Connect with us

top1

বিশ্বজুড়ে আলোড়ন: শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

Published

on

Global uproar: International reaction to Sheikh Hasina's death sentence

ঢাকা ১৮ নভেম্বর: বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া, যার ফলে শত শত মানুষ নিহত হয়। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা প্রায় ১,৪০০ জন, আর অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৮০০-এর বেশি।
রায়ের মূল অভিযোগ আদালত শেখ হাসিনাকে তিনটি গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে—আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান, হত্যার নির্দেশ প্রদান এবং হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে ব্যর্থতা। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকেও একই অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাষ্ট্রের সাক্ষী হওয়ায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাভারেজ
বিশ্বের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলো এই রায়কে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আইনি সিদ্ধান্তগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, “বাংলাদেশের আদালত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে,” এবং রায়ের আইনি তাৎপর্য তুলে ধরেছে।
দ্য গার্ডিয়ান রায়কে “গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণ” হিসেবে অভিহিত করেছে এবং রাজনৈতিক পতনের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করেছে।
বিবিসি নিউজ আন্দোলনের টাইমলাইন ও গ্রাফিক্সসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

আল জাজিরা হাসিনাকে “মূল পরিকল্পনাকারী” হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং জাতিসংঘের নিহতের হিসাব তুলে ধরেছে।
রয়টার্স রায় ঘোষণার সময় আদালতের দৃশ্য এবং জনতার প্রতিক্রিয়া বর্ণনা করেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো রায়ের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক প্রভাবের ওপর জোর দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ মৃত্যুদণ্ডের রায়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং অনুপস্থিতিতে বিচার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ভারত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি, তবে কূটনৈতিক চাপ বাড়ছে।

শেখ হাসিনার প্রতিক্রিয়া
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা রায়কে “পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এটি একটি সাজানো মামলা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচার হওয়া উচিত।
বাংলাদেশে পরিস্থিতি রায় ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ দেশব্যাপী হরতালের ডাক দিয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং দাঙ্গা পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। গত কয়েক দিনে সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
রাজনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর একটি। আসন্ন নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা নতুন অস্থিরতার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

টাইমলাইনের মূল ঘটনা
২০২৪ সালের জুলাই: ছাত্র আন্দোলন শুরু
২০২৪ সালের জুলাই মাঝামাঝি: সরকারি দমন অভিযান শুরু
২০২৪ সালের আগস্ট: নিহতের সংখ্যা ৮০০+ রিপোর্ট
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর: অন্তর্বর্তী সরকার গঠন
২০২৪ সালের ডিসেম্বর: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা
২০২৫ সালের মার্চ: শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচার শুরু
২০২৫ সালের নভেম্বর: মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

জামায়াতের সঙ্গে বৈঠককে স্বাভাবিক কূটনৈতিক যোগাযোগ বলছে ভারত

Published

on

By

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ভারতের একজন কূটনীতিকের বৈঠক নিয়ে সম্প্রতি আলোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের অবস্থান জানিয়েছে ভারত। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের বৈঠককে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয় মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে। জবাবে তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে এবং ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পক্ষের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেন। তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে হওয়া বৈঠকটিও সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই পড়ে।

এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান জানান, চলতি বছরের শুরুতে তিনি ভারতের একজন কূটনীতিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তিনি বলেন, অন্য দেশের কূটনীতিকেরা প্রকাশ্যে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেও ওই ভারতীয় কর্মকর্তা বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ করেছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য একে অপরের সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগ জরুরি এবং এ ক্ষেত্রে বিকল্প কোনো পথ নেই।

এই মন্তব্য প্রকাশের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিল রয়টার্স। তবে সে সময় কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। প্রায় দুই সপ্তাহ পর ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য এলো

Continue Reading

top1

জামায়াতের জোট থেকে দলগুলোকে বেরিয়ে আসতে চরমোনাই পীরের আহ্বান

Published

on

By

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট থেকে অন্যান্য ইসলামী দলগুলোকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের জোটে না যাওয়ার ঘোষণা দেন ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান। এ সময় তিনি এ আহ্বান জানান।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, জামায়াত শরিয়াহ আইনে রাষ্ট্র পরিচালনা নীতি থেকে সরে এসেছে। তাই ১১ দলীয় জোট থেকে অন্যান্য ইসলামী দলগুলোকেও বেরিয়ে আসার আহ্বান জানাই।

ইসলামপন্থী দলগুলোর জন্য আলোচনার দরজা খোলা আছে, বলেও জানান তিনি।

ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতের আমির বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলছেন, যার অর্থ দাঁড়ায়, সমঝোতার নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে জামায়াত।

দীর্ঘ সময় পর দেশের মানুষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আশায় ছিলেন, এর ফলে সেই প্রত্যাশা পূরণ পূরণ হওয়া নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়।

ইসলামের নীতি থেকে জামায়াত সরে এসেছে দাবি করে একলা পথে গিয়ে ২৬৮টি আসনে লড়ার কথা জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন।
বাকি আসনগুলোতে বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টির সাথে আসন সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন চরমোনাই পীরের দল।

Continue Reading

top1

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সব নথি জব্দের দাবি চিকিৎসকদলের প্রধানের

Published

on

By

বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা-সংক্রান্ত বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সব নথিপত্র জব্দ ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার বর্তমান চিকিৎসকদলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় তিনি এ দাবি তুলে ধরেন।

ডা. সিদ্দিকী বলেন, ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল কোভিড-১৯–এর জটিলতা নিয়ে খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বর্তমান মেডিকেল বোর্ড চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। 

পরীক্ষা-নিরীক্ষার শুরুতেই তারা দেখতে পান, খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত, অথচ বিএমইউর ছাড়পত্রে তাকে রিউমাটয়েড আর্থাইটিসের জন্য ‘মেথোট্রেক্সেট’ নামের ওষুধ নিয়মিত সেবনের নির্দেশ দেওয়া ছিল এবং ভর্তি অবস্থাতেও সেটি খাওয়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, “মেথোট্রেক্সেট সেবনের ক্ষেত্রে নিয়মিত লিভার ফাংশন পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক। পরীক্ষায় অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে ওষুধ বন্ধ করে ন্যূনতম একটি আলট্রাসনোগ্রাম করানো প্রয়োজন। কিন্তু সরকার গঠিত মেডিকেল টিম ম্যাডামের লিভার ফাংশন খারাপ দেখার পরও কোনো আলট্রাসনোগ্রাম করেনি এবং ওষুধটিও বন্ধ করেনি।”

তিনি দাবি করেন, এই অবহেলার কারণেই ফ্যাটি লিভার দ্রুত সিরোসিসে রূপ নেয়। “মেথোট্রেক্সেট তার লিভারের জন্য কার্যত ‘স্লো পয়জন’ হিসেবে কাজ করেছে”—বলেন তিনি।

ডা. সিদ্দিকী আরও বলেন, তৎকালীন চিকিৎসকদের প্রতি আস্থাহীনতার কারণে খালেদা জিয়া সেখানে আলট্রাসনোগ্রাফিতে রাজি হননি, তবে বেডসাইড ‘পয়েন্ট-অব-কেয়ার’ আলট্রাসনোগ্রাম সহজেই করা যেতো।

তিনি অভিযোগ করেন, “চিকিৎসায় এমন অবহেলা খালেদা জিয়ার অবস্থাকে দ্রুত অবনতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। এটি ইচ্ছাকৃত অবহেলা কি না বা পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টার অংশ কি না—তা বিশদভাবে তদন্ত করা জরুরি।”

তার ভাষ্য, মেডিকেল বোর্ডের কাছে ডায়াবেটিস ও আর্থাইটিসের চিকিৎসায় অবহেলারও সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এজন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটির মাধ্যমে তিনটি বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন— সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা কারা ছিলেন, কোন দক্ষতার ভিত্তিতে তারা দায়িত্ব পান, এবং ব্যর্থতার দায় তাদের ওপর বর্তায় কি না; ভর্তিকালে কারা চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় কি না; বিএমইউতে চিকিৎসার সময় খালেদা জিয়া তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করতে আইনজীবীর মাধ্যমে যে অনুরোধ করেছিলেন, তা কেন গ্রহণ করা হয়নি এবং কারা বাধা দিয়েছিল।

ডা. সিদ্দিকী আরও বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বিএমইউয়ের সব চিকিৎসা-নথি জব্দ এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।

Continue Reading

Trending