Connect with us

top1

আগামী সপ্তাহেই দিল্লি যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী, প্রস্তুতি দুই দেশেই

Published

on

দিল্লিতে বিমসটেক সম্মেলনের আগে, আগামী সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফরের প্রস্তুতি চলছে।

ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সম্ভাব্য তারিখ হতে পারে ২২-২৩ অগাস্ট; অর্থাৎ, ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ঠিক এক সপ্তাহ পর।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। কর্মকর্তারাও নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি।

তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোও তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে শুরু করেছে।

এনডিটিভি লিখেছে, সম্ভাব্য এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা গুরুত্ব পেতে পারে।

সব ঠিক থাকলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটাই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এ সফর তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, দুই দিনের এই সফরকে দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নরেন্দ্র মোদীর সরকার।

এছাড়া সেপ্টেম্বরে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসের আয়োজনে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের তরফে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। তবে গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বক্তব্যে ব্রিকসের চেয়ে দ্বিপক্ষীয় সফরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল।

ঢাকার সরকারি সূত্রগুলো বলছে, প্রতিবেশী দেশটিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফরের জন্য নীরবে হলেও নিশ্চিতভাবেই প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।

গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাই কমিশনার (যিনি ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মর্যাদা পান) দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকটি এই সংক্ষিপ্ত সফরের বিষয়ে মত পরিবর্তনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, জাতিসংঘ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে আগামী ২৭ বা ২৮ অগাস্ট যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারত সফরে যোগ দেবেন।

মোদী-তারেকের সম্ভাব্য প্রথম বৈঠক

এনডিটিভি লিখেছে, নরেন্দ্র মোদী ও তারেক রহমানের সম্ভাব্য বৈঠকের দিকে বিশেষ নজর থাকবে দুই দেশেরই।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির সরকার ক্ষমতায় আসার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতকেও নতুন করে কৌশল নির্ধারণ করতে হচ্ছে।

২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়। বিশেষ করে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চাপা উত্তেজনা রয়েছে।

তবে গত নির্বাচনের পর থেকে দিল্লি ও ঢাকা দুই তরফেই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে বিভিন্নভাবে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও কিছুটা বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এপ্রিলে নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে ১০ অগাস্ট ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সেখানেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা এসেছে; তবে সেজন্য ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা।

আর এর অংশ হিসেবে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখার বিষয়টি আলোচনায় আসছে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ‘বড় ইস্যু’

এনটিভি লিখেছে, ভারত সফরে তারেক রহমানের আলোচনায় শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানায় ঢাকা।

ভারত বলে আসছে, বাংলাদেশের অনুরোধ তারা ‘যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায়’ পর্যালোচনা করছে। তবে ভারত তাকে ফেরত দেবে, তেমন সম্ভবনা দেখছেন না অধিকাংশ বিশ্লেষক।

গত ৫ অগাস্ট দিল্লির সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেওয়ার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল ঢাকা।

দিল্লির সাউথ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে সেদিন অডিও কলে যুক্ত হন শেখ হাসিনা। তিনি সেখানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি তোলেন এবং বাংলাদেশে ফিরে আসার ইচ্ছার কথা জানান।

মানবতাবিরোধী অপরাধে দাণ্ডিত শেখ হাসিনা যাতে দিল্লিতে বসে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে না পারেন, সেজন্য আগেই ভারত সরকারের সহযোগিতা চেয়েছিল বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানটির আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, এটি একটি বেসরকারি সংগঠনের আয়োজন এবং এতে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আর ওই অনুষ্ঠানে যে মতামত প্রকাশ করা হতে পারে, ভারত সরকার তাতেও কোনো সমর্থন দিচ্ছে না।

কিন্তু তারপরও দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন হতে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশ সরকার। ‘দণ্ডিত পলাতক আসামিকে’ বক্তৃতার সুযোগ করে দেওয়াকে সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করা হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থানের দিকে ইঙ্গিত করে ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, “দুঃখজনকভাবে, ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী অভিযুক্ত অপরাধী হাসিনাকে ফেরতের বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশের বারংবার পাঠানো অনুরোধের কোনো জবাব এখনও মেলেনি।

“এর বিপরীতে, যে কোনো অজুহাতেই হোক, তাকে প্রকাশ্যে মতবিনিময়ের সুযোগ করে দেওয়া আমাদের জনগণের অনুভূতিতে গভীর আঘাত এবং বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর।”

এরপর ৭ অগাস্ট নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আবারো বলেন, ওই আয়োজনে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না এবং সেখানে যা কিছু বলা হয়েছে, তাও সমর্থন করে না সরকার।

ঢাকার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে ১০ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয় নতুন ভারতীয় হাই কমিশনার ত্রিবেদীর।

ওই বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাওয়ার পাশাপাশি তাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখতে বলেছে ঢাকা।

পরদিন দিল্লির ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সওয়ালকে এ বিষয়ে আবারো প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে জানতে চান একজন সাংবাদিক। শেখ হাসিনার মামলার নথি ঢাকা থেকে পাঠানো হয়েছে কিনা, সে প্রশ্নও তিনি করেন।

জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। ভারতের নিজস্ব প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য থাকলে জানিয়ে দেওয়া হবে।”

‘সংশ্লিষ্ট সূত্রের’ বরাত দিয়ে এনডিটিভি লিখেছে, তারেক রহমান ও ভারতীয় হাই কমিশনারের বৈঠকেও শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

“তবে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক যাতে এই একটি প্রশ্নে আটকে না যায়, সে জন্য বিষয়টি কীভাবে আলোচনায় আনা হবে, তাও উভয় সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।”

পানি, বাণিজ্য ও সীমান্ত

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা প্রসঙ্গের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু অমীমাংসিত সমস্যা রয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বৈঠকে বাণিজ্য ও ট্রানজিট, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও পরিবহন যোগাযোগও রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হলে এসব ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব থাকবে।

পানি বণ্টনও দুই দেশের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। ১৯৯৬ সালে সই হওয়া গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আসছে ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। সে কারণে স্বাভাবিকভাবেই চুক্তি নবায়নের আলোচনা বৈঠকে গুরুত্ব পাবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক ভারতের জন্যও জরুরি। দুই দেশের অভিন্ন সীমান্তের পাশাপাশি বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে এর যোগাযোগও নয়াদিল্লির কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ

দুই দেশের সাম্প্রতিক তৎপরতায় সম্পর্কের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বেশ ভালোভাবেই। সেই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছিলেন, ভারতের জনগণ ও প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের অপেক্ষায় আছেন।

“আমাদের ইস্যু হবে, বাংলাদেশের ইস্যু হবে। কিন্তু মানুষের ইস্যু একটাই যে—ভালো সম্পর্ক। আর ভালো সম্পর্ক হলে উইন-উইন সিচুয়েশন। এটা আমাদের ঐতিহাসিকভাবে আছে, এটা তো আপনি বদলাতে পারবেন না। প্রতিবেশী তো বদলাতে পারবেন না, ইতিহাস বদলাতে পারবেন না।”

আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “আমি সবসময় বলি, আমরা শুধু সীমান্ত ভাগাভাগি করি না, আমরা স্বপ্নও ভাগাভাগি করি। আমরা তো স্বপ্ন ভাগাভাগি করি, তাই তো?

“আমার মনে হচ্ছে, আগামী দিন খুবই ভালো হবে। ইস্যুজটা শর্ট-আউট করতেই হবে, দুদিক থেকে। আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী।”

এনটিভি লিখেছে, এই সফরেই দুই দেশের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা নেই। শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো, পানি বণ্টন, বাণিজ্য এবং সীমান্তসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আরও আলোচনা ও সমঝোতার প্রয়োজন হবে।

“তবে তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক ভারতের নেতৃত্বকে বাংলাদেশের অবস্থান জানার একটি রাজনৈতিক সুযোগ করে দিতে পারে। একইভাবে নতুন বাংলাদেশ সরকারের কাছে নিজেদের প্রত্যাশাগুলো তুলে ধরার সুযোগ পাবেন নরেন্দ্র মোদী।”

ভারতের সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, “সফরের তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী সপ্তাহে তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফর হলে সেটি বাংলাদেশ-ভারতের নতুন রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রথম বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

“দুই দেশের জন্য এখন মূল লক্ষ্য হতে পারে আবার সরাসরি আলোচনা শুরু করা এবং কঠিন প্রশ্নগুলোকে সামগ্রিক সম্পর্ক ছাপিয়ে যেতে না দেওয়া।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

বাংলাদেশের জার্সিতে ফারহান আলীর অভিষেক, একাদশে নেই জামাল

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

ফিফা-আসিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল ৩টায়।

এই ম্যাচের একাদশে বাংলাদেশের নিয়মিত অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকে রাখেননি কোচ থমাস ডুলি। একাদশে বড় চমক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন ইংল্যান্ডপ্রবাসী ফুটবলার ফারহান আলী ওয়াহিদ। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হচ্ছে তার।

নিয়মিত গোলরক্ষক মিতুল মারমার পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন মেহেদী হাসান শ্রাবণ। ইনজুরির কারণে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ জাকার্তায় যেতে পারেননি। তার অনুপস্থিতিতে সাদ উদ্দিন, জুনিয়র তপু, তারিক কাজী ও জায়ান আহমেদকে নিয়ে রক্ষণভাগ সাজিয়েছেন কোচ ডুলি।

জামাল ভূঁইয়া একাদশে না থাকায় বাংলাদেশের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড উঠছে সিনিয়র সোহেল রানার হাতে।

বাংলাদেশ একাদশ: মেহেদী হাসান শ্রাবণ (গোলরক্ষক), তারিক কাজী, শাকিল আহাদ তপু (জুনিয়র), সাদ উদ্দিন, জায়ান আহমেদ, হামজা দেওয়ান চৌধুরী, সোহেল রানা (সিনিয়র), সামিত সোম, ফারহান আলী ওয়াহিদ, রাকিব হোসেন ও ফাহমিদুল ইসলাম।

Continue Reading

top1

৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি, ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ

Published

on

By

৫১তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৬ এর মাধ্যমে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭০০ জন সহকারী সার্জন এবং ৩০০ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন নিয়োগের কথা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগামী ১ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হবে। আবেদন করা যাবে ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন পদ সৃষ্টি, পদ বিলুপ্তি, পদোন্নতি ও অন্যান্য কারণে শূন্য পদের সংখ্যা পরিবর্তন হতে পারে। ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর যাদের বয়স ২১ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে, তারা এ বিশেষ বিসিএসে আবেদন করতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ওয়েবসাইট অথবা পিএসসির ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। সাধারণ প্রার্থীদের জন্য আবেদন ফি ২০০ টাকা। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য ফি ৫০ টাকা। এর সঙ্গে টেলিটকের ভ্যাট ও ডেটা ভেরিফিকেশন চার্জ হিসেবে অতিরিক্ত ৫ টাকা দিতে হবে।

আবেদনের শেষ সময় ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা। তবে ওই সময়ের মধ্যে ইউজার আইডি পাওয়া প্রার্থীরা পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফি পরিশোধ করতে পারবেন।

আরও বলা হয়, পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের পথে থাকা প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। তবে তাদের সব লিখিত পরীক্ষা অবশ্যই ২৫ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হতে হবে। দেশি বা বিদেশি ডিগ্রির সমমানের সনদ এবং বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মৌখিক পরীক্ষার সময় জমা দিতে হবে।

সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রার্থীদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আবেদন করতে হবে বলে উল্লেখ করেছে পিএসসি।

আউটসোর্সিং সেবা গ্রহণ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা

পরীক্ষাপদ্ধতি ও নম্বর বণ্টন

৫১তম বিশেষ বিসিএসে মোট ৩০০ নম্বরের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করা হবে। এর মধ্যে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা এবং ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা থাকবে। লিখিত পরীক্ষা হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে।

লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে ২০ নম্বর করে থাকবে। মানসিক দক্ষতা ও গাণিতিক যুক্তিতে থাকবে ১০ নম্বর করে। সংশ্লিষ্ট ক্যাডার বা পদের প্রাসঙ্গিক বিষয়ের জন্য থাকবে ১০০ নম্বর। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ৫০ নম্বর কাটা হবে।

পিএসসি জানিয়েছে, আগামী নভেম্বরের মধ্যেই লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরীক্ষা মূলত ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।

বিশেষ সতর্কতা

কোনো ধরনের তদবির করলে তা প্রার্থীর অযোগ্যতা হিসেবে গণ্য হবে। মিথ্যা তথ্য দেওয়া, সনদ জাল করা কিংবা পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বন করলে প্রার্থিতা বাতিল করা হতে পারে।

এ ছাড়া এসব অনিয়মের ক্ষেত্রে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া বা ভবিষ্যতের সরকারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

Continue Reading

top1

হাম উপসর্গে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৭০

Published

on

By

দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১২৭০ জন। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ছয়জন, সিলেট বিভাগে একজন, চট্টগ্রামে দুইজন, খুলনা একজন ও রংপুরে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৭৬। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ১৫৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৯ জনে। এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১১৩ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৮৫১ জনে।

গত ১৫ মার্চ থেকে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে এক লাখ ৬২ হাজার ৪৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ৫৫ হাজার ৬১২ জন।

Continue Reading

Trending