Connect with us

top1

রুহুল কুদ্দুস কাজলকে অ্যাটর্নি জেনারেল করে প্রজ্ঞাপন

Published

on

দেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হয়েছেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। বুধবার (২৫ মার্চ) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ওই সময় থেকে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদটি শূন্য রয়েছে।

ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট, যা আইন পেশার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি।

তিনি আইনজীবীদের মধ্যে একজন জনপ্রিয় নেতা। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের ভোটে পরপর তিনবার (২০২০-২১, ২০২১-২২, ২০২২-২৩) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। তিনিই এই সমিতির সর্বশেষ নির্বাচিত সম্পাদক।

এ ছাড়া সারা দেশের আইনজীবীদের ভোটে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বর্তমানে বার কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি ১৯৯৫ সালে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী হিসেবে আইন পেশা শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে প্রাকটিসের অনুমতি লাভ করেন। ২০০৮ সালে দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাকে সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

সাংবিধানিক আইনের বিভিন্ন জটিল ব্যাখ্যা-সংক্রান্ত বিষয়ে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে আদালতে সর্বোচ্চ আদালতে বিশেষজ্ঞ মতামত প্রদান করেছেন। আইনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ সংক্রান্ত তার মতামত বাংলাদেশের জাতীয় গণমাধ্যমে বিশেষজ্ঞ মতামত হিসেবে প্রকাশ করা হয়।

জুলাই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে বেশ কয়েকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলার শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ষোড়শ সংশোধনী রিভিউ মামলা, পঞ্চদশ সংশোধনী মামলা, ডক্টর ইউনুস সরকারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের বিপক্ষে শুনানিতে তার সাবমিশন আইনজীবী মহলে অত্যন্ত প্রশংসনীয় হয়েছে। এ ছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বৈধতা সংক্রান্ত ত্রয়োদশ সংশোধনী রিভিউ মামলায় তিনি বিচারপতি খায়রুল হকের রায়ের আইনগত ত্রুটিগুলো সূক্ষ্ম পর্যালোচনা আদালতে উপস্থাপন করেন, রিভিউয়ের স্কোপ এবং জাজমেন্টের সংজ্ঞা বিষয়ে তার সাবমিশন বিচারকগণ অতি গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করেন। উক্ত মামলায় তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডক্টর সৈয়দ রেফাত আহমেদের অনুরোধে তিনি সফররত নেপালের প্রধান বিচারপতির উপস্থিতিতে যুক্তিততর্ক উপস্থাপন করেন, যা আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পক্ষে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাসহ বিভিন্ন মামলার শুনানিতে তার দক্ষতা বিশেষভাবে আলোচিত হয়। কূটনীতিক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ হাই কমিশন, লন্ডন, যুক্তরাজ্য-এ ২০০৩-২০০৬ মেয়াদে কর্মরত ছিলেন। ছাত্র জীবনে তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

পেশাগত জীবনের মতো শিক্ষাজীবনেও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রতিটি ধাপে মেধার স্বাক্ষর রেখে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

তিনি ১৯৮৬ সালে যশোর বোর্ড থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাশ করেন। ১৯৮৮ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় যশোর বোর্ডের সম্মিলিত মেধা তালিকায় অষ্টম স্থান অর্জন করেন। ১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) এবং ১৯৯৪ সালে এলএলএম পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।

পুনরায় ২০০৫ সনে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৬ সালে সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে বার ভোকেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেন। অতঃপর তিনি ২০০৬ সালে যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-এট-ল’ সনদ অর্জন করেন।

তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারত, চীন, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার-সংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক বার অ্যাসোসিয়েশন, কমনওয়েলথ ল অ্যাসোসিয়েশন এবং ল এশিয়ার সদস্য।

একজন বিশেষজ্ঞ আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। ছাত্রজীবনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি কর্তৃক গঠিত আইন সহায়তা সেলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উক্ত নির্বাচনে বিএনপির প্রায় অর্ধশতাধিক প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন কমিশনে এবং সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন।

জুলাই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে তিনি বিএনপির প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করেন এবং সংবিধান ও বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত সংস্কার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন।

সাংবিধানিক ও ফৌজদারি আইনে বিশেষ দক্ষতার পাশাপাশি, পেশাজীবীদের নেতা হিসেবে ও জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার কারণে একজন যোগ্য নেতা ও দক্ষ প্রশাসক হিসেবে তিনি সুপরিচিত এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী

Published

on

By

বাসস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘জনগণের অর্থ কোনোভাবেই বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না; বরং তা জনগণের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘অনেকেই নানা কথা ও বিভ্রান্ত ছড়াতে চায়। এরা বলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে? আপনাদের সবাইকে সাক্ষী রেখে তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই, বিগত এক যুগ ধরে জনগণের অর্থ এই দেশ থেকে পাচার হয়ে গিয়েছিল। আমরা জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না।’

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করা হবে। জনগণের অর্থ দিয়ে দেশের জন্য কাজ করা হবে, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে। কাজেই ইনশাআল্লাহ টাকার কোনো অভাব হবে না।’

তিনি বলেন, ‘যারা এই দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে, যারা এ দেশ থেকে জনগণের অর্থ বিদেশে পাঠাতে চায়, আমরা আজ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব। আমরা যদি সবাই চোখ-কান খোলা রাখি, তাহলে এ দেশের অর্থ কেউ বিদেশে পাচার করতে পারবে না। আমরা সবাই মিলে পরিশ্রম করব এবং সেই অর্থ দিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করব।’

দেশের মানুষের ভাগ্য বদলে সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে সবাই আছেন কিনা- জানতে চাইলে উপস্থিত হাজার হাজার চা শ্রমিকসহ শ্রীমঙ্গলের নারী-পুরষরা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেন।

এর আগে পবিত্র কুরআনসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত এবং পরে বিএনপির দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ১০ জন নারীর হাতে সরাসরি ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কম্পিউটারে বাটন চেপে ফ্যামিলি কার্ড তৃতীয় পর্যায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে চা শ্রমিক আবাসন সমস্যা সমাধানে শ্রমিকদের দুই লাখ টাকা করে অনুদান, চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বৃত্তি প্রদান, প্রতিবন্ধীদের জন্য আর্থিক অনুদানের চেকও প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপিকে গণমানুষের দল উল্লেখ করে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি সবসময় জনগণের কাতারে ছিল, সেজন্যই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের শক্তি। সেই জন্যই বিএনপি সবসময় বলে থাকে জনগণই আমাদের সব ক্ষমতার উৎস।

Continue Reading

top1

নবম পে স্কেলে ১১-২০ গ্রেডে ভাতা বাড়ছে পাঁচ গুণ

Published

on

By

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল-২০২৬ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোয় সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন ১১ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বাস্তবতায় তাদের মাসিক টিফিন ভাতা পাঁচ গুণ বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বর্তমানে অষ্টম পে স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের মাসিক টিফিন ভাতা ২০০ টাকা। নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে এ ভাতা বেড়ে হবে ১ হাজার টাকা।

প্রস্তাবিত এ সুবিধার আওতায় থাকবেন ১১ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারী এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

জাতীয় বেতন কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত এক দশকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ২০০ টাকা টিফিন ভাতা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কর্মচারীদের পুষ্টি ও কর্মদক্ষতা বিবেচনায় নিয়ে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন এ ভাতা ১ হাজার টাকা করার সুপারিশ করে।

নতুন পে স্কেলে টিফিন ভাতার পাশাপাশি মূল বেতন ও অন্যান্য ভাতাতেও পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ, সন্তানদের শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা চালুর পাশাপাশি প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য মাসিক ২ হাজার টাকা অতিরিক্ত ভাতা দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।

মাঠপর্যায়ের কর্মচারী ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা টিফিন ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ২০০ টাকার ভাতা কার্যত অপ্রতুল ছিল। নতুন হার কার্যকর হলে কর্মস্থলে দৈনন্দিন ব্যয় সামাল দিতে কিছুটা সহায়তা মিলবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের অংশ হিসেবে আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে

Continue Reading

top1

১৩ দিনে শিশু ধর্ষণ মামলার রায়, আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

Published

on

By

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন।

গত ৪ জুন এই মামলার অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছিল পুলিশ। এর ১৩ দিনের মাথায় বিচার শেষ করে রায় দিল আদালত।

ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ উল আলম চৌধুরী মারুফ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে মাত্র ৩ কার্যদিবসের মধ্যে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করা হয়। গত ১৬ জুন (মঙ্গলবার) আদালতে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর আজ এই রায় দেওয়া হলো।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ২১ মে বিকেল ৪টার দিকে বাকলিয়া থানাধীন নূর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুরমাঠের কাছের একটি গুদামে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে উদ্ধার করা হলে তার শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিকেল ৫টার দিকে অভিযুক্ত মনির হোসেনকে (পেশায় স্থানীয় ডেকোরেশন দোকানের কর্মচারী) একটি ভবনে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয় জনতা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসামিকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে উপস্থিত হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা বাধা দেয়। তারা আসামিকে পুলিশের গাড়ি থেকে নামিয়ে গণপিটুনি দেওয়ার দাবি জানায়। একপর্যায়ে জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। রাত ১০টার দিকে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে পুলিশ কৌশলে আসামিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়। এই সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৩০ জন পুলিশ সদস্য এবং বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন।

ঘটনার পরদিন শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে বাকলিয়া থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় সব প্রযুক্তিগত ও ফরেনসিক প্রমাণাদি দ্রুত সংগ্রহ করে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ৪ জুন একমাত্র আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়।

Continue Reading

Trending