Connect with us

জাতীয়

ভিন্ন আবহে শুরু ভাষা আন্দোলনের মাস, নেই বইমেলার আমেজ

Published

on

শুরু হয়েছে বাঙালির ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারি। তবে এবার ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুটা ব্যতিক্রম। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতা ভেঙে ভাষার মাসের প্রথম দিনে শুরু হচ্ছে না “অমর একুশে বইমেলা”। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এবার নির্ধারিত সময়ে শুরু হচ্ছে না বইমেলা।

প্রতিবছর ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই ভাষা আন্দোলনের স্মরণে নানা কর্মসূচির পাশাপাশি বইমেলার আয়োজন বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা আর বইমেলার মিলিত আবহেই সাধারণত শুরু হয় ভাষার মাস। এবার সেই পরিচিত চিত্র অনুপস্থিত।

ফেব্রুয়ারি বাঙালির কাছে শুধুই একটি মাস নয়। এটি আত্মত্যাগ, প্রতিবাদ ও ভাষাভিত্তিক পরিচয় অর্জনের মাস। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথে জীবন উৎসর্গের মধ্য দিয়ে বাঙালির জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয় মাতৃভাষার অধিকার। যারা সেদিন শহীদ হয়েছিলেন, তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই পুরো মাসজুড়ে নানা কর্মসূচি পালিত হয়।

ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় ১৯৯৯ সালে। ওই বছর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল, গণপরিষদের সভাপতি ও মুসলিম লিগের সভাপতি মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ঘোষণা দেন, ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু, অন্য কোনও ভাষা নয়।’ একই বক্তব্য তিনি কার্জন হলেও দেন। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ছাত্র ‘না’ ‘না’ বলে প্রতিবাদ জানান। পরে একদল ছাত্র জিন্নাহর কাছে স্মারকলিপি দিয়ে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান। এর মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সূচনা ঘটে।

এর আগে ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র ও অধ্যাপক গড়ে তোলেন তমদ্দুন মজলিস। রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে সভা-সমাবেশ ও আলোচনার মাধ্যমে সংগঠনটি আন্দোলনকে সংগঠিত করে তোলে। পাশাপাশি গঠিত হয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ, যা আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করে।

১৯৪৮ সালের ২ মার্চ তমদ্দুন মজলিস, গণআজাদী লীগ, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে ফজলুল হক হলে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ওই দিনই ১১ মার্চ সারা পূর্ব বাংলায় সাধারণ ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ধর্মঘট চলাকালে শেখ মুজিবুর রহমান, শামসুল হক, অলি আহাদসহ ৬৯ জনকে গ্রেফতার করা হলে ঢাকায় ১৩ থেকে ১৫ মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।

ভাষা আন্দোলনের ধারায় নতুন উত্তেজনা তৈরি হয় ১৯৪৮ সালের শেষ দিকে। করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ফজলুর রহমান বাংলা ভাষা আরবি হরফে লেখার প্রস্তাব দেন। পরের বছর ১২ ফেব্রুয়ারি পেশোয়ারে অনুষ্ঠিত শিক্ষা উপদেষ্টা বোর্ডের সভায় তিনি বাংলা হরফ বাতিল করে আরবি হরফ প্রবর্তনের ঘোষণা দেন। এর প্রতিবাদে ১৯৪৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা প্রতিবাদ সভা করেন এবং বাংলা হরফ রক্ষার আন্দোলন জোরদার করেন।

ক্রমেই বাংলাভাষার সমমর্যাদার দাবিতে পূর্ব বাংলায় আন্দোলন দানা বাঁধে। আন্দোলন দমনে সরকার ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে মিছিল ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করে।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ এলাকায় পুলিশের গুলিতে সালাম, জব্বার, রফিক, বরকত, শফিকসহ আরও অনেকে শহীদ হন।

রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভাষার অধিকার বাঙালিকে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে নতুন পথ দেখায়। সেই পথ ধরেই এগিয়ে যায় স্বাধিকার আন্দোলন, যার পরিণতিতে ১৯৭১ সালে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।

i

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

নতুন বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই: এনবিআর চেয়ারম্যান

Published

on

By

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রচলিত অর্থে কালো টাকা সাদা করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি, বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান। তবে ভূমি ও ফ্ল্যাট কেনাবেচায় প্রকৃত লেনদেনমূল্য প্রকাশে উৎসাহ দিতে সীমিত একটি কর-সুবিধা রাখা হয়েছে , যা নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) দাবি করে যে, প্রস্তাবিত বাজেটে পরোক্ষভাবে ‘কালো টাকা সাদা করার সুযোগ’ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এ ধরনের বিধানকে সমর্থনযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন তোলেন, “ভালো বাজেটের কালো দিক হলো কালো টাকা। এই সুযোগ না রেখে বাজেটকে কালো টাকা-মুক্ত রাখা যেত কি না।”

জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি ঘিরে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমি ও ফ্ল্যাটের প্রকৃত ক্রয়-বিক্রয়মূল্য এবং নিবন্ধনমূল্যের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকায় অনেক বৈধ লেনদেনও কর-জটিলতায় পড়ে।

তিনি আরও জানান, গত অর্থবছর থেকে বিক্রেতাদের জন্য একটি ব্যবস্থা চালু রয়েছে, যেখানে প্রকৃত লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেল ও প্রয়োজনীয় দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ করা গেলে নিয়মিত কর এবং ১৫ শতাংশ মূলধনী মুনাফা কর পরিশোধ করে অর্থ বৈধভাবে প্রদর্শনের সুযোগ পাওয়া যায়।

এবারের বাজেটে একই ধরনের একটি ব্যবস্থা ক্রেতাদের জন্যও বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতারা প্রকৃত মূল্যে সম্পদ কিনলেও নিবন্ধনে কম মূল্য দেখানো হয়, ফলে পরবর্তীতে কর কর্তৃপক্ষ প্রকৃত তথ্য পেলে অতিরিক্ত কর ও জরিমানার মুখে পড়তে হয়।

এই জটিলতা কমাতে নতুন বিধানের মাধ্যমে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে প্রকৃত লেনদেনমূল্য ঘোষণা করলে নির্ধারিত হারে অতিরিক্ত কর দিয়ে তা বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে এ বিষয়ে আপত্তি উঠলে সরকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

এদিকে একই প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জমি নিবন্ধনে ব্যবহৃত মৌজা রেট বাস্তব বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় এই ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

তিনি জানান, মৌজা রেটকে বাজারমূল্যের কাছাকাছি আনার উদ্যোগ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং এ জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি জরিপের মাধ্যমে দেশের ভূমিমূল্য কাঠামো হালনাগাদ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থমন্ত্রীর মতে, মৌজা রেট বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা গেলে লেনদেনমূল্য গোপনের প্রবণতা কমবে এবং বিতর্কিত কর-সুবিধার প্রয়োজনও অনেকাংশে হ্রাস পাবে

Continue Reading

top1

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমার কথা: অর্থমন্ত্রী

Published

on

By

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে বলে মনে করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে বা কমার কথা। কারণ, অভাব থাকলে দুর্নীতির প্রবণতা থাকে। শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই দাবি করেন।

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে কি? এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অভাব থাকলে দুর্নীতির একটা প্রবণতা থাকে। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি হলে দুর্নীতি কমার কথা।

তিনি বলেন, ১১ বছর ধরে পে-স্কেল হয়নি, অন্যদিকে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। সুতরাং এটা সমন্বয় করা দরকার। বেতন বাড়লে, আয় বাড়বে; তখন নিশ্চয় দুর্নীতি কমার কথা।

বাজেটে কর্মসংস্থানের বিষয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাজেটে পরিষ্কারভাবে বলা আছে চাকরির কথা। আমরা আশা করি, বাজেটে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারব। বিনিয়োগের জন্য জোর দিচ্ছি কর্মসংস্থানের জন্য।

অর্থমন্ত্রী বলেন, স্কিল ডেভলপমেন্টের জন্য আমরা জোর দিচ্ছি। দক্ষ একজন শ্রমিকের চাকরি দেশে বিদেশে হওয়া খুবই সহজ। এজন্য আমরা স্কিল ডেভলপমেন্ট সংক্রান্ত নানান প্রকল্প হাতে নিচ্ছি।

Continue Reading

top1

করের ক্ষেত্রে যে আটটি পরিবর্তন আসছে

Published

on

By

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে নয় লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগামী অর্থবছরে মোট উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়ে এবং পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এবারের বাজেটে প্রায় সাত লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট প্রস্তাবিত বাজেটের দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি আসবে রাজস্ব আদায় থেকে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ঢেলে সাজিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে আলাদা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, কর ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় আনার মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি রোধ করা হবে এবং কর ব্যবস্থায় জনগণের হয়রানি নিরসন করে আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে।

রাজস্ব ফাঁকি রোধে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হলেও, করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়েছে সরকার। এর বাইরেও কর, রাজস্ব আদায় ও শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে কী কী প্রস্তাব আনা নেওয়া হয়েছে, সেটি তুলে ধরা হচ্ছে এই প্রতিবেদনে।

করমুক্ত আয়সীমা
বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, বাজেটের আকার ও জিডিপির প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়, যার সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৮৬ শতাংশ আহরণ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

বৃহস্পতিবার ঘোষিত বাজেট ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এই করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে পৌনে চার লাখ টাকা করা হয়েছে। বর্তমানে এই সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা।

প্রসঙ্গত, করমুক্ত আয়সীমা পৌনে চার লাখ টাকা চলমান ২০২৬-২৭ অর্থ বছরেও কার্যকর আছে। এটি অব্যাহত রাখা হবে আসন্ন করবর্ষ, অর্থাৎ ২০২৭-২৮ সাল পর্যন্ত।

সাধারণত, আয় বর্ষের পরবর্তী বর্ষকে করবর্ষ বলা হয়। যেমন, পহেলা জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ শে জুন ২০২৬ সময়কাল পর্যন্ত উপার্জিত আয়ের আয়বর্ষ হবে ২০২৫-২০২৬ এবং করবর্ষ হইবে পরবর্তী বর্ষ অর্থাৎ ২০২৬-২০২৭।

আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত করমুক্ত আয়সীমার হার কেমন হবে, সেটির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এই বাজেটে।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ব্যক্তি শ্রেণি পর্যায়ে করমুক্ত আয়সীমা হবে চার লাখ টাকা। পরের অর্থ বছর অর্থাৎ ২০৩০-৩১ অর্থ বছরে করমুক্ত আয়সীমা হবে চার লাখ ৫০ হাজার টাকা।

তবে আগামী অর্থ বছর ও তার পরের অর্থ বছরে নারী করদাতা এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য বাৎসরিক করমুক্ত আয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে চার লাখ ২৫ হাজার টাকা।

তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী করদাতাদের ক্ষেত্রে আগামী দুই অর্থবছরে করমুক্ত আয়ের পরিমাণ হবে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত।

অন্যদিকে, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও গেজেটভুক্ত জুলাই আন্দোলনকারীদের করমুক্ত আয়ের পরিমাণ হচ্ছে পাঁচ লাখ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

করে ছাড় প্রদান
মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও কৃষিপণ্যে কর ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাজেট ঘোষণাকালে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, সরকার দেশের প্রতিটি ব্যক্তি ও পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নতির লক্ষ্যে, নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে কর হ্রাসের একটি বড় জনমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তিনি জানান, মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্য, যেমন-ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর উৎসে করের হার হ্রাস করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে কর ছাড়ের অংশ হিসেবে কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম কর সম্পূর্ণ মওকুফেরও ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে সোনা ও স্বর্ণালংকারের ওপর উৎসে কর ও ভ্যাট কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, সোনা ও স্বর্ণালংকার সরবরাহে উৎসে কর পাঁচ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হচ্ছে। জুয়েলারি সেবার ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে প্রতি ভরি হিসাবে ২ হাজার ৫০০ টাকা সুনির্দিষ্ট ভ্যাট নির্ধারণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মোবাইল ফোন, কম্পিউটারসহ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা বর্ধিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

একইভাবে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, টোনারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যের স্থানীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রেও শর্তসাপেক্ষে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা ৩০শে জুন ২০৩০ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

একইভাবে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, টোনারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যের স্থানীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রেও শর্তসাপেক্ষে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বর্ধিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অপরিবর্তিত থাকছে কর্পোরেট কর
২০২৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘ মেয়াদে আরও শক্তিশালী, প্রতিযোগিতাসক্ষম এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে কর ও শুল্ক কাঠামোয় বড় ধরনের রূপান্তরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজ করতে এবং করদাতাদের হয়রানি কমাতে নীতিগত কাঠামোয় কিছু পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছ।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যমেয়াদী নিশ্চয়তা দিতে এবং পলিসি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিদ্যমান কর্পোরেট করের হার আগামী অর্থবছরে অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে করের আওতা বাড়িয়ে করের হার ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

এত দিন করযোগ্য আয় না থাকলেও উৎসে কর্তিত করকে বাধ্যতামূলক ‘ন্যূনতম কর’ ধরা হতো, যা ব্যবসার সচল মূলধন আটকে দিত।

নতুন প্রস্তাবে এই সনাতন পদ্ধতি বাতিল করে উৎসে করকে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ‘অগ্রিম কর’ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অতিরিক্ত পরিশোধিত কর সরাসরি রিফান্ড (ফেরত) করা হবে।

অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারের লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা। এই লক্ষ্য অর্জনে করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে করের পরিধি সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল অটোমেশনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটের পর দাম বাড়তে পারে কিছু পণ্যের

কনটেন্ট তৈরি ও ফ্রিল্যান্সারদের ভ্যাট
কনটেন্ট তৈরিতে কর মওকুফের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের সম্পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের লাখ লাখ তরুণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরি করে আয় করছেন, তারা দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তরুণ প্রজন্মের উদ্যম ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহ প্রদান এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তিকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠান, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের সম্পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতি প্রদানের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণরূপে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করেন।

তিনি বলেন, মানুষের কাছে মোবাইল সেবা আরো সহজলভ্য করার লক্ষ্যে প্রতিটি মোবাইল সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকা হারে কর সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহারের প্রস্তাব করছি। ফলশ্রুতিতে আগামী অর্থবছরে মোট ১২০০ কোটি টাকা রাজস্ব হ্রাস হবে।

রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে সারা বছর
আয়কর ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে সারা বছর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ চালু করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা বিশেষ প্রণোদনা পাবেন।

বাজেট প্রস্তাব অনুসারে, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের পাঁচ শতাংশ বা ২৫ হাজার টাকা, যা কম তাই ছাড় পাবেন।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রিটার্ন যা কর তা দিলেই হবে। কোনো প্রণোদনা পাওয়া যাবে না।

আর জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের দুই শতাংশ বা তিন হাজার টাকা, যেটি বেশি সেই পরিমাণ টাকা দিতে হবে।

এছাড়া এপ্রিল-জুন মাসে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের পাঁচ শতাংশ বা পাঁচ হাজার টাকা, যেটি বেশি সেই পরিমাণ টাকা দিতে হবে।

কমবে কিছু কিছু পণ্যের দাম

নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে শুল্ক হ্রাস
বিএনপি সরকারের অধীনে প্রথম বাজেটে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ককর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০ টি পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে করের হার কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, বিগত বছরগুলোয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে যে নাভিশ্বাস উঠেছিল, তার বিপরীতে গণতান্ত্রিক সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পদক্ষেপ জনজীবনে স্বস্তি আনবে।

এছাড়া জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, ধনিয়া ইত্যাদি মসলায় পাঁচ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

খেজুর আমদানিতে পাঁচ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে দাম কমতে পারে খেজুরের।

এছাড়া আমদানি করা শিশুখাদ্য প্রস্তুতিমূলক সামগ্রীর ওপর আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে বাজারে শিশুখাদ্যের দাম কমবে।

ঔষুধ শিল্প ও জনস্বাস্থ্য খাত
দেশের ওষুধ শিল্পকে গুরুত্ব দিয়ে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি ওষুধের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিশাল কর ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ক্যানসার প্রতিরোধী ওষুধের নতুন উপকরণ এবং ওষুধ তৈরির মূল উপাদান এপিআইসহ মোট ৭৭টি নতুন মৌলিক কাঁচামাল আমদানিতে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট তুলে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পকে স্থানীয়ভাবে আন্তর্জাতিক মানের ও সাশ্রয়ী মূল্যের ক্যানসার প্রতিরোধী ওষুধ উৎপাদনে সক্ষম ও স্বাবলম্বী করে তুলতে বিদ্যমান রেয়াতি শুল্ক সুবিধার প্রজ্ঞাপনে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে নতুন করে আরও নয়টি উপকরণ যুক্ত করে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করছি”।

ওষুধ শিল্পের অধিকতর প্রসারকল্পে স্থানীয়ভাবে অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট বা এপিআই উৎপাদনের লক্ষ্যে নতুন ৫১টি কাঁচামালের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

এছাড়াও বিশ্ববাজারে দেশি ওষুধের রপ্তানি বাজার ধরে রাখতে আরও ১৭টি মৌলিক কাঁচামালকে শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।

ইলেকট্রিক গাড়ি ও বাইক শুল্ক ছাড়
দেশে বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ইলেকট্রিক গাড়ি বা ইভি, বাস, ট্রাক ও ই-বাইক খাতে শুল্ক-কর ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে বিদ্যমান সব ধরনের শুল্ক-কর অব্যাহতি এবং অন্যান্য ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাকের ক্ষেত্রে ভ্যাট ছাড়া বাকি সব শুল্ক-কর ছাড়ের সুবিধা ৩০ই জুন ২০৩০ পর্যন্ত বহাল রাখা হবে।

এ ছাড়া ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানিতে করভার কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশে ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদনে উৎসাহিত করতে স্থানীয়ভাবে উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যন্ত্রাংশ ও উপকরণ আমদানিতে তিন শতাংশ আমদানি শুল্ক ছাড়া বাকি সব শুল্ক-কর মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে তুলনামূলক কম মূল্য সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক রেখে অন্যান্য শুল্ক-কর অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া দেশীয় ই-বাইক উৎপাদন ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানগুলোকেও উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

একই সাথে ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে বিআরটিএতে নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান দুই লাখ টাকার অগ্রিম আয়কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোরও প্রস্তাব করা হয়েছে।

Continue Reading

Trending