প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভিডিওতে ইতিবাচক সাড়া এবং দূরদর্শী পরামর্শ দেওয়ার জন্য তিনি দেশের তরুণদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে ইন্সটাগ্রামে প্রকাশিত ওই বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘ধন্যবাদ, বন্ধুরা। গতকাল রাতে আপনাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছিলাম। আপনারা যেভাবে ভিডিওটিতে সাড়া দিয়েছেন, দূরদর্শী পরামর্শ পাঠিয়েছেন… সবাইকে ধন্যবাদ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার প্রতি আপনাদের ভালোবাসা বজায় থাকবে, এবং আমাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে… ধন্যবাদ, বন্ধুরা।’
দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মুখে বহস্পতিবারও (২৩ জুলাই) ভিডিও বার্তায় কথা বলেন মোদি। ওই বার্তায় তিনি বলেন, ‘বন্ধুরা, আমি জানি প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এটি লাখ লাখ শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের জন্য খুবই কষ্টদায়ক। এই কারণে গত আড়াই মাসে অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
আইনগত ব্যবস্থা ও পরীক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অপরাধীদের ধরা হয়েছে এবং তারা জেলে রয়েছে। আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল যেন শিক্ষার্থীদের একটি বছরও নষ্ট না হয়। অবিলম্বে পরীক্ষা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল।’
দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের অগ্রগতির কথাও জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের জন্য বিভাগগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিলাম। আজ, বিভাগগুলো কঠোর পরিশ্রম করেছে এবং গভীর রাতে আমাকে প্রস্তাবটি দিয়েছে। আগামীকাল (শুক্রবার), মন্ত্রিসভায় একটি আলোচনা হবে। মন্ত্রিসভার সদস্যদের পরামর্শের পর, এটিকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে। আগামি সোমবার থেকে, যখন সংসদের দ্বিতীয় সপ্তাহ শুরু হবে, আমরা সেই বিলটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পাস করার চেষ্টা করব।’
ককরোট জনতার আন্দোলন
এদিকে কাকরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদের ওপর পুলিশি ক্র্যাকডাউনের কয়েকদিন পর কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর মধ্যে উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত জোশীকে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির ৪৭ জন কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
তবে আন্দোলনকারীরা এখনও তাদের মূল দাবি অর্থাৎ শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে অনড় রয়েছেন। শুক্রবার সিজিপি প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি দাবিনামা পেশ করেন। এতে এনইইটি (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর আত্মহত্যায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অবশ্য সরকারি সূত্রগুলো সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে নিশ্চিত করেছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের প্রতি ক্ষমতাসীন দল বিজেপির পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। ফলে তাকে বর্তমান পদ থেকে সরানো হবে না।