ঢাকা, ৩ নভেম্বর ২০২৫- দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার পাশাপাশি ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে এসে বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। তীব্র তাপপ্রবাহ, ঘন ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং কৃষি ও জনস্বাস্থ্যে বিপর্যয়কর প্রভাব—সব মিলিয়ে দেশটি এখন এক গভীর সংকটে। এ বছরের গ্রীষ্মে দেশের গড় তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। তাপদাহের কারণে প্রায় ১.৫ কোটি মানুষ চিকিৎসা নিয়েছে। হিটস্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশনের মতো রোগ বেড়েছে ২৫%। ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর পানির স্তর ১৫% বেড়ে যাওয়ায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, ভোলা ও পটুয়াখালীতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপকূলীয় কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে, ফলে ফসলের উৎপাদন ১০–২০% কমেছে।
UNICEF ও WHO জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শিশুমৃত্যুর হার বেড়েছে। বন্যা-প্রবণ অঞ্চলে স্কুল বন্ধের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও অনলাইন শিক্ষার প্রসার কিছুটা সহায়ক হয়েছে। অন্যদিকে জলবায়ু সংকটের কারণে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১.৮% কমে গেছে। কৃষি ও শিল্পখাত পুনরুদ্ধারে বাজেট বাড়ানো হলেও ক্ষতি পূরণ সম্ভব হয়নি।
জাতীয় জলবায়ু কর্মপরিকল্পনা ২০২৫ গ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে বন সংরক্ষণ, সবুজ শক্তি ও জলের ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গ্রিন ফাইন্যান্সিং নীতিমালায় ৪০% ঋণ টেকসই প্রকল্পে বিনিয়োগের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এনডিসি ৩.০ অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে কৃষি ও বন খাতে ১২.৭১ মিলিয়ন টন কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক ও জার্মানওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বাংলাদেশে জলবায়ু দুর্যোগে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের ক্ষতি হচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের ১৭% ভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতায় তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
NDC (Nationally Determined Contributions) হলো প্যারিস চুক্তির আওতায় প্রতিটি দেশের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নির্ধারিত লক্ষ্য ও পরিকল্পনা। বাংলাদেশ ২০১৫ ও ২০২১ সালে প্রথম দুটি এনডিসি জমা দেয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ NDC 3.0 জাতিসংঘে (UNFCCC) জমা দেয়, যা ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত।
অর্থায়ন ও বিনিয়োগ মোট প্রয়োজনীয় অর্থ: ১১৬.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার শর্তহীন: ২৫.৯৫ বিলিয়ন ডলার শর্তসাপেক্ষ: ৯০.২৩ বিলিয়ন ডলার
Just Transition: জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরের সময় শ্রমিকদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও জলবায়ু-অভিবাসীদের অংশগ্রহণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। জলবায়ু শিক্ষা ও সবুজ দক্ষতা জাতীয় পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে: মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০% নবায়নযোগ্য উৎস থেকে২০৪০ সালের মধ্যে: ৩০% নবায়নযোগ্য শক্তি লক্ষ্য।
ঝিনাইদহের শৈলকূপায় মসজিদের কমিটি গঠন নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে উপজেলার জালিয়া পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জালিয়া পাড়া জামে মসজিদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা বাদশা মিয়া এবং আশরাফুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার সকালে কমিটি গঠন নিয়ে পুনরায় উভয়পক্ষ বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে শৈলকূপা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, আহতরা কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে
সংসদের ভাষণ দিচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতিকে লালকার্ড দেখায় বিরোধী দল। এরপর ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।
টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে তাকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ পাঠ করিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।
এর আগে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যের নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে এক লাখ ১৩ হাজার ২১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল (হরিণ প্রতীক) পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৪৮ ভোট।
তিনি ২০০৮ ও ২০১৮ সালেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, কিন্তু যথাক্রমে অনুপম শাহজাহান জয় এবং জোয়াহেরুল ইসলাম-এর কাছে পরাজিত হন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যরিস্টার কায়সার কামাল। তাদেরকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
স্বাভাবিকভাবে এই দুজন আর মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এর ফলে একজন নতুন মন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছে সরকার।