১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক ব্যতিক্রমী ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি এমন কৌশলে নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করেছেন যা দেখে প্রতিপক্ষ তার জবাব দিবে কি, উত্তর খুঁজে পেতেই তারা রীতিমত খাবি খাচ্ছে। তার নতুন বক্তব্য, নতুন উপস্থাপন তুমুলভাবে জনতার হৃদয়ের স্পর্শ করেছে।
তারেক রহমান গদবাঁধা কোন কথা বা কোনো আকর্ষণীয় বক্তব্য দিয়েও তার নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেননি। চটকদার কোন স্বপ্নও দেখাচ্ছেন না। মিথ্যার ফুলঝুরি অথবা নাটকীয় অভিনয় দেখিয়েও কারো নজর কাড়ার চেষ্টা করছেন না।
তিনি সাধারণদের মাঝে অতিশয় সাধারণ বেশেই হাজির হচ্ছেন। সঙ্গে রাখছেন কখনো প্রিয়তমা স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে, কখনো প্রাণপ্রিয় মেয়ে জায়মা রহমানকে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন নজীর স্থাপন করছেন।
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি মঞ্চে ডেকে নিচ্ছেন এলাকার মানুষদের, স্থানীয় খেটে খাওয়া লোকদের। জনে জনে তিনি তাদের মুখে শুনছেন এলাকার সমস্যার কথা। তাদের বাসস্থানের সংকট, পয়নিষ্কাশন সংকট, শিক্ষা চিকিৎসার অপ্রতুলতার কথা। একটা স্বৈরাচারী গোষ্ঠী শাসনের নামে দুঃশাসন চালিয়ে তাদের নিঃশেষ করে দিয়েছে।
তাদের বাড়িঘর দখল করেছে, সহায়-সম্পদ দোকানপাট লুণ্ঠন করেছে, মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে, নির্যাতন নিপীড়ন চালিয়ে সর্বস্বান্ত করেছে। তারা এসবের প্রতিকার চায়। এলাকার সাধারণদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তাদের সমস্যাগুলো উঠে আসছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে।
সাধারণ মানুষ বাগাড়ম্বর পছন্দ করে না। বাগাড়ম্বরপূর্ণ কোন কথাও শুনতে চায় না। তারা চায় তাদের সমস্যার সমাধান হোক।
ভুক্তভোগীদের মুখে তাদের সমস্যার কথা শুনে তিনি বলছেন, আল্লাহ যদি রহমত করেন এবং আপনারা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন তবে আমি এ সমস্যা সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
এ বক্তব্যের প্রতিউত্তর কী হতে পারে? বিরুদ্ধপক্ষ এর জবাবে কোন কৌশল অবলম্বন করতে পারেন? কোন কৌশলই না। কারণ নির্বাচনে জনসম্পৃক্ততার বাইরে আর কোন কৌশলই কার্যকর না। ফলে তারা তার মুখোমুখি না দাঁড়িয়ে রণে ভঙ্গ দিতে বাধ্য হয়েছেন।
১৭ বছর পর তিনি সগৌরবে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেছেন। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ৩০০ ফিটের জনসমুদ্রে এসেই সকলের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে বলেছেন, আমার একটা স্বপ্ন আছে, দেশকে এবং দেশের মানুষকে নিয়ে।
তারপর থেকে তিনি তার স্বপ্ন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে জোর কদমে এগিয়ে চলেছেন। তার প্রচারের ধরন দেখে তারা তাকে মোকাবেলা করবে দূরে থাক, প্রতিপক্ষ তার সামনে দাঁড়াতেই সাহস পাচ্ছে না।
শুধু বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নবধারার নির্বাচনী কৌশল নয় বরং তার পারিবারিক ঐতিহ্যও অহংকার করার মত। তার হেরিটেজ তাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে।
তার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, যিনি একাধারে স্বাধীনতার ঘোষক, সফল রাষ্ট্রনায়ক, স্বাধীনতার স্থপতি এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা। দুর্ভিক্ষপীড়িত একটা দেশকে তিনি সমৃদ্ধির রেলসড়কে তুলে দিয়ে যান।
তার মা আপোষহীর নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যিনি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তিনি গণতন্ত্রের মা এবং গণতন্ত্র উদ্ধারে তিনি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
এবার আসা যাক দেশনায়ক তারক রহমান প্রসঙ্গে। তার কথা বলার ঢং এবং রাজনীতির ধরন একেবারেই অন্যরকম। সেটা দেখে দেশবাসীর মত বিশ্বের মানুষও বিস্মিত বিমুগ্ধ। তারা চোখ কপালে তুলে বিস্ময়ের সুরে বলছেন ‘এই তারেক কোন তারেক’! দীর্ঘ ১৭ বছরে নিপীড়নের আগুনে পুড়ে তিনি খাঁটি সোনা নয়, পরশপাথরে পরিণত হয়েছেন।
তিনি এত নির্যাতিত হয়েছেন যেন একবারও প্রতিশোধের শব্দ উচ্চারণ করেননি। বরং বলেছেন দেশকে নিয়ে তার অনেক পরিকল্পনা আছে। আমরা ভেবে দেখলাম সেই পরিকল্পনার কথা। সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান উ ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের মতই তিনি দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।
তার কি দেশের কাউকে প্রতিপক্ষ মনে করার প্রয়োজন আছে? মনে হয় না। তার সামনে দাঁড়ানোর যোগ্যতাইবা কয়জন রাখে। সেজন্য তার কোন অহংকারও নেই। বরং যোগ্যতাকে তিনি দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে চান।
তিনি নির্বাচন ছাড়াই জাতীয় সরকারের প্রধান হতে পারতেন, সে প্রস্তাব তার কাছে ছিল। কিন্তু তিনি জনগণকে পাশ কাটিয়ে কোন কিছুই করতে রাজি হন নি। বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছর ভোটের জন্য যুদ্ধ করেছে। জনগণ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছে।
সেই জনতা যদি তাকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠায় তাহলেই তিনি সে দায়িত্ব গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত আছেন। যদি না পাঠায় তিনি আরো সময় নিয়ে প্রস্তুত হবেন। তারপরও চান দেশ ও দেশের আবহমান জনতার সাথে মিশে থাকতে। তাদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হতে।