্কা এবার কাজে ফিরুক,সেটাও চাইছেন তার প্রিয়জনরা।