Connect with us

ক্যাম্পাস

বুটেক্সে বাঁধনের নবীনবরণ ও ডোনার সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

Published

on

অভিষেক দত্ত , বুটেক্স প্রতিনিধি। 

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) অনুষ্ঠিত হয়েছে বাঁধন, বুটেক্স ইউনিট (ঢাকা উত্তর জোন) আয়োজিত “নবীনবরণ ও ডোনার সংবর্ধনা ২০২৫”।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এই বর্ণাঢ্য আয়োজন। “একজনের রক্ত অন্যের জীবন — রক্তই হোক আত্মার বাঁধন” এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নতুন সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয় এবং বিদায়ী ৪৭তম ব্যাচের রক্তদাতাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন, আইটিইটির সদস্য সচিব ইঞ্জি. মো. এনায়েত হোসেন, আইটিইটির সাবেক মহাসচিব ইন্জি. এ কে এম মহসিন আহমেদ, বাঁধন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ, সাবেক বাঁধনকর্মী এবং নতুন ও পুরাতন সদস্যরা।

অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টায় অতিথি গ্রহণ ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে শুরু হয়। এরপর অতিথিদের বক্তব্য, স্মারক প্রদান করা হয়। ডোনার সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণী পর্বে নিয়মিত রক্তদাতাদের ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়। 

আইটিইটির সদস্য সচিব ইঞ্জি. মো. এনায়েত হোসেন বলেন, “বুটেক্স বাঁধন ইউনিট যেভাবে একাত্মতা ও মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তারা সবাইকে সম্মিলিত করে টেক্সটাইল পরিবারের জন্য সবসময় রক্তের ব্যবস্থা করে দেয়, যা একটি মহৎ উদ্যোগ। তাদের এই কাজকে আমরা আইটিইটি থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাব। নবীন ভাইদের জন্য রইলো আন্তরিক শুভেচ্ছা—আমাদের দরজা তোমাদের জন্য সবসময় খোলা থাকবে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, “বাঁধন এমন একটি সংগঠন, যা সরাসরি আমাদের জীবনের সাথে সম্পর্কিত। প্রথমেই আমি বাঁধনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ পুরো কমিটিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই এমন একটি সুন্দর ও মানবিক আয়োজন করার জন্য। তারা শুধু রক্তদানেই সীমাবদ্ধ নয়—নতুন শিক্ষার্থীদের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় থেকে শুরু করে নিজেরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাঁধনের এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাবে।”

বাঁধন বুটেক্স ইউনিটের সভাপতি হিমেল রায় বলেন, “বাঁধন সবসময় মানবতার সেবায় নিবেদিত একটি সংগঠন। রক্তদানের মাধ্যমে অন্যের জীবন বাঁচানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। নবীনবরণ ও ডোনার সংবর্ধনা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি নতুনদের মানবসেবায় উদ্বুদ্ধ করা এবং পুরোনোদের ত্যাগ ও অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার এক আন্তরিক প্রচেষ্টা। আমি আশা করি, আমাদের নতুন সদস্যরা বাঁধনের এই ঐতিহ্য ও মানবতার চেতনাকে আরও শক্তিশালী করে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”

সাধারণ সম্পাদক নাইম উদ্দিন তৌকির বলেন, “প্রতিবছরের মতো এবারও আমরা আয়োজন করেছি নবীনবরণ ও ডোনার সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। এ বছর আমরা আনন্দের সঙ্গে ৫০তম ব্যাচের নবীন সদস্যদের বরণ করে নিয়েছি। পাশাপাশি আমাদের মূল শক্তি ও গর্ব—নিয়মিত রক্তদাতা সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করেছি। তাদের এই নিঃস্বার্থ মানবসেবাই বাঁধনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও অনুপ্রেরণাদায়ক করে তুলবে বলে আমি আশা করি।”

রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ব্যান্ড সংগীতের মধ্য দিয়ে আয়োজনের পরিসমাপ্তি ঘটে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

নতুন শিক্ষকদের তিন-চার মাসের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে: ইবি উপাচার্য

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেছেন, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে তিনটি বিষয়ের সমন্বয় প্রয়োজন, পাঠদানকারী শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের লজিস্টিক সাপোর্ট এবং শিক্ষার পরিবেশ। এ তিনটির সঠিক সমন্বয় ঘটলেই মানসম্মত গ্র্যাজুয়েট তৈরি করা সম্ভব। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য তিন থেকে চার মাসের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে লেকচারার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পর্যায়ের শিক্ষকদের এ প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপাচার্য কনফারেন্স কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী উপস্থিত ছিলেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান আরও বলেন, বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষকরা প্রশিক্ষিত না হলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাই শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের জন্য ‘ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’ চালু করা হয়েছে।

ডিজিটাল রূপান্তর প্রসঙ্গে অধ্যাপক মতিনুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য ‘EDU ID’ চালুর বিষয়টি সামনে এসেছে। এর মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর ভর্তি থেকে শুরু করে সার্টিফিকেট অর্জন পর্যন্ত সম্পূর্ণ তথ্য ও ডিজিটাল সেবা একটি ইউনিক আইডির মাধ্যমে এক জায়গায় সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে ধীরে ধীরে ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের সেবা ডিজিটাল করার অংশ হিসেবে কুয়েটের একটি বিশেষজ্ঞ দল ইতোমধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে। বিশেষ করে ফলাফল প্রস্তুতের ক্ষেত্রে বর্তমানে কিছু কাজ ডিজিটাল এবং কিছু কাজ ম্যানুয়াল হওয়ায় একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Continue Reading

top3

শিক্ষার্থীদের জন্য ‘EDU ID’ চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: ইবি উপাচার্য

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেছেন, শিক্ষার্থীদের ভর্তি থেকে শুরু করে সার্টিফিকেট অর্জন পর্যন্ত সব তথ্য ও ডিজিটাল সেবা একটি ইউনিক আইডির মাধ্যমে এক জায়গায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ‘EDU ID’-এর মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ একাডেমিক প্রোফাইল সংরক্ষণ করা হবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে ধীরে ধীরে একটি ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপাচার্য কনফারেন্স কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী উপস্থিত ছিলেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, ‘EDU ID’ হবে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ইউনিক আইডি। এর মাধ্যমে ভর্তি থেকে শুরু করে সার্টিফিকেট অর্জন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও ডিজিটাল সেবা একটি প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের সেবা ডিজিটাল করার লক্ষ্যে কুয়েটের একটি বিশেষজ্ঞ দল ইতোমধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে। বিশেষ করে ফলাফল প্রস্তুতের ক্ষেত্রে বর্তমানে কিছু কার্যক্রম ডিজিটাল এবং কিছু ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার কাজ চলছে।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

বেরোবিতে অতিরিক্ত বাস চালুর দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান 

Published

on

By

আনাস মাহমুদ; বেরোবি প্রতিনিধি;

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ‘বিশ্ববিদ্যালয়-মেডিকেল মোড়-টি.টি. কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়’  রুটে বিকেল ৫টা ১০ মিনিট ও সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের ট্রিপে অতিরিক্ত বাস চালুর দাবিতে পরিবহন পুলের পরিচালক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের পরিচালক মো. মাসুদ রানার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থা। বিশেষ করে বিকেল ৫টা ১০ মিনিট ও সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের বাসগুলোতে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। এতে তাদের যাতায়াতে ভোগান্তির পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনা করে রুট নম্বর ৪-এ উল্লিখিত সময়ে একটি করে অতিরিক্ত বাস চালুর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিরও দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহিন আহমেদ বলেন, আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে আছি। তাদের কল্যাণে বেরোবি ছাত্রদল সবসময় কাজ করবে। অনেক শিক্ষার্থীর বিকেলে টিউশনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজ থাকে। বিষয়টি বিবেচনা করে বিকেলের বাসের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য আজ আমরা পরিবহন পুলের পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, রুট নম্বর ৪-এ একটি বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।

 পরিবহন পরিচালক আগামীকাল থেকেই অতিরিক্ত বাস চালু আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তারা।

এ সময় ছাত্রদল যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  সালমান ইমতিয়াজ সাকিব, মাহিন আহমেদ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিরাজ আলমসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

Continue Reading

Trending