Connect with us

top2

হামজার জোড়া গোলেও নেপালকে হারাতে পারল না বাংলাদেশ

Published

on

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ। স্কোরলাইন বাংলাদেশ ২, নেপাল ১। চতুর্থ রেফারি সায়মন সানি পাঁচ মিনিট ইনজুরি টাইম দেখান। ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে কর্নার থেকে নেপাল গোল করে সমতা আনে। এতে আবারো ইনজুরি টাইমের গোলে জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হয় বাংলাদেশের।

বাংলাদেশ প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল। হামজা চৌধুরী দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম পাঁচ মিনিটে জোড়া গোল করে বাংলাদেশকে লিড এনে দেন। এরপর খেলা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। কোচ হামজাকে ৮০ মিনিটে তুলে নেন। এরপর নেপাল ম্যাচে খানিকটা প্রাণ ফিরে পায়।

নেপালের একটি আক্রমণ ক্রসবারে লেগে ফেরত আসে। ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে কর্নার থেকে অনন্ত তামাং দারুণ দক্ষতায় ফ্লিক করেন। বাংলাদেশের ডিফেন্স জটলা ও গোলরক্ষক মিতুল মারমাকে পরাস্ত হন। নেপাল স্বাগতিকদের জয় ছিনিয়ে নিয়ে উল্লাসে মাতে।

শেষ মুুহূর্তে গোল হজম করে ম্যাচ হারা কিংবা পয়েন্ট হারানো বাংলাদেশের নতুন কিছু নয়। ৯ অক্টোবর ঢাকায় হংকংয়ের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে সমতা আনার পরও ইনজুরি সময়ে গোল খেয়ে ম্যাচ হেরেছিল। এক মাস পর প্রীতি ম্যাচেও সেই একই পুনরাবৃত্তি।

১৮ নভেম্বর ঢাকায় এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচের প্রস্তুতির জন্য আজ নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলেছেন জামালরা। জাতীয় স্টেডিয়ামে চলমান ম্যাচের প্রথমার্ধে সফরকারী নেপাল ১-০ গোলে এগিয়ে রয়েছে।

ম্যাচের ৩২ মিনিটে নেপাল গোল পায়। বাঁ প্রান্ত থেকে আক্রমণ করে নেপাল। ডিফেন্ডার সাদ উদ্দিন নেপালের ফরোয়ার্ডকে ঠিক মতো মার্কিং করতে পারেননি। নেপালি ফুটবলারের কাটব্যাক ক্লিয়ার করতে পারেননি সোহেল রানা। ফলে খানিকটা দৌড়ে এসে রোহিত চাদের নেওয়া জোরালো শট বাংলাদেশের ডিফেন্স ও গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে সমস্যা হয়নি।

হোম ম্যাচ। প্রায় দুই সপ্তাহের অনুশীলন। এরপরও বাংলাদেশ নেপালের বিপক্ষে প্রথমার্ধে তেমন আশাব্যাঞ্জক পারফরম্যান্স করতে পারেনি। বল দখলে থাকলেও সংঘবদ্ধ ও পরিকল্পিত আক্রমণ দেখা যায়নি। ফরোয়ার্ড রাকিব ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিম গোলের সুযোগ পেয়েও ফিনিশিং দক্ষতায় বল পোস্টে পাঠাতে পারেননি।

হামজা অন্য দিনের মতো আজও মাঠ জুড়েই খেলেছেন। আক্রমণের সময় নেপালের বক্সে হাত তুলে বল চেয়েছিলেন। সতীর্থ সোহেল রানা তাকে পাস না দিয়ে উল্টো লক্ষ্যভ্রষ্ট শট করেন। হামজা ডান প্রান্তে রানিংয়ে পা ঘুরিয়ে পাস দিয়ে তার জাত চিনিয়েছেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার সোহেল রানার পরিবর্তে সামিত সোমকে নামান কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটেই বাঁ প্রান্ত থেকে ক্রস দেন ফাহিম।

নেপালের ডিফেন্ডার ক্লিয়ার করলেও অধিনায়ক জামালের পায়ে পড়ে। তিনি বলটি হালকা উঠিয়ে হামজার উদ্দেশ্যে পাঠান। হামজা বক্সের মধ্যে শূন্যে লাফিয়ে শট নেন।

বল জালে জড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উল্লাস। বাইসাইকেল কিকে বাংলাদেশের গোল সচারচর হয় না। তাই কোচিং স্টাফ ও দলের সবাই এই গোলের উদযাপন করেছে বিশেষভাবে।

ম্যাচ সমতা আনার তিন মিনিটের মধ্যেই বাংলাদেশ আবার গোল পায়। এবার ফরোয়ার্ড রাকিবকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন সুমন শ্রেষ্ঠা। বল নেপালের বক্স থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল। রাকিবও বলের পেছনে ছুটছিলেন। সেই সময় সুমন রাকিবকে বাধা দিলে বক্সের মধ্যে পড়ে যান। তখন লঙ্কান রেফারি কাওসুন লাকমাল পেনাল্টির বাঁশি বাজান। নেপালি ফুটবলাররা পেনাল্টির প্রতিবাদ জানালেও রেফারি তার অবস্থানে অনড় থাকেন। হামজা হালকা শটে পেনাল্টি থেকে বাংলাদেশকে লিড এনে দেন।

২৫ মার্চ ভারতের শিলংয়ে বাংলাদেশের জার্সিতে প্রথম ম্যাচ খেলেন হামজা। ৪ জুন ভুটানের বিপক্ষে ঢাকায় প্রীতি ম্যাচে হামজা বাংলাদেশের হয়ে প্রথম গোল করেন। ৯ অক্টোবর ঢাকায় হংকং ম্যাচে দুর্দান্ত ফ্রি কিকে করেছিলেন নিজের দ্বিতীয় গোল। আজকের জোড়া গোলে হামজার গোল সংখ্যা ৪ আর ম্যাচ ৫।

আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয় কিউবা মিচেলের। তাকে কোচ ৮০ মিনিটে হামজার পরিবর্তে নামান। সিঙ্গাপুর ম্যাচের মতো আজকের ম্যাচেও খেলোয়াড় পরিবর্তন নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ছিলেন ক্যাবরেরা। প্রীতি ম্যাচ হওয়ায় দুই দলের সম্মতিতে ছয় জন ফুটবলার পরিবর্তন করা যায়। বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধে ছয় জন ফুটবলার পরিবর্তন করেছেন। দুই সোহেল রানা, জামাল, ফাহিম, হামজা ও জায়ানকে উঠিয়ে নেন কোচ। এর মধ্যে জায়ান ও হামজার হালকা চোট দেখা গেছে ডাগ আউটে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে না পারলে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেব : ধর্মমন্ত্রী

Published

on

By

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেব। ’

সোমবার সচিবালয়ে বিএসআরএফ সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন বন্ধে অনুরোধ করবে বাংলাদেশ সরকার। ’

কায়কোবাদ বলেন, ‘বিরোধীদল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করছে না, বিব্রত করছে।

তারেক রহমানের ভালো কাজ অনেকের সহ্য হচ্ছে না। যারা গণতন্ত্র হত্যার চেষ্টা করছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে।

Continue Reading

top2

পবিপ্রবিতে ভিসি অপসারণ দাবির কর্মসূচিতে হামলা, আহত ১০

Published

on

By

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) উপাচার্য (ভিসি) ড. কাজী রফিকুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে চলমান অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (১১ মে) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আটজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন- অধ্যাপক এবিএম সাইফুল ইসলাম, ড. আবদুল মালেক, ড. মো. আতিকুর রহমান, ড. নিজাম উদ্দীন, ড. মো. শহিদুল ইসলাম, ড. ননী গোপাল, ড. রিপন চন্দ্র পাল, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. জসিম উদ্দিন এবং কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনকারীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় তারা ভিসির অপসারণ দাবি এবং প্রো-ভিসি অধ্যাপক হেমায়েত জাহানের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

অভিযোগ রয়েছে, কর্মসূচি চলাকালে ভিসির সমর্থনে শতাধিক বহিরাগত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে আন্দোলনকারীদের বাধা দেয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, বহিষ্কৃত উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রিপন শরীফের নেতৃত্বে আসা বহিরাগতরা শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া, হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হামলার প্রায় এক ঘণ্টা পরও ঘটনাস্থলে পুলিশ না পৌঁছানোর অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।

এ ঘটনার প্রতিবাদ ও ভিসির অপসারণ দাবিতে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি টিএসসি চত্বর থেকে শুরু হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনের সড়ক হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা বাউফল-দুমকি-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করলে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হামলার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আগামীকাল প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে। ওই বৈঠকে যোগ দিতে আজ সকাল ৮টায় ক্যাম্পাস থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। বহিরাগতদের হামলার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ ও হামলার ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন তারা।

Continue Reading

top2

দুটি বিমানবাহী রণতরিসহ ২৬ যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

Published

on

By

মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব আরও সুসংহত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চলমান ইরান অবরোধ কার্যকর করার লক্ষ্যে ওই অঞ্চলে বর্তমানে দুটি বিমানবাহী রণতরিসহ অন্তত ২৬টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই নজিরবিহীন সামরিক তৎপরতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ কার্যকর করতে মাঠে নেমেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই অভিযানের অংশ হিসেবে কৌশলগত অবস্থান থেকে যুদ্ধজাহাজগুলো মোতায়েন করা হয়েছে। ভারত মহাসাগরসহ বিভিন্ন এলাকায় এ পর্যন্ত অন্তত তিনটি জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে মার্কিন সেনারা, যার মধ্যে দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয় পারস্য উপসাগর থেকে প্রায় দুই হাজার মাইল দূরে ভারত মহাসাগরে।

সর্বশেষ বুধবার রাতে ভারত মহাসাগরে নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন একটি তেলবাহী জাহাজে অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ইরান থেকে তেল পরিবহন করছিল।

বর্তমানে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) অধীনে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ১৯টি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এই বিশাল নৌবহরের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দুটি বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। তাদের সাথে পাহারায় রয়েছে ইউএসএস বেইনব্রিজ, ইউএসএস টমাস হাডনার, ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই পিটারসেন জুনিয়র, ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাক, ইউএসএস মাইকেল মারফি, ইউএসএস মিটশার, ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা, ইউএসএস স্প্রুয়েন্স, ইউএসএস মিলিয়াস, ইউএসএস চার্চিল, ইউএসএস ট্রাক্সটন ও ইউএসএস মাহান নামক ১২টি ডেস্ট্রয়ার। এছাড়া এই বহরে যুক্ত রয়েছে ইউএসএস ক্যানবেরা ও ইউএসএস তুলসা নামক দুটি কমব্যাট শিপ এবং ইউএসএস ত্রিপোলি, ইউএসএস নিউ অরলিন্স ও ইউএসএস রাশমোর নিয়ে গঠিত অ্যাম্ফিবিয়াস গ্রুপ।

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় আলাদাভাবে টহল দিচ্ছে আরও সাতটি যুদ্ধজাহাজ। এর মধ্যে রয়েছে ইউএসএস জন ফিন, ইউএসএস পিঙ্কনি, ইউএসএস হিগিন্স, ইউএসএস মাস্টিন, ইউএসএস ম্যাকফল, ইউএসএস জন এল. ক্যানলি এবং ইউএসএস সান্তা বারবারা। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অঞ্চলটিতে মার্কিন বাহিনীর এই বিপুল উপস্থিতি ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা এবং ওই এলাকায় নিজেদের কৌশলগত আধিপত্য বজায় রাখার প্রচেষ্টারই বহিঃপ্রকাশ।

Continue Reading

Trending