Connect with us

ফিচার

হেমন্তের বিদায়লগ্নে ইবির সাতচল্লিশে পদার্পণ

Published

on

মো. মোসাদ্দেক হোসেন

‎‎হেমন্তের ফসলভেজা সুবাস যখন ধীরে ধীরে ম্লান হতে শুরু করে, ঠিক তখনই শীত তার কোমল সাদা আবছায়ার মাধ্যমে প্রকৃতিতে অস্তিত্বের জানান দেয়। দুই ঋতুর এই মিলনক্ষণে প্রকৃতি যেন অদৃশ্যভাবে নতুন এক আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ম্লান আলো, বাতাসে জমে ওঠা শীতল স্নিগ্ধতা, আর কুয়াশা এসবই যেন নীরব অতিথির মত নেমে আসে সকালের মাঠে, প্রান্তরে। শুকনো পাতার খসখস শব্দ আর শিশিরভেজা ঘাসের আদ্রতা মিলেমিশে তৈরি করে এক অনির্বচনীয় আমেজ, যেন হেমন্তের হাত ধরেই প্রকৃতি মধুর সংবরণে বরণ করে নিচ্ছে শীতকে।‎‎

ঠিক এমনই এক ঋতুসন্ধিক্ষণের দিনে আজ থেকে ৪৭ বছর আগে ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর, প্রথম যাত্রা শুরু করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ। প্রকৃতির এই নীরব পরিবর্তনের মতোই সেদিন উচ্চশিক্ষার বুকে রচিত হয়েছিল এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যা আজও টিকে আছে ৪৭ বছরের ধারাবাহিকতায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দলকানা ভিসির পতন হলে, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্ণধার ও ১৪ তম উপাচার্যের মহান দায়িত্ব গ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. নকীব মোহম্মদ নসরুল্লাহ।‎‎

২২ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম এ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অসংখ্য কণ্টকাকীর্ণ পথ পেরিয়ে স্বকীয় পন্থায় দৃঢ় স্বরে উচ্চশিক্ষার দিগন্ত উন্মোচন করে আসছে কয়েক যুগ ধরে। ‎সবুজে ঘেরা কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন এ ক্যাম্পাসটি ১৭৫ একর জুড়ে বিস্তৃত। এখানে রয়েছে ৯টি অনুষদ, ৩৬টি বিভাগ ও শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য ৫ টি ছাত্র ও ৩ টি ছাত্রী আবাসিক হল। প্রকাশিত তথ্য মতে বর্তমানে এর শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৯৮৯৭ জন, শিক্ষক ৪১১ জন এবং বিদেশি শিক্ষার্থী ১৮ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে প্রায় ১ লাখেরও বেশি বই, ৩০ হাজার পান্ডুলিপি ও ১৯ হাজারেরও বেশি বিদেশি জার্নালের সাবস্ক্রিপশন রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পিএইচডি ৭৪৯ জনকে , এমফিল ৮৫৫ জনকে, মাস্টার্স ২২,৫৮১ এবং অনার্স ২৪,৯৩৩ জনকে প্রদান করা হয়েছে।ইবির দুই অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান ও ড. মিজানুর রহমান ২০২৫ সালে এলসেভিয়ার প্রকাশনা ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ ২% বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন। তাঁদের গবেষণার সাইটেশন যথাক্রমে ২৩৩৬ ও ৩০৮৬।বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে একটি তিন তলা ভবন বিশিষ্ট চিকিৎসা কেন্দ্র যা ২৪/৭ সেবা দেয় পীড়িত শিক্ষার্থীদের। এছাড়াও রয়েছে আইসিটি সেল যা প্রযুক্তি সহায়তা নিশ্চিত করে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সেল, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও এ বিশ্ববিদ্যালয় সমৃদ্ধ। চীন, জাপান, কোরিয়া, ব্রুনাইসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে একাধিক MoU চুক্তি  রয়েছে এবং রয়েছে  IIER যা বিভিন্ন গবেষণা ও ভাষা শিক্ষা ভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।‎‎

কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের মিলন স্থলে শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুরে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠ আজ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিক্ষা-গবেষণার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। গত বছর উপাচার্যের নেতৃত্বে নতুন প্রশাসন যে সংস্কার অভিযানের সূচনা করেছিল, তার ইতিবাচক ফল এখন অনেকাংশেই দৃশ্যমান।‎‎বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গত এক বছরের সাফল্যগাঁথা সত্যিই অভিনন্দনের দাবিদার। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে ‘জব কর্নার’ চালু করে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনে যুগোপযোগী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা সরাসরি তাদের পেশাগত ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করবে। শিক্ষার্থীদের মাঝে স্মার্ট আইডি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে ডিজিটালাইজেশনের দিকে আরেক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। আন্তর্জাতিকীকরণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে চীনের সাউথইস্ট ফরেস্ট্রি ইউনিভার্সিটি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইসলামিক থটের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে। নতুন অনুষদ ‘ইসলামিক ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব’ চালু করে ইসলামী শিক্ষার সাথে আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ের মূল লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নে প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যেমন হলে, হলে পানির ফিল্টার স্থাপন, আধুনিক রিডিং রুমের ব্যবস্থা, খাবার মান পর্যবেক্ষন ইত্যাদি এবং সম্প্রতি শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষাদানের পরিবেশ উন্নয়নের কাজ ও দৃশ্যমান। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য ঈর্ষণীয়। ভলিবল, ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে চলেছে।

তবে, এ অর্জন, এ সফল্যগাঁথা স্বাভাবিক শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সংকট পূরণে কতটুকু পূর্ণতা পেয়েছে এবং কী বলছেন শিক্ষার্থীরা? ‎‎বিশ্ববিদ্যালয়ের ‎আইন বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী সাজ্জাদুজ জাওয়াদ আকন্দ বলেন, “প্রত্যন্ত অঞ্চলের ইবি সৌন্দর্যে মনোহর হলেও তড়িৎ আধুনিকতার দিক দিয়ে অনেকটায় পশ্চাৎ স্বর, বর্তমান প্রশাসন হরেক রকম অর্জন দেখালেও দ্রুত আবাসন, সেশনজট নিরসন, প্রশাসনিক ও ফি পরিশোধ প্রক্রিয়ার দ্রুত ডিজিটালাইজেশন এখন সার্বজনীন দাবি। এছাড়াও সম্প্রতি ইবিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ই-পেমেন্ট সেবা চালুর খবর অনেকটা স্বস্তিদায়ক তবে নিউজে ইদানীং ইবির নানা অব্যবস্থাপনার চিত্রও দৃশ্যমান যা এ বিদ্যাপীঠের ভাবমূর্তি অনেকাংশে ক্ষুণ্ন করে এর মধ্যে অন্যতম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় লোডশেডিং হলেই মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট অচল হওয়া, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ বিচরণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ঝুঁকি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অর্থসংকটে নির্মাণাধীন হলের কাজ থমকে যাওয়ায় ভোগান্তিতে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে, বিগত প্রশাসনের নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি তদন্তে অসহযোগিতা ও ফাইল গায়েবের মতো গুরুতর অভিযোগের কথা শুনা গেছে। যা মনে হচ্ছে তদন্ত প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে এবং বর্তমান প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।”

বাংলা বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আহসানুল ধ্রুব বলছেন, আমরা এ প্রসাশনের কাছে আাশাবাদী, তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিষয়ে গভীর ও উচ্চ মাত্রার পড়াশোনাই আমাদের প্রধান কাজ যা সরাসরি নির্ভরশীল আমাদের সুস্বাস্থ্যের উপর। স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে পড়াশোনা, খেলাধুলা বা আনুষাঙ্গিক কাজ কোনটাতেই যথাযথ মনোনিবেশ সম্ভব না। সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন পুষ্টিকর খাদ্য, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে আবাসিক হলগুলোর খাবারের মান উন্নয়নে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। নিম্নমানের খাবারের কারণে শিক্ষার্থীদের নিজেই রান্না করতে হয়, এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি হিটার সহ বিভিন্ন ইলেকট্রিক যন্ত্র ব্যবহারের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যয়ও বাড়ছে সাথে শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদা উপেক্ষিত হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয়ভাবে রান্না করে সব হলে সরবরাহের একটা উদ্যোগ নিলে সুফল পাওয়া যেতে পারে, এতে মানোন্নয়ন, তদারকি, নজরদারি ও ব্যবস্থাপনার জটিলতা অনেকটায় নিরসন ও হবে।”

‎‎এ বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি সার্টিফিকেট বা ডিগ্রি অর্জনের জায়গা নয়, এটি প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ ও সম্ভাবনার কারিগরিক কারখানা। ৪৭ বছরের এই দীর্ঘ পথচলায় ইবি অনেক প্রতিবন্ধকতা, সংকট ও পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে। প্রতিটি সংকট, প্রতিটি পরিবর্তনই একটি করে নতুন দর্শন দিয়েছে, উন্মোচন করেছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার। তাই নতুন বর্ষে প্রত্যাশা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় তার সকল আশু সংকট নিরসন করে ঐতিহ্য, স্বকীয়তা ও আধুনিকতার সমন্বয়ে হয়ে উঠবে শিক্ষার্থী বান্ধব প্রফুল্যতর ও সজীব শিক্ষা নীতি সমৃদ্ধ আধুনিক, আন্তর্জাতিক মান সম্পূর্ন একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষার বাতিঘর।‎‎‎

‎লেখক: শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ

‎ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফিচার

আজ প্রিয়জনকে মনের কথা জানানোর দিন

Published

on

By

ভালোবাসা কখনও হঠাৎ করে আসে না। ধীরে ধীরে অজান্তেই মানুষের হৃদয়ের ভেতরে জায়গা করে নেয়। একদিন দেখা হয়, আরেকদিন কথা হয়, তারপর অদ্ভুত এক টান তৈরি হয়, যার নামই ভালোবাসা। কিন্তু ভালোবাসা মনে জন্মালেই কি তা সম্পূর্ণ হয়?

ভালোবাসা পূর্ণতা পায় তখনই, যখন মনের গভীর অনুভূতিগুলো প্রিয় মানুষটির কাছে পৌঁছে যায়। আর সেই অনুভূতিগুলো প্রকাশ করার জন্যই যেন ভালোবাসা সপ্তাহের সবচেয়ে সাহসী দিনটি প্রপোজ ডে।

আজ ৮ ফেব্রুয়ারি, প্রপোজ ডে। ৭ ফেব্রুয়ারি রোজ ডে দিয়ে শুরু হয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনস ডে পর্যন্ত প্রতিটি দিনের আলাদা আলাদা অর্থ রয়েছে। ধারণা করা হয়, ভালোবাসা প্রকাশের একটি নির্দিষ্ট দিন রাখার ভাবনাটি আধুনিক যুগের তরুণ সমাজের মধ্য থেকেই জনপ্রিয়তা পায়। যদিও ভালোবাসা জানানোর ইতিহাস মানব সভ্যতার মতোই প্রাচীন, তবে প্রপোজ ডে নামক নির্দিষ্ট দিনের প্রচলন মূলত বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে পশ্চিমা বিশ্বে শুরু হয়। ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সিনেমা ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির মাধ্যমে এটি বিশ্বের নানা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। আজ বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের তরুণদের মধ্যেও দিনটি আবেগ আর রোমান্টিকতায় উদযাপিত হচ্ছে।

প্রপোজ ডে মানে শুধু হাঁটু গেড়ে বসে গোলাপ হাতে প্রস্তাব দেওয়া নয়। প্রপোজ ডে মানে নিজের বুকের ভেতরে জমে থাকা অনুচ্চারিত অনুভূতিগুলোকে সাহস করে শব্দে রূপ দেওয়া।

“আমি তোমাকে ভালোবাসি” এই তিনটি শব্দ উচ্চারণ করতে অনেকের বুক কেঁপে ওঠে। ভয় হয়, যদি প্রত্যাখ্যাত হই? যদি সম্পর্ক বদলে যায়? যদি প্রিয় মানুষটি দূরে সরে যায়? অথচ না বলা অনুভূতিগুলোই অনেক সময় সারাজীবনের আফসোস হয়ে থেকে যায়।

ভালোবাসা প্রকাশের জন্য কোনো নিখুঁত সময় আসে না। সময়কে নিখুঁত বানাতে হয় আমাদেরই। প্রপোজ ডে সেই সুযোগ এনে দেয়, যেদিন নিজের মনের কথা বলা যেন সামাজিকভাবেই স্বীকৃত। যারা অনেক দিন ধরে কাউকে ভালোবাসছেন, অথচ সাহস করে বলতে পারছেন না, তাদের জন্য আজকের দিনটি হতে পারে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো। হয়তো একটুখানি সাহসেই বদলে যেতে পারে দুটি মানুষের ভবিষ্যৎ।

প্রপোজের জন্য দামি উপহার, বড় রেস্টুরেন্ট বা আলোক-ঝলমলে আয়োজনের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল অনুভূতির সত্যতা। কখনও নিরিবিলি কোনো বিকেলে, কখনও আকাশভরা তারার নিচে, কখনও আবার খুব সাধারণ একটি মুহূর্তেই বলা যায় মনের কথা। একটা চিঠি, একটা ছোট্ট নোট, কিংবা ফোনের পর্দায় লেখা কয়েকটি আন্তরিক লাইন, এসবই হতে পারে ভালোবাসা প্রকাশের সবচেয়ে সুন্দর মাধ্যম। শব্দ যদি হৃদয় থেকে আসে, তাহলে তা প্রিয়জনের হৃদয় স্পর্শ করবেই।

যারা ইতোমধ্যেই সম্পর্কে আছেন, তাদের জন্যও প্রপোজ ডে নতুন করে ভালোবাসা প্রকাশের সুযোগ। সম্পর্কের ভিড়ে অনেক সময় অনুভূতিগুলো বলা হয়ে ওঠে না। অভিমান, ব্যস্ততা আর দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তিতে ভালোবাসার কথাগুলো চাপা পড়ে যায়। আজকের দিনে আবারও প্রিয় মানুষটির চোখের দিকে তাকিয়ে বলা যায়, “তোমাকে পেয়ে আমার জীবনটা সুন্দর।” এমন ছোট্ট স্বীকারোক্তিই সম্পর্কে নতুন উষ্ণতা এনে দেয়।

যদি কাউকে ভালোবাসেন, তবে নিজের অনুভূতিগুলো আর আটকে রাখবেন না। হয়তো প্রিয় মানুষটিও অপেক্ষা করছে আপনার কথার। আজকের প্রপোজ ডে হোক আপনার জীবনের সেই দিন যেদিন সাহস করে মনের কথা বলে ফেলা যায়।

Continue Reading

জাতীয়

ভিন্ন আবহে শুরু ভাষা আন্দোলনের মাস, নেই বইমেলার আমেজ

Published

on

By

শুরু হয়েছে বাঙালির ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারি। তবে এবার ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুটা ব্যতিক্রম। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতা ভেঙে ভাষার মাসের প্রথম দিনে শুরু হচ্ছে না “অমর একুশে বইমেলা”। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এবার নির্ধারিত সময়ে শুরু হচ্ছে না বইমেলা।

প্রতিবছর ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই ভাষা আন্দোলনের স্মরণে নানা কর্মসূচির পাশাপাশি বইমেলার আয়োজন বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা আর বইমেলার মিলিত আবহেই সাধারণত শুরু হয় ভাষার মাস। এবার সেই পরিচিত চিত্র অনুপস্থিত।

ফেব্রুয়ারি বাঙালির কাছে শুধুই একটি মাস নয়। এটি আত্মত্যাগ, প্রতিবাদ ও ভাষাভিত্তিক পরিচয় অর্জনের মাস। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথে জীবন উৎসর্গের মধ্য দিয়ে বাঙালির জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয় মাতৃভাষার অধিকার। যারা সেদিন শহীদ হয়েছিলেন, তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই পুরো মাসজুড়ে নানা কর্মসূচি পালিত হয়।

ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় ১৯৯৯ সালে। ওই বছর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল, গণপরিষদের সভাপতি ও মুসলিম লিগের সভাপতি মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ঘোষণা দেন, ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু, অন্য কোনও ভাষা নয়।’ একই বক্তব্য তিনি কার্জন হলেও দেন। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ছাত্র ‘না’ ‘না’ বলে প্রতিবাদ জানান। পরে একদল ছাত্র জিন্নাহর কাছে স্মারকলিপি দিয়ে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান। এর মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সূচনা ঘটে।

এর আগে ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র ও অধ্যাপক গড়ে তোলেন তমদ্দুন মজলিস। রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে সভা-সমাবেশ ও আলোচনার মাধ্যমে সংগঠনটি আন্দোলনকে সংগঠিত করে তোলে। পাশাপাশি গঠিত হয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ, যা আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করে।

১৯৪৮ সালের ২ মার্চ তমদ্দুন মজলিস, গণআজাদী লীগ, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে ফজলুল হক হলে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ওই দিনই ১১ মার্চ সারা পূর্ব বাংলায় সাধারণ ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ধর্মঘট চলাকালে শেখ মুজিবুর রহমান, শামসুল হক, অলি আহাদসহ ৬৯ জনকে গ্রেফতার করা হলে ঢাকায় ১৩ থেকে ১৫ মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।

ভাষা আন্দোলনের ধারায় নতুন উত্তেজনা তৈরি হয় ১৯৪৮ সালের শেষ দিকে। করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ফজলুর রহমান বাংলা ভাষা আরবি হরফে লেখার প্রস্তাব দেন। পরের বছর ১২ ফেব্রুয়ারি পেশোয়ারে অনুষ্ঠিত শিক্ষা উপদেষ্টা বোর্ডের সভায় তিনি বাংলা হরফ বাতিল করে আরবি হরফ প্রবর্তনের ঘোষণা দেন। এর প্রতিবাদে ১৯৪৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা প্রতিবাদ সভা করেন এবং বাংলা হরফ রক্ষার আন্দোলন জোরদার করেন।

ক্রমেই বাংলাভাষার সমমর্যাদার দাবিতে পূর্ব বাংলায় আন্দোলন দানা বাঁধে। আন্দোলন দমনে সরকার ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে মিছিল ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করে।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ এলাকায় পুলিশের গুলিতে সালাম, জব্বার, রফিক, বরকত, শফিকসহ আরও অনেকে শহীদ হন।

রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভাষার অধিকার বাঙালিকে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে নতুন পথ দেখায়। সেই পথ ধরেই এগিয়ে যায় স্বাধিকার আন্দোলন, যার পরিণতিতে ১৯৭১ সালে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।

i

Continue Reading

ফিচার

সকালের নাশতা বাদ দিলে যা হতে পারে

Published

on

By

ব্যস্ত জীবনে অনেকেই সকালে তাড়াহুড়োর কারণে না খেয়েই বাইরে বেরিয়ে পড়েন। কেউ কেউ আবার ওজন কমানোর আশায় ইচ্ছাকৃতভাবে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবারটি এড়িয়ে চলেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

শক্তির ঘাটতি হয়

সকালে নাশতা না করলে শরীরে প্রয়োজনীয় জ্বালানি মেলে না, ফলে দ্রুত ক্লান্তি ও দুর্বলতা দেখা দেয়। পুষ্টিবিদরা বলছেন, তিন বেলার মধ্যে সকালের খাবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দিনের শুরুতেই কর্মক্ষমতা এবং মনোযোগ বাড়ায়।

মেজাজ খারাপ হয়

খালি পেটে কাজ শুরু করলে অনেক সময় রাগ, অস্থিরতা ও মনোযোগে ঘাটতি দেখা যায়। ক্ষুধা মস্তিষ্কে চাপ সৃষ্টি করে। বিপরীতে, নিয়মিত নাশতা মন ভালো রাখতে সহায়ক ‘সেরোটোনিন’ হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে।

দিনভর অতিরিক্ত ক্ষুধা

সকালের খাবার বাদ দিলে সারা দিনে ক্ষুধা বাড়ে এবং অনেক সময় অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া হয় বেশি পরিমাণে, যা ওজন কমানোর বদলে বাড়িয়ে দেয়।

হরমোনে অসামঞ্জস্য

নাশতা না করলে কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়। এর ফলে মানসিক চাপ ও বিপাকজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রোটিনসমৃদ্ধ নাশতা হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে।

রোগপ্রতিরোধ কমে

পুষ্টিকর নাশতা শরীরকে ভাইরাস ও জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। নিয়মিত নাশতা না করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

সমাধান কী?

সময় স্বল্পতায় পুরো নাশতা না পারলেও ডিম, ওটস, দই, ফল বা বাদাম খাওয়া যেতে পারে- যা দ্রুত তৈরি হয় এবং শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায়। সকালের নাশতা শুধু পেট ভরায় না, এটি শরীর ও মনকে চাঙা রাখে। তাই যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন, এই অভ্যাসটি গড়ুন।

সূত্র : ইটিংওয়েল

Continue Reading

Trending