Connect with us

top1

‘সংকটাপন্ন’ খালেদা জিয়া, ফিরতে বিলম্বের কারণ জানালেন তারেক

Published

on

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ফুসফুসে সংক্রমণ থেকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এরপর দেখা দেয় নিউমোনিয়া। এর সঙ্গে রয়েছে কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের পুরোনো সমস্যা। ফলে পরিস্থিতি এমন—একটি রোগের চিকিৎসা দিতে গেলে আরেকটির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

এমন পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থাকে ‘অত্যন্ত সংকটময়’ বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে দেখে এসে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন। শনিবার সকালে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ ও সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন। তাঁর রোগমুক্তির জন্য দল মত নির্বিশেষে দেশের সকল স্তরের নাগরিক আন্তরিকভাবে দোয়া অব্যহত রেখেছেন। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা তাঁর রোগমুক্তির জন্য দোয়ার সাথে সাথে চিকিৎসার সর্বত সহায়তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

দেশ বিদেশের চিকিৎসক দল বরাবরের মত তাঁদের উচ্চ মানের পেশাদারিত্ব ছাড়াও সর্বোচ্চ আন্তরিকত সেবা প্রদান অব্যহত রেখেছেন। বন্ধু প্রতীম একাধিক রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উন্নত চিকিৎসাসহ সম্ভাব্য সকল প্রকার সহযোগিতার আকাঙ্খা ব্যক্ত করা হয়েছে।

সর্বজন শ্রদ্ধেয়া বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সকলের আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা প্রদর্শন করায় জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। একই সাথে বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তির জন্য সকলের প্রতি দোয়া অব্যহত রাখার জন্য ঐকান্তিক অনুরোধ জানাচ্ছি।

তারেক রহমান বলেন, এমন সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্খা যে কোন সন্তানের মত আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মত এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।

বিএনপির নেতারা বলছেন, গত দুই দিনে তাঁর অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। চিকিৎসকরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্ভব হলে দ্রুত সিঙ্গাপুরে নেয়ার বিষয়ে চিন্তা করছেন।

এদিকে খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস তিনবারের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত স্বাস্থ্যের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখছেন এবং তাঁর সুচিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব সহায়তা ও সমন্বয়ে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন। বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেছেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই সময়ে বেগম খালেদা জিয়া জাতির জন্য ভীষণ রকম অনুপ্রেরণা, তাঁর সুস্বাস্থ্য দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নেত্রীকে নিয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিবৃতিতে যে সৌজন্য ও মানবিক অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে, সে জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে গতকাল শুক্রবার সারা দেশে মসজিদে মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত করেছে বিএনপি।

খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় গত রোববার। সেদিন তাঁর অনেক শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছিল। দ্রুত তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হলে দুই দিন আগে তাঁকে হাসপাতালের কেবিন থেকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে মেডিকেল বোর্ডের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে। তাঁর শারীরিক অবস্থার নেতিবাচক খবরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

লন্ডনে অবস্থানরত বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান সার্বক্ষণিক খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রাখছেন। জুবাইদা রহমান খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য। ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমান শাশুড়ি খালেদা জিয়ার সঙ্গে হাসপাতালে আছেন।

খালেদা জিয়াকে দেখতে গতকাল বিকেলে হাসপাতালে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁরা সিসিইউর ভেতরে যাননি। বাইরে থেকে দেখে এসেছেন। পরে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের আমীর খসরু বলেন, ‘আমরা দূর থেকে দেখেছি। ইনফেকশনের ঝুঁকি আছে, তাই সিসিইউতে যাওয়া যায় না। আমরা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। ম্যাডামের অবস্থার উন্নতি নেই। মেডিকেল বোর্ড চেষ্টা করছে।’

খালেদা জিয়ার অবস্থার অবনতি হলে গতরাতে সরকারের উপদেষ্টা, বিএনপি ও জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা ছুটে যান হাসপাতালে । তারা তার শারিরিক অবস্থার খোজখবর নেন। তাঁর গুরুতর অসুস্থতার খবরে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। উৎকন্ঠিত বিএনপি বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী হাসাপাতালে আশপাশের এলাকায় সারারাত অবস্থান করেন। রাতে হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার খবর নেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. মইন খানসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড প্রতিদিন বৈঠক করে চিকিৎসা দিচ্ছে ।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। দুই বছরের বেশি সময় তিনি কারাবন্দী ছিলেন। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ তৎকালীন সরকার নির্বাহী আদেশে তাঁর সাজা স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়। এরপর ছয় মাস পরপর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়াচ্ছিল সরকার। যদিও চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশ যেতে দেওয়া হয়নি।

গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খালেদা জিয়া মুক্তি পান। গত ৮ জানুয়ারি চিকিৎসার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে যান। চার মাস পর ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

তারেক রহমানের বরিশাল সফরের নতুন তারিখ

Published

on

By


বরিশালে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভার তারিখ একদিন পিছিয়ে আগামী ২৭ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।

ওইদিন বরিশাল নগরীর ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তিনি।

জনসভার স্থান বেলস পার্ক মাঠ পরিদর্শনকালে এ তথ্য জানান বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বরিশাল সদর আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার।

তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর আমাদের নেতা তারেক রহমান বরিশালে আসছেন। তার আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। জনসভা সফল করতে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।

সরোয়ার আরও বলেন, তারেক রহমানের বরিশালে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখা আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা এবং ধানের শীষের পক্ষে জনসমর্থন জোরদার করতে তার এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানান, পূর্বনির্ধারিত ২৬ জানুয়ারির পরিবর্তে ২৭ জানুয়ারি জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। তাকে বরণ করে নিতে যুবক, ছাত্র ও সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে মিছিল, সভা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

মাঠ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৬ সালে বরিশাল সফর করেন তারেক রহমান। সে সময় তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর এবার বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে বরিশাল সফরকে কেন্দ্র করে অঞ্চলটির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতারা।

Continue Reading

top1

সুযোগ পেলে যুবকদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ব : জামায়াত আমির

Published

on

By

রংপুরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে যুবকদের উদ্দেশ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান বলেছেন, কথা দিচ্ছি আমরা সুযোগ পেলে তোমাদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ব। আমরা সমাজের চাবি ও নেতৃত্ব তোমাদের হাতে তুলে দিয়ে পিছন থেকে তোমাদেরকে শক্তি ও সমর্থন দিয়ে যাব।

তিনি বলেন, তোমাদের ভোট নিয়ে যেন কেউ হেলাফেলা করতে না পারে এজন্য তোমাদের জুলাই যুদ্ধের মত আরেকবার লড়তে হবে এবং জনতার বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল পৌনে ৯টার দিকে তিনি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবরস্থানে উপস্থিত হয়ে কবর জিয়ারত করেন এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন। পরে তিনি শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদ আবু সাঈদ ও তার সঙ্গীরা জীবন দিয়ে আমাদের রেডি করে গিয়েছেন। আমাদের ঘাড়ে তারা দায়িত্ব ও আমানত রেখে গিয়েছেন। আমরা তাদের মতো জীবন দিয়ে হলেও তাদের আমানত রক্ষা করার লড়াই করে যাব। তাদের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা ছিল যে একটি দুর্নীতি মুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, ফ্যাসিবাদ মুক্ত, দুঃশাসন আধিপত্যবাদ মুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার। যে বাংলাদেশের সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করবে এবং যার যার দক্ষতা অনুযায়ী জাতি গঠন উন্নয়নের অবদান রাখবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে প্রত্যেকটি নাগরিক নিরাপদে বসবাস করবে। আমরা চরম বিপদের দিনে দেশে ছিলাম এখনো আছি এবং আগামী দিনে পরিস্থিতি যাই হোক আপনাদের সঙ্গে দেশেই থাকবো। আমরা দেশ ছেড়ে অন্য কোনো জায়গায় ঠিকানা খুঁজবো না।

জামায়াত আমির বলেন, আমাদের নিজস্ব কোনো এজেন্ডা নাই। আপনারা দেখেছেন পাঁচ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত আমরা কোনো চাঁদাবাজি করিনি। আমরা কোনো দুর্নীতি করি নাই, মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করিনি, আমরা কারো উপর ব্যক্তিগতভাবে প্রতিশোধ নেইনি বরং আমরা একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গঠন করার জন্য জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে চেয়েছি। আমরা আমাদের জাতিকে বিভক্ত করতে দেবো না এই বিভক্তির অবসান ঘটনার জন্যই আমরা ১০টি দল একত্রিত হয়েছি। আমরা বাংলাদেশের ৩০০ আসনের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ১০ দল প্রার্থী দিয়েছি।

শহীদ আবু সাইদ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করে তিনি বলেন, শহীদ আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডের বিচার চলছে। আমরা চাই অতি দ্রুত বিচারের কাজ শেষ করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। তার পরিবারকে আমরা মাথার তাজ করে রাখব। সেটা সেটা মুখের কথায় নয় বরং বাস্তবে দেখবেন।

যুবকদের উদ্দেশ্যে ড. শফিকুর রহমান বলেন, যুবকদের কথা দিচ্ছি আমরা সুযোগ পেলে তোমাদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ব। আমরা সমাজের চাবি ও নেতৃত্ব তোমাদের হাতে তুলে দিয়ে পিছন থেকে তোমাদেরকে শক্তি ও সমর্থন দিয়ে যাব। তোমাদের ভোট নিয়ে যেন কেউ হেলাফেলা করতে না পারে এজন্য তোমাদের জুলাই যুদ্ধের মত আরেকবার লড়তে হবে এবং জনতার বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে।

কবর জিয়ারতকালে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, রংপুর-৬ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা নুরুল আমিন, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, নেতাকর্মী এবং শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) উত্তরাঞ্চলে দুদিনের সফরে এসে পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও এবং রংপুরে ৪টি নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতের আমির প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন। এদিকে শনিবার সকালে তিনি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা শহরের এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন। পরে বিকেল সাড়ে ৩টায় সিরাজগঞ্জ শহরের ইসলামিয়া কলেজ মাঠে সমাবেশে অংশ নেবেন তিনি। একইদিনে উল্লাপাড়ার সরকারি এম আকবর আলী কলেজ মাঠে এক পথসভায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি পাবনায় অনুষ্ঠিত আরেকটি নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে জামায়াত আমিরের।

Continue Reading

top1

প্রচারের প্রথম দিনেই সহিংসতা, স্বতন্ত্র প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুর

Published

on

By

কুমিল্লার হোমনায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারের প্রথম দিনেই বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের গাড়ি ভাঙচুরসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি একপর্যায়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হলে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রচারের প্রথম দিনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিন খান কর্মী–সমর্থকদের নিয়ে পৌরসভার শ্রীমদ্দি গ্রামে যাচ্ছিলেন। এ সময় হোমনা ওভারব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিএনপির কর্মী–সমর্থকরা তাদের গাড়িবহর আটকে দেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা এবং পরে ধাওয়া–পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

সংঘর্ষে আহত অন্তত ১০ জনকে হোমনা সরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সহিংসতার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ মতিন খান একটি মোবাইল ফোনের দোকানে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় অভিযোগ তুলে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিন খান বলেন, নির্বাচনি মাঠে ভয়ভীতি ও সহিংসতার মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমিয়ে রাখার অপচেষ্টা চলছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালাতে চাই।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো কর্মী বা সমর্থক জড়িত নয়।

হোমনা থানার ওসি মো. মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কায় পরে যৌথবাহিনী এলাকায় টহল শুরু করে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে পুরো এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে

Continue Reading

Trending