Connect with us

ক্যাম্পাস

ইবি ছাত্রশক্তির ৩ সদস্যের কমিটিতে ২ জনই ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতা, সংবাদ সম্মেলন

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশক্তির ৩ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে নবগঠিত এই কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীদের এভাবে খোলস বদলে নতুন ছাত্র সংগঠনে শীর্ষ পদ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক মহলে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

এনিয়ে গত মঙ্গলবার(৭ জুলাই) বিকেল ৩ টায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নবগঠিত কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করেন।এসময় উপস্থিত ছিলেন শাখা বৈছাআ’র সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মুবাশ্বির আমিন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মিসনো আল আসনাওয়ী, সাবেক সদস্য মো. নিরব আলী মণ্ডলসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

গত রোববার (৫ জুলাই) কেন্দ্রীয় জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির অনুমোদন দেন।

কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে বয়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফুয়াদ হাসান, সদস্য সচিব হিসেবে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইফতেহার উদ্দিন এবং মুখ্য সংগঠক হিসেবে যায়েদ বিন ওসমানকে মনোনীত করা হয়েছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান ও সদস্য সচিব ইফতেহার উদ্দিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে শাখা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ছাত্রলীগের বিভিন্ন মিছিল, মিটিং এবং দলীয় কর্মসূচিতে তাঁদের নিয়মিত অংশ নিতে দেখা যেত। তবে ৫ আগস্ট দেশের পটপরিবর্তনের পর ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায়। ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ ও নিষ্ক্রিয় হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল তাদের প্রকাশ্য সাংগঠনিক কার্যক্রম বৃদ্ধি করে। ওই সময় ছাত্রলীগের সাবেক অনেক কর্মী ছাত্রদলের কার্যক্রমে যুক্ত হতে শুরু করেন। ইফতেহার উদ্দিনও ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্টতা নিয়ে এর আগেও গণমাধ্যমে তাঁদের জড়িত থাকা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

বিতর্কিতদের নিয়ে কমিটি গঠনের সমালোচনা করে ফেসবুকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার যুগ্ম সদস্য বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ। কমিটি ঘোষণার আগমুহূর্তে তিনি লেখেন, “ফ্যাসিস্টের দোসর ফুয়াদ হাসান ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট শাহ আজিজুর রহমান হল ইন্টারন্যাশনালের এক ব্লক দখল করে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানিয়ে তাকে হল থেকে বের করে দেয়। এই গণহত্যাকারীর দোসররা জুনিয়ররা প্রোগ্রামে না গেলে তাদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাত।”

এদিকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার সদস্য সচিব ইয়াশিরুল কবির সৌরভ তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ছাত্রলীগ থেকে ছাত্রদলে সিভি জমা দিলে ছাত্রশক্তিতে আসা যায়। ছাত্রশক্তির কি এতই আকাল পড়েছে? নাকি গুপ্ত ছাত্রলীগের খপ্পরে পড়েছে?

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সদস্য সচিব ইফতেহার উদ্দিন তামিম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ করার যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও হাস্যকর। ছাত্রলীগের আমলে আমি প্রায় ১০ মাসের মতো গণরুমে ছিলাম। তখনকার জোর-জবরদস্তির সংস্কৃতির কারণে শুরুর দিকে কেবল দু’একটি মিছিলে আমাকে বাধ্য হয়ে যেতে হয়েছিল। এরপর পুরো গণরুম লাইফে আমি আর কোনো মিছিলে যাইনি। আমি কখনো ছাত্রলীগের সম্মুখসারিতে ছিলাম না, পদের জন্য সিভি দিইনি। তৎকালীন হলে থাকার বাধ্যতামূলক নিয়মের কারণে আমার মতো সাধারণ শিক্ষার্থী, এমনকি বর্তমান ছাত্রদল-শিবির বা ছাত্রশক্তির অনেক নেতাও বাধ্য হয়ে ছাত্রলীগের প্রোগ্রামে গিয়েছিলেন। প্রোগ্রামে না গেলে আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের মতো নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হতো। তাই বাধ্য হয়ে মিছিলে যাওয়া আর ছাত্রলীগ করা এক বিষয় নয়।”

অভিযোগের বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান বলেন, “হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে তৎকালীন বৈরী পরিবেশে সিট টিকিয়ে রাখতে অন্য সবার মতো আমাকেও বাধ্য হয়ে ছাত্রলীগের মিছিলে যেতে হয়েছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা সাদিক কায়েম বা এস এম ফরহাদদেরও একসময় হলে থাকার প্রয়োজনে এভাবে যুক্ত হতে হয়েছিল। তবে ছাত্রলীগের প্রতি আমার কোনো সমর্থন বা সম্পৃক্ততা ছিল না; পদ পাওয়ার জন্য সবাই সিভি জমা দিলেও আমি তা এড়াতে বাড়ি চলে গিয়েছিলাম। ছাত্রলীগের কোনো কমিটিতে আমার নাম বা পোস্ট কখনোই ছিল না। বর্তমানে আমি ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ইবি শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।”

মূলত আমাকে সরাসরি চেনে না—এমন কিছু মানুষকে ভুল বুঝিয়ে কোনো রাজনৈতিক মহলের উসকানিতে আমার বিরুদ্ধে এই ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”

তিনি আরো বলেন, “সংবাদ সম্মেলনে আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বাস্তবতার সঙ্গে অসংগত। ছাত্রলীগের আমলে হলে অবস্থান করা অধিকাংশ শিক্ষার্থীকেই বিভিন্ন সময় অনিচ্ছা সত্ত্বেও মিছিল-সমাবেশে উপস্থিত থাকতে হয়েছে। শুধুমাত্র সে সময় কোনো কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার ভিত্তিতে কাউকে ছাত্রলীগের কর্মী বা সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক নয়। যারা জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন, প্রোফাইল লাল করেছেন এবং পরবর্তীতে ছাত্রলীগের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা রাখেননি, তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।”

রাজনৈতিক দলের খোলস পাল্টানোর বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, “৫ আগস্টের আগে অনেকেই ছাত্রলীগ করেছেন এবং অভ্যুত্থানে বড় বড় নেতা হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সারজিস ভাই বা ডাকসু ভিপিসহ অনেকেই একসময় ছাত্রলীগের মিছিলে ছিলেন বলে ফুটেজ দেখা গেছে। কিন্তু অভ্যুত্থানে তাঁরা সবাই সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং তাঁদের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই আমাদের অভ্যুত্থান সফল হয়েছে। আমাদের কমিটির আহ্বায়ক (ফুয়াদ হাসান) পাঁচ তারিখের আগে ছাত্রলীগের মিছিল-মিটিংয়ে গিয়েছে—তা আমি জানি। কিন্তু পাঁচ তারিখের পর তাদের ছাত্রলীগের অভিযোগ আসেনি।”

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

ইবির চার হলের নতুন প্রভোস্টের দায়িত্বে যারা

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) চারটি আবাসিক হলে নতুন প্রভোস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন—শহীদ আনাস হলের প্রভোস্ট দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল করিম, জুলাই ৩৬ হলের প্রভোস্ট আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগের অধ্যাপক ড. হামিদা খাতুন, উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের প্রভোস্ট বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান এবং খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অ্যাপ্লাইড নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম আয়নুল হক আকন্দ।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

পৃথক অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২৯ সেপ্টেম্বর পূর্ববর্তী প্রভোস্টদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে নবনিযুক্ত প্রভোস্টরা দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনের জন্য তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মানুযায়ী সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়, দায়িত্ব পালন করায় পূর্ববর্তী প্রভোস্টদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়েছে।

দায়িত্ব পেয়ে শহীদ আনাস হলে প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও মাননীয় উপাচার্য আমার প্রতি আস্থা রেখে শহীদ আনাস হলের প্রাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন। এজন্য মাননীয় উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। হলটিতে বর্তমানে হলটির এক্সটেনশন ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় সমাপ্তির পর্যায়ে রয়েছে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে হলটিকে একটি আধুনিক আবাসিক হল হিসেবে গড়ে তোলার এবং সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে আমার সাধ্যমতো আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এ কাজে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।’

খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এএসএম আয়নুল হক আকন্দ বলেন, ” আমি চিঠি হাতে পেয়েছি। হলে গিয়ে শিক্ষার্থী সমস্যাগুলো শুনবো এবং গুরুত্বের ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা করবো। এজন্য আমি সকলের সহযোগিতা কামান করি।

উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের প্রভোস্ট ড. মো. রশিদুজ্জামান বলেন, “আমি ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসেছি এবং হল ডিবেটিং সোসাইটি, কালচারাল সোসাইটি, স্পোর্টসসহ বিভিন্ন উইংয়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যাগুলো শুনেছি। এসব কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি নিজে সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তাই হলে একটি পারিবারিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সবাই মিলেমিশে বসবাস করতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যেসব যৌক্তিক ও নৈতিক বিষয় আমার নজরে আনবে, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সমাধানের চেষ্টা করব।”

এর আগে শহীদ আনাস হলে দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাদের , খালেদা জিয়া হলে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জালাল উদ্দিন, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলে আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. রাশেদুজ্জামান ও জুলাই ৩৬ হলে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.কে.এম শামছুল হক ছিদ্দিকী দায়িত্ব পালন করেন।

Continue Reading

top3

জুলাই-৩৬ হলে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

Published

on

By

রাবি প্রতিনিধি:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জুলাই-৩৬ হলে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং অন্তঃকক্ষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনকারী ৪৬ জন কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি অন্তঃকক্ষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে অনুভূতি জানিয়ে জুলাই-৩৬ হলের অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাজনুর বর্ণ বলেন, ‘এত সুন্দর একটি আয়োজন করার জন্য হল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল হিসেবে এত সুন্দর একটি ফলাফল অর্জন করতে পেরেছি। এই ফলাফলের জন্য আমাদের যে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে, এতে ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা পেয়েছি।’

একই হলের ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নিশাত আনজুমান মিতা বলেন, ‘আমি হল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই এত সুন্দর একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য। বিভাগে প্রথম হতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত ও গর্বিত। তবে এই অর্জন শুধু আমার একার নয়—আমার শিক্ষক, পরিবার এবং সহপাঠীদের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণারও ফল। এই স্বীকৃতি আমাকে ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘প্রতিটি বিভাগে নারী শিক্ষার্থীরা খুব ভালো করছে। বেশিরভাগ বিভাগে প্রথম দিকের সিরিয়ালে সব মেয়ে থাকে। এটা নারীদের জন্য খুবই ইতিবাচক একটি দিক। একসময় নারীদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হতো। এখন সেখানেই তারা খুব ভালো করছে। এটা খুবই গর্বের। আজকে যারা পুরস্কৃত হলেন, তাদের জন্য শুভকামনা রইল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি আপনারা জুলাই-৩৬ হলকে আরও ভালো জায়গায় নিয়ে যাবেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের সামনে তুলে ধরবেন। এছাড়া সমাজের প্রতিটি কাজে সমানভাবে অবদান রেখে যাবেন।’

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা খুবই ভালো করছে। এটা আমাদের জন্য গর্বের। তারা বিভাগের নাম, হলের নাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল করছে। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি। সবার জন্য শুভকামনা রইল।’

জুলাই-৩৬ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. লাভলী নাহার বলেন, “আমাদের কৃতি শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি হিসেবে আজকের এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। এই স্বীকৃতি তাদের ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে সাফল্য লাভে অনুপ্রেরণা জোগাবে। আমরা আশা করি, তারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও জুলাই-৩৬ হলের সুনাম আরও উজ্জ্বল করবে এবং ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”

জুলাই-৩৬ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. লাভলী নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. এস এম কামারুজ্জামান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান।

Continue Reading

top3

ইবির নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা ড. মো. মামুন আল রশীদ

Published

on

By

ইবি সংবাদদাতা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ। উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান আগামী এক বছরের জন্য তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশ সূত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামের মেয়াদ ২৭ সেপ্টেম্বর (২০২৬) শেষ হওয়ায় তাঁর স্থলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এক বছরের জন্য ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। অফিস আদেশ অনুযায়ী, নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

এদিকে, দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

নবনিযুক্ত ছাত্র উপদেষ্টা বলেন, আমি চিঠি পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা এবং বেশকিছু পরিকল্পনা নিয়ে সামনে আগাবো ইনশাআল্লাহ।
ইবি সংবাদদাতা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ। উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান আগামী এক বছরের জন্য তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশ সূত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামের মেয়াদ ২৭ সেপ্টেম্বর (২০২৬) শেষ হওয়ায় তাঁর স্থলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এক বছরের জন্য ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। অফিস আদেশ অনুযায়ী, নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

এদিকে, দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

নবনিযুক্ত ছাত্র উপদেষ্টা বলেন, আমি চিঠি পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা এবং বেশকিছু পরিকল্পনা নিয়ে সামনে আগাবো ইনশাআল্লাহ।

Continue Reading

Trending