Connect with us

রাজনীতি

১৩ জোটের ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য দৃশ্যমান চান প্রধান উপদেষ্টা

Published

on

অস্থিতিশীলতা নিরসনে করণীয় নির্ধারণে ১৩ রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠকে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য দৃশ্যমান করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

গতকাল বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ বৈঠকে দলগুলো সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করেছে।গোপালগঞ্জের সহিংসতায় গোয়েন্দা ব্যর্থতা, স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের মৃত্যু, সচিবালয়ে ঢুকে পড়া শিক্ষার্থীদের পুলিশের পিটুনি নিয়ে দলগুলোর নেতারা সরকারপ্রধানের সঙ্গে কথা বলেন। এনসিপির রাজনৈতিক কার্যক্রমে সরকারের সম্পৃক্ততা আছে কিনা– এ প্রশ্নও তোলেন।

মঙ্গলবার রাতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি এবং ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। সেদিনও সরকারের ব্যর্থতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা, গোয়েন্দা তথ্য ঘাটতি নিয়ে আলোচনা হয়।

গতকালের বৈঠকেও একই প্রসঙ্গে সবার বক্তব্যের পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের এক বছরে সব রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে নিয়ে অতীতকে স্মরণের আয়োজন ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলাম। যাতে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য দৃশ্যমান হতো। কিন্তু এক বছর যেতে না যেতেই পরাজিত শক্তির নানা ষড়যন্ত্রের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। মতপার্থক্য, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দলগুলোর ঐক্যকে আরও দৃশ্যমান করা দরকার।

বৈঠক শেষে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছি, যদি প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে না পারেন, ভালো নির্বাচনও নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন, তাহলে পদত্যাগ করে চলে আসুন। সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আগ্রহী সব পক্ষ মিলে আপনার নেতৃত্বে নির্বাচনী জোট করি।’

উত্তরার মাইলস্টোন কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় গতকাল দুই উপদেষ্টার আট ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার বিষয়ে মজিবুর রহমান মঞ্জু বৈঠকে বলেন, এর মানে উপদেষ্টাদের প্রতি জনগণের অনাস্থা তৈরি হচ্ছে। সরকারের দুর্বলতা প্রকাশ পাচ্ছে।

গণঅধিকার পরিষদ সভাপতি নুরুল হক নুর প্রধান উপদেষ্টাকে বলেন, এনসিপির নিবন্ধন না থাকার পরও কোন যোগ্যতায় বিএনপি, জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকে ডাকা হয়েছে? গোপালগঞ্জে কিছু ঘটবে; আঁচ করার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী করেছে?

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, প্রধান উপদেষ্টা জানালেন, তিনি উৎকণ্ঠিত। বললেন, সরকার সঠিক নির্বাচনের দিকে এগোবে; কিন্তু শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর করলে হবে না। জনগণের ওপর নির্ভর করতে হবে।

১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘এনসিপির নেতাদের প্রটোকল দেওয়া রাজনৈতিক মহলে ভিন্ন বার্তা যায়। প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছি, সব সংকটের অবসান ঘটবে যদি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। সচিবালয় যেভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, তাতে বোঝা গেছে গোয়েন্দা বাহিনীর ব্যর্থতা ছিল।’

বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘সরকার দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে লেজেগোবরে অবস্থা তৈরি করেছে। অভ্যুত্থান পরিপন্থি কাজ করলে সরকারকে সমর্থন করব না। বৈঠকে বলেছি, সরকার মবকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। একটি দলকে যে প্রটোকল দেওয়া হচ্ছে, তা মন্ত্রীরাও পায়। ওই দলের জন্য গোপালগঞ্জে আট কোটি টাকা খরচ করেছে সরকার।’

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

রাজনীতি

প্রস্তাবিত বাজেট দেশকে ঋণের দাসত্বে বাঁধার পাঁয়তারা : মামুনুল হক

Published

on

By

২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট দেশকে ঋণের দাসত্বে বাঁধার পাঁয়তারা বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ মেগা-বাজেট হতে পারে, কিন্তু এটি মূলত দেশকে অর্থনৈতিকভাবে পরনির্ভরশীল করার এক বিশাল উচ্চাভিলাষী মহাপ্রকল্প। এই বাজেট কোনোভাবেই জাতির বাস্তব চাহিদার প্রতিফলন নয়, বরং এটি জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি এবং দেশকে ঋণের দাসত্বে বাঁধার পাঁয়তারা।’

শুক্রবার (১২ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।

মামুনুল হক বলেন, ‘৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার গালভরা এই বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার যে বিশাল ঘাটতি ধরা হয়েছে, তা পূরণের জন্য সরকার এখন বৈদেশিক দাসত্ব এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর দেদারসে হাত বাড়াবে। ব্যাংক থেকে এই বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণের অর্থ হলো, বেসরকারি খাতের গলা টিপে ধরা, দেশীয় বিনিয়োগকে পুরোপুরি স্থবির করে দেওয়া এবং জনগণের আমানতকে ঝুঁকিতে ফেলা। বিগত সময়ের ভুলনীতি এবং ঋণের ফাঁদে জর্জরিত অর্থনীতিকে সচল রাখার নামে সরকার দেশকে এক দীর্ঘমেয়াদী দাসত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যার চড়া মূল্য দিতে হবে এদেশের খেটে খাওয়া আমজনতাকে।

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ আজ লাগামহীন দ্রব্যমূল্য, ব্যাপক বেকারত্ব, ভয়াবহ বিনিয়োগ সংকট এবং শিল্প ও কৃষিখাতের চরম স্থবিরতায় দিশেহারা। সরকার যখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার রূপকথা শোনায়, তখন বাজার বাস্তবতায় তা জনগণের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার মতো শোনায়। বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে ব্যর্থ সরকার রাজস্ব আদায়ের নামে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার যে দানবীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা আদায়ের চাবুক চালানো হবে মূলত মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও সীমিত আয়ের জনগণের পিঠে। নতুন কর আরোপ এবং পরোক্ষ করের বোঝা চাপিয়ে ধনীদের আরও ধনী এবং দরিদ্রদের আরও নিঃস্ব করার এক পুঁজিপতিবান্ধব দলিল পেশ করা হয়েছে।’

বাজেটের সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের বৈষম্য তুলে ধরে আমিরে মজলিস বলেন, ‘জনগণের করের টাকায় কোন মন্ত্রণালয়ে কত বরাদ্দ দেওয়া হলো, তার খতিয়ান দেখলেই স্পষ্ট হয় যে, এই সরকার গণমানুষের প্রকৃত সংকট মোচনে কতটা উদাসীন ও লোকদেখানো নীতিতে বিশ্বাসী। কৃষি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ২৭,৮৮১ কোটি টাকা। দেশের সিংহভাগ মানুষ যেখানে কৃষির ওপর নির্ভরশীল, সেখানে এই যৎসামান্য বরাদ্দ দিয়ে উৎপাদন খরচ সামাল দেওয়া কৃষকদের সাথে এক ধরণের তামাশা। অন্যদিকে, জননিরাপত্তা ও জনকল্যাণের নামে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ৩১,০৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা কৃষি খাতের চেয়েও বেশি! এটা কি কৃষিকে বাঁচানোর বাজেট নাকি আমলাতান্ত্রিক শাসনযন্ত্রকে চাঙ্গা রাখার বাজেট?

বাজেটে দ্বীনি ও কর্মমুখী শিক্ষাকে অবহেলা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একইভাবে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ বিভাজন করলেই সরকারের আসল চেহারা বেরিয়ে আসে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ৫৭,৩০২ কোটি টাকা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৪৬,৭৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৮,৪৫৭ কোটি টাকা। দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর দ্বীনি ও কর্মমুখী শিক্ষার এই খাতকে এভাবে চরম অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, যেখানে মহামারী ও জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় দেশের স্বাস্থ্যখাত ভঙ্গুর, সেখানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ৪৯,৩৮৭ কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে মাত্র ১৩,৪৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই নামমাত্র বরাদ্দ দিয়ে জনগণের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার সুদূরপরাহত।’

মাওলানা মামুনুল হক গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই বাজেট কতটা গণবিচ্ছিন্ন, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঐতিহাসিক আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারসহ বিভিন্ন জাতীয় আন্দোলনে নিহত বহু শহীদের আত্মত্যাগকে এই বাজেটে চরমভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দীর্ঘদিন ধরে শাপলা শহীদ পরিবারসহ সকল শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা ও চিকিৎসার জন্য বিশেষ রাষ্ট্রীয় তহবিল গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু ফ্যাসিবাদের ভূত এখনো বাজেট প্রণেতাদের ঘাড় থেকে নামেনি, যার কারণে এই মহান শহীদদের দাবি আবারও উপেক্ষিত হয়েছে।

বিবৃতির শেষাংশে তিনি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই বাজেট চূড়ান্ত অনুমোদনের পূর্বে অবিলম্বে কৃষি, শিক্ষা (বিশেষ করে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা), স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাস্তবসম্মতভাবে বৃদ্ধি করতে হবে, অর্থপাচারকারী, ব্যাংকডাকাত ও ঋণখেলাপিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে, বাজার সিন্ডিকেটের হোতাদের কারাগারে পাঠাতে হবে এবং শাপলা চত্বরের শহীদ পরিবারসহ সকল শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনে পৃথক বিশেষ বরাদ্দ সংযোজন করতে হবে। অন্যথায়, এই তথাকথিত মেগা-বাজেট জনআকাঙ্ক্ষার মরণফাঁদ হিসেবেই ইতিহাসে কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।

Continue Reading

top1

ঋণনির্ভর ও লুটপাটের বাজেট: জামায়াত

Published

on

By

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে ‘ঋণনির্ভর, বাস্তবায়ন অযোগ্য ও লুটপাটের বাজেট’ আখ্যা দিয়েছে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী।

দলটির দাবি, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জনকল্যাণমূলক, কর্মসংস্থানমুখী ও বাস্তবায়নযোগ্য বাজেটের পরিবর্তে সরকার এমন একটি বাজেট দিয়েছে, যা ঋণনির্ভর, বাস্তবতা-বিবর্জিত এবং শেষ পর্যন্ত দুর্নীতি ও লুটপাটকে উৎসাহিত করবে।

শুক্রবার (১২ জুন) নতুন অর্থবছরের বাজেট বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে বাজেট প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে এসব কথা বলেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটটি ব্যাংক ও বৈদেশিক বিরাট ঋণের ওপর নির্ভরশীল। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের আর্থিক সংস্থান করতে গিয়ে ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকার যে রাজস্ব আয়ের কথা বলা হয়েছে, সেই রাজস্ব কীভাবে আদায় করা হবে তা স্পষ্ট করা হয়নি। বাজেটের ঘাটতি ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৫০ কোটি টাকা কোথা থেকে পূরণ করা হবে- সেটি স্পষ্ট নয়। যেসব উৎস দেখানো হচ্ছে সেখানে যে কর কাঠামো, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রয়োজন, সেগুলোর উল্লেখ নেই।

তিনি আরও বলেন, এবারের বড় ঘাটতি বাজেটের যে ব্যয় সংকুলান, তা ব্যাংক লোন থেকে করা হবে। তাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যাবে। ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ করতে পারবে না, স্বাভাবিকভাবে বেসরকারি খাতে প্রভাব পড়বে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এর সঙ্গে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা যুক্ত হওয়ায় বাজেট বাস্তবায়ন ও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সরকারের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাকে ‘অবাস্তব’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইএমএফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৫ শতাংশের নিচে রেখেছে। সেখানে সরকার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একইভাবে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এটি একটি ফাঁপানো ও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য। ভেতরে এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

পরওয়ার বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নের প্রতিফলন এ বাজেটে নেই। বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার কোনো রূপরেখাও এই বাজেটে পরিলক্ষিত হয়নি।

তিনি বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার বাড়িয়ে ৩ লাখ কোটি টাকা করা হয়েছে। কিন্তু পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে এডিপির আকার বৃদ্ধি করলে দুর্নীতি ও অপচয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান সরকারের গৃহীত এসব অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত আমাদের পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের নীতির কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। এ ছাড়াও উচ্চাভিলাষী এই বাজেটের অর্থায়ন করতে গিয়ে সরকারকে অতিমাত্রায় ঋণনির্ভর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়েছে। দেশীয় উৎস, বিশেষ করে ব্যাংকিং খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়বে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

সাবেক এ সংসদ সদস্য বলেন, ন্যূনতম ব্যক্তিগত করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। মূল্যস্ফীতির কারণে যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে, সেখানে অতিরিক্ত করের বোঝা জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে।

এই বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই বাজেট প্রণয়নে কোনো ধরনের হঠকারিতা জনগণ মেনে নেবে না। তাই অতিসত্বর অবাস্তবায়নযোগ্য, উচ্চাভিলাষী ও লুটপাটের সহায়ক এই বাজেট সংশোধন করে বিনিয়োগবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক বাজেট প্রণয়নের জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।

জামায়াত প্রস্তাবিত ছায়া বাজেটের সঙ্গে তুলনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, তাদের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ছিল ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা, যা সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনায় কম ঘাটতি ও কম ঋণনির্ভর।

তিনি বলেন, আমাদের ছায়া বাজেট জনকল্যাণমুখী ও সংস্কারভিত্তিক। সরকারের বাজেটের তুলনায় এটি বেশি বাস্তবসম্মত এবং দেশের অর্থনীতির জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ।

সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে বাজেটে আনা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী

তিনি আরও বলেন, বাজেট ঘাটতির ক্ষেত্রে সরকারের প্রস্তাবিত ঘাটতি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ জামায়াতের বাজেটে ঘাটতি অনেক কম, যা জিডিপির প্রায় ২.৪৩ শতাংশ; সেখানে সরকারের ঘাটতি ৩.৫ শতাংশ। সরকারি বাজেট ও জামায়াতে ইসলামীর ছায়া বাজেটের মধ্যে পার্থক্য শুধু সংখ্যাগত নয়; অর্থনৈতিক দর্শন, নীতিগত অবস্থান এবং বাস্তবায়ন কৌশলেও মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত আমির অর্থবছর পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে জুলাই-জুন অর্থবছরের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর ক্যালেন্ডার বছরভিত্তিক অর্থবছর চালু।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আমরা আশা করি, সরকার গঠনমূলক প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নিয়ে বাজেট সংশোধন করবে এবং বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে যে নৈরাজ্য ও অনিয়মের লক্ষণ ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে, তা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম ও ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মু. আতাউর রহমান সরকার ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আব্দুস সাত্তার সুমন।

Continue Reading

top3

আগামী অর্থবছরে বিভিন্ন দেশে ১৪ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় সরকার: নুর

Published

on

By

আগামী অর্থবছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আনুমানিক ১৪ লাখ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় এই তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাকের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন বাংলাদেশি কর্মী বৈদেশিক কর্মসংস্থান লাভ করেছেন।

তিনি আরো বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ ও পেশাদার কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকারের পক্ষ থেকে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

নুরুল হক নুর জানান, যেসব দেশে বর্তমানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ বা সীমিত রয়েছে, সেসব দেশের শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত ও সম্প্রসারণের জন্য মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের সঙ্গে সরকারের কূটনৈতিক আলোচনা ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলমান রয়েছে

Continue Reading

Trending