Connect with us

top1

বিদ্যুতে ৪৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া, দেউলিয়া পরিস্থিতি বলছেন নতুন মন্ত্রী

Published

on

দেশি বিদেশি কোম্পানির কাছে বিপুল অংকের দেনা নিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের নতুন সরকার বিদ্যুৎ খাতে একটা বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি পড়তে যাচ্ছে। রমজানের পরপরই সেচ ও গ্রীস্ম মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে পরিকল্পনা থাকলেও সমাধান করতে বেগ পেতে হবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এখনই বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। এ বছর বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা আঠারো হাজার মেগাওয়াট হতে পারে বলে ধারণা দিচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সরকারের নবনিযুক্ত বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলছেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্যাস কয়লা ও তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালিয়ে চাহিদা পূরণ করতে হবে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, অর্থ সংস্থান করে পরিস্থিতি সামাল দিতে তার ভাষায় ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট’ করতে হবে।

পরিকল্পনা আছে তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে বিদ্যুতে টোট্যালি ফিনান্সিয়ালি ব্যাংকরাপ্ট করে দিছে আরকি। অনেক বকেয়া, অনেক দেনা পাওনা। জ্বালানি নাই জ্বালানি ইমপোর্ট করতে হবে। মোট কথা হলো ভেরি কমপ্লিকেটেড। কাজ করে এগুলি সমাধান করতে হবে, বলেন ইকবাল হাসান মাহমুদ।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি তাতে সংকট কাটাতে সরকারের সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ জ্বালানি আমদানি সরাসরি ডলারের মজুদে প্রভাব ফেলবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বিশ্লেষণ হলো, নরমালি আমরা যেটা দেখি গরম যখন পড়বে তখন দেখা যাবে যে প্রচুর লোডশেডিং হবে।

বাংলাদেশে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সরকারি বেসরকারি ১৩৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং আমদানি সক্ষমতা মিলিয়ে মোট স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। সারাদেশে বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে ৪ কোটি ৯৪ লক্ষ। দেশে একদিনে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ২৩ জুলাই ২০২৫ সালে ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট।

বিপুল পরিমাণ দেনা

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতে দেশি বিদেশি কোম্পানির কাছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত বেসরকারি কোম্পানিগুলোর হিসেবে ১৪ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে তাদের। বেসরাকারি কোম্পানিগুলো গত সাত-আট মাস ধরে বিদ্যুতের বিল পায়নি।

এত বকেয়া কীভাবে জমলো এ প্রশ্নে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করীম বিবিসি বাংলাকে বলেন, শুরুর পর থেকে ধারাবাহিকভাবে এটা বেড়েছে।

তিনি বলেছেন, এটা ফ্রম দা বিগিনিং কিউমিলিটিভ হারে হতে হতে এ অবস্থায় এসেছে। আমরা যেটা পাচ্ছি সরকারের থেকে সাবসিডি সেটা মাইনাস হচ্ছে এভাবে হতে হতে এ পর্যায়ে আছে। এর মধ্যে আরো কিছু মাইনাস হবে আমরা সরকার থেকে আরো কিছু টাকা পাবো সাবসিডি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে পিডিবির বকেয়া এক পর্যায়ে তিন মাসে নেমে এসেছিল। তবে ২০২৫ সালের জুলাই মাসের পর থেকে আর কোনো বিল পরিশোধ করেনি বলেও জানায় বেসরকারি উদ্যোক্তারা।

তারা বলছেন, এ পরিস্থিতি নতুন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকার ইচ্ছাকৃত এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে কিনা সে সন্দেহের কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।

তবে সাবেক উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেছেন, টাকার বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড়ের উপর নির্ভর করে, এখানে ইচ্ছাকৃত বকেয়া রাখার কোনো ইস্যু নেই। সাবেক বিদ্যুৎ জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বিবিসি বাংলাকে বলেন, সরকারের শেষ পর্যায়ে ২ হাজার কোটি টাকা ছাড় করার একটা ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

তিনি বলেন,অর্থ পরিশোধ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আর্থিক সক্ষমতা উপর নির্ভর করে। রেভিনিউ সংকটের কারণেই তারা বিল পরিশোধ করতে পারেনি। কোনো ইনটেনশনাল কিছু নেই। এটা টাকার অ্যাভেলএবিলিটির উপর নির্ভর করে। বিপিডিবি যখন টাকা পায় তখন দেয়। ওদের সোর্স হচ্ছে রেভিনিউ এবং অর্থবিভাগ থেকে ভর্তুকী।

বাংলাদেশে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র মোট উৎপাদন সক্ষমতার ২৩ শতাংশের মত। এর মধ্যে ফার্নেস অয়েলে চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা ৫৬৩৭ মেগাওয়াট বা ২০ শতাংশের মতো। এর মধ্যে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সক্ষমতাই প্রায় চার হাজার মেগাওয়াট।

লোডশেডিং
গ্রীষ্মের গরমে লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা

সরকার শিগগিরই বকেয়া পরিশোধ শুরু না করলে গরমে চাহিদামত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা কঠিন হবে বলে উল্লেখ করেছে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সংগঠন বিপপা। তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কোম্পানিগুলোর সংগঠন বলছে, বিলের বকেয়া কমিয়ে চার পাঁচ মাসে না আনলে অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য তেল আমদানি কঠিন হয়ে পড়বে।

এসব কোম্পানি নিজেরাই অধিকাংশ তেল আমদানি করে। এলসি খোলার পর ৪০-৪৫ দিন লেগে যায় আমদানি করা তেল দেশে আসতে। তাই দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে গরমে লোডশেডিং বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা জানিয়েছে বেসরকারি উৎপাদনকারীরা।

বিপপার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলসি খুলতে সমস্যার কারণে এরই মধ্যে তেলের নিট মজুদ কমেছে। গত জানুয়ারিতে যে মজুদ এক লক্ষ মেট্রিক টনের বেশি ছিল, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি এসে নিট মজুদ আশি হাজার টনে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে পিডিবি বেসরকারি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে সময়মতো বিদ্যুৎ দিতে না পারায় চুক্তি অনুযায়ী এলডি বা লিকুইডিটি ড্যামেজ ধার্য করেছে। তবে এটি নিয়েও আপত্তি তুলেছে বেসরকরি উৎপাদনকারীরা।

অমিমাংসিত এলডি ইস্যুর দিকে ইঙ্গিত করে পিডিবির চেয়ারম্যান বিবিসি বাংলাকে বলেন, তাদের সঙ্গে আমাদের কিছু ইস্যু আছে সেগুলি কী হয় দেখি তারপরে এটা ফাইনালি কমেন্ট করা যাবে।

জ্বালানি সংকট

বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও প্রাথমিক জ্বালানির সংস্থান করে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে মোট সক্ষমতার ৮৮ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি হিসেবে গ্যাস কয়লা এবং তেলের ব্যবহার হয়। এই জ্বালানির বড় অংশই আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয়।

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এলএনজি আমদানি করে চাহিদা পূরণ করতে হয়। এছাড়া তেল ও কয়লা প্রায় পুরোটাই আমদানি করতে হয়। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, এখন থেকে এক মাস পরে মূল চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। আমরা যদি মনে করি তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ব্যবহার করবো, এলএনজি ইমপোর্ট করবো এবং কয়লা আমদানি করবো, কিন্তু প্রশ্ন হলো এটার জন্য যতটুক খরচা হবে, যতটা ডলার লাগবে সেটা কি দেয়া হবে কিনা।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাস্ম জ্বালানির ব্যবহার বেশি।

ইজাজ হোসেন বলেন, আমাদের যা লাগবে সব ইমপোর্ট করবো নাকি ডলার সেইভ করার চেষ্টা করবো এটা সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এখন সরকার কীভাবে খেলবে তার ওপর নির্ভর করবে।

আমি একটা হিসেব করেছি ১৩ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার লাগে যদি আমরা সব এনার্জি আমদানি করি। আমাদের তো আরো বেশি লাগবে। ক্যাপাসিটি পেমেন্টসহ সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতে ২৫ বিলিয়ন ডলারের মত লাগে। কিন্তু আমাদের এত টাকা নাই, তিনি বলছিলেন।

ইজাজ হোসেন বলছেন, অর্থ সংস্থানের জন্য বিদেশি দাতা সহায়তাও লাগবে, আবার সরাসরি বিনিয়োগেরও প্রয়োজন হবে।

সমাধান কীভাবে

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, তাদের হিসেবে বিদ্যুতের ভর্তুকি প্রায় চার বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ। তিনি বলেন, আমরা হিসেব করে দেখেছি যে গত বছরে কয়লার যে পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো বাৎসরিক ৫৫% লোড ফ্যাক্টরে চলেছে কিন্তু এগুলো চলা উচিৎ ৮৫ শতাংশ হারে। তার মানে আরো এতখানি বেশি বিদ্যুৎ আমরা উৎপাদন করতে পারতাম কয়লা দিয়ে। বাট কয়লা ইমপোর্ট করতে হবে। এই চ্যালেঞ্জগুলা হচ্ছে প্রধান।

ইজাজ হোসেন মনে করেন, তেল ভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদনের ব্যাপারে ভর্তুকির নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করে দিতে পারে অর্থ মন্ত্রণালয়।

আমি মনে করি এটার ব্যাপারেও একটা রেস্ট্রিকশন দেবে ফাইন্যান্স মিনিস্টার। এই রেস্ট্রিকশন কিন্তু আওয়ামী লীগ আমল থেকে আরম্ভ হয়েছে। তখন তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালাতো আবার ফাইন্যান্স মিনিস্ট্রি পিডিবিকে বলে দিতে তোমরা এত বেশি তেলে খরচা করতে পারবে না। আমার ধারণা এটা এবারও আসবে। তা না হলে তো ভর্তুকি সাংঘাতিক হয়ে যাবে। অলরেডি আমাদের প্রতি কিলোওয়াট আওয়ারে সাড়ে চার টাকা করে আমরা সাবসিডি পাচ্ছি, বলছিলেন ইজাজ হোসেন।

ইজাজ হোসেন বলছেন, নতুন সরকারকে বুঝে শুনে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

‘গত বছরও আমরা দেখেছি যে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি ছিল। এখানেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্তর্বর্তী সরকার যেটা করেছে যে তারা ফুল ইমপোর্ট করেনি। তারা ইন্ডাস্ট্রির এনার্জি ডিমান্ডের কোনো তোয়াক্কাই করে নাই।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ভর্তুকির চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে হলে বহুমাত্রিক কৌশল নিতে হবে। যার মধ্যে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়, তেল ভিত্তিক কেন্দ্র কমিয়ে আনা, লোডশেডিং সমন্বয় করার মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে।

বিদ্যুৎ খাতে দায় দেনা পরিশোধ এবং জ্বালানি সংকট নিয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলছেন আপাতত পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করবে সরকার।

মি. মাহমুদ বলছেন, এখন প্রায়োরিটি রোজার মধ্যে বিদ্যুৎ চালানো, সেচের সময় বিদ্যুৎ চালানো মানুষের কষ্ট যাতে কম হয় সেটার জন্য চেষ্টা করবো আরকি। কয়লা আনতে হবে। এলপিজি, এলএনজি আনতে হবে। এদিকে পাহাড় পরিমাণে বাকি করে গেছে, বকেয়া করে গেছে এই সব মিলিয়ে ফিন্যান্সিয়াল একটা চ্যালেঞ্জ আছে বড়।

গরমে চাহিদা পূরণ ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বকেয়া পরিশোধ নিয়ে জ্বালানিমন্ত্রী বিবিসি বাংলাকে বলেন, তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন।

“তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো স্ট্যান্ডবাই থাকবে। ইমার্জেন্সি হলে চালাবো। যেগুলো বকেয়া আছে তাদেরকে কিছুটা দিয়ে পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো চালু রাখা তারপরে বসে লংটার্ম চিন্তা ভাবনা করা। সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটের মতো হতে পারে। এটার ব্যবস্থা আছে, গ্যাসের শর্ট আছে ওইটা পূরণ করার ব্যবস্থা করতেছি।”

ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম পুরো পরিস্থিতির জন্য বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতিকে দায়ী করেন।

“দুর্নীতি উচ্ছেদ করেন ভালভাবে চলবে। সৎভাবে যে সমস্ত আইপিপি তৈরি হয়েছে এবং যারা বিদ্যুৎ দিচ্ছে তারা যথাসময়ে যথাযথভাবে বিল পাবে। যারা অসৎভাবে তৈরি করেছে তারাই সংকট তৈরি করেছে তাদের কারণেই এই বকেয়া তাদেরকেই খেসারত দিতে বাধ্য করতে হবে।”

মি. আলম মনে করেন এই তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়েই সমস্যা।

“প্রথমত হচ্ছে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর দরকার নেই। কয়লার ক্যাপাসিটি আছে সাত হাজার মেগাওয়াটের বেশি। সেটার প্ল্যান্ট ইউজ ফ্যাক্টর হচ্ছে মাত্র ৪৫%। কয়দিন আগে সেমিনারে উঠে এসেছে যে তরল জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দিলে আমাদের সাশ্রয় হয় ২৮-৩০ হাজার কোটি টাকা। আমরা তা দিয়ে কয়লা আনলে অনায়াসে আমাদের চাহিদামাফিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি।”

শামসুল আলম মন করেন, ফসিল ফুয়েল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য এই বকেয়া ক্রাইসিস, আজকে এই মূল্য বৃদ্ধি, লুন্ঠণমূলক্য ব্যয়বৃদ্ধি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

তবে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরো বন্ধ করে চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে কিনা এ প্রশ্নে ড. ইজাজ হোসেন বলেন, আপাতত এটা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, নো, ইটস অ্যাবসুলুটলি ইমপসেবল। কয়লা সম্পূর্ণ আমদানি করলেও তেল কিছুটা লাগবে। কারণ ডিমান্ড যখন বেড়ে যায়, পিক টাইমে তখন তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ লাগবে। আমাদের লোডশেডিংয়ের ব্যাপার শুধু না। আমাদেরতো ইন্ডাস্ট্রিতেও গ্যাস দিতে হবে। সেটা যদি করতে হয় তাহলে তো পাওয়ারে গ্যাস কম দিতে হবে। তাহলে সেটা ম্যানেজ করতে হলে কয়লা লাগবে। তেল লাগবে।

এ ব্যাপারে নতুন সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, অতীতের নানা অনিয়ম সামলে কীভাবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেতে পারে, সেজন্য সরকার তার ভাষায় ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট’ অর্থাৎ সংকট সামলানোর পথ খুঁজে দেখছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

সবজির দাম কমায় স্বস্তি ক্রেতাদের

Published

on

By

নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বগুড়ার বিভিন্ন বাজারে মাছ, মুরগি, ডিম ও গরুর মাংসের দাম আগের মতোই রয়েছে। সরবরাহ বাড়ায় বেশিরভাগ সবজির দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সপ্তাহের ব্যবধানে বগুড়ায় বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

আগের তুলনায় সবজির সরবরাহ বেড়েছে এবং কিছু পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দামে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আগামী সপ্তাহে আরও কিছু সবজির দাম কমতে পারে।
শুক্রবার (১৯ জুন) বগুড়ার ফতেহ আলী, রাজাবাজার, কলোনী ও খান্দার বাজারসহ শহরের বেশকিছু বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রকারের আলু মান ও জাতভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০টাকা আর কাঁচা মরিচ ৬০টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়।

তবে সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি পটলের দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ৪০টাকায়। যা আগে বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০টাকা। বেগুনের দাম কমে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০টাকায়। অথচ এক সপ্তাগ আগে বেগুন বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১০০টাকায়।

এছাড়া দাম কমে প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০টাকা, করলা ৫০ থেকে ৬০টাকা, ঢেঁড়স ৪০টাকা, তরী ৪০টাকা, মিষ্টি লাউ ৩০ থেকে ৪০টাকা, কাঁকরোল ৬০টাকা, বাঁধাকপি ৬০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে দেশী আদা ১৬০টাকা, দেশি রসুন ১২০টাকা, চায়না রসুন ১৬০টাকা, গাজর ১৬০টাকা, টমেটো ১২০টাকা ও ফুলকপি ১০০টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।
এদিকে মুরগি ও মাছের বাজারে দাম আগের মতই রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম কমে ১৬০ টাকা, এবং দেশি মুরগি ৬০০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমে এখন লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায়।

সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় লেয়ার মুরগির দাম কমেছে। তবে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। এদিন বাজারে আড়াই কেজি ওজনের রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা, তিন কেজি ওজনের কাতল মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং একই ওজনের সিলভার কার্প মাছ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বেচাকেনা হয়। টেংরা মাছের কেজি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং পাবদা মাছ ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বড় ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকা কেজি এবং ছোট ইলিশ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বগুড়া ফতেহ আলী বাজারের সবজি বিক্রেতা খোকন মিয়া জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়েছে। এজন্য বেশিরভাগ সবজির দাম কিছুটা কমেছে। সরবরাহ ঠিক থাকলে সামনে আরও কমতে পারে।
বাজার করতে আসা সালমা আক্তার জানান, বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। মাছ এবং মাংসের দামও আছে হাতের নাগালে। সব মিলিয়ে বাজার শেষে খুশিমনেই বাড়ি ফিরতে পারছেন তারা

Continue Reading

top1

একদলীয় শাসনের চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না : জামায়াত আমির

Published

on

By

দেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার যে কোনো প্রচেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে জোর করে শাসনব্যবস্থা চালাতে চাইলে জনগণই হিমালয়ের মতো প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

শুক্রবার (১৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও শহীদদের আত্মত্যাগের ফলেই দেশে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ের আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের অবদানকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তাদের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপ, বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য ব্যক্তিদের সরিয়ে দলীয় অনুগতদের নিয়োগ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক বসানোর মাধ্যমে দেশে একদলীয় শাসনের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষী, একদলীয় শাসন কখনো টেকসই হয়নি। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হলে দেশের মানুষ তা প্রতিহত করবে।’

সংসদে বিরোধী দলকে অবমূল্যায়নের রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ যেমন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কটূক্তি করত, এখন বিএনপিও একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতার চর্চা করা।

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, বড় বাজেট প্রণয়ন করাই যথেষ্ট নয়, সেটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করাই বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ না হলে উন্নয়নের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাবে না।

ব্যবসায়ীদের দুরবস্থার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সম্মেলনে আসার আগে নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। সেখানে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাঁদাবাজি ও অনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ লক্ষ্য করেছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের রায়কে সম্মান করা গণতন্ত্রের মৌলিক শর্ত। গণভোটে যে সংস্কার প্রস্তাবগুলো জনগণের সমর্থন পেয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিকতা থাকা উচিত।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সরকারের এক উপদেষ্টার বক্তব্যে জনগণের রায় ও গণতান্ত্রিক চেতনা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

সরকারকে জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনো সময় আছে, জনগণের রায়কে সম্মান করুন। অন্যথায় জোর করে শাসনব্যবস্থা চালাতে চাইলে জনগণ আপনাদের সামনে হিমালয় পর্বত হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে।’

সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জনগণ গণতান্ত্রিক চর্চার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা থাকলে তাদের জোট আরও ভালো ফল করতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জের শিল্পখাতের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, একসময় দেশের শিল্প রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই জেলার গৌরব পুনরুদ্ধারে শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সন্ত্রাস ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আধিপত্যমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব নয়। জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং তারা কথার চেয়ে কাজের মূল্যায়ন করে।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Continue Reading

top1

একদলীয় শাসনের চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না : জামায়াত আমির

Published

on

By

দেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার যে কোনো প্রচেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে জোর করে শাসনব্যবস্থা চালাতে চাইলে জনগণই হিমালয়ের মতো প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

শুক্রবার (১৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও শহীদদের আত্মত্যাগের ফলেই দেশে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ের আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের অবদানকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তাদের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপ, বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য ব্যক্তিদের সরিয়ে দলীয় অনুগতদের নিয়োগ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক বসানোর মাধ্যমে দেশে একদলীয় শাসনের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষী, একদলীয় শাসন কখনো টেকসই হয়নি। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হলে দেশের মানুষ তা প্রতিহত করবে।’

সংসদে বিরোধী দলকে অবমূল্যায়নের রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ যেমন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কটূক্তি করত, এখন বিএনপিও একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতার চর্চা করা।

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, বড় বাজেট প্রণয়ন করাই যথেষ্ট নয়, সেটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করাই বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ না হলে উন্নয়নের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাবে না।

ব্যবসায়ীদের দুরবস্থার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সম্মেলনে আসার আগে নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। সেখানে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাঁদাবাজি ও অনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ লক্ষ্য করেছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের রায়কে সম্মান করা গণতন্ত্রের মৌলিক শর্ত। গণভোটে যে সংস্কার প্রস্তাবগুলো জনগণের সমর্থন পেয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিকতা থাকা উচিত।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সরকারের এক উপদেষ্টার বক্তব্যে জনগণের রায় ও গণতান্ত্রিক চেতনা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

সরকারকে জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনো সময় আছে, জনগণের রায়কে সম্মান করুন। অন্যথায় জোর করে শাসনব্যবস্থা চালাতে চাইলে জনগণ আপনাদের সামনে হিমালয় পর্বত হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে।’

সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জনগণ গণতান্ত্রিক চর্চার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা থাকলে তাদের জোট আরও ভালো ফল করতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জের শিল্পখাতের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, একসময় দেশের শিল্প রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই জেলার গৌরব পুনরুদ্ধারে শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সন্ত্রাস ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আধিপত্যমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব নয়। জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং তারা কথার চেয়ে কাজের মূল্যায়ন করে।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Continue Reading

Trending