Connect with us

আন্তর্জাতিক

শরীর শতভাগ প্যারালাইজড হলেও যৌন চাহিদা থাকা সম্ভব? গবেষণায় যা উঠে এলো

Published

on

শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্যারালাইজড ব্যক্তিদের যৌন সক্ষমতা নিয়ে সমাজে প্রচলিত ধারণার সঙ্গে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যার বড় ধরনের ফারাক রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা বলছে, শরীরের নড়াচড়া সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলেও অনেক ক্ষেত্রে যৌন প্রতিক্রিয়া ও সক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়ে যায় না।

বিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল Spinal Cord-এ প্রকাশিত “Male erectile dysfunction following spinal cord injury: a systematic review” শীর্ষক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, স্পাইনাল কর্ড ইনজুরির পর অনেক পুরুষের মধ্যেই ইরেকশন সক্ষমতা আংশিকভাবে বজায় থাকে। গবেষকদের মতে, মেরুদণ্ডের নিচের অংশে থাকা স্বয়ংক্রিয় স্নায়ু বা রিফ্লেক্স পাথওয়ে মস্তিষ্কের সরাসরি সংকেত ছাড়াই কাজ করতে পারে।এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি একটি গবেষণা প্রকাশিত হয় Journal of Rehabilitation Medicine-এ। “Sexual function in a traumatic spinal cord injured population 10–45 years after injury” শিরোনামের ওই গবেষণায় দেখা যায়, প্যারালাইজড পুরুষ ও নারীদের একটি বড় অংশ যৌন উত্তেজনা অনুভব করতে পারেন এবং অনেকে তাদের যৌন জীবনে সন্তুষ্টির কথাও জানিয়েছেন। গবেষণায় বলা হয়, অনুভূতির ধরন পরিবর্তিত হলেও যৌন সক্ষমতা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয় না।

পুরুষদের ক্ষেত্রে ইরেকশন ও বীর্যপাত সক্ষমতা নিয়ে আলাদা করে আলোচনা করা হয়েছে Archives of Physical Medicine and Rehabilitation-এ প্রকাশিত “Erectile and ejaculatory function of males with spinal cord injury” প্রবন্ধে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, চিকিৎসা ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় অনেক প্যারালাইজড পুরুষই ইরেকশন ও সন্তান জন্মদানের সক্ষমতা ধরে রাখতে পারেন।

নারীদের যৌন সক্ষমতা নিয়েও ইতিবাচক তথ্য উঠে এসেছে। Urologia Internationalis জার্নালে প্রকাশিত “Sexual Function Among Patients with Spinal Cord Injury” গবেষণায় বলা হয়, প্যারালাইজড নারীদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক লুব্রিকেশন, যৌন উত্তেজনা এবং অনেক সময় অর্গাজমও সম্ভব। পাশাপাশি অধিকাংশ ক্ষেত্রে গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মদানের সক্ষমতা অক্ষুণ্ন থাকে।তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব ক্ষেত্রেই এই সক্ষমতা সমান থাকে না। যৌন সক্ষমতা নির্ভর করে মেরুদণ্ডের আঘাতের স্তর, স্নায়ু ক্ষতির মাত্রা এবং চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ওপর। কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্নায়ু সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে যৌন প্রতিক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

সব মিলিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, প্যারালাইজড হওয়া মানেই যৌন জীবনের সম্পূর্ণ অবসান নয়। বরং আধুনিক চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই যৌন সক্ষমতা আংশিক বা কার্যকরভাবে বজায় রাখা সম্ভব।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো প্রতি মুহূর্তের জন্য ক্ষমা চাই : বিল গেটস

Published

on

By

জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত গোপন নথির সাম্প্রতিক প্রকাশ বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। গত কয়েকদিন ধরে চলা বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন তিনি। 

স্থানীয় সময় বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) অস্ট্রেলীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘নাইন নিউজ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গেটস বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয় হওয়া তার জীবনের অন্যতম বড় ভুল এবং তিনি এজন্য গভীরভাবে অনুতপ্ত। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

এপস্টেইন ফাইলসে অভিযোগ উঠেছে, বিল গেটস ‘রুশ তরুণীদের’ সংস্পর্শে আসার পর তার স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের কাছে একটি যৌনবাহিত রোগের (এসটিডি) কথা গোপন করেছিলেন। এমনকি এপস্টেইন ২০১৩ সালে একটি ইমেইলে দাবি করেছিলেন, গেটস গোপনে মেলিন্ডাকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোর চেষ্টা করেছিলেন যাতে তিনি সংক্রমিত না হন।

এই অভিযোগগুলোকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্ভট’ বলে উড়িয়ে দিয়ে ৭০ বছর বয়সী বিল গেটস বলেন, ‘এপস্টেইন সম্ভবত নিজের কাছেই একটি ইমেইল লিখেছিলেন যা কখনো পাঠানো হয়নি। তিনি কেন এমনটা করেছিলেন আমি জানি না। হয়তো তিনি আমাকে আক্রমণ করার চেষ্টা করছিলেন। এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের জন্য আমি অনুতপ্ত এবং ক্ষমা চাইছি।’

এদিকে গত মঙ্গলবার এনপিআরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস তাদের ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ২০২১ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। মেলিন্ডা জানান, এপস্টেইনের সঙ্গে তার সাবেক স্বামীর বন্ধুত্ব ছিল তাদের সম্পর্কের অন্যতম অন্ধকার দিক। তিনি বলেন, এসব তথ্য যখন সামনে আসে, তখন আমার দাম্পত্য জীবনের অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক কিছু স্মৃতি ফিরে আসে। সেই ‘নোংরামি’ থেকে দূরে থাকতে পেরে আমি এখন অনেক সুখী। 

বিল গেটসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাপারে মেলিন্ডা স্পষ্ট করে বলেন, এসব প্রশ্নের উত্তর বিল গেটসকেই দিতে হবে, আমি না। 

এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে বিল গেটসের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সরব হয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারাও। সাউথ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান ন্যান্সি মেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, তিনি হাউজ ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমারকে চিঠি লিখেছেন যেন বিল গেটসকে তলব করা হয়। এর আগে বিল ও হিলারি ক্লিনটনও এই কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হয়েছেন।

২০১৯ সালে জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যুর পর ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও তার প্রভাবশালী বন্ধুদের তালিকা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত এখনও থামেনি। বিল গেটস দাবি করেছেন, তিনি কেবল বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে অনুদান সংগ্রহের লক্ষ্যেই এপস্টেইনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তবে কখনও তার ব্যক্তিগত দ্বীপে যাননি।

Continue Reading

top3

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন জাহাজকে ধাওয়া ইরানি গানবোটের

Published

on

হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের সময় মার্কিন পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজকে ইরানের সশস্ত্র নৌযান ধাওয়া দিয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড টেক। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ঘটনাটি ঘটার পর জাহাজটি গতি বাড়িয়ে ইরানের জলসীমা এড়িয়ে চলে যায়।

ভ্যানগার্ড টেকের বরাতে আল অ্যারাবিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, স্টেনা ইম্পেরেটিভ নামের ট্যাঙ্কারটি ওমানের উত্তর দিকে প্রায় ১৬ নটিক্যাল মাইল (৩০ কিলোমিটার) দূরে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) তিন জোড়া ছোট সশস্ত্র নৌযানের মুখোমুখি হয়।

গানবোটগুলো রেডিও বার্তায় জাহাজটির ক্যাপ্টেনকে ইঞ্জিন বন্ধ করে তল্লাশির জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেয়। তবে ট্যাঙ্কারটি গতি বাড়িয়ে নিজস্ব পথ বজায় রাখে এবং ইরানের আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করেনি বলে জানানো হয়। ভ্যানগার্ড টেক আরও জানায়, বর্তমানে জাহাজটি একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের নিরাপত্তা পাহারায় রয়েছে।

এর আগে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও ঘটনাটির কথা জানালেও সংশ্লিষ্ট জাহাজ বা নৌযানের জাতীয়তা উল্লেখ করেনি। অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত বার্তা সংস্থা ফার্স জাহাজটির জাতীয়তা উল্লেখ না করে দাবি করেছে, একটি জাহাজ অবৈধভাবে ইরানের আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করেছিল। তখন ইরানি ইউনিটগুলো জাহাজটিকে প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র প্রদর্শনের আহ্বান জানায়।

ফার্সের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজটির এসব জলসীমায় থাকার কোনো বৈধ অনুমোদন ছিল না। সতর্ক করার পরই এটি ইরানি জলসীমা ত্যাগ করে। বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে অতীতেও একাধিক উত্তেজনাকর ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি আইআরজিসির নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দেন যে যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ চালালে এই প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

Continue Reading

আন্তর্জাতিক

তিন দিনে বেলুচিস্তানে ২২ সেনা ও ১৯৭ সশস্ত্র সন্ত্রাসীর মৃত্যু

Published

on

By

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে টানা তিন দিনের নিরাপত্তা অভিযানে ১৯৭ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। এ সময় দায়িত্ব পালনকালে ২২ পাকিস্তানি সেনা শহীদ হয়েছেন বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা সূত্র। খবর জিও নিউজের।

নিরাপত্তা বাহিনী জানায়, গত সপ্তাহান্তে বেলুচিস্তানের ১২টি এলাকায় একযোগে সন্ত্রাসী হামলার পর এই অভিযান চালানো হয়। হামলাগুলোয় কোয়েটা, মাসতুং, নুশকি, দালবন্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, তুম্প, গ্বাদর ও পাসনিসহ বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করা হয়।

সূত্র অনুযায়ী, এসব হামলায় অন্তত ৩৬ বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। একই সঙ্গে ২২ সেনা ও নিরাপত্তা সদস্য প্রাণ হারান।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর জানায়, হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে ব্যাপক তল্লাশি ও পরিষ্কার অভিযান শুরু করে। এসব অভিযানে আত্মঘাতী হামলাকারীসহ বহু সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়।

আইএসপিআর দাবি করেছে, এসব হামলার পেছনে বিদেশ থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক জড়িত ছিল এবং তাদের লক্ষ্য ছিল বেলুচিস্তানে স্বাভাবিক জীবন ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত করা।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) বেলুচিস্তানে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে অন্যান্য প্রদেশের শ্রমিক ও বিদেশি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।

সুত্র : জিও নিউজ

Continue Reading

Trending