ক্রীড়া ডেস্ক
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে রেকর্ড ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রাজস্ব আয়ের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে নির্ধারিত ১১ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে গেছে এ আয়। টিকিট বিক্রি ও হসপিটালিটি সেবা থেকে এসেছে রাজস্বের বড় অংশ।
শনিবার (১৮ জুলাই) ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর কাছে রাজস্ব বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আয় বৃদ্ধির বড় উৎস ছিল হসপিটালিটি সেবা এবং টিকিট বিক্রি।
জানা গেছে, টিকিটের সেকেন্ডারি মার্কেট বা পুনঃবিক্রয় বাজার থেকেও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পেয়েছে ফিফা। এ ক্ষেত্রে ক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ এবং বিক্রেতার কাছ থেকে আরও ১৫ শতাংশ ফি আদায় করা হয়েছে, যা সংস্থাটির আয়ের অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অতিরিক্ত রাজস্বের সুফল সদস্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর কাছেও পৌঁছাবে। একই সঙ্গে নানা বিতর্কের মধ্যেও বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজনের পর রেকর্ড আয়ের মাধ্যমে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা সভাপতির পুনর্নির্বাচনকে সামনে রেখে ইনফান্তিনো ইতোমধ্যে ২০০টিরও বেশি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থনের আশ্বাস পেয়েছেন বলেও জানা গেছে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বাড়তি তহবিল পাওয়ার সম্ভাবনার কারণে অনেক সদস্য অ্যাসোসিয়েশন প্রকাশ্যে সমালোচনা থেকে বিরত থাকতে পারে।
রেকর্ড রাজস্ব ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে আরও একটি বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনাও জোরালো করতে পারে। বিডের জন্য উন্মুক্ত পরবর্তী বিশ্বকাপ হবে ২০৩৮ সালে। গত শুক্রবার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও যুক্তরাষ্ট্রে আবার বিশ্বকাপ আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
ট্রাম্প বলেন, “আপনাদের আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেওয়া উচিত। এবার আমরা এককভাবে আয়োজক হতে চাই। কানাডা ও মেক্সিকো থাকবে না।”
এদিকে, ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফিফার আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।