Connect with us

top1

আগামী সপ্তাহেই দিল্লি যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী, প্রস্তুতি দুই দেশেই

Published

on

দিল্লিতে বিমসটেক সম্মেলনের আগে, আগামী সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফরের প্রস্তুতি চলছে।

ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সম্ভাব্য তারিখ হতে পারে ২২-২৩ অগাস্ট; অর্থাৎ, ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ঠিক এক সপ্তাহ পর।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। কর্মকর্তারাও নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি।

তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোও তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে শুরু করেছে।

এনডিটিভি লিখেছে, সম্ভাব্য এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা গুরুত্ব পেতে পারে।

সব ঠিক থাকলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটাই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এ সফর তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, দুই দিনের এই সফরকে দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নরেন্দ্র মোদীর সরকার।

এছাড়া সেপ্টেম্বরে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসের আয়োজনে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের তরফে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। তবে গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বক্তব্যে ব্রিকসের চেয়ে দ্বিপক্ষীয় সফরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল।

ঢাকার সরকারি সূত্রগুলো বলছে, প্রতিবেশী দেশটিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফরের জন্য নীরবে হলেও নিশ্চিতভাবেই প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।

গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাই কমিশনার (যিনি ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মর্যাদা পান) দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকটি এই সংক্ষিপ্ত সফরের বিষয়ে মত পরিবর্তনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, জাতিসংঘ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে আগামী ২৭ বা ২৮ অগাস্ট যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারত সফরে যোগ দেবেন।

মোদী-তারেকের সম্ভাব্য প্রথম বৈঠক

এনডিটিভি লিখেছে, নরেন্দ্র মোদী ও তারেক রহমানের সম্ভাব্য বৈঠকের দিকে বিশেষ নজর থাকবে দুই দেশেরই।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির সরকার ক্ষমতায় আসার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতকেও নতুন করে কৌশল নির্ধারণ করতে হচ্ছে।

২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়। বিশেষ করে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চাপা উত্তেজনা রয়েছে।

তবে গত নির্বাচনের পর থেকে দিল্লি ও ঢাকা দুই তরফেই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে বিভিন্নভাবে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও কিছুটা বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এপ্রিলে নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে ১০ অগাস্ট ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সেখানেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা এসেছে; তবে সেজন্য ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা।

আর এর অংশ হিসেবে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখার বিষয়টি আলোচনায় আসছে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ‘বড় ইস্যু’

এনটিভি লিখেছে, ভারত সফরে তারেক রহমানের আলোচনায় শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানায় ঢাকা।

ভারত বলে আসছে, বাংলাদেশের অনুরোধ তারা ‘যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায়’ পর্যালোচনা করছে। তবে ভারত তাকে ফেরত দেবে, তেমন সম্ভবনা দেখছেন না অধিকাংশ বিশ্লেষক।

গত ৫ অগাস্ট দিল্লির সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেওয়ার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল ঢাকা।

দিল্লির সাউথ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে সেদিন অডিও কলে যুক্ত হন শেখ হাসিনা। তিনি সেখানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি তোলেন এবং বাংলাদেশে ফিরে আসার ইচ্ছার কথা জানান।

মানবতাবিরোধী অপরাধে দাণ্ডিত শেখ হাসিনা যাতে দিল্লিতে বসে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে না পারেন, সেজন্য আগেই ভারত সরকারের সহযোগিতা চেয়েছিল বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানটির আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, এটি একটি বেসরকারি সংগঠনের আয়োজন এবং এতে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আর ওই অনুষ্ঠানে যে মতামত প্রকাশ করা হতে পারে, ভারত সরকার তাতেও কোনো সমর্থন দিচ্ছে না।

কিন্তু তারপরও দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন হতে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশ সরকার। ‘দণ্ডিত পলাতক আসামিকে’ বক্তৃতার সুযোগ করে দেওয়াকে সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করা হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থানের দিকে ইঙ্গিত করে ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, “দুঃখজনকভাবে, ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী অভিযুক্ত অপরাধী হাসিনাকে ফেরতের বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশের বারংবার পাঠানো অনুরোধের কোনো জবাব এখনও মেলেনি।

“এর বিপরীতে, যে কোনো অজুহাতেই হোক, তাকে প্রকাশ্যে মতবিনিময়ের সুযোগ করে দেওয়া আমাদের জনগণের অনুভূতিতে গভীর আঘাত এবং বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর।”

এরপর ৭ অগাস্ট নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আবারো বলেন, ওই আয়োজনে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না এবং সেখানে যা কিছু বলা হয়েছে, তাও সমর্থন করে না সরকার।

ঢাকার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে ১০ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয় নতুন ভারতীয় হাই কমিশনার ত্রিবেদীর।

ওই বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাওয়ার পাশাপাশি তাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখতে বলেছে ঢাকা।

পরদিন দিল্লির ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সওয়ালকে এ বিষয়ে আবারো প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে জানতে চান একজন সাংবাদিক। শেখ হাসিনার মামলার নথি ঢাকা থেকে পাঠানো হয়েছে কিনা, সে প্রশ্নও তিনি করেন।

জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। ভারতের নিজস্ব প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য থাকলে জানিয়ে দেওয়া হবে।”

‘সংশ্লিষ্ট সূত্রের’ বরাত দিয়ে এনডিটিভি লিখেছে, তারেক রহমান ও ভারতীয় হাই কমিশনারের বৈঠকেও শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

“তবে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক যাতে এই একটি প্রশ্নে আটকে না যায়, সে জন্য বিষয়টি কীভাবে আলোচনায় আনা হবে, তাও উভয় সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।”

পানি, বাণিজ্য ও সীমান্ত

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা প্রসঙ্গের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু অমীমাংসিত সমস্যা রয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বৈঠকে বাণিজ্য ও ট্রানজিট, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও পরিবহন যোগাযোগও রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হলে এসব ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব থাকবে।

পানি বণ্টনও দুই দেশের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। ১৯৯৬ সালে সই হওয়া গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আসছে ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। সে কারণে স্বাভাবিকভাবেই চুক্তি নবায়নের আলোচনা বৈঠকে গুরুত্ব পাবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক ভারতের জন্যও জরুরি। দুই দেশের অভিন্ন সীমান্তের পাশাপাশি বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে এর যোগাযোগও নয়াদিল্লির কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ

দুই দেশের সাম্প্রতিক তৎপরতায় সম্পর্কের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বেশ ভালোভাবেই। সেই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছিলেন, ভারতের জনগণ ও প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের অপেক্ষায় আছেন।

“আমাদের ইস্যু হবে, বাংলাদেশের ইস্যু হবে। কিন্তু মানুষের ইস্যু একটাই যে—ভালো সম্পর্ক। আর ভালো সম্পর্ক হলে উইন-উইন সিচুয়েশন। এটা আমাদের ঐতিহাসিকভাবে আছে, এটা তো আপনি বদলাতে পারবেন না। প্রতিবেশী তো বদলাতে পারবেন না, ইতিহাস বদলাতে পারবেন না।”

আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “আমি সবসময় বলি, আমরা শুধু সীমান্ত ভাগাভাগি করি না, আমরা স্বপ্নও ভাগাভাগি করি। আমরা তো স্বপ্ন ভাগাভাগি করি, তাই তো?

“আমার মনে হচ্ছে, আগামী দিন খুবই ভালো হবে। ইস্যুজটা শর্ট-আউট করতেই হবে, দুদিক থেকে। আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী।”

এনটিভি লিখেছে, এই সফরেই দুই দেশের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা নেই। শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো, পানি বণ্টন, বাণিজ্য এবং সীমান্তসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আরও আলোচনা ও সমঝোতার প্রয়োজন হবে।

“তবে তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক ভারতের নেতৃত্বকে বাংলাদেশের অবস্থান জানার একটি রাজনৈতিক সুযোগ করে দিতে পারে। একইভাবে নতুন বাংলাদেশ সরকারের কাছে নিজেদের প্রত্যাশাগুলো তুলে ধরার সুযোগ পাবেন নরেন্দ্র মোদী।”

ভারতের সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, “সফরের তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী সপ্তাহে তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফর হলে সেটি বাংলাদেশ-ভারতের নতুন রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রথম বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

“দুই দেশের জন্য এখন মূল লক্ষ্য হতে পারে আবার সরাসরি আলোচনা শুরু করা এবং কঠিন প্রশ্নগুলোকে সামগ্রিক সম্পর্ক ছাপিয়ে যেতে না দেওয়া।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণার দাবিতে শাহবাগ অবরোধ

Published

on

By

নোয়াখালীকে পৃথক বিভাগ ঘোষণার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারীরা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে শাহবাগে অবস্থান নেন তারা। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

জুমার নামাজ শেষে বিকেল ৩টার দিকে চকবাজার চক মসজিদ থেকে শাহবাগের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে রওনা হন আন্দোলনকারীরা। প্রায় ৪৫ মিনিট পর তারা শাহবাগে পৌঁছে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন।

এ সময় নোয়াখালীকে দ্রুত পৃথক বিভাগ ঘোষণার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করে নোয়াখালীকে পৃথক বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।

আন্দোলনকারীরা বলেন, নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণা করা হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং বৃহত্তর এলাকার মানুষের নাগরিক সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।

এদিকে আন্দোলনকারীদের সড়ক অবরোধের কারণে শাহবাগ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে আশপাশের সড়কগুলোতেও। ফলে ওই এলাকায় যানজট তৈরি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পুলিশের সঙ্গে কথা হলে সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কথা বলবেন।

Continue Reading

top1

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা

Published

on

By

অনলাইন ডেস্ক

গাজা উপত্যকা থেকে সব ফিলিস্তিনিকে অন্য দেশে সরিয়ে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী নেতা ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির। আসন্ন ইসরায়েলি নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।

বেন গাভিরের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম বছরেই গাজা থেকে প্রায় আড়াই লাখ ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে নেওয়া হবে। পরবর্তী ছয় বছরের মধ্যে অঞ্চলটির বাকি বাসিন্দাদেরও স্থানান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোন কোন দেশ গাজাবাসীদের গ্রহণ করতে প্রস্তুত—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি।

তার দল ‘জুইশ পাওয়ার’ আগামী সরকার গঠিত হলে ‘অভিবাসনবিষয়ক নতুন মন্ত্রণালয়’ গঠনের দাবি জানাবে বলেও জানান বেন গাভির। তার দাবি, প্রায় দেড় বছর গবেষণার পর ২০ পৃষ্ঠার পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছে। নথিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘গাজা উপত্যকা থেকে স্বেচ্ছায় অভিবাসনের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’।

তবে ‘স্বেচ্ছায়’ অভিবাসনের কথা বলা হলেও পরিকল্পনাটি নিয়ে তীব্র বিতর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অধিকৃত ভূখণ্ডের বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা নিষিদ্ধ।

বেন গাভিরের বক্তব্যের কয়েক দিন আগেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজও গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। তার দাবি, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করছে ইসরায়েল।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও গাজার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দাকে সরিয়ে অঞ্চলটি পুনর্গঠনের একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ওই প্রস্তাব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

এদিকে অক্টোবরের ইসরায়েলি সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে বেন গাভিরের এমন বক্তব্যকে চরম ডানপন্থী ও জাতীয়তাবাদী ভোটারদের আকৃষ্ট করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি গাজার একটি সামরিক অবস্থান পরিদর্শন করে জানান, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল থেকে তারা সরে যাবে না। ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গাজার প্রায় ৬৫ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Continue Reading

top1

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণ, ট্যাংক-বুলডোজার নিয়ে অনুপ্রবেশ

Published

on

By

অনলাইন ডেস্ক

দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় গোলাবর্ষণের পাশাপাশি ট্যাংক ও বুলডোজার নিয়ে স্থলপথে প্রবেশ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় সীমান্তবর্তী এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোনের উপস্থিতি ও শব্দ বোমা নিক্ষেপের খবর পাওয়া গেছে।

লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি জানায়, বৃহস্পতিবার মানসুরি শহর লক্ষ্য করে ইসরায়েলি কামান থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়। পরে একটি মেরকাভা ট্যাংক ও একটি ডি-৯ বুলডোজার শহরটিতে প্রবেশ করে।

লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক যানকে ফাঁদ পাতা কন্টেইনার পরিবহন করতেও দেখা গেছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি বাহিনী নাবাতিয়েহ গভর্নরেটের হাসবায়া জেলার হালতা ফার্ম এলাকায়ও প্রবেশ করে। সেখানে কয়েকটি বাড়ি ঘেরাও করা এবং কিছু বাসিন্দাকে বাড়ি থেকে বের হতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া আজিয়াহ-মানসুরি সড়কে একটি ইসরায়েলি ড্রোন থেকে দুটি শব্দ বোমা নিক্ষেপের খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে হাদাথা ও ওয়াদি বারাচিত এলাকাতেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ভোরে টায়ার এলাকার আকাশে ইসরায়েলি ড্রোন উড়তে দেখা যায় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Continue Reading

Trending