Connect with us

ক্যাম্পাস

ইবি ছাত্রশক্তির ৩ সদস্যের কমিটিতে ২ জনই ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতা, সংবাদ সম্মেলন

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশক্তির ৩ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে নবগঠিত এই কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীদের এভাবে খোলস বদলে নতুন ছাত্র সংগঠনে শীর্ষ পদ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক মহলে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

এনিয়ে গত মঙ্গলবার(৭ জুলাই) বিকেল ৩ টায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নবগঠিত কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করেন।এসময় উপস্থিত ছিলেন শাখা বৈছাআ’র সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মুবাশ্বির আমিন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মিসনো আল আসনাওয়ী, সাবেক সদস্য মো. নিরব আলী মণ্ডলসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

গত রোববার (৫ জুলাই) কেন্দ্রীয় জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির অনুমোদন দেন।

কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে বয়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফুয়াদ হাসান, সদস্য সচিব হিসেবে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইফতেহার উদ্দিন এবং মুখ্য সংগঠক হিসেবে যায়েদ বিন ওসমানকে মনোনীত করা হয়েছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান ও সদস্য সচিব ইফতেহার উদ্দিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে শাখা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ছাত্রলীগের বিভিন্ন মিছিল, মিটিং এবং দলীয় কর্মসূচিতে তাঁদের নিয়মিত অংশ নিতে দেখা যেত। তবে ৫ আগস্ট দেশের পটপরিবর্তনের পর ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায়। ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ ও নিষ্ক্রিয় হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল তাদের প্রকাশ্য সাংগঠনিক কার্যক্রম বৃদ্ধি করে। ওই সময় ছাত্রলীগের সাবেক অনেক কর্মী ছাত্রদলের কার্যক্রমে যুক্ত হতে শুরু করেন। ইফতেহার উদ্দিনও ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্টতা নিয়ে এর আগেও গণমাধ্যমে তাঁদের জড়িত থাকা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

বিতর্কিতদের নিয়ে কমিটি গঠনের সমালোচনা করে ফেসবুকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার যুগ্ম সদস্য বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ। কমিটি ঘোষণার আগমুহূর্তে তিনি লেখেন, “ফ্যাসিস্টের দোসর ফুয়াদ হাসান ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট শাহ আজিজুর রহমান হল ইন্টারন্যাশনালের এক ব্লক দখল করে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানিয়ে তাকে হল থেকে বের করে দেয়। এই গণহত্যাকারীর দোসররা জুনিয়ররা প্রোগ্রামে না গেলে তাদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাত।”

এদিকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার সদস্য সচিব ইয়াশিরুল কবির সৌরভ তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ছাত্রলীগ থেকে ছাত্রদলে সিভি জমা দিলে ছাত্রশক্তিতে আসা যায়। ছাত্রশক্তির কি এতই আকাল পড়েছে? নাকি গুপ্ত ছাত্রলীগের খপ্পরে পড়েছে?

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সদস্য সচিব ইফতেহার উদ্দিন তামিম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ করার যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও হাস্যকর। ছাত্রলীগের আমলে আমি প্রায় ১০ মাসের মতো গণরুমে ছিলাম। তখনকার জোর-জবরদস্তির সংস্কৃতির কারণে শুরুর দিকে কেবল দু’একটি মিছিলে আমাকে বাধ্য হয়ে যেতে হয়েছিল। এরপর পুরো গণরুম লাইফে আমি আর কোনো মিছিলে যাইনি। আমি কখনো ছাত্রলীগের সম্মুখসারিতে ছিলাম না, পদের জন্য সিভি দিইনি। তৎকালীন হলে থাকার বাধ্যতামূলক নিয়মের কারণে আমার মতো সাধারণ শিক্ষার্থী, এমনকি বর্তমান ছাত্রদল-শিবির বা ছাত্রশক্তির অনেক নেতাও বাধ্য হয়ে ছাত্রলীগের প্রোগ্রামে গিয়েছিলেন। প্রোগ্রামে না গেলে আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের মতো নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হতো। তাই বাধ্য হয়ে মিছিলে যাওয়া আর ছাত্রলীগ করা এক বিষয় নয়।”

অভিযোগের বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান বলেন, “হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে তৎকালীন বৈরী পরিবেশে সিট টিকিয়ে রাখতে অন্য সবার মতো আমাকেও বাধ্য হয়ে ছাত্রলীগের মিছিলে যেতে হয়েছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা সাদিক কায়েম বা এস এম ফরহাদদেরও একসময় হলে থাকার প্রয়োজনে এভাবে যুক্ত হতে হয়েছিল। তবে ছাত্রলীগের প্রতি আমার কোনো সমর্থন বা সম্পৃক্ততা ছিল না; পদ পাওয়ার জন্য সবাই সিভি জমা দিলেও আমি তা এড়াতে বাড়ি চলে গিয়েছিলাম। ছাত্রলীগের কোনো কমিটিতে আমার নাম বা পোস্ট কখনোই ছিল না। বর্তমানে আমি ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ইবি শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।”

মূলত আমাকে সরাসরি চেনে না—এমন কিছু মানুষকে ভুল বুঝিয়ে কোনো রাজনৈতিক মহলের উসকানিতে আমার বিরুদ্ধে এই ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”

তিনি আরো বলেন, “সংবাদ সম্মেলনে আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বাস্তবতার সঙ্গে অসংগত। ছাত্রলীগের আমলে হলে অবস্থান করা অধিকাংশ শিক্ষার্থীকেই বিভিন্ন সময় অনিচ্ছা সত্ত্বেও মিছিল-সমাবেশে উপস্থিত থাকতে হয়েছে। শুধুমাত্র সে সময় কোনো কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার ভিত্তিতে কাউকে ছাত্রলীগের কর্মী বা সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক নয়। যারা জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন, প্রোফাইল লাল করেছেন এবং পরবর্তীতে ছাত্রলীগের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা রাখেননি, তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।”

রাজনৈতিক দলের খোলস পাল্টানোর বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, “৫ আগস্টের আগে অনেকেই ছাত্রলীগ করেছেন এবং অভ্যুত্থানে বড় বড় নেতা হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সারজিস ভাই বা ডাকসু ভিপিসহ অনেকেই একসময় ছাত্রলীগের মিছিলে ছিলেন বলে ফুটেজ দেখা গেছে। কিন্তু অভ্যুত্থানে তাঁরা সবাই সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং তাঁদের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই আমাদের অভ্যুত্থান সফল হয়েছে। আমাদের কমিটির আহ্বায়ক (ফুয়াদ হাসান) পাঁচ তারিখের আগে ছাত্রলীগের মিছিল-মিটিংয়ে গিয়েছে—তা আমি জানি। কিন্তু পাঁচ তারিখের পর তাদের ছাত্রলীগের অভিযোগ আসেনি।”

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাম্পাস

ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ: প্রক্টরের তৎপরতায় বড় সংঘর্ষ থেকে রক্ষা পেল ইবি ক্যাম্পাস

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

এক শিবির নেতাকে থাপ্পড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাস। দফায় দফায় শোডাউন, ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মুখোমুখি অবস্থান, নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, লাঠিসোঁটা নিয়ে নিয়ে নেতাকর্মীদের অবস্থান ও প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের সার্বক্ষণিক তৎপরতায় ক্যাম্পাসে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মত সংশ্লিষ্টদের। ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের জিয়া হল সেক্রেটারি কাজী জুহায়েরকে চড় মারেন শাখা ছাত্রদলের সদস্য আলীনূর রহমান। ঘটনার পর ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা জিয়া হলে জড়ো হলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত হন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা। তাঁরা দুই পক্ষকে শান্ত করার পাশাপাশি ঘটনার তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা করেন। পরে জিয়া হলের প্রভোস্টের কক্ষে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন প্রক্টর ও হল প্রভোস্ট।

বৈঠকে অভিযুক্ত আলীনূরকে উপস্থিত করার দাবি ওঠে। তাঁকে আনতে প্রক্টরিয়াল বডি কক্ষে গেলে বাইরে উত্তেজনা তৈরি হয়। কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকায় প্রথমে আলীনূরকে বের করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ বৈঠকস্থল ত্যাগ করেন। ফের দুই পক্ষের মধ্যে আবারও হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। ধাক্কাধাক্কির মাঝখানেই দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে দেখা যায় প্রক্টরকে। পরবর্তীতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রধান ফটকের সামনে মহাসড়কে অবস্থান নেন। অন্যদিকে, শিবিরের নেতাকর্মীরা জিয়া হলসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে পাইপ হাতে অবস্থান নেন। এর মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই প্রক্টরিয়াল বডি পুলিশের সহায়তায় ক্ষুব্ধ শিবির নেতাকর্মীদের মধ্য থেকে আলীনূরকে জিয়া হল থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। এ সময় শিবিরের নেতাকর্মীরা তাঁকে মারধরের চেষ্টা করেন এবং প্রক্টরের গাড়িতে ইট নিক্ষেপ করেন। গাড়ির গ্লাসও ভেঙে যায়। এসময় প্রক্টর অফিসের কর্মচারীর মোবাইলও চাপে পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। এরপরও পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর ছিলেন প্রক্টর ও তাঁর নেতৃত্বাধীন দল। প্রক্টরের দাবি— “অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে গাড়ি তোলার সময় পাশে থেকে ইট নিক্ষেপ করলে আমার কানের নিচ দিয়ে গিয়ে গাড়িতে পড়ে। এটা আল্লাহর রহমত মনে করি।”

পরে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে উভয় পক্ষের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে প্রক্টর অফিসে আবারও আলোচনা করা হয়। প্রশাসনের উদ্যোগে সেখানে সমঝোতা হয়। ঘটনার সার্বিক বিষয়ে তদন্ত করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, র‍্যাব ও ইউএনওসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস টহল দেওয়া হয়।কমিটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ, ছাত্রসংগঠনগুলোর সহাবস্থান এবং মেধার ভিত্তিতে আবাসিক হলে সিট বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এদিকে এখনও ক্যাম্পাস থমথমে অবস্থা। গতকাল সার্বক্ষণিক প্রধান ফটকে আনসার সদস্যদের ভূমিকায় অবস্থান নিলেন তিনি। গতকাল শেষ রাতেও (২ টা ০৬ মিনিটের দিকে) নিরাপত্তা জোরদারে ক্যাম্পাসের প্রবেশপথগুলোতেও তদারকি ও টহল দিতে দেখা গেছে।

সর্বশেষ আজ বিএনপি জামায়াত সমাবেশ কর্মসূচি দিলে পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়। উপাচার্যের নির্দেশনায় প্রক্টর তাঁর অফিস কার্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলো নিয়ে আলোচনায় বসেন। এসময় ছাত্রদল-শিবিরের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসের সহাবস্থান বজায় রাখতে সমঝোতায় চলে আসেন। এতেও নেতৃত্ব দিলেন প্রক্টর নিজেও। সর্বশেষ উভয় পক্ষ সমঝোতায় চলে গেলে আপাতত ক্যাম্পাসে শান্ত পরিবেশ তৈরি হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনার পরপরই ভিসির নির্দেশে প্রক্টোরিয়াল বডির মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনায় বসি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ইউএনওসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস পরিদর্শন করা হয়। ক্যাম্পাসে পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। মাইকিং করে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবে না এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে আইডি কার্ড সঙ্গে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পুরো ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রক্টর ও প্রক্টোরিয়াল বডির পক্ষ থেকে সারারাত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়।

ঘটনার দিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্র সংগঠনের দলীয় ইস্যুতে রূপ নেওয়ায় ঘটনাটি কিছুটা নিয়ন্ত্রণের বাহিরে গিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শুরু থেকেই তাদের মধ্যে সহবস্থান তৈরি করে আসছি। সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তের অবস্থান অস্পষ্ট হওয়ায় এমনটা সৃষ্টি হয়েছে। তারপরও মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে অভিযুক্তকে উদ্ধার করেছি।

Continue Reading

top3

ইবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের ঘটনায় হল কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটি

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হল কর্তৃপক্ষ।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) শহীদ জিয়াউর রহমান হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, শহীদ জিয়াউর রহমান হলে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে দুইটায় হলের ২জন আবাসিক শিক্ষার্থীর মধ্যে সংগঠিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য অত্র হলের আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম তালুকদারকে আগামী ৩ (তিন) কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের করতে বলা হলো।

এদিকে একইদিনে ঘটনার তথ্য চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তিও দিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়, কারো কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা লিখিতভাবে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে মীর মশাররফ হোসেন ভবনের ১০৯ নম্বর কক্ষে জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়। তথ্য সত্য, নিরপেক্ষ ও যথাসম্ভব বিস্তারিতভাবে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় ও দেওয়া তথ্যের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষার কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজনে তথ্যদাতার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ বা আলোচনার জন্য নাম ও মোবাইল নম্বর দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আরও বলা হয়, প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি তথ্য প্রদানকারীর সাথে সাক্ষাৎ বা আলোচনা করে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।

প্রসঙ্গত, গতকাল (শনিবার) দুপুরে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদল নেতা আলিনূর রহমান বাঁধন কর্তৃক ছাত্রশিবির নেতা কাজী জুহায়েরকে থাপ্পড়ের ঘটনায় উত্তাল হয় ক্যাম্পাস। হলেই এক দফা হট্টগোলের পরে ছাত্রশিবির জিয়া মোড়ে এবং ছাত্রদল মেইন গেটে অবস্থান নেয়। এসময় উভয় দলের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়। এদিকে ছাত্রদলের মিছিলে আসা বহিরাগত অনেককে হাতে রামদা, কিরিচ, চাপাতি-সহ দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়। গভীর রাত পর্যন্ত উত্তেজনার পরে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটে পুলিশের অবস্থান দেখা যায়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদারে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে ইবি প্রশাসন।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

শাকসু দে প্রশাসন, নইলে তোর গদি ধরে টান দিব

Published

on

By

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

পুনরায় শাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদানকালে জাতীয় ছাত্রশক্তি শাবিপ্রবি শাখার সদস্য সচিব রিয়াজ রিমন বলেন, ‘কেউ একজন বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, “ভাত দে হারামজাদা, নইলে মানচিত্র চিবিয়ে খাব।” আমরাও প্রশাসনকে বলতে চাই শাকসু দে প্রশাসন, নইলে তোর গদি ধরে টান দিব।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর একটায় ‘শাকসু পুনরুদ্ধার আন্দোলন’ এর ব্যানারে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অনুষ্ঠিত মানবন্ধনে এ কথা বলেন তিনি। মানবন্ধনে ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, ছাত্র আন্দোলন, ইনকিলাব মঞ্চের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিল।

তিনি আরো বলেন, ‘শাকসু নির্বাচন বন্ধ করতে কারা হাইকোর্টে গিয়েছিল, কারা নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করেছিল এবং কারা শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে শাকসু নির্বাচনে সহযোগিতা করবে না বলে সংবাদ সম্মেলন করেছিল তা পুরো বাংলাদেশ দেখেছে। বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন পদে থাকা ব্যক্তিরাই শাকসু নির্বাচন বানচালের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, শাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকার। শাবিপ্রবিতে শাকসু নির্বাচন হবে, প্রশাসনকে নির্বাচন দিতেই হবে। আমরা শাকসু নিয়েই ঘরে ফিরব। নির্বাচন না দিলে কীভাবে শাকসু আদায় করতে হয়, তা সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভালো করেই জানে।’

মানববন্ধনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল হাসান বলেন, শাকসু স্থগিত হওয়ার পর প্রশাসন বলেছিল ৪ সপ্তাহ পর শাকসু নির্বাচন হতে কোন বাঁধা থাকবে না। কিন্তু প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন এখনো কি সেই ৪ সপ্তাহ হয় নাই?

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার বিন সেলিম বলেন, ‘‘বর্তমান প্রশাসন এবং নির্বাচিত সরকার কথায় কথায় গণতন্ত্রের কথা বলে। কিন্তু তাদের কাছে কি গণতন্ত্রের অর্থ শুধুমাত্র ৩০০ আসনের সংসদীয় নির্বাচন? একটি দেশের জনগণের ভোটাধিকার থাকলে সেই দেশের শিক্ষার্থীদেরও তো গণতান্ত্রিকভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার থাকা উচিত। কিন্তু তারা সেটি বাস্তবায়ন করছেন না। তারা যদি সত্যিই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তাহলে সব জায়গাতেই এর চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু একদিকে গণতন্ত্রের কথা বলা, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পদে পদে বাধাগ্রস্ত করা এক ধরনের মুনাফিকি।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘৯০ এর পর বিএনপি আর ছাত্রসংসদ নির্বাচন হইতে দেয় নাই। তারা ছাত্রসংসদ নির্বাচনের ‘হত্যাকারী’। যদি তারা সেই ‘ছাত্র সংসদ হত্যাকারী’ তকমা বহন করতে না চায় এবং সত্যিকার অর্থেই গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারে বিশ্বাস করে, তাহলে তাদের স্বীকার করতে হবে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার রয়েছে।’’

স্বতন্ত্র ক্যান্টিন ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক শাকিল বলেন, নির্বাচনের একদিন আগে রিটের মাধ্যমে তা নির্বাচন বন্ধ করার মতো এমন নোংরামির নজির আর কোথাও আছে বলে মনে হয় না। আমি এখনো শাকসুর সময়ে নেওয়া ঋণ পরিশোধ করতে পারিনি। আমার মতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন অন্যায় কেন করা হলো? প্রশাসনের প্রতি আহ্বান, শিক্ষার্থীদের যে কষ্ট দিয়েছেন, তা উপলব্ধি করুন। শিক্ষার্থীদের অধিকার ও প্রত্যাশার প্রতি সম্মান দেখিয়ে দ্রুত শাকসু নির্বাচন দিন।’

ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক রশিদ আবরার বলেন, ‘শাকসু নির্বাচন বানচালে যারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে, তাদের জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রশাসন শাকসু চায় না। কারণ শাকসু প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত হবে। শিক্ষকদের স্বৈরাচারী মনোভাব, অনিয়ম-দুর্নীতি, প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। শিক্ষার্থীদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে পুতুলের মতো নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগও তারা হারাবে। এ কারণেই প্রশাসন শাকসু নির্বাচন দিতে চায় না।

ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক শাকিল মাহমুদ বলেন, আশা করছিলাম নতুন যে প্রশাসন এসেছে তারা শিক্ষার্থীদের পার্লস বুঝবেন। শিক্ষার্থীদের অধিকার বাস্তবায়নে তারা তাদের ন্যূনতম কর্তব্য (শাকসু নির্বাচন দেওয়া) পালন করবেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন ‘নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন’, ‘দায়িত্ব বুঝে পাই নাই’ এরকম নানা কথা বলে নাটক মঞ্চায়ন করছেন।

মানবন্ধনে আরো বক্তব্য দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক হাফিজুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম, বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবুল ইসলাম পবন প্রমূখ।

আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘‘শাকসু পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা গত বৃহষ্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেছি। আজ মানববন্ধন করলাম। আগামীকাল দেয়াল লিখন কর্মসূচি পালন করব। যদি প্রশাসন আমাদের দাবি মেনে না নেয় তাহলে সামনে আরো কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।’’

Continue Reading

Trending