সৌদিয়া পরিবহনের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে হঠাৎ করেই রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের একমাত্র যাত্রীবাহী পরিবহন পাহাড়িকা বাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতি।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী বাস চলাচলও বন্ধ রয়েছে। এতে হঠাৎ করেই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
সূত্রে জানা যায়, রাঙামাটি-ঢাকাগামী সৌদিয়া পরিবহনের বাস সার্ভিস গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে চালু করা হয়। সে সময় জেলা প্রশাসন, বিআরটিএ ও রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মোটর মালিক সমিতির অনুমতি নিয়ে ঢাকাগামী এই সার্ভিস চালু করা হয়। তবে বুধবার রাতে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সমিতির কয়েকজন ব্যক্তি রিজার্ভ বাজারস্থ সৌদিয়া পরিবহনের কাউন্টারে গিয়ে হামলা চালায় এবং কাউন্টারে তালা ঝুলিয়ে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এদিকে, সৌদিয়া পরিবহনের পক্ষ থেকে আরাফাত হোসেন বলেন, ‘আমরা সব নিয়ম মেনে গাড়ি চালালেও রাঙামাটিতে জাতীয় একটি রাজনৈতিক দলের কতিপয় নেতা আমাদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা সৌদিয়া পরিবহনের গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়।’ তবে মোটর মালিক সমিতির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কোনো চুক্তি না করে এবং অনুমতি ছাড়াই সৌদিয়া পরিবহন গাড়ি চালাচ্ছিল, সে কারণেই গাড়ি বন্ধ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় যাত্রী সাধারণসহ স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সকাল থেকেই সড়কের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। বিকল্প কোনো যানবাহন না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারেনি।
মোটর মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সৌদিয়া পরিবহনের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়িকা পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়।
এদিকে, হঠাৎ পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে এ বিষয়ে বিআরটিএ, পুলিশ কিংবা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।