হেমন্তের ফসলভেজা সুবাস যখন ধীরে ধীরে ম্লান হতে শুরু করে, ঠিক তখনই শীত তার কোমল সাদা আবছায়ার মাধ্যমে প্রকৃতিতে অস্তিত্বের জানান দেয়। দুই ঋতুর এই মিলনক্ষণে প্রকৃতি যেন অদৃশ্যভাবে নতুন এক আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ম্লান আলো, বাতাসে জমে ওঠা শীতল স্নিগ্ধতা, আর কুয়াশা এসবই যেন নীরব অতিথির মত নেমে আসে সকালের মাঠে, প্রান্তরে। শুকনো পাতার খসখস শব্দ আর শিশিরভেজা ঘাসের আদ্রতা মিলেমিশে তৈরি করে এক অনির্বচনীয় আমেজ, যেন হেমন্তের হাত ধরেই প্রকৃতি মধুর সংবরণে বরণ করে নিচ্ছে শীতকে।
ঠিক এমনই এক ঋতুসন্ধিক্ষণের দিনে আজ থেকে ৪৭ বছর আগে ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর, প্রথম যাত্রা শুরু করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ। প্রকৃতির এই নীরব পরিবর্তনের মতোই সেদিন উচ্চশিক্ষার বুকে রচিত হয়েছিল এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যা আজও টিকে আছে ৪৭ বছরের ধারাবাহিকতায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দলকানা ভিসির পতন হলে, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্ণধার ও ১৪ তম উপাচার্যের মহান দায়িত্ব গ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. নকীব মোহম্মদ নসরুল্লাহ।
২২ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম এ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অসংখ্য কণ্টকাকীর্ণ পথ পেরিয়ে স্বকীয় পন্থায় দৃঢ় স্বরে উচ্চশিক্ষার দিগন্ত উন্মোচন করে আসছে কয়েক যুগ ধরে। সবুজে ঘেরা কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন এ ক্যাম্পাসটি ১৭৫ একর জুড়ে বিস্তৃত। এখানে রয়েছে ৯টি অনুষদ, ৩৬টি বিভাগ ও শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য ৫ টি ছাত্র ও ৩ টি ছাত্রী আবাসিক হল। প্রকাশিত তথ্য মতে বর্তমানে এর শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৯৮৯৭ জন, শিক্ষক ৪১১ জন এবং বিদেশি শিক্ষার্থী ১৮ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে প্রায় ১ লাখেরও বেশি বই, ৩০ হাজার পান্ডুলিপি ও ১৯ হাজারেরও বেশি বিদেশি জার্নালের সাবস্ক্রিপশন রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পিএইচডি ৭৪৯ জনকে , এমফিল ৮৫৫ জনকে, মাস্টার্স ২২,৫৮১ এবং অনার্স ২৪,৯৩৩ জনকে প্রদান করা হয়েছে।ইবির দুই অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান ও ড. মিজানুর রহমান ২০২৫ সালে এলসেভিয়ার প্রকাশনা ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ ২% বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন। তাঁদের গবেষণার সাইটেশন যথাক্রমে ২৩৩৬ ও ৩০৮৬।বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে একটি তিন তলা ভবন বিশিষ্ট চিকিৎসা কেন্দ্র যা ২৪/৭ সেবা দেয় পীড়িত শিক্ষার্থীদের। এছাড়াও রয়েছে আইসিটি সেল যা প্রযুক্তি সহায়তা নিশ্চিত করে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সেল, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও এ বিশ্ববিদ্যালয় সমৃদ্ধ। চীন, জাপান, কোরিয়া, ব্রুনাইসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে একাধিক MoU চুক্তি রয়েছে এবং রয়েছে IIER যা বিভিন্ন গবেষণা ও ভাষা শিক্ষা ভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের মিলন স্থলে শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুরে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠ আজ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিক্ষা-গবেষণার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। গত বছর উপাচার্যের নেতৃত্বে নতুন প্রশাসন যে সংস্কার অভিযানের সূচনা করেছিল, তার ইতিবাচক ফল এখন অনেকাংশেই দৃশ্যমান।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গত এক বছরের সাফল্যগাঁথা সত্যিই অভিনন্দনের দাবিদার। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে ‘জব কর্নার’ চালু করে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনে যুগোপযোগী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা সরাসরি তাদের পেশাগত ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করবে। শিক্ষার্থীদের মাঝে স্মার্ট আইডি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে ডিজিটালাইজেশনের দিকে আরেক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। আন্তর্জাতিকীকরণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে চীনের সাউথইস্ট ফরেস্ট্রি ইউনিভার্সিটি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইসলামিক থটের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে। নতুন অনুষদ ‘ইসলামিক ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব’ চালু করে ইসলামী শিক্ষার সাথে আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ের মূল লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নে প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যেমন হলে, হলে পানির ফিল্টার স্থাপন, আধুনিক রিডিং রুমের ব্যবস্থা, খাবার মান পর্যবেক্ষন ইত্যাদি এবং সম্প্রতি শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষাদানের পরিবেশ উন্নয়নের কাজ ও দৃশ্যমান। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য ঈর্ষণীয়। ভলিবল, ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে চলেছে।
তবে, এ অর্জন, এ সফল্যগাঁথা স্বাভাবিক শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সংকট পূরণে কতটুকু পূর্ণতা পেয়েছে এবং কী বলছেন শিক্ষার্থীরা? বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী সাজ্জাদুজ জাওয়াদ আকন্দ বলেন, “প্রত্যন্ত অঞ্চলের ইবি সৌন্দর্যে মনোহর হলেও তড়িৎ আধুনিকতার দিক দিয়ে অনেকটায় পশ্চাৎ স্বর, বর্তমান প্রশাসন হরেক রকম অর্জন দেখালেও দ্রুত আবাসন, সেশনজট নিরসন, প্রশাসনিক ও ফি পরিশোধ প্রক্রিয়ার দ্রুত ডিজিটালাইজেশন এখন সার্বজনীন দাবি। এছাড়াও সম্প্রতি ইবিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ই-পেমেন্ট সেবা চালুর খবর অনেকটা স্বস্তিদায়ক তবে নিউজে ইদানীং ইবির নানা অব্যবস্থাপনার চিত্রও দৃশ্যমান যা এ বিদ্যাপীঠের ভাবমূর্তি অনেকাংশে ক্ষুণ্ন করে এর মধ্যে অন্যতম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় লোডশেডিং হলেই মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট অচল হওয়া, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ বিচরণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ঝুঁকি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অর্থসংকটে নির্মাণাধীন হলের কাজ থমকে যাওয়ায় ভোগান্তিতে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে, বিগত প্রশাসনের নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি তদন্তে অসহযোগিতা ও ফাইল গায়েবের মতো গুরুতর অভিযোগের কথা শুনা গেছে। যা মনে হচ্ছে তদন্ত প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে এবং বর্তমান প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।”
বাংলা বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আহসানুল ধ্রুব বলছেন, আমরা এ প্রসাশনের কাছে আাশাবাদী, তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিষয়ে গভীর ও উচ্চ মাত্রার পড়াশোনাই আমাদের প্রধান কাজ যা সরাসরি নির্ভরশীল আমাদের সুস্বাস্থ্যের উপর। স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে পড়াশোনা, খেলাধুলা বা আনুষাঙ্গিক কাজ কোনটাতেই যথাযথ মনোনিবেশ সম্ভব না। সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন পুষ্টিকর খাদ্য, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে আবাসিক হলগুলোর খাবারের মান উন্নয়নে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। নিম্নমানের খাবারের কারণে শিক্ষার্থীদের নিজেই রান্না করতে হয়, এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি হিটার সহ বিভিন্ন ইলেকট্রিক যন্ত্র ব্যবহারের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যয়ও বাড়ছে সাথে শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদা উপেক্ষিত হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয়ভাবে রান্না করে সব হলে সরবরাহের একটা উদ্যোগ নিলে সুফল পাওয়া যেতে পারে, এতে মানোন্নয়ন, তদারকি, নজরদারি ও ব্যবস্থাপনার জটিলতা অনেকটায় নিরসন ও হবে।”
এ বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি সার্টিফিকেট বা ডিগ্রি অর্জনের জায়গা নয়, এটি প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ ও সম্ভাবনার কারিগরিক কারখানা। ৪৭ বছরের এই দীর্ঘ পথচলায় ইবি অনেক প্রতিবন্ধকতা, সংকট ও পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে। প্রতিটি সংকট, প্রতিটি পরিবর্তনই একটি করে নতুন দর্শন দিয়েছে, উন্মোচন করেছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার। তাই নতুন বর্ষে প্রত্যাশা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় তার সকল আশু সংকট নিরসন করে ঐতিহ্য, স্বকীয়তা ও আধুনিকতার সমন্বয়ে হয়ে উঠবে শিক্ষার্থী বান্ধব প্রফুল্যতর ও সজীব শিক্ষা নীতি সমৃদ্ধ আধুনিক, আন্তর্জাতিক মান সম্পূর্ন একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষার বাতিঘর।
বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ। এ উৎসব ঘিরে চলছে নানা প্রস্তুতি। বিশেষ করে মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা এতটাই বেড়েছে যে দিন-রাত তাঁরা চোখের পাতা এক করতে পারছেন না। বৈশাখী মেলাকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার বিভিন্ন গ্রামে রাতদিন কাজ চলছে। পুতুল, হাতি, ঘোড়া, ময়ূর, হাঁড়ি-পাতিলসহ নানা সামগ্রী তৈরি করে রাঙিয়ে তুলছেন তারা।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের মাটির সামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছেন কারিগরেরা। এর মধ্যে রয়েছে মাটির হাঁড়ি-পাতিল, পুতুল, হাতি, ঘোড়া, নৌকা, টিয়া, সিংহ, দোয়েল, কচ্ছপ, মাছ, হাঁস ও বাহারি মাটির ব্যাংক। পয়লা বৈশাখ থেকে পুরো মাস চলবে এ ব্যবসা।
মৃৎশিল্পীরা জানান, বছরে এই একটা উৎসব ঘিরে তাঁদের অনেক আশা থাকে। এমনিতে সারা বছর মৃৎশিল্পের তেমন চাহিদা থাকে না। নববর্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈশাখী মেলা বসে। এ মেলায় কেবল চাহিদা থাকে। তাই সারা বছর উৎসবটার অপেক্ষা করেন তাঁরা। সারা বছর মাটির তৈজসপত্র তৈরি করে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করলেও মেলার জন্য তৈরি করছেন বাহারি সব মাটির খেলনা।
শিবনগর গ্রামের নরেশ চন্দ্র পাল কালবেলাকে বলেন, এখন আর মাটির জিনিসের তেমন কদর নেই। সারা বছর টানাপোড়নে চলতে হয়। পূর্বপুরুষের পেশা তাই ইচ্ছে হলেও ছাড়তে পারেন না। বৈশাখ মাস এলে মেলায় মাটির তৈরি খেলনা ও সামগ্রীর চাহিদা থাকে। তাই এই সময়টায় ভালো আয় হয়।
মদির পাল বলেন, এ শিল্পের জন্য প্রয়োজন হয় পরিষ্কার এঁটেল মাটি। কিন্তু এখন মাটির অভাব। তার ওপরে রংসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় অনেক বেড়েছে। সে অনুযায়ী উৎপাদিত পণ্যের দাম অতটা বাড়েনি। তারপরও পূর্বপুরুষেরা এ পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাই সেই ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। এসব মাটির খেলনা ৩০ থেকে ১৫০ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হয়।
রমেশ পাল নামে এক মৃৎশিল্পী বলেন, বাজারে এখন মাটির তৈরি পণ্যের কোনো কদর নেই। প্লাস্টিক পণ্যের ওপর মজেছে মানুষ। ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের দৃষ্টি ক্রমেই কমে যাচ্ছে। কুমাররা কীভাবে বেঁচে আছে, তারা তাদের পারিশ্রমিক অনুযায়ী ন্যায্যমূল্য পায় কি না এ খোঁজখবর কেউ রাখে না।
তিনি আরও বলেন, সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যদি এ পেশাকে বাঁচিয়ে রাখতে এখনই যথাযথ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেন, তাহলে একসময় মৃৎশিল্পের বিলুপ্তি ঘটবে।
হলিউডের ইতিহাসে চিরসবুজ সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়—অ্যাঞ্জেলিনা জোলি তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর মোহনীয় চাহনি আর গ্লোয়ি ত্বকের কারণে এ বয়সেও বিশ্বজুড়ে লাখো তরুণের হৃৎস্পন্দন হয়ে রয়েছেন তিনি। পঞ্চাশের কোঠায় পা দিয়েও তাঁর ত্বকের উজ্জ্বলতা ঠিক আগের মতোই অটুট। অনেকেই ভাবেন, এই সৌন্দর্যের পেছনে হয়তো দামি প্রসাধনী বা প্লাস্টিক সার্জারির অবদান রয়েছে। তবে সত্যিটা হলো, জোলি তাঁর ত্বকের যত্নে খুবই সাধারণ ও প্রাকৃতিক নিয়মে বিশ্বাস করেন। আজকের আয়োজনে থাকছে হলিউড এই সুন্দরীর ‘এজ-ডিফাইং’ বা বয়স ধরে রাখার রহস্য।
অল্প বয়সেই রূপচর্চায় সচেতনতা
অ্যাঞ্জেলিনা জোলির চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রানা এক সাক্ষাৎকারে জানান, অভিনয় ক্যারিয়ার শুরুর একেবারে প্রথম দিক থেকেই জোলি তাঁর ত্বকের যত্নে সচেতন হয়েছিলেন। তিনি জানতেন, দীর্ঘ সময় সুস্থ ও সুন্দর ত্বক ধরে রাখতে হলে নিয়ম মেনে চলা জরুরি। উত্তরাধিকার সূত্রে জোলি অলিভ স্কিন বা উজ্জ্বল শ্যামবর্ণের অধিকারী। তাই খুব বেশি কৃত্রিম প্রসাধনী তাঁকে কখনোই ব্যবহার করতে হয়নি।
জোলির রূপচর্চার প্রধান দিক
সানস্ক্রিন ও মাইল্ড ক্লিনজার
জোলির মতে, ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখার বড় হাতিয়ার হলো সানস্ক্রিন। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের পিগমেন্টেশন ও বয়সের ছাপ তৈরির প্রধান কারণ। এ ছাড়া তিনি ত্বক পরিষ্কার করতে কোনো ধরনের কড়া ফেসওয়াশ ব্যবহার করেন না। তিনি সব সময় মাইল্ড বা মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করেন, যা ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কেড়ে নেয় না। গ্লাইকোলিক অ্যাসিড বা আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিডের মতো প্রাকৃতিক উপাদানযুক্ত প্রসাধনী তাঁর ত্বকের টেক্সচার ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
ভ্রমণের সময় বিশেষ যত্ন
শুটিং বা ভ্রমণের কারণে জোলিকে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটতে হয়। তবে আবহাওয়া যতই প্রতিকূল হোক না কেন, তিনি কখনোই স্কিন কেয়ারে অবহেলা করেন না। জোলি সব সময় তাঁর সঙ্গে সানস্ক্রিন রাখেন এবং বাইরের ধুলাবালু থেকে বাঁচতে টুপি ব্যবহার করেন। সূর্যের আলো যেন সরাসরি ত্বকের ক্ষতি করতে না পারে, এটিই তাঁর মূলমন্ত্র।
আর্দ্রতা ও ময়শ্চারাইজিং
ত্বক সতেজ রাখতে জোলি প্রচুর পরিমাণে পানি পান করেন। ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা ত্বকে দ্রুত বলিরেখা সৃষ্টি করে। নিয়মিত ভালো মানের ময়শ্চারাইজার ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি তাঁর ত্বকের আর্দ্রতা নিশ্চিত করেন। তাঁর মতে, ত্বক ভেতর থেকে আর্দ্র রাখলে তবেই বাইরে থেকে উজ্জ্বলতা পাওয়া সম্ভব।
মেকআপের পরিমিত ব্যবহার
জোলি শুটিং বা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান ছাড়া খুব বেশি মেকআপ করা পছন্দ করেন না। তিনি বিশ্বাস করেন, ত্বককে নিশ্বাস নিতে দেওয়া জরুরি। ভারী ফাউন্ডেশনের আড়ালে ত্বক ঢেকে না রেখে; বরং প্রাকৃতিক রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। এ ছাড়া তিনি দিন শেষে যতই ক্লান্তি বোধ করুন না কেন, মেকআপ না তুলে ঘুমাতে যান না। এই অভ্যাসটি ব্রণ ও অকাল বার্ধক্য থেকে তাঁর ত্বক রক্ষা করে।
প্লাস্টিক সার্জারি নিয়ে জোলির অবস্থান
অনেকে মনে করেন, তাঁর এই তন্বী রূপের পেছনে সার্জারির হাত রয়েছে। তবে ২০১০ সালে ‘ডেইলি মেইল’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোলি সরাসরি জানান, তিনি কখনোই প্লাস্টিক সার্জারি করাননি এবং ভবিষ্যতেও এমন কিছু করার পরিকল্পনা নেই। তিনি মনে করেন, প্রতিটি মানুষের নিজের মতো করে ভালো থাকার অধিকার আছে। তবে তিনি নিজে প্রাকৃতিকভাবেই বয়সকে জয় করতে চান।
অ্যাঞ্জেলিনা জোলির ত্বকের এই সাধারণ যত্ন প্রমাণ করে, উজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার জন্য পকেটের টাকা খরচ করে দামি ট্রিটমেন্টের প্রয়োজন নেই। নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার, ত্বক পরিষ্কার রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং পরিমিত মেকআপেই সম্ভব ৫০ বছর বয়সেও জোলির মতো নজরকাড়া সৌন্দর্যের অধিকারী হওয়া।
ঈদে অনলাইন বা অফলাইনে সালামি আদায়ের প্রশ্নটি প্রায়ই উঠে আসে। বর্তমানে অনলাইনে সালামি আদায়ের প্রবণতা বেড়েছে, যা সরাসরি দেখা না হলেও মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন ট্রান্সফারের মাধ্যমে সম্ভব।
সালামি আদায়ের একটি সহজ উপায় হলো সময়মতো হাজির হওয়া। ঈদের নামাজ শেষে বড়রা ভালো মুডে থাকেন, তখন সালাম দিলে খালি হাতে ফিরতে হয় না। দেরি করলে সালামি হাতছাড়া হতে পারে।
হাসিমুখে ও ভদ্রভাবে সালাম দিলে বড়রা খুশি হন এবং সালামি দিতে আগ্রহী হন। মুখ গোমড়া করে দাঁড়িয়ে থাকলে সালামি পাওয়া কঠিন হতে পারে।
আত্মীয়স্বজনের বাসায় ঘুরে বেড়ানো সালামির সম্ভাবনা বাড়ায়। এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি যাওয়ার মাধ্যমে নেটওয়ার্কিং করা যায়।
অনেকে সালামি দিতে ভুলে গেলে হালকা মজার ছলে ইঙ্গিত দেওয়া যেতে পারে, যেমন “আজ তো ঈদ!” বলা। তবে এটা যেন অশোভন না হয়।
ছোটরা একসঙ্গে গেলে বড়রা মজা করে সবাইকে সালামি দিতে পারেন, যা পরিবেশ জমিয়ে তোলে। সবশেষে, সালামি আদায় যেন চাপ সৃষ্টি না করে, বরং ভালোবাসা ও আনন্দের অংশ হয়।