Connect with us

সর্বশেষ

টেকনাফে বৈদ্যুতিক মিটার বিস্ফোরণে পুড়ে ছাই বসতঘর, অল্পের জন্য রক্ষা পেল ঘুমন্ত পরিবার

Published

on

হেলাল উদ্দিন, টেকনাফ (কক্সবাজার)

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নে বৈদ্যুতিক মিটার বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট আগুনে একটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ঘরের আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। তবে গভীর রাতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও পরিবারের সদস্যরা সময়মতো ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে পারায় অলৌকিকভাবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় দিনমজুর মো. ইসলামের বাড়িতে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে মো. ইসলামের বাড়ির দেওয়ালে স্থাপিত বৈদ্যুতিক মিটারটিতে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা ঘরের চাল ও বিভিন্ন কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা দেখে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে ঘরের ভেতর ঘুমিয়ে থাকা পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে বাইরে বের করে আনেন। পরে স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও, ততক্ষণে ঘর ও ঘরের ভেতরে থাকা সব মালামাল পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়।

সর্বস্ব হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দিনমজুর মো. ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি দিন এনে দিন খাই। বহু বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে সংসারের যা কিছু গড়েছিলাম, এই আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছি। সরকারি সহায়তা না পেলে আমার পক্ষে আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়।”

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আলী বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দুঃখজনক ঘটনাটি আমরা জেনেছি। বিষয়টি দ্রুত উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হবে এবং ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারি ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

এ বিষয়ে টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক গোলযোগ (শর্ট সার্কিট) থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে তদন্ত সাপেক্ষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “ঘটনার অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আমাদের একটি কারিগরি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মিটার ও সংযোগ লাইনের অবস্থা পরীক্ষা করবে। তদন্তে কোনো কারিগরি ত্রুটি বা গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

যোগাযোগ করা হলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনিক চৌধুরী বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তার বিষয়টি সর্বোচ্চ বিবেচনা করা হবে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের ইতিমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অনেক পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ রয়েছে। এসব জরাজীর্ণ লাইন ও মিটার দ্রুত পরীক্ষা করে সংস্কার করা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ

ময়মনসিংহে শিশু নিছামনিকে ধর্ষণ ও হত্যা: ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, কিশোরের কারাদণ্ড

Published

on

By

জাহাঙ্গীর আলম, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছরের শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর নদীতে চুবিয়ে হত্যার দায়ে তিন তরুণকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার এক অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার মাত্র ২৫ দিনের মাথায় বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ময়মনসিংহের পৃথক দুটি আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—আরিফ মিয়া (১৯), রাকিব মিয়া (২১) ও মো. সাঈম মিয়া (১৯)। রায়ের সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি এবং দশম শ্রেণির ছাত্র মারুফ মিয়াকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার তিন প্রাপ্তবয়স্ক আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বজলুল করিম চৌধুরী। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরকার।

এদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি মারুফ মিয়ার বিচারিক কার্যক্রম পৃথকভাবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সম্পন্ন হয়। দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম.এল.বি মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন।

পুলিশ ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ১৪ জুন বিকেলে নিজ বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয় পাঁচ বছরের শিশু নিছামনি। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে কংস নদের একটি বাঁকে পানির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।

সেদিন রাতেই দাফনের গোসলের সময় শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে স্বজনরা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ রাত সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

পরদিন ১৫ জুন রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ সন্দেহভাজন চার তরুণকে গ্রেপ্তার করলে তারা সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়।

ডিএনএ ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত ২৩ জুন পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। বিচার প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষে ১৯ জন এবং আসামিপক্ষে চারজন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক শুনানি শেষে ঘটনার ২৫ দিনের মাথায় আদালত এই ঐতিহাসিক ও দ্রুততম রায় ঘোষণা করলেন।

Continue Reading

top1

বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ১১ মৃত্যু, হাইকোর্টে রিট

Published

on

By

ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, জনদুর্ভোগ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বসাধারণের জন্য বিশ্বকাপ প্রদর্শনী ও উদযাপনের সময় নির্ধারণ, আতশবাজি ও লাউড স্পিকারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন এবং রাত ১১টার পর অবৈধ উচ্চ শব্দ ও আতশবাজি বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এই রিট আবেদন করেন।

তিনি বলেন, পত্রিকার খবর অনুসারে এ পর্যন্ত ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ১১ জন মারা গেছেন। এছাড়া রাতে উচ্চ শব্দে আতশবাজি ফুটিয়ে উদযাপন করায় শিশু ও বৃদ্ধসহ জনসাধরণের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। তাই এ রিট আবেদন করা হয়েছে। ‘বিশ্বকাপ উন্মাদনায় প্রাণ গেছে ১০ জনের’ শীর্ষক প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয় রিটে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে দুনিয়াজুড়ে বইছে উন্মাদনার ঝড়। ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরে বাংলাদেশ খেলার সুযোগ না পেলেও এখানে উত্তেজনার কমতি নেই। জনপ্রিয় দলগুলোর সমর্থকরা বাগ্‌যুদ্ধেই মাঠ গরম করে রাখছেন। এই বিরোধিতা মাঝেমধ্যে প্রাণঘাতী সংঘাতেও রূপ নিচ্ছে।

তথ্য বলছে, এবারের বিশ্বকাপ ঘিরে নানা ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের প্রাণ গেছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫ জন।

ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, যেখানে বড়পর্দায় খেলা দেখানো হবে, সেখানে ডিবি নজরদারি করবে।

সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, খেলা বিনোদনের অংশ, তাতে জয়-পরাজয় থাকবে—এটি মেনে নেওয়ার মানসিকতায় ঘাটতি আছে আমাদের। তবে এটি শুধু ক্রীড়াক্ষেত্রে নয়; জাতিগতভাবেই আমরা রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক—কোনো ক্ষেত্রেই জয়-পরাজয় স্বাভাবিকভাবে নিতে পারি না।

১০ জনের বাইরে কুমিল্লায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হামলায় মো. শরিফুল ইসলাম (৩২) নামের এক ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ধনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

Continue Reading

top3

অনাথ আশ্রমের শিশুদের স্বনির্ভর করতে কুবি শিক্ষার্থীদের ‘আলোর ক্যানভাস’

Published

on

By

সানজিদা আক্তার সাথী

সহায়তার পরিবর্তে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে অনাথ শিশুদের স্বনির্ভর করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী প্ল্যাটফর্ম ‘আলোর ক্যানভাস’। কুমিল্লার একটি বৌদ্ধ মন্দিরের অনাথ আশ্রমের শিশুদের নিয়ে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে নিয়মিত আর্ট ও পেইন্টিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের সৃজনশীলতা বিকাশ এবং ভবিষ্যতে আয়মুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

‘আলোর ক্যানভাস’ প্লাটফর্মটি নিয়ে কাজ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফরহাদ কাউছার, সামিউল ইসলাম সজীব, নুসরাত তাহসিন, সামিয়া খান ও আরমান আরিফ এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের একই বিভাগের হোসাইন ঠাকুর।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিশুদের সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং দক্ষ শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলতেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সাময়িক সহানুভূতির পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের স্বনির্ভর করে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে পেশাদার শিল্পীদের মাধ্যমে নিয়মিত আর্ট ও পেইন্টিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে শিশুদের আঁকা ছবিগুলো পরিমার্জন করে প্রদর্শনী ও বাজারজাতের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফ্রেম, ওয়াল আর্ট এবং বিভিন্ন ক্রাফট পণ্যে রূপ দিয়ে সেগুলো বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ শিশুদের উন্নয়ন ও আশ্রমের কল্যাণে ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রশিক্ষণের শুরু থেকেই শিশুদের সৃজনশীলতা প্রশিক্ষকদের মুগ্ধ করেছে। রঙ ও তুলির আঁচড়ে তারা প্রকৃতি, স্বপ্ন, পরিবার এবং নিজেদের অনুভূতি ফুটিয়ে তুলছে। অনেকের ছবিতে উঠে এসেছে পাহাড়, নদী, পাখি, গ্রামবাংলা ও সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন।

সংগঠনের সদস্যরা জানান, আর্থিক সংকট বা পারিবারিক অভাব কোনো শিশুর প্রতিভা বিকাশের পথে বাধা হওয়া উচিত নয়। সঠিক প্রশিক্ষণ, দিকনির্দেশনা ও সুযোগ পেলে তারাও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় কার্যক্রমের পরিধি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সংগঠনটির কো-ফাউন্ডার ফরহাদ কাউছার বলেন, “তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষা এবং পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যেই আমরা ‘আলোর ক্যানভাস’ নামে একটি তরুণনির্ভর প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছি। আমাদের প্রথম উদ্যোগ শুরু হয়েছে কুমিল্লার একটি বৌদ্ধ মন্দিরের অনাথ আশ্রমের শিশুদের নিয়ে। সুযোগের অভাবে তাদের অনেক সৃজনশীলতা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায় না। আমরা তাদের সেই প্রতিভাকে যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকশিত করে স্বনির্ভর করে তুলতে চাই, যাতে ভবিষ্যতে তারা নিজেদের দক্ষতাকেই জীবিকার মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগাতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে শিশুদের আর্ট ও পেইন্টিং শেখানো হচ্ছে। পরবর্তীতে তাদের আঁকা ছবিগুলো ফ্রেম, ওয়াল আর্ট ও অন্যান্য ক্রাফট পণ্যে রূপ দিয়ে বাজারজাত করা হবে। এসব থেকে অর্জিত সম্পূর্ণ মুনাফা শিশুদের উন্নয়ন ও আশ্রমের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্যসেবা, মানসম্মত শিক্ষা এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করতেও আমরা কাজ করছি। আমাদের প্রত্যাশা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এই শিশুরা একদিন একটি সুন্দর ও স্বনির্ভর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারবে।”

Continue Reading

Trending